মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:৩৫ পি.এম
গাজীপুরে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সময় টেলিভিশনের চিত্রসাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়ে তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে জেলা শহরের শিববাড়ি মোড় এলাকায় সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার চিত্রসাংবাদিকের নাম মো. আরিফ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে একদিক থেকে মিছিল নিয়ে আসেন মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মাহমুদ হাসান রাজু এবং বিপরীত দিক থেকে নেতাকর্মীদের বহর নিয়ে আসেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান রেজা। যখন দুটি মিছিল শিববাড়ি মোড়ে এসে পৌঁছায়, তখন সামনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
এ ঘটনার একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় সময় টেলিভিশনের চিত্রসাংবাদিক মো. আরিফ সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করছিলেন। তখন যুবদলের একদল কর্মী হঠাৎ করে তার ওপর চড়াও হয়ে তাকে মারধর করে এবং ক্যামেরাটি ছিনিয়ে নেয়। যদিও পরবর্তীতে ক্যামেরাটি ফেরত দেয়া হয়, তবে ডিভাইসের মেমোরি কার্ড পাওয়া যায়নি।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সংবাদকর্মীর ওপর এমন ন্যক্কারজনক হামলা ও ক্যামেরা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গাজীপুরের সাংবাদিক সমাজ তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বিবির বাগিচা ডেমরা রোড এলাকায় ছিনতাইকারী সন্দেহে জনতার গণপিটুনিতে ৩২ বছর বয়সী জনি নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ২৭ বছর বয়সী নিশাত মিয়া নামের আরেক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে যাত্রাবাড়ী থানাধীন বিবির বাগিচা ৪ নম্বর গেটের কাছে ডেমরা রোডে এই ঘটনা ঘটে।
যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে কয়েকজন যুবক মিলে ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ধাওয়া করে দুজনকে আটক করে গণধোলাই দেয়, বাকি দুজন পালিয়ে যায়। এই হামলায় ঘটনাস্থলেই জনির মৃত্যু ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় নিশাতকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে সেখানে পুলিশি পাহারায় তার চিকিৎসা চলছে।
পুলিশ জানায়, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর নিহত জনির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত জনি যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় মাতবর গলি এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। অন্যদিকে আটক ও আহত নিশাতের বাসা একই থানার কলাপট্টি এলাকায়; তার বাবার নাম মহসিন মিয়া। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানিসহ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। তিনি উল্লেখ করেন, সমস্যাগুলোর সমাধান হলে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিভিন্ন উৎপাদনকারী কারখানা ও নির্মাণাধীন নৌ-জেটি পরিদর্শন শেষে তিনি এসব মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার বলেন, গত ১০ বছরে অর্থনৈতিক অঞ্চলে তেমন অগ্রগতি হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী গত মাসে হেলিকপ্টারে করে অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পরিদর্শন করেছেন এবং এবার তাকে পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব ছোটখাটো সমস্যা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের যেন দ্রুত কাজ শুরু করার সুযোগ হয়, সেই জন্য আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানিসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
মুখ্য সচিব বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনৈতিক অঞ্চলের অগ্রগতিতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং প্রয়োজনে অর্থ বরাদ্দও দেওয়া হচ্ছে। এখানকার অগ্রগতিতে সরকার সন্তুষ্ট।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৩০টি কারখানা উৎপাদনে রয়েছে এবং আরো ১৫টি প্রতিষ্ঠানের কাজ চলমান। এসব প্রতিষ্ঠান এত দিন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগের অপেক্ষায় ছিল। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধানের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরো বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী সদস্য সালেহ আহমদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশ, বেজা, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে তিনি অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবস্থিত মডার্ন সিনটেক্স ও কিয়াম গ্লাসওয়্যার কারখানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কারখানা দুটির উৎপাদন কার্যক্রম ও সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
কিয়াম গ্লাসওয়্যার কারখানা পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানটির প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মশিউর রহমান ও ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) এইচ এম আরাফাত হোসেন তাকে কারখানার বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরিয়ে দেখান। পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বেজা কার্যালয় ও সংযোগ সড়কে বৃক্ষরোপণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানবপাচারকারীরা দুই বাংলাদেশি তরুণকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টারে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে বিক্রি করে। যদিও পরিবার থেকে একই পরিমাণ অর্থ মুক্তিপণ প্রদান করা হয়, তবুও তারা বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর পল্টন থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন গাজীপুরের পূবাইল থানার বড়দল গ্রামের বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিন শেখ ওরফে পনিরের ছেলে মো. শাওন মোল্লা (২৩) এবং একই থানার নয়ানিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শরীফুল ইসলামের ছেলে মো. সাকিব সরকার (২৬)।
সিআইডির মিডিয়া কর্মকর্তা বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহর সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, বিদেশে ভালো চাকরি ও আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় ভুক্তভোগী দুই তরুণ মানবপাচার চক্রের প্রলোভনে পড়ে কম্বোডিয়ায় যান। তাদের প্রত্যেকের পরিবারের কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে প্রায় ছয় লাখ টাকা করে নেয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা আশা করেছিলেন, বিদেশে কাজ করে দুই তরুণ তাদের পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পরপরই তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেয়া হয়। এরপর মানবপাচারকারীরা তাদের পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে একটি স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেয়। সেখানে তাদের জোরপূর্বক অনলাইনে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত করা হয়। কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা সামান্য ভুল হলে তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। নিজেদের ইচ্ছায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসা কিংবা নিরাপদে দেশে ফেরার কোনো সুযোগ তাদের ছিল না।
পরবর্তীতে কোনোভাবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হলে ভুক্তভোগী দুই তরুণের মুক্তির জন্য স্ক্যাম সেন্টার থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সন্তানদের মুক্তির আশায় তাদের পরিবারের সদস্যরা ওই অর্থের ব্যবস্থা করেন। তবে মুক্তি পাওয়ার পরও তাদের দুর্ভোগ শেষ হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, মুক্তির পর মানবপাচারকারীরা পুনরায় দুজনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায় এবং দেশে ফেরার টিকিটের অর্থও পরিবারের কাছ থেকে আদায় করে। এভাবে বিদেশে পাঠানোর খরচ, মুক্তিপণ এবং দেশে ফেরার টিকিটের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে পরিবারগুলোকে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়।
পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী দুই তরুণ প্রায় দুই মাস কম্বোডিয়ার একটি স্থানীয় হোটেলে অবস্থান করতে বাধ্য হন। একপর্যায়ে তারা অনলাইনের মাধ্যমে ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে অবশেষে তাদের বাংলাদেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘদিনের বন্দিদশা, নির্যাতন ও অনিশ্চয়তার পর তারা গত ৩ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে আসেন।
এ ঘটনায় গত ২৬ অক্টোবর পল্টন থানায় মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করা হয়। মামলাটির অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডির একটি টিম ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি শাওন মোল্লা ও সাকিব সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুন্দরবনে বনদস্যু দাদাভাই বাহিনীর সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষের সময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা পাঁচ জেলেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি একনলা বন্দুক, ছয় রাউন্ড ফাঁকা গুলি এবং তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা (ঢাকা) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু বাহিনীগুলো নির্মূল করার লক্ষ্যে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এই অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে, সুন্দরবনের আরপাঙ্গাসিয়া নদীর কঞ্চির খাল এলাকায় দাদাভাই বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে কয়েকজন জেলেকে জিম্মি করে রেখেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার মধ্যরাতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের সময় কোস্ট গার্ডের সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা অতর্কিতে গুলি চালাতে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডের সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান। একপর্যায়ে দস্যুরা জিম্মি জেলেদের রেখে সুন্দরবনের গভীরে পালিয়ে যায়, ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে জিম্মি থাকা পাঁচ জেলেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে রয়েছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রবিউল ইসলাম (৩৫) ও বিল্লাল হোসেন (২৬) এবং খুলনার কয়রা উপজেলার আলাউল ইসলাম (৩২), নওশেন মোড়ল (৪১) ও শাহিনুর রহমান (২৮)।
জব্দ করা অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে বনদস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন কোস্ট গার্ডের ওই কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ