বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৫:৪৪ পি.এম
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) মাধ্যমে সরকারি খরচে ৬ লাখ ১৩ হাজার ৯২১ জনকে আইনি পরামর্শ সেবা দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত লিগ্যাল এইড-এর মাধ্যমে আইনি সহায়তার বিস্তারিত তথ্য আসছে এই প্রতিবেদনে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয় যে, সংস্থার অধীনে সরকারি খরচে এই সময়ের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ২৭ হাজার ৫৮০ জন, দেশের ৬৪ জেলার লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ৩ লাখ ৫১ হাজার ২৫৩ জন এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনি সহায়তা সেলের মাধ্যমে ২২ হাজার ৩২৭ জনকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, সরকারি আইনি সহায়তায় জাতীয় হেল্পলাইন কলসেন্টারের (টোল ফ্রি-‘১৬৬৯৯’) মাধ্যমে ২ লাখ ১২ হাজার ৫২০ জনকে আইনি পরামর্শ সেবা দেয়া হয়েছে। অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে আইনি পরামর্শ (ফেসবুক মেসেঞ্জার) পেয়েছেন ২৪১ জন।
দেশে আর্থিকভাবে অসচ্ছল, অসমর্থ বিচার প্রার্থী জনগণকে আইনি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের’ অধীনে সরকারি খরচে এসব সেবা দেওয়া হয়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিয়ানমারে পাচারের সময় নোয়াখালীর হাতিয়ার মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ৭৬০ বস্তা সার জব্দ করেছে কোস্টগার্ড। এই অভিযানে একটি বোটসহ ৫ পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃত আটকদের মধ্যে হাতিয়া বাজার এলাকার আব্দুল ওহাব (১৯), হানিফ (২৬), আবুল মোর্শেদ (২৭), চৌরুঙ্গী আল আমিন সমাজের পারভেজ উদ্দিন (২৬) এবং গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর খাজা মার্কেট এলাকার পলাশ (১৮) রয়েছেন।
কোস্টগার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (১২ আগস্ট) গভীর রাতে হাতিয়ার বাংলা বাজার খেয়াঘাট এলাকায় মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় একটি বোটের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সেটির গতিরোধ করা হয় এবং পরে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে বিএডিসি সিল দেওয়া ৭৬০ বস্তা সার জব্দ করা হয়, যার বাজার মূল্য ৮ লাখ টাকা। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় বোটটিসহ ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন নিশ্চিত করেছেন যে, আটকদের বিরুদ্ধে পণ্য পাচারের ঘটনায় মামলা করে হাতিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বন্দরে একটি ‘বে টার্মিনাল’ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। এই বিষয়ক প্রাথমিক আলোচনা দুটি পক্ষের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এমন তথ্য তুলে ধরেন।
সিঙ্গাপুর সফর শেষ করে ঢাকায় ফিরে আসার পর শামা ওবায়েদ জানান, দেশটিতে আরও অধিক দক্ষ জনশক্তির রপ্তানি, ব্যবসায়িক ঘাটতি কমানো এবং বড় ধরনের প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে সিঙ্গাপুরে প্রায় দেড় লাখ থেকে দুই লাখ বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কর্মরত আছেন। আগামীতে দেশটিতে আরও বেশি দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানির জন্য সিঙ্গাপুরের শ্রমমন্ত্রীর সাথে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ থেকে কীভাবে রপ্তানি বৃদ্ধি করা যায়, সেই ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে বলে তিনি অবগত করেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, দীর্ঘদিনের শক্তিশালী সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় সিংগাপুর সরকার চট্টগ্রাম বন্দরে একটি ‘বে টার্মিনাল’ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া সিঙ্গাপুরের বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের আধুনিক প্রকল্পও পরিদর্শন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে, তিনি জানান, সম্প্রতি জাপানের জ্যেষ্ঠ উপমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটি ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্পন্ন হয়েছে।
জাপান বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী প্রকল্পসহ বেশ কয়েকটি বড় মেগা প্রকল্পে জাপানের অংশীদারিত্ব রয়েছে।
শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের কাছে জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একইভাবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকায় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের মধুখালীতে একটি ভয়াবহ ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় মো. হাকিম বিশ্বাস (৫৮) নামে এক ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত এই রায় প্রদান করেন। এই রায় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে পুলিশের নিরাপত্তায় তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত হাকিম বিশ্বাস ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নির্যাতনের শিকার শিশুটির প্রতিবেশী হিসেবে পরিচিত।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২ আগস্ট দুপুরে শিশুটির মা, ব্যক্তিগত কাজে মধুখালী বাজারে গিয়ে তার অসুস্থ শাশুড়ি ও শ্বশুরের কাছে ছয় বছর বয়সী মেয়েকে রেখে যান। এরপর বিকেল ৪টার দিকে বাড়িতে ফিরে তিনি জানতে পারেন যে প্রতিবেশী হাকিম তার শিশুকন্যাকে যৌন হেনস্তা করেছে।
এই ঘটনায় ৩ আগস্ট শিশুটির মা বাদী হয়ে হাকিম বিশ্বাসকে একমাত্র আসামি করে মধুখালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মধুখালী থানার উপপরিদর্শক পলাশ কুমার দাস মামলাটির তদন্ত করেন এবং পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ১ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া এ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় বাল্যবিয়ে পড়ানোর অভিযোগে শামসুল আলম নামের এক কাজীকে আটক করা হয়েছে এবং মারধর করে তার উপর অত্যাচার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কানাইডাঙ্গা গ্রামে বাল্যবিয়ে পড়ানোর সময় স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে মারধর করেন।
পরে তাঁকে কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে পুলিশ সদস্যরা আগে তাঁর চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শামসুল আলমের বিরুদ্ধে বাল্যবিয়ে পড়ানো, অতিরিক্ত ফি আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁর কাজীর লাইসেন্স বাতিল করেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, লাইসেন্স বাতিলের পরেও বাল্যবিয়ে পড়ানোর অভিযোগে তাঁকে আটকের ঘটনার ফলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেসবা উদ্দীন বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তাঁকে মারধর করা হয়েছে। স্থানীয়দের তাঁকে আগে চিকিৎসা করিয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ