০৭:৩৫ পি.এম
‘তোমার ফলাফল, তোমার গল্পের শেষ নয়’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অপ্রত্যাশিত ফলাফল প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুপ্রেরণামূলক শিক্ষক-অভিভাবক-শিক্ষার্থী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকালে সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের নিজস্ব উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। পরীক্ষায় অপ্রত্যাশিত ফলাফল প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি জোগানো এবং তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতেই এ আয়োজন তৈরি করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন/ধানের শীষ নাকি দাঁড়িপাল্লা, কার ওপর আস্থা রাখছেন ভোটাররা
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদৎ হোসেন, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মুনির আলী আকন্দ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মাহমুদ, পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম, নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. রাবেয়া খাতুন, অভিভাবক মিনানুর রহমান মিনু এবং শিক্ষার্থী লাবনী আক্তার।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা সিদ্দিকা, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এ সময় বক্তারা নিজেদের জীবনের সফলতা ও ব্যর্থতার গল্প তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। র্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে ২০ জন শিক্ষার্থীকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরস্কার দেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি মানুষের পুরো জীবনই একটি সফলতার গল্প। যারা হেরে গিয়ে আবার নতুন করে জীবনকে সাজিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, তারা কখনোই হেরে যান না। তাই এসএসসিতে খারাপ ফলাফল মানে আর ভালো কিছু করা সম্ভব নয়—এমন ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জীবনের প্রতিটি দিনই একেকটি সফলতার দিন। সুতরাং আগামীতে আরও ভালো ফলাফল করার শক্তি ও সাহস বুকে ধারণ করতে হবে।
আরও পড়ুন: বরিশালে ডিএইচএমএস ভর্তি পরীক্ষা: সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা দিল বিএমপি
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সব বিখ্যাত ব্যক্তিই হেরে যাওয়ার পর নতুন অনুপ্রেরণায় জীবনকে নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করেছেন বলেই আজ তারা বিশ্ববিখ্যাত।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নিজের ভাগ্যের ওপর শতভাগ বিশ্বাস রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিটি মানুষ তার জীবনে প্রত্যাশিত সবকিছু কখনোই পায় না। আজ যারা ভালো কিংবা প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারেনি, তারাই আগামী দিনে অনেক ভালো কিছু করার ক্ষমতা রাখে। আগামীতে আরও ভালো কিছু করার জন্য অবশ্যই অভিভাবকদের সন্তানের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আজ সন্তান ভালো কিছু করতে পারেনি মানে এই নয় যে তার দ্বারা আগামীতে আরও ভালো কিছু করা সম্ভব নয়। বর্তমানে বিশ্বে যারা অনেক অর্থশালী, তাদের অনেকেই জীবনের শুরুতে ছোটখাটো কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু তাদের প্রধান শক্তি ছিল কঠোর মনোবল। প্রবল মনোবল ছিল বলেই তারা আজ নিজেদের কর্মগুণে বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
জেলা প্রশাসক বলেন, ভালো কিছু হয়নি বলে ভেঙে পড়ে হাল ছেড়ে দেওয়া মানে নিজেকে পরাজিত করা। তাই হাল না ছেড়ে আগামীর জন্য নতুন করে প্রস্তুতি গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। এই কাজে অভিভাবক, শিক্ষক ও সহপাঠীদের শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: দুমকিতে লটারির মাধ্যমে কর্মী নির্বাচন, উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নওগাঁর সাতটি উপজেলার মোট ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি—এমপিওভুক্ত এবং নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এমন ফলাফল থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যেই মূলত এ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন