০৪:৪৩ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে অস্থিরতা ও নানা জটিলতা সত্ত্বেও, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী পরিবহনে নতুন একটি রেকর্ড স্থাপন করেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ৭ হাজার ৮০০ ফ্লাইটে মোট ৭ লাখ ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করেছে বিমানবন্দরটি। কিন্তু যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে ২৩৮টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য রাজস্ব হিসেবে প্রায় ৩০ কোটি টাকা হারিয়েছে।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে ওমানের মাস্কট, সৌদি আরবের জেদ্দা ও মদিনা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, শারজাহ ও আবুধাবীর উদ্দেশ্যে। চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরু থেকে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে পড়ায় বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এর প্রভাব চট্টগ্রাম থেকে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোর ওপরও পড়েছে। যুদ্ধের দেড় মাসে মধ্যপ্রাচ্যগামী ২৩৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এয়ার গ্যালেক্সির স্টেশন ইনচার্জ মো. আসিফ চৌধুরী বলেন, ফ্লাইট বাতিল করার কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে অতিরিক্ত ফ্লাইট এবং অনেক ক্ষেত্রে চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে তাদের মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে নির্মাণসামগ্রী লুটের ঘটনায় ৮ ডাকাত গ্রেফতার, উদ্ধার ট্রাক
এসব সংকটের মাঝে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ৩ হাজার ২৪৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব ফ্লাইটে ৩ লাখ ৭২ হাজার ২৩৭ জন যাত্রী যাতায়াত করেছেন। একই সময় ৪ হাজার ৫৪৮টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে আরও ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭০০ জন যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে। নানা সংকটের মধ্যেও এই বিপুল যাত্রীচাপ সামাল দেওয়া সত্যিই একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে এবং সিভিল এভিয়েশন সদর দফতর ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রীদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৬০৭টি এবং ফেব্রুয়ারিতে ৬৩০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। যুদ্ধকালীন সময় হিসেবে চিহ্নিত মার্চে সংখ্যা ছিল ৬৭১টি, এপ্রিলে ৬৮৫টি এবং মে মাসে ৬৫২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের। প্রতি মাসে গড়ে ৭৩ থেকে ৭৪ হাজার যাত্রী আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াত করেছেন।
যুদ্ধের কারণে আটকে পড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে এয়ারলাইন্সগুলো বিশেষ ছাড় দিয়েছে, সাথে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও ভিসা বাতিল না করে মেয়াদ বাড়িয়ে সহযোগিতা করেছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ আনোয়ার এইচ সিদ্দিকী জানান, বিশেষ করে রেমিট্যান্সযোদ্ধা বা প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য দেশগুলো উদার ভিসা নীতি গ্রহণ করে। ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের ভিসা বাতিল হয়নি এবং বরং গ্রেস পিরিয়ড প্রদান করা হয়েছে। যাদের ভিসার মেয়াদ বা চাকরিতে যোগদানের সময় ঘনিয়ে এসেছিল, তাদের সময়সীমাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। পরে টিকিট পুনরায় ইস্যু হওয়ার পর তারা সংশ্লিষ্ট দেশে যেতে সক্ষম হয়েছেন।
আরও পড়ুন: কম্বোডিয়ায় দুই বাংলাদেশিকে ৫ হাজার ডলারে বিক্রি করেছে মানবপাচারকারীরা
২০২৫ সালে পুরো বছরে শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ৮ হাজার ১২৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭৩৩ জন এবং ১১ হাজার ৩৯টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ৬ লাখ ৬৮ হাজার ২৮৮ জন যাত্রী পরিবহন করা হয়েছিল। এতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আয় ২০০ কোটিরও বেশি টাকা হয়েছে। প্রতি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট থেকে গড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট বাতিল নেওয়ার ফলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ৩০ কোটি টাকার সম্ভাব্য অতিরিক্ত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল জানান, যাত্রীরা বিমানবন্দরে এসে যাতে হয়রানির শিকার না হন, এজন্য এয়ারলাইন্স প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছিল। এছাড়া বার্তা ও সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে যাত্রীদের ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য জানানো হয়েছে।
২০০০ সালে আন্তর্জাতিক মর্যাদা পাওয়ার পর ২৬ বছর এবং আধুনিকায়নের ছয় বছর পার করেছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রতি বছর ১৫ লাখের বেশি যাত্রী পরিবহন করে আছড়ে পড়ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত ১১ মাসে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ২৪৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব: এনএসইজেডের সমস্যা ৩ মাসে সমাধান হবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন