০১:৫৩ পি.এম
পদ ছাড়ার পরও আলোচনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। ইসলামী ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা লোপাটের তদন্তে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ হাইকোর্টে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে প্রকাশ পায় যে, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বসে শেয়ার জালিয়াতিতে জড়িত ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেন।
দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে কেলেঙ্কারির শীর্ষে দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী ব্যাংক লুটপাটের ঘটনা আলোচনায় রয়েছে। সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বারবার উঠলেও এর আগে কোনো প্রমাণ ছিল না। কিন্তু বিএফআইইউর এক তদন্ত প্রতিবেদনে মো. সাহাবুদ্দিনের দুর্নীতির ফিরিস্তি উঠে এসেছে।
২০১৭ সালে সরকারের মদদে ইসলামী ব্যাংকের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে এস আলম গ্রুপ। ব্যাংক কোম্পানি আইনের একাধিক ধারা ভেঙে ৮২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। সেসময় জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালকের দায়িত্ব পান সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, এবং পরে তাকে ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়। দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সেই পদে বহাল ছিলেন।
আরও পড়ুন: ‘যুবদলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে’- আনোয়ার
বিএফআইইউর তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, একাধিক ভুঁইফোর কোম্পানির নামে ব্যাংকের ৭২ শতাংশ শেয়ার দখল করে এস আলম গ্রুপ। সময় সংবাদের হাতে আসা ৪২ পাতার তদন্ত প্রতিবেদনে রয়েছে কিভাবে এসব কোম্পানির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা বের করে পুনরায় শেয়ার কিনেছে জালিয়াত চক্র।
তদন্ত প্রতিবেদনে প্রথমেই মো. সাহাবুদ্দিনের কথিত জেএমসি বিল্ডার্সের দুর্নীতির চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। ব্যাংক থেকে ১০২ কোটি টাকার বেশি অর্থ উত্তোলন করে এই প্রতিষ্ঠানটি, যা দিয়ে পুনরায় ব্যাংকের শেয়ার কেনা হয়। ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য অন্তত ২৪টি কথিত কোম্পানির তথ্য উঠে এসেছে তদন্ত প্রতিবেদনে। ব্যাংক পরিচালনার বোর্ডে বসে এস আলম গ্রুপের স্বার্থ রক্ষা করতে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু হাজার হাজার কোটি টাকা লোন দেয়। ফলে জাতীয় বৃহত্তম ব্যাংকটি প্রায় দেউলিয়া হয়ে পড়ে।
৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর হাইকোর্টের নির্দেশে ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর বিএফআইইউ তদন্ত রিপোর্টটি জমা দেয়। রিপোর্টটি চারটি স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করে। পরবর্তীতে মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেওয়ার পর এটি যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেয় লন্ডনভিত্তিক বিশ্বখ্যাত ফরেনসিক প্রতিষ্ঠান দ্যা লয়েড।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. আব্দুল কাইয়ুম জানান, তদন্ত রিপোর্ট থাকা সত্ত্বেও সাংবিধানিক বাধার কারণে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছিল না।
আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদ্যাপন, শিশুদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় গুরুত্ব
এছাড়া, ইসলামি ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৫ সালে ২১ জনের বিরুদ্ধে মামালা করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক। অভিযুক্তদের তালিকায় সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ১২ নম্বরে রয়েছেন। আদালত পরে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন।
ব্যারিস্টার এম. আব্দুল কাইয়ুম বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে যদি কোনো ফৌজদারি অপরাধ করে থাকেন বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন, তাহলে রাষ্ট্রপতির পদ ত্যাগ করার পর সে অপরাধের জন্য আইনের মুখোমুখি করতে বা সাজা দিতে কোনো বাধা আইনে নেই।
ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার সংক্রান্ত মামলাটি হাইকোর্টে এখনো চলমান।
আরও পড়ুন: কোটালীপাড়ায় বিশ্ব হাতধোয়া দিবস উদযাপন, এমপি জিলানীর উপস্থিতিতে সাবান বিতরণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন