০৬:২৫ পি.এম
নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার কর্মচারী ওসমান গণিকে বিধিবহির্ভূত ও অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে লক্ষীপাশা এলাকায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী ওসমান গণি জানান, তিনি লোহাগড়া পৌরসভায় ১০ বছর যাবৎ চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে কর্মরত আছেন। অসহায়ভাবে হঠাৎ করে কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ বা কারণ দর্শানোর চিঠি ছাড়া গত ২৬ জুলাই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। লোহাগড়া পৌরসভার তৎকালীন প্রশাসক সুস্মিতা সাহা স্বাক্ষরিত একটি পত্রে ওসমান গণিকে ডাকযোগে অব্যাহতির এই আদেশ পাঠানো হয়েছে। পরের দিন (২৭ জুলাই) তিনি লোহাগড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক হিসেবে শেষ অফিস করেন। এরপর সুস্মিতা সাহা পড়ালেখার জন্য সরকারের তরফে আমেরিকায় চলে গেছেন। বিষয়টি লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ওসমান গণি আরো বলেন, কোনো প্রকার কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই বিধিবহির্ভূতভাবে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠিতে তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
আরও পড়ুন: ৯৬ লাখ টাকা চুরির ঘটনায় ভাগ নেওয়ার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম গ্রেপ্তার
পত্রে বলা হয়েছে, তিনি নিয়মিত অফিসে আসেন না, অফিসের কাজে পাওয়া যায় না এবং কোনো কর্মকর্তার আদেশ মানেন না। ওসমান গণি বলেন, আমি যথাযথভাবে অফিসে হাজিরা দিয়েছি, যা হাজিরা খাতায় প্রমাণ আছে। আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছি। যদি দায়িত্ব পালনে কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে নিয়মানুযায়ী কর্তৃপক্ষ আমাকে সতর্ক করতে পারতেন বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে পারতেন। কিন্তু, আমার প্রতি এ ধরনের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। সরাসরি চাকরি থেকে অব্যাহতির নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ১০ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মচারির মধ্যে সম্প্রতি ছয়জনের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। অপর চারজনকে ঠিকমত অফিস না করার অভিযোগে তাদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়নি তৎকালীন পৌর প্রশাসক কর্তৃক। অথচ, বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, অথচ উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এতে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।
এদিকে, পৌর কমিটির সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত মাসিক সভায় তার চাকরিচ্যুতির বিষয়টি যথাযথভাবে আলোচনা করা হয়েছে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ সংক্রান্ত সভার কার্যবিবরণী, রেজুলেশন ও অন্যান্য নথিপত্র যাচাই করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি জোর দাবি জানাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ওসমান গণি বলেন, তার চাকরিচ্যুতির নেপথ্যে ষড়যন্ত্র রয়েছে। তিনি পৌরসভার প্রকৌশল শাখায় কাজ করেছেন এবং সেখানেই দায়িত্ব পালনের সময় পৌরসভার কার্যসহকারীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন। তাদের প্ররোচণায় তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য তিনি আবারো জোর দাবি জানাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার দিতে বাধার অভিযোগ
এছাড়া, লোহাগড়া পৌরসভার কিছু কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন, পদায়ন, আর্থিক লেনদেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিল-ভাউচার ও নকশা অনুমোদনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনেক পারস্পরিক অভিযোগ রয়েছে। এসব ঢাকায় তার চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সুতরাং, সব অনিয়মের সঠিক তদন্ত করে তার চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তিনি করছেন।
এ বিষয়ে লোহাগড়া উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক সুস্মিতা সাহা মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন যে, তিনি চাইলেই আউটসোর্সিংয়ের (চুক্তিভিত্তিক) কাউকেও অব্যাহতি দিতে পারেন। তবে, ওসমান গণিকে কোথাও কোন প্রকার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে কিনা, তা তিনি সঠিকভাবে জানাননি।
আরও জানান, লোহাগড়া উপজেলার নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক এস এম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি ওসমান গণিকে চাকরি থেকে অব্যাহতির বিষয়টি অবগত হয়েছেন। বিধিমতো বা নীতিগতভাবে আপিল করার সুযোগ থাকলে তিনি (ওসমান গণি) তা ব্যবহার করতে পারেন।
আরও পড়ুন: বেগমগঞ্জে তরুণ কামরুল হাসানকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন