ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সিসিউতে ভর্তি ড. আব্দুল মঈন খান, দেখতে গেলেন সমাজ কল্যাণমন্ত্রী


সিসিউতে ভর্তি ড. আব্দুল মঈন খান, দেখতে গেলেন সমাজ কল্যাণমন্ত্রী

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বুকে ব্যথার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) ভর্তি করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন তাকে দেখতে হাসপাতালে যান। এই সময় তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং ড. মঈন খানের শারীরিক অবস্থা ও চলমান চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।

আরও পড়ুন: তৃতীয় টার্মিনাল ঘিরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে শুরু হলো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে ড. আব্দুল মঈন খান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার দ্রুত সুস্থতা ও আশু আরোগ্য কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইলের অস্তিত্বের প্রশ্নে বিভক্ত দুই শিবির, নেতানিয়াহুর জোট ও বিরোধী দলের লড়াই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৮ পি.এম


ইসরাইলের অস্তিত্বের প্রশ্নে বিভক্ত দুই শিবির, নেতানিয়াহুর জোট ও বিরোধী দলের লড়াই

গত চার বছর ধরে অধিকৃত পশ্চিম তীরে একের পর এক পাহাড়ের চূড়ায় ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের দখল প্রতিষ্ঠা করতে দেখেছেন সালিম স্লেবি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি জোটের শাসনামলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে রেকর্ডসংখ্যক বসতি সম্প্রসারণ হয়েছে। কিন্তু একই ঘটনা যে ইসরাইলের ভেতরেও ঘটতে পারে, তা কখনো ভাবেননি তিনি।

গত সেপ্টেম্বরের একদিন সেটিই ঘটল। উত্তর ইসরাইলের আরব অধ্যুষিত শহর মাজদ আল-ক্রুমের মেয়র স্লেবির শহরের দিকে তাকানো একটি পাহাড়ি ঢালে একদল বসতি স্থাপনকারী তাঁবু খাটিয়ে ইসরাইলের পতাকা ওড়ায়। ওই জমির একাংশের মালিক ইহুদি ন্যাশনাল ফান্ড এবং বাকি অংশের মালিক আরব ভূমির মালিকেরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত বসতি স্থাপনকারীরা সেখান থেকে চলে যায়। পরে জানা যায়, ইহুদি ন্যাশনাল ফান্ড শুধু তাদের জমিতে পশু চরানোর অনুমতি দিয়েছিল।

তবে স্লেবি মনে করেন না, তাদের চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টির ইতি ঘটেছে। ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ গ্যালিলি ও নেগেভ অঞ্চলকে ‘ইহুদিকরণের’ পরিকল্পনা ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই বসতি স্থাপনকারীরা সেখানে হাজির হয়েছিল। ইসরাইলের এই দুই অঞ্চলে আরব জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। স্মোটরিচ বলেছেন, তার দল আগামী সরকারে থাকলে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

‘হ্যাঁ, আমরা ইহুদিকরণ করছি!’—এই স্লোগান সামনে রেখে স্মোটরিচের পরিকল্পনাটি নেতানিয়াহুর জোটের সদস্যদের উত্থাপিত একাধিক কট্টর প্রস্তাবের অংশ। প্রায় ৮০ বছরের ইতিহাসে ইসরাইলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনগুলোর একটি সামনে রেখে এসব প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।

আগামী মঙ্গলবারের নির্বাচনটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন। অনেক ইসরাইলির কাছে এই ভোট হবে ওই দিনের বিপর্যয় এবং তার আগে ঘটে যাওয়া নিরাপত্তাগত ব্যর্থতার জবাবদিহির উপলক্ষ। একই সঙ্গে এটি দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে বেছে নেওয়ার নির্বাচন।

হামাসের হামলার আগের বছর ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রকৃতি নিয়ে তীব্র বিরোধে দেশটি কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একদিকে ছিল নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় রাজনীতির পক্ষের জোট; অন্যদিকে ছিল তুলনামূলক ধর্মনিরপেক্ষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের সমন্বয়ে গঠিত বিরোধী শিবির।

আসন্ন নির্বাচনেও সেই বিভাজনই প্রধান হয়ে উঠেছে। ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে ডানপন্থি হিসেবে বিবেচিত নেতানিয়াহুর জোটের সদস্যরা এবার এমন কিছু প্রস্তাব সামনে এনেছেন, যা তাদের আগের পদক্ষেপগুলোর চেয়েও বেশি কট্টর। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়া এবং বিচার বিভাগে বিতর্কিত সংস্কার আবার চালু করা। হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে বিচার বিভাগ সংস্কারের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ইসরাইলে কয়েক মাস ধরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল।

বিরোধী দলগুলো ক্ষমতায় গেলে এসব পদক্ষেপের উত্তরাধিকার পাল্টে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। ইতিমধ্যে আইনে পরিণত হওয়া বিচার বিভাগ সংক্রান্ত কিছু পরিবর্তন বাতিল করাও তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। পাশাপাশি তারা এমন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছে, যা বর্তমান সরকার করতে রাজি নয়—এর মধ্যে রয়েছে অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ এবং ৭ অক্টোবরের হামলার ব্যর্থতা তদন্তে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন।

জনমত জরিপে দুই পক্ষের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। নেতানিয়াহুর জোট কিংবা সাবেক জেনারেল গাদি আইজেনকোটের ‘ইয়াশার’ দলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিরোধী শিবির—কোনোটিই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে না। নির্বাচনের পর সরকার গঠনের জন্য দলগুলোর মধ্যে দর-কষাকষি করতে হতে পারে, যা কয়েক মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ফল নির্ধারণে একাধিক দফা ভোটের প্রয়োজন হলেও ইসরাইলি ভোটারদের সামনে থাকা মৌলিক পছন্দটি অত্যন্ত স্পষ্ট। নির্বাচনের ফল দেশটির সামাজিক কাঠামো, ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের অবস্থানের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও সরকারের কট্টর নীতির প্রতিবাদে ঐতিহ্যগত মিত্ররাও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিচ্ছে।

বিশেষ করে বিরোধী শিবিরের ভোটারদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তীব্র। ইসরাইলি জনমত বিশ্লেষক শমুয়েল রোজনার বলেন, ‘ইসরাইল সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয়ভাবে এমন একটি দিকে এগোচ্ছে, যেখানে যারা দেশটিকে পশ্চিমা উদার গণতন্ত্র হিসেবে এবং সর্বজনীন মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত রাখতে চান, তারা নিজেদের হুমকির মুখে অনুভব করছেন।’

তার ভাষায়, ‘এই নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সরাসরি ইসরাইল রাষ্ট্রের পরিচয়ের কেন্দ্রে আঘাত করছে।’

অস্তিত্বের প্রশ্ন

ইসরাইলের সামনে থাকা এই নির্বাচনী লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছেন নেতানিয়ু। গত ৩০ বছরের মধ্যে ১৯ বছরই তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্য যেকোনো নেতার তুলনায় তার প্রভাব অনেক বেশি। তবে তিনি একই সঙ্গে অত্যন্ত বিভাজন সৃষ্টিকারী ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগ—যা তিনি অস্বীকার করেন—এবং একের পর এক পুরোনো মিত্রের সঙ্গে বিরোধ তার রাজনৈতিক বিকল্প সীমিত করেছে।

২০২২ সালের আগের নির্বাচনে কয়েকটি দল নেতানিয়াহুর সঙ্গে জোট করতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের দল এবং দুটি কট্টর ডানপন্থী দলের সঙ্গে জোট গড়ে ক্ষমতায় ফেরেন। তখন তিনি বলেছিলেন, সরকারের চালকের আসনে তার হাত ‘দৃঢ়ভাবেই’ থাকবে। কিন্তু তার জোটের নীতিতে কট্টর জাতীয়তাবাদী মিত্রদের প্রভাব প্রবল হয়ে ওঠে। পর্যবেক্ষকদের অধিকাংশই মনে করেন, এই জোট আবার ক্ষমতায় ফিরলে একই পরিস্থিতি তৈরি হবে।

নেতানিয়াহু নির্বাচনকে এমনভাবে উপস্থাপন করছেন, যেন তার জোট ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করবে, আর বিরোধীরা আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে। বিরোধী কোনো দলই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিচ্ছে না। তা সত্ত্বেও নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নির্বাচনী স্লোগানে ভোটকে সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে—‘ইয়ামিন ও ফিলিস্তিন’, অর্থাৎ ডানপন্থা নাকি ফিলিস্তিন।

লিকুদ পার্টি বারবার বলেছে, তারা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হতে দেবে না। গত আগস্টে দলটি জানায়, জোট আবার নির্বাচিত হলে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের ‘ঐতিহাসিক গতি’ বজায় রাখা হবে। বর্তমান মেয়াদে সেখানে ১০০টির বেশি নতুন বসতি অনুমোদন করা হয়েছে, যেগুলো আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ।

নেতানিয়াহুর মিত্ররা আরো অনেক দূর এগিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নেতৃত্বাধীন কট্টর জাতীয়তাবাদী দল ‘জিউইশ পাওয়ার’ গত মাসে গাজা থেকে ১৮ লাখ ৬০ হাজার ফিলিস্তিনিকে—উপত্যকাটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ—আগামী সাত বছরের মধ্যে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করে। এর আগে আরবদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ উসকে দেওয়ার দায়ে দণ্ডিত হয়েছিলেন বেন-গভির।

এই অবস্থানে তিনি একা নন। নেতানিয়াহুর জোটে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করা নতুন ডানপন্থী দলের নেতা ওফের উইন্টারও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের ‘স্বেচ্ছায়’ চলে যাওয়ার পক্ষে। স্মোটরিচের সঙ্গে যৌথ নির্বাচনী জোটে থাকা উগ্রপন্থী নেতা মোশে ফেইগলিনও গাজাকে জনশূন্য দেখতে চান।

চলতি মাসে জেরুজালেম পোস্ট-কে ফেইগলিন বলেন, ‘দখল করো, সবাইকে সরিয়ে দাও—সব আরবকে। তারা সেখানে থাকতে পারবে না। তারা যা করেছে, তার পর সেখানে তাদের থাকার কোনো অধিকার নেই।’

বেন-গভির ও স্মোটরিচ উভয়েই পশ্চিম তীর থেকেও ফিলিস্তিনিদের ‘উৎসাহিত করে’ অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে থাকা স্মোটরিচ গত মাসে বলেন, ইসরাইল ইতিমধ্যে গাজার যে অর্ধেকের বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে, সেটিও নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদী পর্যন্ত ভূখণ্ড দখলে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

ইসরাইলের ডানপন্থী ভোটারদের একটি ক্রমবর্ধনশীল অংশের কাছে এসব বক্তব্য জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। জেরুজালেমের মাহানে ইয়েহুদা বাজারে দুটি দোকানের মালিক ৩২ বছর বয়সী ইয়োসেফ বেন-গভিরকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ইসরাইলে এমন অনেক জায়গা রয়েছে, যেগুলো আমাদের, অথচ আরবরা সেগুলো নিজেদের বলে দাবি করে। আমরা জিততে চাইলে নিজেদের বলে যা মনে করি, তা ফিরিয়ে নিতে হবে।’

ইসরাইলের জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আরব নাগরিক এবং বামপন্থী ইহুদিদের কাছে একসময় অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত জনসংখ্যা স্থানান্তরের মতো ধারণার ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা আতঙ্কজনক। ফিলিস্তিনি-ইসরাইলি আইনজীবী ও বিশ্লেষক ডায়ানা বুত্তু এসব নীতিকে ‘মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া নীতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার কথায়, ‘এটি অস্তিত্বের সংকট।’

আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান হামলা নিয়ন্ত্রণে ইসরাইলি সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, স্পেন ও নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি দেশ পশ্চিম তীরে বসতিগুলোর পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে বা কার্যকর করেছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড সম্প্রতি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাকে ‘জাতিগত নির্মূল’ বলে অভিহিত করেছেন।

ইসরাইলের বিরোধী শিবিরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘যারা এখনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে, তারা যদি এই সরকারের আরও তিন-চার বছর ধরে চলা দেখতে পায়, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষে ইসরাইলের প্রতি গভীর অসন্তোষ ও ঘৃণা প্রকাশের জন্য কল্পনা করা যায়—এমন সব ব্যবস্থাই নেওয়া হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিকল্প একটি ইসরাইল আছে—এই যুক্তি তখন আর কার্যকর থাকবে না, যদি আমরা এই সরকারকে সরাতে না পারি।’

বিভক্ত দুই শিবির

অনেক ইসরাইলির কাছে নির্বাচনটির কেন্দ্রীয় বিষয় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নগুলোর একটি হলো, ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পথ তৈরি করে দেওয়া ব্যর্থতাগুলো তদন্তে অবশেষে রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠন করা হবে কি না। হামাসের ওই হামলাকে ইসরাইলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তাগত ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যে সরকারের আমলে এই বিপর্যয় ঘটেছিল, নেতানিয়াহু ও তার মিত্ররা সেই ব্যর্থতা তদন্তে রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের বিরোধিতা করে আসছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো ক্ষমতায় গেলে প্রথম দিকের পদক্ষেপ হিসেবেই এমন কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে আরো দুটি বিষয় দেশের ভবিষ্যতের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। একটি হলো, আবার ক্ষমতায় এলে বিচার বিভাগে সংস্কার চালুর ব্যাপারে বর্তমান জোটের দৃঢ় অবস্থান। অন্যটি হলো, অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ছাড় বাতিল করার বিরোধী দলগুলোর প্রতিশ্রুতি।

গাজা যুদ্ধ শুরুর আগে নেতানিয়াহুর জোটের বিচার বিভাগের ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগই ইসরাইলের রাজনীতির প্রধান বিতর্ক ছিল। ডানপন্থীদের অনেকে একে বিচার বিভাগের দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত ক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সংশোধন হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু বিরোধীদের আশঙ্কা ছিল, এর মাধ্যমে ইসরাইল সরকারের ওপর আগে থেকেই দুর্বল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং নেতানিয়াহুর অতি-ধর্মীয় ও কট্টর ডানপন্থী মিত্ররা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পুরো সমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাবে।

কয়েক মাসের গণবিক্ষোভ এবং যুদ্ধ শুরুর পর বিচার বিভাগ সংস্কারের উদ্যোগ স্থগিত করা হয়। কিন্তু তিন বছর পর নেতানিয়াহুর মিত্ররা আবার বিষয়টি সামনে আনতে আগ্রহী। স্মোটরিচের ধর্মীয় জায়নবাদী দল এবং বেন-গভিরের জিউইশ পাওয়ার পার্টি একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের রায় বাতিল করার ক্ষমতা পার্লামেন্টকে দেওয়া, আদালতে আবেদন করার সুযোগ সীমিত করা এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া ও তার দায়িত্বগুলো আলাদা করে দেওয়া। সরকারের ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ক্ষেত্রে অ্যাটর্নি জেনারেল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

এসব প্রস্তাব আগের মেয়াদে সরকার যে সীমিত পরিবর্তনগুলো করতে পেরেছিল, তার চেয়েও বেশি সুদূরপ্রসারী। আগামী চার বছরে ইসরাইলের ১৫ সদস্যের সুপ্রিম কোর্টে সর্বোচ্চ ১০ জন নতুন বিচারপতি নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে পরবর্তী সরকার আদালতের রাজনৈতিক ভারসাম্য বহু বছরের জন্য নির্ধারণ করে দিতে পারে।

জেরুজালেমভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইসরাইল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের প্রধান ইয়োহানান প্লেসনারের মতে, এসব পরিবর্তন কার্যকর হলে তা বহু বছরের জন্য ইসরায়েলের গণতন্ত্রের চরিত্র বদলে দিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘এতে ইসরাইলের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার এমন পরিবর্তন ঘটবে, যেখানে শাসনক্ষমতা রাজনৈতিক সংখ্যাগরিষ্ঠের হাতে কেন্দ্রীভূত হবে। মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কার্যত কোনো বাধা ছাড়াই সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।’

বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস দলের প্রার্থী ইয়ায়া ফিঙ্ক আরও সরাসরি বলেন, ‘আমরা হেরে গেলে ইসরাইল আর গণতান্ত্রিক দেশ থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘গত চার বছরে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে ইসরাইলকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে টিকিয়ে রাখতে পেরেছে। কিন্তু এই নিশ্চয়তা চিরস্থায়ী নয়।’

ইসরাইলের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল জনগোষ্ঠী অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্কের ভবিষ্যৎও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। হিব্রু ভাষায় এই জনগোষ্ঠী ‘হারেদিম’ নামে পরিচিত।

অতি-ধর্মীয় ইহুদি ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সামরিক বাহিনীতে যোগদান থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ব্যবস্থা ১৯৪৮ সালে ইসরাইলের প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড বেন-গুরিয়ন ও অতি-ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতার ফল। দীর্ঘদিন ধরে অন্য ইহুদি নাগরিকদের মধ্যে এই ছাড় নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। তবে গাজা যুদ্ধ—ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সংঘাত—সেনাবাহিনীর ওপর, বিশেষ করে রিজার্ভ সেনাদের ওপর, চাপ বাড়িয়ে দেওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

নেতানিয়াহুর জোটের দুই অতি-ধর্মীয় দল শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম গত সপ্তাহে জানিয়েছে, আইন করে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের এই ছাড় নিশ্চিত না করা হলে তারা নেতানিয়াহুর সঙ্গে নতুন সরকারে যোগ দেবে না। ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, বিদ্যমান ব্যবস্থার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

বিরোধী দলগুলো অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগকে নিজেদের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম প্রধান বিষয় করেছে। তারা সামরিক বাহিনীতে যোগ না দিলে বিভিন্ন সুবিধা হারানো থেকে শুরু করে ভ্রমণ ও ভোটাধিকার হারানোর মতো শাস্তির প্রস্তাব দিয়েছে। ইয়াশারের মতো কিছু দল সামরিক বাহিনীতে যোগদান এড়িয়ে যাওয়াদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করারও প্রস্তাব দিয়েছে।

ইসরাইলের দুই রাজনৈতিক শিবিরই বিষয়টিকে মৌলিক প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করছে। শাস দলের প্রধান আরিয়েহ দেরি চলতি বছর বলেছেন, নির্বাচনটি মূলত ইহুদি ঐতিহ্য ও ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের কর্তৃত্বের দ্বন্দ্ব। তার অভিযোগ, অ্যাটর্নি জেনারেলের শাসন ইহুদি ধর্মের প্রতিটি স্ফুলিঙ্গ মুছে দিতে চায়।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘তৃতীয় কোনো পথ নেই।’

জনমত বিশ্লেষক রোজনার বলেন, বিরোধী ভোটারদের মধ্যে তাগিদ আরো বেশি। কারণ, উচ্চ জন্মহারের কারণে অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-অষ্টমাংশ এই সম্প্রদায়ের হলেও ২০৫০ সালের মধ্যে তা এক-চতুর্থাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।

রোজনার বলেন, ‘মধ্য-বামপন্থীদের মধ্যে একটি উপলব্ধি তৈরি হয়েছে যে বিপরীত শিবিরটি ক্রমেই বড় হচ্ছে। হয়তো ১০ বছর পর তাদের ভোটে হারানো অসম্ভব হয়ে উঠবে।’

তিনি বলেন, এই আশঙ্কা শুধু অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ইসরাইল ক্রমেই ডানদিকে ঝুঁকে পড়ছে—এমন বৃহত্তর উদ্বেগের সঙ্গেও যুক্ত।

তার ভাষায়, ‘এ কারণেই মানুষের মধ্যে এত তাড়াহুড়ো। এ কারণেই বিদেশে থাকা এত ইসরাইলি ভোট দিতে দেশে ফিরছেন।’

তবে আপাতত জনমত জরিপ বলছে, বিদেশ থেকে ভোট দিতে আসা নাগরিকদের উপস্থিতিও হয়তো কোনো পক্ষকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে না। নেতানিয়াহুর জোট এবং আইজেনকোটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জায়নবাদী বিরোধী শিবির—উভয়ই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের চেয়ে অনেক কম আসন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুই শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ নেতারাই ইসরায়েলের আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। অথচ সেই দলগুলোর সমর্থন পেলে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সরকার গঠনের প্রক্রিয়া তদারক করবেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সরকার গঠিত হোক এবং ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মতো বারবার নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতি এড়াতে দলগুলো সব ধরনের চেষ্টা করুক—এটাই তার প্রত্যাশা।

তবে তিনি সফল না হলেও ইসরাইলের সামনে থাকা মৌলিক পছন্দের প্রশ্নটি থেকেই যাবে।

বিরোধী শিবিরের আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—আমাদের জীবদ্দশার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন।’

তার মতে, ভোটের দিনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলেও, এমনকি দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের প্রয়োজন হলেও, শেষ পর্যন্ত একটি পথ বেছে নিতেই হবে। আর সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব হবে অত্যন্ত গভীর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেতানিয়াহুর ইরানে হামলার পরিকল্পনা আটকে দেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৮ পি.এম


নেতানিয়াহুর ইরানে হামলার পরিকল্পনা আটকে দেন ট্রাম্প

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চলতি মাসের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন সংঘাত শুরু করার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বেনামী সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

এই বিষয়ে অবগত তিনজন ব্যক্তি একটি ব্রিটিশ সংবাদপত্রকে জানিয়েছেন যে, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ১০ অক্টোবরের দিকে ইরানি পারমাণবিক স্থাপনা, শাসকগোষ্ঠীর বিভিন্ন কেন্দ্র এবং জ্বালানি কেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো জানায়, ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন সংঘাত শুরু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। ইসরাইলেও নির্বাচন আসন্ন, যেখানে আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য নেসেট নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার জন্য কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছেন, ট্রাম্প যদি ইসরাইলকে হামলা চালানোর জন্য ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতেন, তাহলে সেই হামলাগুলো ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরিচালিত হামলার তুলনায় আরও তীব্র হতে পারত।

তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এই হামলায় অংশ নিত কি না, অথবা ইসরাইল একাই তা পরিচালনা করত, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই।

যদিও একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নির্বাচনের পর আগামী সপ্তাহগুলোতে এ ধরনের হামলা পুনরায় শুরু হওয়া ‘অযৌক্তিক কোনো পরিস্থিতি নয়’।

একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরাইল লক্ষ্যবস্তুগুলোর একটি নতুন তালিকা প্রস্তুত করেছে, যাতে এমন সব বেসামরিক অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেগুলোতে আগে কখনো হামলা চালানো হয়নি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নেতানিয়াহুর ওপর হামলার জন্য চাপ দেওয়ার খবর সামনে আসার ঘটনা এটিই প্রথম নয়।

তবে এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে, ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইসরাইলকে সতর্ক করে বলেছেন, আগামী সপ্তাহের নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, যদি ইসরাইল কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তবে তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ : স্পিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ : স্পিকার

ভোলা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম মন্তব্য করেছেন যে, সরকারকে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা উচিত এবং এটি অত্যাবশ্যক। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গত ১৭ বছর ধরে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তাই আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

আজ বৃহস্পতিবার ভোলা সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার আরও বলেন, একজন ব্যক্তি অর্থশালী বা বিত্তবান না হলেও, যদি তার জনপ্রিয়তা এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা থাকে, তাহলে তাদেরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে একটি কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে।

তিনি বলেন, "আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বলছে- আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনা ফেরার সম্ভাবনা নেই।" আওয়ামী লীগ তাদের ক্ষমতার সময় এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল, যা সমাজের সৎ, ভালো ও নিরপেক্ষ মানুষের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সম্ভব করে তুলেনি। তাই নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এখন জরুরি।

ভোলার খনিজ গ্যাসের সম্ভাবনা সম্পর্কে স্পিকার আরও বলেন, এই জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে। দেশের বর্তমান রির্জাভের সঙ্গে এর তুলনা করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে ভোলায় আরও গ্যাস ভান্ডার রয়েছে। ভোলার সাধারণ মানুষের গ্যাসের প্রয়োজন রয়েছে। ভোলাবাসী দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট পাচ্ছে। গ্যাস ভোলাবাসীর ন্যায্য অধিকার এবং এটি তাদের দীর্ঘদিনের দাবি। এই বিষয়ে তিনি জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন।

নিজ নির্বাচনী এলাকা লালমোহন-তজুমদ্দিনে তিনদিনের সফর শেষে স্পিকার আজ বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ভোলা ত্যাগ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোংলা বন্দর ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


মোংলা বন্দর ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোংলা বন্দরের জেটিতে পৌঁছেছেন। এই সময় তিনি বন্দরের সার্বিক পরিচালনার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় মোংলার নৌঘাঁটি বৌনজা থেকে বন্দরের মেইন গেট দিয়ে জেটির ভেতরে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। গেটের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানান।

তিনি মোংলা বন্দরের বর্ধিতকরণ প্রকল্প, জেটির সুবিধা, কন্টেইনার ইয়ার্ডসহ বন্দরের বিভিন্ন আধুনিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত স্থাপনা সরাসরি পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন যাতে বন্দরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষমতা বৃদ্ধি, দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিকায়নের কাজ ত্বরান্বিত করা যায়।

এ সময় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিবৃন্দ তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

সকাল ১০ টায় উপকূলীয় দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বৃদ্ধি এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের সক্ষমতা পর্যালোচনা করতে সরকারি সফরে মোংলায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর আগে সকালে খুলনা ও সুন্দরবনের উপকূলীয় এলাকা হেলিকপ্টার এবং জলযানে পরিদর্শন শেষে নৌবাহিনীর বানৌজা মোংলা ঘাঁটিতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি সরাসরি মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় প্রবেশ করেন।

বন্দর পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ অন্যান্য প্রকল্পগুলো পর্যালোচনার পরিকল্পনা করেছেন। এরপর তিনি হেলিকপ্টারে ঢাকায় ফিরবেন তারেক রহমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%