ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নবাবগঞ্জে সড়কের পাশে লাল শাপলার সৌন্দর্য, মুগ্ধ পথচারীরা


নবাবগঞ্জে সড়কের পাশে লাল শাপলার সৌন্দর্য, মুগ্ধ পথচারীরা

দিনাজপুরের বিরামপুর-নবাবগঞ্জ সড়কের পাশে অবস্থিত ছোট মহেশপুর গ্রামের একটি নয়নজলিতে (ছোট জলাশয়) সারি সারি লাল শাপলা ফুটে উঠেছে। উজ্জ্বল সবুজ পাতার মাঝে লাল শাপলার এই অসাধারণ সমাহার একটি দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক দৃশ্য তৈরি করেছে। ব্যস্ত সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যটি চোখে পড়তেই অনেক পথচারী থমকে দাঁড়িয়ে যান। ক্লান্তি ভুলে, কয়েক মুহূর্তের জন্য হলেও শাপলার এই রূপ সকলের মনকে মুগ্ধ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছু যুবকের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগের ফলে সাধারণ একটি জলাশয় এখন আকর্ষণীয় সৌন্দর্যকেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে, অবসর সময়ে আড্ডা ও বিশ্রামের জন্য ওই নয়নজলির পানির ওপর বাঁশ দিয়ে একটি ছোট টং ঘর নির্মাণ করেন তাঁরা। পরবর্তীতে, জায়গাটির সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে সেখানে শাপলা গাছ রোপণ করেন এবং নিয়মিত পরিচর্যা শুরু করেন। ধীরে ধীরে শাপলার বংশবিস্তার ঘটে এবং জলাশয়টি লাল শাপলার অভয়ারণ্যে পরিণত হয়।

কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক আয়োজন বা বড় ব্যয়ের প্রয়োজন ছাড়াই, কেবল নিজেদের সদিচ্ছা ও পরিচর্যায় যুবকদের এই নান্দনিক উদ্যোগ এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশকে নতুন মাত্রা প্রদান করেছে।

আরও পড়ুন: রাজউকের ১২৬৯ ভবনের মালিককে চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা

জলাশয়ের এই রূপ নিয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মী রোকনুজ্জামান রোকন মন্তব্য করেন, "পথের ধারে এমন শাপলার সমাহার সচরাচর চোখে পড়ে না। এখানে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ চোখ জুড়ানো যায়, যা যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করে মনে প্রশান্তি এনে দেয়।" তিনি স্থানীয় যুবকদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, "তাদের এই নিরলস প্রচেষ্টা পথচারীদের চলাচলের পথে বাড়তি আনন্দ যোগ করছে।"

স্থানীয় এক যুবক জানান, অবসর সময় কাটানোর জন্য প্রথমে বাঁশ দিয়ে টংঘর তৈরি করা হলেও পরে শাপলা গাছ লাগিয়ে এর সৌন্দর্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি বলেন, "পথচারীরা ফুল দেখে আনন্দ পান—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।"

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস জানান, সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতের সময় এই লাল শাপলার সৌন্দর্য তাঁরও নজর কাড়ে। তিনি স্থানীয় যুবকদের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, "সবাই যদি একটু সচেতন থাকে, তবে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দীর্ঘদিন ধরে রক্ষা করা সম্ভব।"

আরও পড়ুন: আনোয়ারায় কেইপিজেড ও চায়না ইকোনমিক জোন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেঘমুক্ত আকাশে পঞ্চগড় থেকে দৃশ্যমান কাঞ্চনজঙ্ঘা, উচ্ছ্বসিত প্রকৃতিপ্রেমীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৭ পি.এম


মেঘমুক্ত আকাশে পঞ্চগড় থেকে দৃশ্যমান কাঞ্চনজঙ্ঘা, উচ্ছ্বসিত প্রকৃতিপ্রেমীরা

পঞ্চগড়, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : মেঘ সরে যাওয়ার পর পঞ্চগড়ের আকাশে দৃশ্যমান হয়েছে হিমালয়ের তুষারাবৃত পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। গত তিন দিন ধরে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্থান থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ এই পর্বতশৃঙ্গ। দূরের আকাশে বরফে মোড়া পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য দেখে প্রকৃতিপ্রেমীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছেন। কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, আবার কেউ ক্যামেরায় কাঞ্চনজঙ্ঘার অসাধারণ ছবি ধারণ করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও সেই ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

আজ সকালে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। মেঘমুক্ত নীল আকাশের পটভূমিতে দূরের বরফঢাকা পর্বতশৃঙ্গের শুভ্র চূড়া প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এমন পরিষ্কার দৃশ্য পেয়ে অনেকেই নিজেদের উচ্ছ্বাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাগ করে নিচ্ছেন।

কাঞ্চনজঙ্ঘা হিমালয় পর্বতমালার একটি বিখ্যাত পর্বতশৃঙ্গ, যার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮ হাজার ৫৮৬ মিটার। এটি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এবং ভারত ও নেপালের সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই দেখা যায় এই দূরবর্তী পর্বতশৃঙ্গ।

ভোরের সূর্যের আলো যখন বরফ ঢাকা পর্বতের চূড়ায় পড়ে, তখন কখনো লালচে, কখনো গোলাপি, আবার কখনো ঝকঝকে শুভ্র রূপে ধরা দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘা। তবে প্রতিদিন এই দৃশ্য দেখা সম্ভব নয়। মেঘ, কুয়াশা, বাতাসের জলীয়বাষ্প এবং দৃশ্যমানতার ওপর নির্ভর করে পর্বতশৃঙ্গটি কতটা স্পষ্ট দেখা যাবে। সাধারণত বর্ষা শেষে আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করলে পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

কাঞ্চনজঙ্ঘার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে নিজেদের মুগ্ধতার কথা তুলে ধরছেন স্থানীয় ফটোগ্রাফার ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।

ফটোগ্রাফার ফিরোজ আল সাবাহ নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে কাঞ্চনজঙ্ঘার কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন। এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! আবার মাউন্ট এভারেস্ট! বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ক্যামেরা দিয়ে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এর ছবি তুললাম! গল্প-ছবি আসবে একটু পরে! কত নির্ঘুম রাত, কত প্রতীক্ষা! অবশেষে ধরা দিল সাগরমাথা!’

স্কুল শিক্ষক শাওন ইমরান ফেসবুক পোস্টে কাঞ্চনজঙ্ঘার ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে দেখতে বিদ্যালয় যাই। আজ সম্পূর্ণ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।’

মঈন উদ্দীন নামের একজন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আজকে বাসার সামনে থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখলাম। আলহামদুলিল্লাহ।’

প্রকৃতির অনন্য সৌন্দর্যের প্রতীক কাঞ্চনজঙ্ঘাকে ঘিরে প্রতিবছরই পঞ্চগড়ে পর্যটকদের আগ্রহ তৈরি হয়। আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে হিমালয়ের বরফঢাকা শৃঙ্গ দেখার এই সুযোগ স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্তের ভ্রমণপ্রেমীদেরও আকৃষ্ট করে। তবে মেঘ ও কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

গত দুর্গাপূজার ছুটিতে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পঞ্চগড়ে এসেছিলেন বিপুলসংখ্যক পর্যটক। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে তাদের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সে সময় আকাশে মেঘ থাকায় কাঙ্ক্ষিত পর্বতশৃঙ্গের দেখা পাননি অনেকে। ফলে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয় তাদের। বর্তমানে টানা তিন দিন ধরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান থাকায় প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আনন্দ ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় বর্তমানে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের আবহাওয়া আরও এক থেকে দুই দিন থাকতে পারে। তবে আগামী ৩১ অক্টোবর আকাশে মেঘের সম্ভাবনা রয়েছে। মেঘ তৈরি হলে কাঞ্চনজঙ্ঘা আবারও আড়ালে চলে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে পর্বতশৃঙ্গটি দেখা নাও যেতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী প্রতিনিধি

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ পি.এম


কাউখালীতে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

পিরোজপুরের কাউখালীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জমকালো আয়োজনে পালিত হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টায় কাউখালী উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে দলের দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান তালুকদার মামুনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব শারিফুল আজম সোহেলের সঞ্চালনায় শোভাযাত্রা ও পরবর্তী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ও শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন, কাউখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শাহ ইমরান ফারুক, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াকত তালুকদার ও রফিকুল ইসলাম রফিক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহিদুর রহমান ফিরোজ ও সদস্য সচিব রাকিব তালুকদার, শ্রমিক দলের সভাপতি আবু তাহের বেপারী, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী আকন, উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুল আলম মিল্টন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মাওলাদ হোসেন মইনসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক।
শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাদমানের ফিফটির পর এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলেন শান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ পি.এম


সাদমানের ফিফটির পর এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলেন শান্ত

নাজমুল হোসেন শান্ত আউট হয়ে গেলেন মুমিনুলের মতো আশা জাগিয়ে। বাংলাদেশ তৃতীয় উইকেট হারাল দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই।

শান্ত এলবিডব্লিউ হয়েছেন ওয়ারিক্যানের বলে সুইপ করতে গিয়ে, ভাঙল ৮৫ বলে ৪২ রানের জুটি। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার ৪২ বলে ১৯ রান করে আউট হয়েছেন। বাংলাদেশ ১১০ রানে তৃতীয় উইকেট হারায়।

এর কিছুক্ষণ আগে সাদমান ক্যারিয়ারের দশম ফিফটি পূর্ণ করেছেন। সময়ের সাথে সাথে তার ব্যাটিং হয়ে উঠছে সাবলীল।

সবশেষে ৪৩ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৩৫। সাদমান ১১১ বলে ৫৭ রান এবং নতুন ব্যাটার তাওহিদ হৃদয় ৩৪ বলে ১৯ রান নিয়ে ব্যাট করছেন।

মধ্যাহ্ন বিরতির আগে তানজিদ ও মুমিনুলকে হারিয়ে বাংলাদেশ। মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনের প্রথম সেশনটি পুরোপুরি নিজেদের করে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান ফাঁদে পা দিয়ে আউট হয়েছেন। মুমিনুল হক বড় ইনিংসের আশা জাগিয়ে ফিরে গেছেন।

২৯ ওভারে ২ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে গেছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই উইকেটশিকারী পেসার জেডেন সিলস ও স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান।

ওপেনার সাদমান ইসলাম ৮০ বলে ৫ চারে ৪২ রানে ব্যাট করছেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ২০ বলে ১৫ রানে ব্যাট করছেন। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ২৮ রানের।

১০ রানে তানজিদকে হারানোর পর মুমিনুলের সঙ্গে ৫৯ রানের জুটি গড়েন সাদমান। ৫১ বলে ২৮ রানে আউট হওয়ার আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।

থিতু হয়ে ফিরলেন মুমিনুল

মুমিনুল হক উইকেটে থিতু হয়ে বড় ইনিংসের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। কিন্তু এবারও ইনিংসটি বড় করতে পারলেন না। তার বিদায়ে ভাঙল ফিফটি জুটি।

জোমেল ওয়ারিকানের মিডল ও অফ স্টাম্প বরাবর হাওয়ায় ভাসানো বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে মিড অফের ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে টাইমিং হয়নি। বল চলে যায় সরাসরি মিড অফে দাঁড়িয়ে থাকা শামার জোসেফের হাতে।

২২তম ওভারে দলীয় ৬৮ রানে বাংলাদেশ দ্বিতীয় উইকেট হারায়।

সবশেষে ২৫ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৮৫ রান। ওপেনার সাদমান ইসলামের (৬৫ বলে ৩৬*) নতুন সঙ্গী নাজমুল হোসেন শান্ত (১৩ বলে ১০*)।

বাংলাদেশের নড়বড়ে শুরু

শুরু থেকেই অফ স্টাম্পের বাইরে লাগাতার বল করে তানজিদ হাসানকে প্রলুব্ধ করছিলেন জেডেন সিলস। সেই ফাঁদেই আটকা পড়লেন তানজিদ। দলের সপ্তম ওভারে খোঁচা মেরে স্লিপে ধরা পড়েছেন বাঁহাতি ওপেনার। বাংলাদেশ শুরুতেই নড়বড়ে হয়ে গেছে।

মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন প্রথম সেশনে ১০ রানে প্রথম উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। ২৩ বলে ৭ রান করে ফিরলেন তানজিদ।

সবশেষে ১০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৯ রান। ২৮ বলে ৮ রানে খেলছেন আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক ৯ বলে ২ রানে ব্যাট করছেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টস ভাগ্যে হাসল বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে টসে জিতে ব্যাটিং বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ।

মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

ম্যাচের একাদশে মুশফিকুর রহিম নেই। আগের দিন নেটে ব্যাটিংয়ের সময় বলের আঘাত পান তিনি। তার জায়গায় একাদশে তাওহিদ হৃদয়।

দলে তিন স্পিনার রয়েছেন— তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। পেসার হিসেবে আছেন হাসান মাহমুদ ও শরীফুল ইসলাম।

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে সিরিজের দুই ম্যাচেই জয়ের বিকল্প নেই। কাজটি নিশ্চিতভাবেই অনেক কঠিন। তবে সেই লক্ষ্যেই মাঠে নামছে টাইগাররা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জিতলে পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে যাবে। অন্যদিকে, ফাইনালে উঠার কোন সুযোগ নেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের। বর্তমানে পয়েন্ট তালিকায় অষ্টম স্থানে আছে ক্যারিবীয়রা। এজন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এগিয়ে থেকেই সিরিজ খেলতে নামবে বাংলাদেশ।

চলতি বছর বাংলাদেশ মাত্র একটি টেস্ট সিরিজ জিতেছে। নিজেদের প্রথম টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর জিম্বাবুয়ের কাছে একমাত্র টেস্ট হারায় টাইগাররা।

গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয় দিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু করে বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে হেরে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে টাইগাররা। এরপর চলতি মাসে আবু ধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও, মুখোমুখি লড়াইয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত ১১ টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে দুই সিরিজ। ২০০৯ ও ২০১৮ সালে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতে টাইগাররা।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের বিপক্ষে আটটি টেস্ট সিরিজ জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একটি সিরিজ ড্র হয়েছে।

এছাড়া ২২ টেস্টে মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ জিতেছে ৫টিতে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় পায় ১৫টিতে। ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

সর্বশেষ ২০২১ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বাংলাদেশ একাদশ: নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, শরীফুল ইসলাম।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ: জন ক্যাম্পবেল, ব্র্যান্ডন কিং, তেজনারাইন চান্দারপল, কাভেম হজ, আমির জাঙ্গু, রস্টন চেইস, জাস্টিন গ্রেভস, জশুয়া বিশপ, শামার জোসেফ, জোমেল ওয়ারিকান, জেডেন সিলস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানের ‘ও-সোজি’ মডেলে ডিসি ফরিদার ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ পি.এম


জাপানের ‘ও-সোজি’ মডেলে ডিসি ফরিদার ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠন

জাপানের ‘ও-সোজি’ মডেল অনুসরণ করে বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা, শিক্ষার্থীদের দায়িত্ববোধ ও শ্রমের মর্যাদা শেখানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। ডেঙ্গু প্রতিরোধে গঠিত ‘ক্লিন স্কুল টিম’-এর সদস্যদের নিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকার ২১টি বিদ্যালয়কে এই কর্মসূচির আওতায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘ক্লিন স্কুল টিম’-এর পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়। ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই উদ্যোগের উদ্বোধন করেন।

কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, সপ্তাহে অন্তত এক দিন ডেঙ্গুর ঝুঁকি পরিদর্শন করা হবে, বর্জ্য পৃথকীকরণ করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানমের উদ্যোগে নেওয়া এই কর্মসূচির লক্ষ্য বিদ্যালয় পরিষ্কার রাখা নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা, দায়িত্ববোধ, শ্রমের মর্যাদা ও পরিবেশ সচেতনতার স্থায়ী অভ্যাস গড়ে তোলা। বিদ্যালয় থেকে পরিবার এবং পরিবার থেকে সমাজে পরিচ্ছন্নতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ফরিদা খানম বলেন, “পরিচ্ছন্নতা শুধু বিদ্যালয় পরিষ্কার রাখার বিষয় নয়, এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, শ্রমের মর্যাদা ও পরিবেশের প্রতি যত্নশীল মনোভাব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।”

তিনি আরো বলেন, “আজকের পরিচ্ছন্ন বিদ্যালয়ই আগামী দিনের সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরির ভিত্তি।”

প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বিদ্যালয়ের রুটিন অনুযায়ী পরিচালনা করা হবে। শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে শ্রেণিকক্ষ, করিডর ও পাঠাগারের মতো নিরাপদ স্থান পরিষ্কারের দায়িত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষকরা কার্যক্রম তদারকি করবেন। অন্যদিকে, টয়লেট, নোংরা ড্রেন ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থান পরিষ্কারের দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।

ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, ও-সোজি মডেল শুধু পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নয়; এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার একটি কার্যকর উদ্যোগ। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে তুললে তা পরিবার ও সমাজেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই মডেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক নজরদারি

কর্মসূচির আওতায় প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক দিন বিদ্যালয়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি পরিদর্শন করা হবে। এ সময় পানি জমার স্থান চিহ্নিত করা, পানির পাত্র ঢেকে রাখা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল অপসারণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ও সমস্যা সমাধানের অগ্রগতি চেকলিস্টে লিপিবদ্ধ করা হবে।

বাড়িতেও পরিচ্ছন্নতার চর্চা

‘আমার বাসা, আমার দায়িত্ব’ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা চেকলিস্ট দেওয়া হবে। এতে ঘর গুছিয়ে রাখা, সঠিকভাবে বর্জ্য ফেলা এবং বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রতি রোববার শিক্ষকরা চেকলিস্ট মূল্যায়ন করবেন।

বর্জ্য পৃথকীকরণ ও ব্যবহারিক শিক্ষা

বিদ্যালয়ে পচনশীল, পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও অন্যান্য বর্জ্য আলাদা করে ফেলার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ডাস্টবিনের যথাযথ ব্যবহার এবং পচনশীল বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরির বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হবে।

‘ক্লিন স্কুল চ্যালেঞ্জ’ ও পুরস্কার

পরিচ্ছন্নতা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে। সেরা বিদ্যালয়, শ্রেণি ও শিক্ষার্থীদের সনদ, বই, শিক্ষা উপকরণ কিংবা গাছের চারা দিয়ে পুরস্কৃত করার প্রস্তাব রয়েছে।

এর আগে গত ৮ জুলাই শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠন করে ঢাকা জেলা প্রশাসন। দল গঠনের পর প্রায় তিন মাস ধরে গবেষণা, বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন দেশের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বিবেচনা করে বাংলাদেশের উপযোগী জাপানি বিদ্যালয়ের ‘ও-সোজি’ মডেলের আদলে কর্মসূচিটির বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%