১০:৩৪ পি.এম
জামালপুরের ইসলামপুরে লাগেজবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত মরদেহটিকে প্রথম দফায় শনাক্ত করতে পারেননি নিহতের পরিবারের সদস্যরাও। তবে পরে মরদেহের সাথের পরনের কাপড় ও শরীরে থাকা তাবিজ দেখে তারা মরদেহটি শনাক্ত করার নির্ধারণ করেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এই ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত নায়েব আলী (৩৫) মেলান্দহ উপজেলার কাজাইকাটা এলাকার অধিবাসী ছিলেন। পেশায় ছিলেন রিকশাচালক।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মহানগর বিএনপির প্রস্তুতি সভা
পিবিআই জানাই, গত ২১ জুন নায়েব আলী নিখোঁজ হয়ে পড়েন। এনিয়ে তাঁর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। দুই দিন পরে, ২৩ জুন ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ারচর এলাকার একটি মাছের ঘের থেকে পুলিশ লাগেজবন্দি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে প্রথম দফাতে পরিবারের সদস্যরা সেটি শনাক্ত করতে পারেননি। এমনকি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করেও পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এরপর নিখোঁজ ব্যক্তির জিডির তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে স্বজনদের আবার মর্গে নেওয়া হলে তারা পরনের কাপড় ও শরীরে থাকা তাবিজ দেখে মরদেহটি নায়েব আলীর বলে নিশ্চিত হন।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন নাহিদুল ইসলাম (৩০), সোলাইমান (৫০), শফিকুল ইসলাম (৪১), আবদুল কাদের (৫৪), রাসেল হোসেন (৩৪) এবং সাগর পাশা (২৬)। তারা সবারই বাসস্থান মেলান্দহ এলাকায়।
জামালপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানিয়েছেন, তদন্তের এক পর্যায়ে নাহিদুল ইসলামের ওপর সন্দেহ বেড়ে যায়। পরে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: বিজলী ক্যাবলস লিমিটেডের পুরস্কার পেলেন, নারায়ণগঞ্জের রনি মল্লিক ও নবী হোসেন।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় নাহিদুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি নিহতের অটোরিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশও উদ্ধার করা হয়।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, টাকার প্রয়োজন হওয়ায় নাহিদুল ও তাঁর সহযোগীরা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। এরপর পরিকল্পনার অনুযায়ী নায়েব আলীকে একটি ভাঙারির দোকানে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পেছন থেকে জিআই তার দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর মরদেহ একদিন একটি ড্রামে রাখা হয়। এরপর অটোরিকশাটি খুলে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আলাদা আলাদা স্থানে বিক্রি করা হয় এবং পরবর্তীতে মরদেহ একটি লাগেজে ভরে ইসলামপুরের বেনুয়ারচর এলাকার মাছের ঘেরে ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় ইসলামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা ছয়জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, আদালতেও তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
আরও পড়ুন: মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে কাউনিয়ায় পুলিশের আকস্মিক সাঁড়াশি অভিযান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন