বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:১২ পি.এম
বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাট শিল্পের গবেষণা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সোনালী ব্যাগ প্রকল্পের অব্যবহৃত যন্ত্রপাতি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রদান করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি), বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট (বিসিসিটি) এবং মাভাবিপ্রবির মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর ডেমরায় লতিফ বাওয়ানী জুট মিলে যন্ত্রপাতি হস্তান্তর ও এমওইউ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম যন্ত্রপাতি ও মালামাল হস্তান্তর করেন মাভাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলামের কাছে।
প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত প্রকল্পটির যন্ত্রপাতিসহ মোট ৫৩টি আইটেম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এই যন্ত্রপাতি পাটের সেলুলোজ, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য এবং পাটের বহুমুখী ব্যবহার নিয়ে গবেষণায় কাজে লাগানো হবে।
প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, "অব্যবহৃত যন্ত্রপাতি নষ্ট না করে গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব যন্ত্রপাতি কাজে লাগিয়ে পাটের নতুন পণ্য ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি গবেষণার ফলাফল ব্যবহারিক ও বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে।"
অনুষ্ঠানে বিজেএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কবির উদ্দিন সিকদার, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মোস্তফা কামাল এবং মাভাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. এ কে এম মহিউদ্দিন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বিজেএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কবির উদ্দিন সিকদার এবং মাভাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
মাভাবিপ্রবির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবু বকর সিকদার, অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল বাশার, সহকারী অধ্যাপক আল ইমরান হোসাইন ও প্রভাষক মো. শাহাবুল হোসাইনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সোনালী ব্যাগ প্রকল্পের যন্ত্রপাতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকাজে ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল বাশার। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেন।
উল্লেখ্য, পাটের সেলুলোজ থেকে পরিবেশবান্ধব ও পচনশীল ‘সোনালী ব্যাগ’ উৎপাদনের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে বিজেএমসির অধীনে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নে গবেষণা করা হয়। উৎপাদন ব্যয় ও বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত কয়েক মাস ধরে চললেও, গত কয়েক সপ্তাহে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হয়নি। এই সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত রয়েছে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার চলছে। ধারণা করা হচ্ছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে এই শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখতে চাইবেন। কারণ, যুদ্ধের বিষয়টি সামনে এলে রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে। প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করতে পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। কর্মকর্তাদের মতে, নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানো এবং সংঘাতে অগ্রগতি দেখানোর জন্য ট্রাম্পের আগ্রহ এই পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে।
সম্ভাব্য হামলার পরিধি, লক্ষ্যবস্তু এবং হামলা চালানো হবে কি না—এসব বিষয়ে আলোচনা এখনও চলছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড বা সেন্টকম এসব পরিকল্পনা তৈরি করছে।
পরিকল্পনার সমর্থকরা স্বীকার করছেন যে, সীমিত হামলা একা ইরানকে আলোচনায় বসাতে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল পুনঃস্থাপন করতে বা নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমাতে সক্ষম হবে না। তবে তাদের ধারণা, কয়েক মাসের অস্বস্তিকর শান্তির পর সামরিক পদক্ষেপ নিলে ট্রাম্প শক্ত অবস্থান দেখাতে এবং বিজয় দাবি করতে পারবেন।
এদিকে, এমন হামলা মধ্যপ্রাচ্যে থাকা প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা এবং উপসাগরীয় মিত্রদের ইরানের পালটা হামলার ঝুঁকিতে ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারও চাপের মুখে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, সীমিত ও অনির্ণায়ক হামলা মূল্যস্ফীতি কমানোর পরিবর্তে উল্টো বাড়িয়ে দিতে পারে।
ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক উইল ওয়ালডর্ফ বলেন, "সামরিক পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত তেলের দাম কমাতে পারেনি; বরং এর বিপরীত প্রভাবই দেখা গেছে।"
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে বসন্তে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৮ ডলারে পৌঁছেছিল। গত মাসে তা সাময়িকভাবে ১০০ ডলার ছাড়ালেও বর্তমানে প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের গড় দাম এখন প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৩৭ ডলার, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ৩ ডলারের সামান্য কম ছিল।
এদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে কিছু জাহাজ মালিক গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ব্যবহারের বিষয়ে নতুন করে ভাবছেন। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এসব হামলা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরির উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে।
একই সময়ে, ওয়াশিংটন ও তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং নৌপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্ত ও সময়সূচি নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন উপদেষ্টার মতে, সংঘাত শুরুর পর ইরান বর্তমানে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। দেশটির অর্থনীতি নড়বড়ে, মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং নেতৃত্বের মধ্যেও বিভ্রান্তি রয়েছে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে হামলা চালালে ইরানকে চাপে ফেলার বদলে যুদ্ধ ও এর নেতিবাচক প্রভাব ভোটারদের সামনে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে—যা রিপাবলিকানদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সূত্র: দ্য আটলান্টিক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে খুলনায় ‘জিয়া হল কমপ্লেক্স’ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে খুলনা সিটি করপোরেশন ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগ যৌথভাবে সভার আয়োজন করে।
সভায় আলোচনা করা হয় জিয়া হল কমপ্লেক্সে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে এবং উপস্থিত সবার মতামত গ্রহণ করা হয়। মতামতের ভিত্তিতে জিয়া হল কমপ্লেক্সের নকশা প্রণয়ন করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সভায় বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি রয়েছে একটি আধুনিক সিনেপ্লেক্স, আধুনিক লাইব্রেরি এবং টপ ফ্লোরে ফুডকোর্ট রাখার বিষয়ে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিশিষ্টজনরা আর্ট এক্সিবিশন আয়োজনের জন্য একটি আর্ট গ্যালারি, নৃত্যকলার জন্য একটি স্পেস এবং ওপেন নাট্যমঞ্চ রাখারও দাবি জানিয়েছেন। আমাদের লক্ষ্য হলো সবকিছুর সম্মিলন ঘটিয়ে একটি নান্দনিক স্থাপনা নির্মাণ করা।
শিববাড়ি মোড়কে নগরীর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাগরিকদের চাহিদা ও রুচিবোধের সাথে সমন্বয় রেখে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই চত্বরের ট্রাফিক ব্যবস্থা পরিকল্পনায় রেখে জিয়া হল কমপ্লেক্সের নকশা প্রণয়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. খোন্দকার মাহফুজ উদ দারাইন, সহযোগী অধ্যাপক এস এম নাজিমউদ্দীন, কেসিসির সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(কেডিএ)-এর প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. সাবিরুল আলম, কেসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে উপস্থিত সবাই জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণের স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীতে নিখোঁজের চারদিন পর চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহান (২১) নামে এক কলেজছাত্রের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের একটি মেহগনি বাগানের ভেতরের ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
রাজবাড়ী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকাল ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন রোহান।
নিহত রোহান রাজবাড়ী সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র এবং রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মো. রোকনউদ্দিন চৌধুরীর নাতি।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ রাতে যুগান্তরকে বলেন, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোহানের পাশের বাড়ির মেহগনি বাগানের মধ্যে ডোবা থেকে বস্তাবন্দি লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এর কারণ উদঘাটন করতে পারব বলে আশা করছি।
কলেজছাত্র রোহানের মৃত্যুর ঘটনায় রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষে আদালতে আইনি লড়াই করার জন্য আইনজীবী শিশির মনিরকে একহাত নেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান।
তিনি জামায়াত-শিবিরের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "একদিকে খুনিদের পক্ষে আইনজীবী দাঁড় করানো, অন্যদিকে রাজপথে বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করা—তাদের এই চরম দ্বিমুখী রাজনীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহের ওয়াজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান এসব মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, "বুধবার শহীদ আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং একই সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে রাজপথে সব সংগঠন নেমেছিল। ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠন কর্মসূচি পালন করেছে। এমনকি ছাত্রশিবির ও এনসিপিও কর্মসূচি পালন করেছে; কিন্তু আমার মৌলিক প্রশ্ন হলো, আবরার ফাহাদের নির্মম খুনিদের আইনজীবী হয়েছিলেন শিশির মনির, যিনি জামায়াতের একজন শীর্ষ পর্যায়ের আইনজীবী। তিনি জামায়াতের মনোনীত এমপি প্রার্থী ছিলেন, দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে থাকেন এবং আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলোতেও তাকে প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরা হয়।"
শিবিরের কর্মসূচির সমালোচনা করতে গিয়ে রাশেদ খান প্রশ্ন তোলেন, "জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির যখন আবরার ফাহাদের খুনিদের বাঁচানোর লড়াইয়ে নামেন, তখন শিবির কোন নৈতিকতায় ও কোন লজ্জায় রাজপথে বিচার চেয়ে কর্মসূচি পালন করে?" তিনি বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় এই শিশির মনিররা কখনো রাজপথে নামেননি। এমনকি তার ফেসবুকে জুলাইয়ের পক্ষে কোনো পোস্ট ছিল কিনা তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে; তার প্রোফাইলটাও লাল করা হয়নি। জামায়াতের আমিরও তার প্রোফাইল লাল করেননি। অথচ আজ তারা জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার বড় বড় দাবি করছে।"
বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "জামায়াতের আমিররা গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে রাজপথে নেমেছেন—এমন একটি ছবি বা ভিডিও তারা দেখাতে পারবে না; কিন্তু বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আন্দোলনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ সাক্ষী সমন্বয়করা।"
রাশেদ খান বলেন, "আবরার ফাহাদের বাবাও সম্প্রতি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, খুনিদের পক্ষে শিশির মনিরের মতো আইনজীবীর দাঁড়ানো অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিবির ছাত্রদলের পরিচয় নিয়ে টিকে ছিল। এখন প্রশ্ন জাগে, আবরারের প্রকৃত খুনিদের মধ্যে নামধারী ছাত্রলীগ পরিচয়ের আড়ালে কি শিবিরের কেউ জড়িত ছিল? তাদের রক্ষা করতেই কি জামায়াত আইনজীবী হিসেবে শিশির মনিরকে মাঠে নামিয়েছিল?"
জামায়াতের নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, "আমি জামায়াতকে বলব, আপনারা যদি সত্যিকার অর্থেই আবরার ফাহাদের চেতনাকে ধারণ করেন, তবে খুনিদের আইনি সহায়তা দেওয়া শিশির মনিরকে দলে রাখতে পারেন না। তাকে অবিলম্বে জামায়াত থেকে বহিষ্কার করতে হবে। যে ব্যক্তি আবরারের খুনিদের পক্ষে দাঁড়ায়, সে জামায়াত করতে পারে না, বাংলাদেশের রাজনীতিতেও তার জায়গা হওয়া উচিত নয়। তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা জামায়াত-শিবিরের নৈতিক দায়িত্ব ছিল; কিন্তু তারা তা না করে তাকে মনোনয়ন দিয়ে পুরস্কৃত করেছে।"
ছাত্রনেতা সাদিক কায়েমের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, "ডাকসুর ভিপি দাবিদার সাদিক কায়েম আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে কর্মসূচির আয়োজন করছেন। জামায়াত-শিবির ঐতিহাসিকভাবেই এমন দ্বিমুখী রাজনীতি করে আসছে। বাংলাদেশে আবরার হত্যাকারীদের রক্ষাকারী শিশির মনিরদের পুনর্বাসিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ