০২:৪২ পি.এম
কৃষকের ক্ষেতের লাউয়ের দাম পানির দরে; প্রতি পিসের মূল্য মাত্র তিন টাকা। তবুও, চাহিদার অভাব রয়েছে। এই দামে লাউ বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তোলার কথা দূরে থাক, অনেক ক্ষেত্রে পরিবহন খরচও উঠছে না।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন কুড়িগ্রামের লাউ চাষিরা। ফলে তারা বিপাকে রয়েছেন।
কৃষকরা জানাচ্ছেন, অতীতে লাউয়ের এমন মূল্য বিপর্যয় তারা দেখেননি। জমি ভাড়া ও কৃষি উপকরণ চড়া দামে কিনে আবাদ করে অনেক কৃষক এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
আরও পড়ুন: ২০ টাকার আলু ১১ টাকায় বিক্রি, তবু ক্রেতার অভাব
কৃষি বিভাগের মতে, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে লাউ চাষের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সবজিটির দাম কমে গেছে।
সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের শিবরাম গ্রামের লাউ চাষি ফিরোজ আলম জানান, এবছর ২০ শতক জমিতে লাউয়ের আবাদ করতে তার খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। জমি চাষ, চারা সংগ্রহ, সার, কীটনাশক এবং লাউয়ের মাচা তৈরিতে এই খরচ হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি লাউ বিক্রি করেছেন মাত্র ২০০ টাকার।
লাউ চাষ করে বিপদে পড়া এই কৃষক তার কষ্টের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, কুড়িগ্রাম জিয়া বাজারে কয়েক দিন আগে ৩৬টি লাউ আড়তে মাত্র ১১০ টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি জানান, এই টাকায় কোনো মতে পরিবহন খরচ মেটালেও তার যাতায়াতে বাড়তি টাকা খরচ হয়েছে। তার ধারণা, এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় লাউয়ের আবাদ বেড়ে গেছে, তাই বাজারের দাম পড়ে গেছে।
একই গ্রামের কৃষক খন্দকার এনামুল হক জানান, ৮০ শতক জমিতে লক্ষাধিক টাকা খরচ করে লাউয়ের আবাদ করে তিনি পেয়েছেন চার হাজার টাকা। তিনি বলেন, কুড়িগ্রামের পাইকারি বাজারে তিন-চার টাকায় লাউ বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই জমির পাশের সড়কের পাশে লাউ তুলে রাখা হয়েছে, যেখানে পাঁচ টাকা দরে বিক্রি করছেন প্রতি পিস। পথচারীরা কিনছেন, কিন্তু ক্রেতার অভাবে বিক্রি করতে না পারায় লাউ জমিতে পচে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: মাটিয়ানে পানি ধরে রাখতে নান্দিয়া খালে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ
কান্নাজড়িত কণ্ঠে এনামুল বলেন, ‘আমার পুঁজি সব শেষ। ধারদেনা আছে। তিন সন্তানের লেখাপড়ার খরচ দিতে পারছি না। আমার কী হবে জানি না।’
রাজারহাট উপজেলার দেবালয় গ্রামের ক্ষুদ্র কৃষক বাবুল মিয়া জানান, গত বছর জমিতে প্রতি পিস লাউ বিক্রি হয়েছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। এবার ভালো দাম পাওয়ার আশায় ৩০ শতক জমিতে লাউয়ের চাষ করেন, কিন্তু ক্রেতাই নেই। তিনি জানান, গত কয়েক বছরে লাউয়ের বাজারে এমন মন্দা দেখা যায়নি।
একই অবস্থা এই গ্রামের সুরুজ মিয়াসহ অনেক কৃষকের। লাউ আবাদ করে সবাই অন্ধকার দেখছেন। প্রতিটি জমি ৪০ হাজার টাকা ভাড়া নিয়ে বাড়তি দামে অন্যান্য পণ্য কিনে চাষ করে এখন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন অনেক বর্গাচাষি। অনেকে আগাম আলু চাষের চিন্তা করলেও লাউ চাষ করে পুঁজি ফুরিয়ে গেছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মিঠু চন্দ্র অধিকারী বলেন, গত বছর লাউয়ের দাম বেশি পাওয়ায় এ বছর কৃষকরা বেশি করে লাউয়ের চাষ করেছেন, যার ফলে দাম কমে গেছে। কৃষকদের ভালো দাম পাওয়ার জন্য আগাম সবজি চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জোয়ারের নোনা পানিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদীতে বাড়ছে লবণাক্ততা, কৃষি হুমকিতে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন