ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

নাশকতা ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে


নাশকতা ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে

শনিবার ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রাপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন, ‘দেশি-বিদেশি যেকোনো ষড়যন্ত্র—তা দেশের ভেতরেই হোক বা দেশের বাইরে থেকেই হোক—সব ষড়যন্ত্রের জবাব আমরা ঐক্যবদ্ধভাবেই দেব। এই দেশের বীর জনগণকে অতীতেও কেউ দাবিয়ে রাখতে পারেনি, ভবিষ্যতেও কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।’

প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেছেন যখন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র ক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পোশাক শ্রমিকদের ব্যবহার করে নাশকতার চেষ্টা, পলাতক শক্তির নতুন করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং বিরোধী দলের সরকার পতনের আন্দোলন—সবকিছুই এক সূত্রে গাঁথা। এসব ঘটনার উদ্দেশ্য একটাই, তা হলো একটি নির্বাচিত সরকারকে বিপদে ফেলা। দেশের গণতন্ত্রকে বিপন্ন করা এবং বিএনপির নেতৃত্বে বাংলাদেশের যে নবজাগরণের সূচনা হয়েছে তা বিনষ্ট করা।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার একটি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই একের পর এক বৈশ্বিক প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হচ্ছে সরকারকে। ইরান যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। সেখান থেকে দেশের জ্বালানি সংকট মিটিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার চেষ্টা করছে সরকার। এ ধরনের বৈশ্বিক সংকটে দলমত নির্বিশেষে সকলের ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত ছিল। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কিছু শক্তি অযাচিতভাবে এই পরিস্থিতিতে দেশের ভেতরে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ঘোলা পানিতে কেউ কেউ মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুর্ভাগ্যজনক।

আরও পড়ুন: কালাইয়ে ‘ইত্যাদি’ শুটিংয়ে দুই শতাধিক দর্শকের মোবাইল চুরি

গার্মেন্টস শিল্পের সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের নেতা, সাবেক মন্ত্রী-এমপি এবং তাদের সহযোগী সংগঠন (যেমন- ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগ) এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের নেতাকর্মীরা শ্রমিক অসন্তোষকে উস্কে দিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছেন বলে সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

সরকারের একাধিক মন্ত্রী অভিযোগ করেছেন যে, আসন্ন ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে একটি বিশেষ গোষ্ঠী সরকারকে অস্থিতিশীল করতে নিরপরাধ শ্রমিকদের ব্যবহার করছে। শ্রমিকদের এই আন্দোলন অধিকার আদায়ের আন্দোলন নাকি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য এই আন্দোলন। হঠাৎ শ্রমিকদের এই আন্দোলন ঘিরে তাই জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা গার্মেন্টস শ্রমিকদের সঙ্গে মাঠে নেমে আন্দোলনকে আরো ত্বরান্বিত করছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার দলের সুবিধাভোগী সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা এই অস্থিরতার পেছনে মূল ইন্ধনদাতা। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ এবং ছাত্রলীগ ছদ্মবেশে মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরের শ্রমিক আন্দোলনের ভেতর ঢুকে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর উসকে দিচ্ছে। এ ধরনের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এই সময় প্রধান বিরোধী দল সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসনসহ ৭ দফা দাবিতে ঢাকা থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে লং মার্চ পালন করছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর দ্বিতীয় দফা ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর এবং সর্বশেষ ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে হয় তৃতীয় লং মার্চ।

আরও পড়ুন: জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতেই ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন, কয়েকজন গ্রেফতার: ডিএমপি

ঢাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বশেষ গন্তব্য পর্যন্ত একাধিক পথসভায় বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা—যেখানে সরকারবিরোধী তীর্যক বক্তব্য দিয়েছেন তারা। এমনকি সরকারের পতন ও নতুন বিপ্লবেরও হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। সামনে বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিং বিভাগেও একই কর্মসূচি রয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, সরকারের পৌনে এক বছরের মাথায় এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে কী অর্জন করতে চায় বিরোধী দল? তারা কি এখনই সরকারকে ভিন্ন কোনও বার্তা দিতে চায়?

সরকারের মাত্র ৮ মাসের মাথায় বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের এতটা কঠোরতা কেন, বা লং মার্চের মতো কর্মসূচি দেওয়ার পরিস্থিতি কি এখনই হয়েছে? সংসদের বাইরে এ ধরনের কর্মসূচি গণতন্ত্রকে শুধু দুর্বল করবে না, গণতন্ত্রকে ঝুঁকিতে ফেলবে। বিরোধী দল কি দীর্ঘ সংগ্রামের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র নস্যাৎ করতে চায়?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিরোধী দলের এই কর্মসূচির কারণে পলাতক রাজনৈতিক শক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ পাচ্ছে। গত কয়েক দিনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নাশকতা, ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।

আরও পড়ুন: সাত বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ ঠেকাতে স্বামীর পা ধরে স্ত্রীর আকুতি

গত শনিবার, রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। তবে বাসের কর্মী ও স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাজধানী ঢাকায় এক রাতেই অন্তত ৮টি ককটেল বিস্ফোরণ ও একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আদাবর, শাহবাগ, বিমানবন্দর, খিলগাঁও ও মিরপুরের কালশী এলাকায় এসব বিস্ফোরণ ঘটে।

একই সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারা এলাকায় প্রগতি সরণিতে বৈশাখী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এর আগের দিন রাজধানীর রায়েরবাজারে কৃষি মার্কেটের সামনে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে গাড়ির চালক আহত হয়েছেন। এসব ঘটনার মাধ্যমে দেশে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। যারা এসব ঘটনার সাথে জড়িত তারা স্পষ্টভাবে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা করছে। আর এসব ঘটনার সাহস পাচ্ছে বিরোধী দলের কর্মসূচির কারণে। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল সেই ঐক্য যত দুর্বল হবে, ততই পতিত স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথ সুগম হবে। এর ফলে দেশ আবার অস্থিতিশীল হবে। বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। নতুন বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যাবে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে হলে সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নাশকতার বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ঐক্যের ডাকই দিয়েছেন বিপ্লব ও সংহতি দিবসে।

আরও পড়ুন: সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ বছর ১০ মাসে পুরো দেশের ৩০০ পরিবার নিশ্চিহ্ন

আসুন—ঐক্যবদ্ধ হই, দেশ বাঁচাই, গণতন্ত্র রক্ষা করি। দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়াই একসাথে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমবায়ের হাত ধরেই বদলাবে গ্রামীণ মানুষের জীবন প্রতিমন্ত্রী টুকু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ একদিল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩৪ পি.এম


সমবায়ের হাত ধরেই বদলাবে গ্রামীণ মানুষের জীবন প্রতিমন্ত্রী টুকু

 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, সমবায়ের হাত ধরেই বদলাবে গ্রামীন জীবন। সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান। এতে উন্নত হবে জীবনমান। এছাড়াও সমবায়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও আত্মনির্ভরশীলতা তৈরি হবে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা প্রশাসন ও সমবায় বিভাগের আয়োজনে ৫৫তম সমবায় দিবসটি উপলক্ষে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার ও জেলা বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক শানু।

মন্ত্রী বলেন, সমবায় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমবায়ের ভূমিকা তুলে ধরাই দিবসটির মূল লক্ষ্য।

প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য যা যা প্রয়োজন, তা সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে করতে হবে। একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে সমাজের প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি গড়ে তুলে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শেষে সমবায় পণ্য মেলা পরিদর্শন করেন। মেলায় বিভিন্ন স্টলের আয়োজন করা হয়।


অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সমবায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশাল মহাশ্মশানে শ্মশান দীপাবলি উদ্‌যাপন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনে বিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার বরিশাল

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩৫ পি.এম


বরিশাল মহাশ্মশানে শ্মশান দীপাবলি উদ্‌যাপন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনে বিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শ্মশান দীপাবলি উপলক্ষে বরিশাল নগরীর মহাশ্মশানের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, পিপিএম।

শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) নগরীর মহাশ্মশানে আয়োজিত শ্মশান দীপাবলি উৎসব চলাকালে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহের পক্ষে তিনি এ পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার মহাশ্মশানের সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন এবং উৎসবকে কেন্দ্র করে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে উৎসবে আগত দর্শনার্থী, পুণ্যার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

এ সময় তিনি নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। উৎসবস্থলে সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আগত মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেন।

শ্মশান দীপাবলি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব। প্রতিবছর এ উৎসবকে ঘিরে বরিশাল নগরীর মহাশ্মশানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য মানুষ মহাশ্মশানে সমবেত হন। ফলে উৎসবকে নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এ ধরনের বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএমপির পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান এবং নিরাপত্তা কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ সেই প্রস্তুতিরই অংশ।

পরিদর্শনকালে বিএমপির অন্যান্য কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে বিএমপির বিশেষ অভিযানে ৩৩ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা-গাঁজা উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক | বরিশাল

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩৯ পি.এম


বরিশালে বিএমপির বিশেষ অভিযানে ৩৩ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা-গাঁজা উদ্ধার

                            ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ১৮৫ পিস ইয়াবা ও ৩৭০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার, মাদকসহ আটক ৮ জন

বরিশাল মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। গত ২৪ ঘণ্টায় মহানগর পুলিশের চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখার পৃথক অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ বিভিন্ন অপরাধে মোট ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর ২০২৬) বিএমপির প্রকাশিত বিশেষ আভিযানিক সাফল্যের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ নভেম্বর পরিচালিত এসব অভিযানে ১৮৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩৭০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদকদ্রব্যসহ আটজনকে আটক করা হয়েছে।

বিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া নিয়মিত মামলায় চারজন, বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশে ১২ জন এবং অন্যান্য আইনে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সব মিলিয়ে মহানগর পুলিশের চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখার পৃথক বিশেষ অভিযানে মোট ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ দমন ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করতে মহানগর পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

এদিকে, মাদক নির্মূলে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএমপি। মাদক সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।

মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত বরিশাল গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহজাদপুরে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ রাসেল সরকার (স্টাফ রিপোর্টার)

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৬ পি.এম


শাহজাদপুরে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

শাহজাদপুরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের উদ্যোগে র‌্যালি, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রবিউল রানা, বিআরডিবির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, প্রেস ক্লাবের সভাপতি আল আমিন হোসেন এসময় শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাসেল সরকার বিভিন্ন সমবায় সমিতির কর্মকর্তা ও সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্টরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সমবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সমবায়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করে আত্মনির্ভরশীল করা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বক্তারা সমবায় আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%