ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতেই বাজেটের সর্বাধিক গুরুত্ব: রবিউল আলম


মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতেই বাজেটের সর্বাধিক গুরুত্ব: রবিউল আলম

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মানবসম্পদ উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ ও সামাজিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট।

আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি

মন্ত্রী বলেন, সামাজিক অবকাঠামো খাতে প্রায় ৩০ শতাংশ, ভৌত অবকাঠামো খাতে ১৮ শতাংশের বেশি এবং সাধারণ সেবা খাতে প্রায় ২৬ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বরাদ্দের মাধ্যমে দেশের ১৮ কোটি মানুষের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে ওঠা এবং তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদকে উৎপাদনশীল কাজে সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের দিকেও সরকার সমান গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে রাষ্ট্র পরিচালনাসংক্রান্ত অনুন্নয়ন ব্যয়ের হার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয় ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সরকার অপচয় কমিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং এডিপির বাইরে আরও ১৬ হাজার কোটি টাকা উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য রাখা হয়েছে, যা দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন

মন্ত্রী বলেন, অতীত সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের সুদ পরিশোধে বাজেটের ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যয় করতে হলেও সরকার ভর্তুকি বাবদ ১১ শতাংশের বেশি বরাদ্দ রেখেছে, যা সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক হবে।

বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগের জবাবে তিনি বলেন, ই-চালানের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ, কর অব্যাহতি কমানো, কর ফাঁকি রোধ এবং ভ্যাট ব্যবস্থার সংস্কারের ফলে রাজস্ব আদায়ে কোনো ঘাটতি হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এছাড়া, ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বাজেটে ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের অর্থবছরের ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি কমে এলে জনগণের সঞ্চয় বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যাংকিং খাতে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন

ঘাটতি বাজেট প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতিতেও ঘাটতি বাজেট রয়েছে। তাই যথাযথ রাজস্ব আহরণ ও অর্থ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশও সফলভাবে এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, অতীতেও বিএনপি সরকারের সময় উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকারও ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে বাজেট বাস্তবায়নে সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চায় যে দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

আরও পড়ুন: নেজামে ইসলাম পার্টির পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খোলা আকাশই একমাত্র ছাদ: সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই সপ্তাহের মানবিক বিপর্যয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:১৪ পি.এম


খোলা আকাশই একমাত্র ছাদ: সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই সপ্তাহের মানবিক বিপর্যয়

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সদর ইউ‌নিয়‌নের ইজলামারী ভন্দুরচর সীমান্তের ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বা‌হিনীর (বিএসএফ) ‘পুশই‌নের’ শিকার হ‌য়ে ১৪ দিন ধ‌রে শূন‌্যরেখায় মানবেতর জীবন যাপন কর‌ছেন তিন যুবক‌। বি‌জি‌বি ও বিএসএফ নজরদা‌রি বজায় রাখ‌লেও তা‌দের স‌রি‌য়ে নেওয়ার বিষয়ে কোনও সিদ্ধা‌ন্তে পৌঁছা‌তে পা‌রে‌নি।

জামালপুর বি‌জি‌বি ৩৫ ব‌্যাটা‌লিয়‌নের অ‌ধিনায়ক লেফ‌টেন‌্যান্ট ক‌র্নেল হাসানুর রহমান সীমান্তের শূন্যরেখায় তিন যুব‌কের অবস্থান করার বিষয়টি নিশ্চিত করে‌ছেন।

ইজলামারী সীমা‌ন্তে গি‌য়ে দেখা গে‌ছে, তিন যুবক মা‌টি‌তে প‌লি‌থিন বি‌ছি‌য়ে শূন‌্যরেখার কা‌ছে অবস্থান কর‌ছেন। রোদ থেকে রক্ষা পে‌তে নি‌জে‌দের পোশাক টা‌নিয়ে ছায়ার ব‌্যবস্থা ক‌রে‌ছেন।

স্থানীয় সূ‌ত্রে জানা গেছে, শূন‌্যরেখার কা‌ছে অবস্থান করা ওই তিন যুবক নি‌জে‌দের বাংলা‌দে‌শি নাগ‌রিক দা‌বি ক‌রে‌ছেন। দা‌বি অনুযায়ী তারা হলেন- ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাঈম মিয়া (২২),  সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম (২৬) এবং নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ (২১)।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন বলেন, ওই তিন যুবক সীমান্তের শূন্যরেখায় ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের আশঙ্কার মধ্যেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। ইজলামারী ক্যাম্প থেকে ও স্থানীয়রা তাদের খাবার দিয়ে সহযোগিতা করছেন। কিন্তু আজ ১৪ দিন হলো তা‌দের স‌রি‌য়ে নেওয়ার কোন ব‌্যবস্থা হয়নি। ফলে যে‌কোনও সময় অনাকা‌ঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘট‌তে পা‌রে।

এর আগে গত ১৪ জুন ভোর ৬টার দিকে উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তপথে নারী-শিশুসহ ছয় জন এবং ইজলামারী সীমান্তপথে তিন যুবক‌কে বাংলাদেশ ভূখ‌ণ্ডে পুশইনের চেষ্টা ক‌রে‌ বিএসএফ। কাঁটাতারের এপারে বাংলাদেশ প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হলেও বিজিবি এবং স্থানীয় গ্রামবাসীর বাধায় তাদের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে পাঠাতে পারেনি বিএসএফ। মা ও শিশুর জীবন সংকট নি‌য়ে গণমাধ‌্যমে সংবাদ প্রকা‌শের পর গত ১৮ জুন ভো‌রে দুই শিশুসহ দম্প‌তি‌কে স‌রি‌য়ে নেওয়া হয়। প‌রে গত ২৩ জুন একই সীমা‌ন্তের দুই যুবককেও স‌রি‌য়ে নেওয়া হয়। ত‌বে ইজলামারী সীমা‌ন্তের শূন‌্যরেখায় তিন যুবক বি‌জি‌বি ও বিএসএফের প্রহরায় ১৪ দিন ধরে অবস্থান কর‌ছেন। 

জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য বিএসএফকে অবহিত করা হয়েছে। তবে বিএসএফ বলছে, ওই তিন যুবক ভারতের নাগরিক নন। ফলে বিষয়টির সমাধানে তারা আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভিড় কমাতে জেলা হাসপাতালগুলোকে পূর্ণাঙ্গ করা হবে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:১৮ পি.এম


ভিড় কমাতে জেলা হাসপাতালগুলোকে পূর্ণাঙ্গ করা হবে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

রাজধানীর বড় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে এবং সেখানে রোগীর উপচেপড়া ভিড় দুরীকরণে, জেলা হাসপাতালগুলোকে পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

রবিবার (২৮ জুন) সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, দেশের বড় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল কিংবা অন্যান্য বড় হাসপাতালগুলো মূলত ঢাকায় অবস্থিত। যদিও পাঁচশ রোগীর হাসপাতালে দুই হাজার রোগীকে চিকিৎসা দিতে হয়, কিন্তু এর ফলে রোগীরা বারান্দায় অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।

তিনি আরও জানান, ‘ঢাকার বড় হাসপাতালের এই ভিড়ের সমাধান ওই হাসপাতালে নেই। এই সমস্যার সমাধান হবে যদি জেলা হাসপাতালগুলোকে পূর্ণাঙ্গ সব সুবিধা প্রদান করে গড়ে তুলি। মানুষ তখন জেলার ভেতরেও তার কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা পাবে। আমরা সেই ধরনের পরিকল্পনাই করছি।’

প্রতিমন্ত্রী বাজেটের মানবিক দিকের গুরুত্বের প্রতি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনার যে ভাইটি মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং হার্ট অপারেশনের জন্য অপেক্ষা করছে, এই বাজেট তার জীবন রক্ষার বাজেট। যে পাঁচ লাখের বেশি প্রবীণ ব্যক্তি ছানি রোগের কারণে অন্ধত্ব বরণ করছেন, এটি তাদের সাশ্রয়ী মূল্যে দৃষ্টি ফিরিয়ে পাওয়ার বাজেট। এটি ঢাকা হাসপাতালে বারান্দায় ঘুমানো ক্যান্সার রোগীর জীবন এবং জমি রক্ষার বাজেট।’

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাজেটকে শুধুমাত্র অর্থ ও সংখ্যার খেলা হিসেবে দেখা যাবে না। তিনি বলেন, ‘পরে ১৫ বছরের মধ্যে ঘটে যাওয়া দুঃশাসনে আমাদের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদ গঠিত হয়েছে। তাই সীমিত সম্পদের মধ্যে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই সরকারের দায়।’

তিনি জানান, ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে, এবারের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ গত বছরের ৩৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ, অর্থাৎ ৬৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।

ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য একটি সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য।

এম এ মুহিত বলেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশই অসংক্রামক ব্যাধির কারণে হচ্ছে, যেমন ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন বা কিডনি রোগ। আর চিকিৎসা খরচের ৭৯ শতাংশ রোগীকে নিজস্ব পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে। যেখানে থাইল্যান্ডে এটি মাত্র ১০ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ শতাংশ।

এই সব প্রেক্ষাপটে সরকার জানায়, অস্থিতিশীলভাবে হাসপাতাল ভবন নির্মাণের পরিবর্তে, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, রেফারাল নেটওয়ার্ক তৈরি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করতে জোর দেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে চরম ভোগান্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:১৮ পি.এম


ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে চরম ভোগান্তি

বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে’ বিলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ঘর থেকে ঘরে। পাঁচগুণেরও বেশি বিল এসেছে কারো কারো। দ্রুত এই বিষয়টির সমাধান দাবি জানানো হচ্ছে। রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি সংবাদের প্রকাশের তারিখ ২৮ জুন, ২০২৬, ১৩:৫৯।

গত মাসে গ্রাহক আলাউদ্দিনের বিদ্যুৎ বিল এসেছিল মাত্র ৬৭৭ টাকা, কিন্তু চলতি মাসে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩৭৭ টাকায়।

একইভাবে, বেলাল হোসেনের বিদ্যুৎ বিল ৩০০ টাকার স্থলে এ মাসে এসেছে এক হাজার ৭০০ টাকা।

শুধু আলাউদ্দিন এবং বেলাল হোসেনরাই নয়, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার অধিকাংশ গ্রাহকের কাছে এমন ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল এসেছে। পল্লী বিদ্যুতের অস্বাভাবিক এই বিল নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে তাদের মধ্যে।

আদনান শরীফ নামের এক বাসিন্দা জানান, গত মাসে তার বিদ্যুৎ বিল ছিল এক হাজার ৫০০ টাকা, কিন্তু এ মাসে সেখানে এসে তা সাত হাজার ১৯০ টাকায় পৌঁছেছে।

মোস্তাফিজুর রহমান নামের একজন গ্রাহকের জন্য পূর্বে বিল ছিল ৫০০ টাকা, বর্তমান মাসে এটাই এক হাজার ৫০০ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। আওলাদ হোসেনের জন্য গত মাসে বিল ছিল ৪৫০ টাকা, কিন্তু এ মাসে এটি বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার ৮০০ টাকায় পৌঁছেছে।

গ্রাহকরা বলছেন, ‘ভূতুড়ে’ বিল নিয়ে গোটা উপজেলার গ্রাহকদের সঙ্গে বিদ্যুতের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে চলছে বাগবিতণ্ডা। বর্তমানে এ নিয়ে নেট দুনিয়ায় সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, আন্দোলন করে সর্বত্র তাদের কাছে দ্বিগুণ-তিনগুণ এমনকি পাঁচগুণেরও বেশি বিল এসে হাজির হয়েছে এই মাসে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। গ্রাহকরা বিলের কপি ফেসবুকে প্রকাশ করছেন এবং তাদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

তারা দাবি জানিয়েছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত ও সমাধানের প্রয়োজন।

ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, যেসব পরিবারে বিদ্যুৎ ব্যবহার একই রকম অব্যাহত রয়েছে, তাদেরও আগের মাসের তুলনায় অনেক বেশি বিল এসেছে।

কেউ কেউ অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ জানাতে গেলে যথাযথ সেবা না পেয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কমলনগরের বিভিন্ন গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডিতে এ নিয়ে অসংখ্য পোস্ট দেখা যাচ্ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, নিয়মিত লোডশেডিংয়ের মধ্যেও কিভাবে এত বেশি বিদ্যুৎ বিল আসছে।

কিছু গ্রাহক মিটার রিডিংয়ের অসংগতি এবং গড় বিল করার অভিযোগও তুলেছেন।

কমলনগর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ উপজেলায় পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের অধীনে প্রায় ৬১ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলে দুই থেকে তিনগুণ টাকা এসেছে ফলে গত তিন দিন ধরে চলছে প্রতিবাদ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল সাধারণ মানুষের উপরে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। অনেকেই দ্রুত বিল সংশোধন ও সঠিক মিটার রিডিং অনুযায়ী নতুন বিল প্রস্তুতের দাবি জানাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে কমলনগর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো কোনো ক্ষেত্রে মিটার রিডিংয়ের ভুল অথবা সমন্বয়ের কারণে বিল বেশি আসতে পারে। অভিযোগ পেলে যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। এ নিয়ে এত হৈচৈ করার কোনো মানে হয় না।‘ গ্রাহকদের বিলের সঙ্গে মিটার রিডিং মিলিয়ে দেখার পরামর্শ তিনি দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্জ্য থেকেই মিলবে জৈব সার ও বায়োগ্যাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:২১ পি.এম


বর্জ্য থেকেই মিলবে জৈব সার ও বায়োগ্যাস

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় নির্মাণ করা হয়েছে একটি সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট, যার ব্যয় প্রায় ১২ কোটি টাকা। এটি চালু হলে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে জৈব সার ও বায়োগ্যাস তৈরি হবে।

এই সারটি কৃষি জমিতে ব্যবহার করতে পারবেন প্রান্তিক চাষিরা স্বল্পমূল্যে। এতে ফসল উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনই সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান। একই সঙ্গে, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব পৌর শহর গড়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিবচর পৌরসভার চরশাম্যাইল ও শ্যামাইল মৌজায়, ২ দশমিক ৬৮ একর জমিতে ২০২৩ সালে এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিটের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে টার্ন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মোট ১ দশমিক ৫৪ একর জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং বাকি ১ দশমিক ১৪ একর খাস জমিতে প্রকল্পটির কাজ হচ্ছে। প্রকল্প শুরু হওয়ার আগেই ব্যক্তিগত মালিকানা ১ দশমিক ৫৪ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন করে জনস্বাস্থ্য বিভাগ। ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হয়েছে।

বর্তমানে উদ্বোধনের অপেক্ষা। তবে, অধিগ্রহণের ৩ বছর পার হলেও ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকরা এখনো ক্ষতি পূরণের কোনো টাকা পাননি।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, শিবচর পৌরসভার বাসাবাড়ি থেকে প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে এই ইউনিটের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা হবে জৈব সার। বায়ুদূষণ রোধে এবং পরিবেশবান্ধব পৌর শহর গড়তে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রথম দুই বছর নিজেদের অর্থায়নে জৈব সার উৎপাদন করবে। পরবর্তীতে সরকারের মাধ্যমে উৎপাদন শুরু হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবর বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শিবচরে ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা সমস্যা ছিল। এই প্রকল্প চালু হলে শহর আরো পরিচ্ছন্ন হবে। এতে অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।’ কৃষক হামেদ শিকদার বলেন, ‘বর্তমানে রাসায়নিক সারের দাম অনেক বেশি। যদি এই প্রকল্প থেকে উৎপাদিত জৈব সার স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায়, তাহলে আমাদের চাষাবাদের খরচ কমবে। জৈব সার ব্যবহারে জমির উর্বরতা বাড়বে ও মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। এতে ভালো ফলন হবে এবং আর্থিকভাবে লাভ হবে।’

উপশহরের বাসিন্দা আলী আকবর খান বলেন, ‘উপশহরে শেষ মাথায় দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। দুর্গন্ধের কারণে ঠিকমতো নিঃশ্বাস নেয়া যায় না। শিশুদের মধ্যে নানা রোগ দেখা দিয়েছে। এমনকি দুর্গন্ধের কারণে মসজিদে নামাজ আদায় করতে সমস্যা হচ্ছে। তাই দ্রুত আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থা চালু করে আমাদের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।’

শিবচর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী শামীমা নাসরিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রকল্পটি চালু হলে শিবচর পৌরসভার চেহারা পাল্টে যাবে। সড়কে আর ময়লা থাকবে না। বাসাবাড়ি থেকে সংগৃহীত আবর্জনা এখানে এনে প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার তৈরি হবে। সাধারণ কৃষকরা কম খরচে সার কিনে জমিতে ব্যবহার করতে পারবে। সব মিলিয়ে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মানে বড় পরিবর্তন আসবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রকল্পটির নির্মাণকাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%