১০:২০ পি.এম
ঈদগাঁও মাছ বাজারের ইজারা মওকুফের দাবি উঠেছে।
এফএনএস (রেজাউল করিম; ঈদগাঁও, কক্সবাজার) : ১৮ জুন, ২০২৬, ১১:৪০ এএম । জনস্বার্থে এবং ব্যবসার সুবিধার্থে ঈদগাঁও মাছ বাজারের সকল পথ খোলা রাখতে হবে। ঈদগাঁও মাছ বাজারের পশ্চিম পাশের সড়ক বন্ধ থাকায় জনগণ চরম বিপাকে পড়েছেন। পূর্ব পাশের একটি সড়ক দিয়ে এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য জমবে না। এই কারণে উভয় সড়ক খুলে দিতে হবে।
জনস্বার্থে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দখলমুক্ত খোলা শেডের দাবি জানিয়ে জালালাবাদ ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক এমইউপি মোকতার আহমদ বলেন, ৫০ থেকে ৫৪ বছর পর্যন্ত মাছ বাজারের শেড ছিল দুই চালা বিশিষ্ট। পাকা শেড নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘ বছর এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হচ্ছে আলো-বাতাসহীন ভাবে। তিনি বর্তমান শেডের নিচতলায় দেয়াল না তোলে উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে বলেন, মানুষের সুবিধার্থে শেডের সকল পথ পুরোপুরি খোলা রাখতে হবে। পশ্চিম পাশের বন্ধ পথ খোলা না রাখলে লোকজন চলাচল করতে পারবেন না। কেবলমাত্র পূর্বের সড়ক দিয়ে মাছ বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য জমে উঠবে না।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের জনগণ ও দূর-দূরান্তের ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রতিনিয়ত এ বাজারে আসে। তাই তাদের সুবিধার্থে চারপাশের রাস্তা সম্পূর্ণ খোলা রাখতে হবে। শেডের নিচতলায় দেয়াল থাকলে জনগণের চলাচল মারাত্মক বিঘ্নিত হবে এবং ক্রেতা-bিক্রেতারা মুক্ত বাতাস থেকে বঞ্চিত হবেন। পার্শ্ববর্তী ভবনগুলোর সাথে মাছ বাজার শেডটি মিলিয়ে ফেলায় শেডের অধিকাংশ স্থান দখল হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য সাবেক জনপ্রতিনিধি মনে করেন দখলমুক্ত শেড প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। অন্যদিকে ঈদগাঁও বাজারের মাছ ব্যবসায়ীদের ইজারা মওকুফের দাবি জানানো হয়েছে।
ঈদগাঁও বাজারের ইজারা সাড়ে চার কোটি টাকার মতো হলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপরিকল্পিত। মাছ বাজারে যে অবকাঠামো হচ্ছে তা এলাকার সাথে সঠিকভাবে এডজাস্ট হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য সমন্বয় করে অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। মাছ বাজারের পুরোনো শেডটি ভেঙে ফেলায় মাছ ব্যবসায়ীরা জায়গার ভাড়া ও ইজারাও দিচ্ছেন। তারা ডাবল দেন। তাই ইউএনওর কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, যেন মাছ বাজারের ইজারাটা মওকুফ বা শিথিল করা হয়। বাজারের ব্যবসায়ীরা বর্তমানে ঋণগ্রস্ত এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিত ও নিপীড়িত। তাদের দুরবস্থার নিরসন এবং মাছ বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে পথঘাট উন্মুক্ত করা, ইজারা মওকুফ বা শিথিলের দাবি জানিয়েছেন বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম শহীদ।
ঈদগাঁও মাছ বাজারের পুরোনো সড়কটি জন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন দীর্ঘদিনের ক্ষতিগ্রস্ত মাছ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।
পথের বাঁক পরিবর্তন মেনে নিতে পারবেন না ভুক্তভোগী মাছ ব্যবসায়ীরা। এই উন্নয়ন সরকারের আমলেই প্রকৌশলীর পরিকল্পনাতে মাছ বাজারের প্রধান ও দ্বিতীয় সড়ক বন্ধ থাকলে মাছ বাজারে ব্যবসা করা সম্ভব হবে না। জন চলাচলের পথ খোলা রাখলে মালামাল আনা নেওয়া ও ব্যবসা-বাণিজ্য করা সহজ হবে। সরকারের কাছে এ সম্পর্কে দাবি জানালেন ঈদগাঁও মাছ বাজার ভাই ভাই সমিতির সভাপতি শওকত আলম।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
অন্যদিকে ঈদগাঁও মাছ বাজারের জন চলাচলের সড়ক ব্যবহার উপযোগী করার আহ্বান জানিয়েছেন মাছ ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, ঈদগাঁও বাজারে নির্মাণাধীন মাছ বাজার সেডের প্রধান ও দ্বিতীয় সড়ক জন চলাচলের উপযোগী করতে হবে। তারা উন্নয়ন চান, তবে এলাকাবাসীর ক্ষতি হবে এমন উন্নয়ন তারা চান না। জন চলাচলে রাস্তার যেন কোনো ক্ষতি না হয়। মাছ বাজার সেডে যে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে তা অপরিকল্পিতভাবে হচ্ছে। তারা মনে করেন অন্য কোন জায়গার 'প্ল্যান' এখানে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে এখানকার পারিপার্শ্বিকতার সাথে এই ভবনের নির্মাণ কাজ কোনোভাবেই এডজাস্ট হচ্ছে না। এলাকায় ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই উন্নয়নের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ব্যাপারে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে মাছ ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি মোহাম্মদ রুবেল স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সুদৃষ্টি ও আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন