০৭:৫৭ পি.এম
‘পরীক্ষার চেয়ে আমার কাছে বোরকা এবং আমার ধর্মীয় পরিচয়ই সবচেয়ে বড়।’ এই দৃঢ় উচ্চারণটি পরীক্ষা কেন্দ্রের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা সাহসী মুসলিম ছাত্রীর নাম কুলসুম বানো। তিনি চরম মানসিক চাপ এবং প্রশাসনিক বাধার মুখেও নিজের ঈমানী চেতনা ও ধর্মীয় স্বকীয়তায় অনড় থেকে শেষ পর্যন্ত বোরকা পরিধান করে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন। আজ, রোববার, ভারতের রাজস্থানের আজমিরে চিহ্নিত এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে, যা সর্বভারতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার (নিট-ইউজি) পুনরুত্থাপনের সাথে সম্পর্কিত।
জানা গেছে যে, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে বাতিল হওয়া গত ৩ মে রবিবারের নিট পরীক্ষা আজ, ভারতজুড়ে পুনরায় অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। কুলসুম বানো আজমিরের কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসেন বেওয়ার থেকে। কিন্তু যখন তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রবেশদ্বারে পৌঁছান, তখন তাকে নিরাপত্তার অজুহাতে চরম হেনস্থার শিকার হতে হয়। পরীক্ষার কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে বোরকা এবং দোপাট্টা খুলে ভিতরে প্রবেশ করতে বলেন।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
এমন এক অন্যায্য ও বৈষম্যমূলক নির্দেশনার সামনে কুলসুম মাথানত করেননি। পরীক্ষা দেয়ার জন্য বোরকা খুলে ফেলার চেয়ে তিনি পরীক্ষায় অংশ না নিতে পারাকেই শ্রেয় মনে করেন। গণমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে কুলসুম বলেন, “গত ৩ মে যখন আমি পরীক্ষা দিয়েছিলাম, তখনও আমি এই বোরকা এবং দোপাট্টা পরেই পরীক্ষা দিয়েছি। যদি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) অনুমতি দিয়ে থাকে, তবে কেন্দ্রের কর্মীরা আমাদের আটকানোর কে?”
পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে যখন এই নিয়ে উত্তেজনা ও হট্টগোল ছড়িয়ে পড়ে, তখন মেয়ের পাশে এসে শক্ত হয়ে দাঁড়ান তার পিতা মোহাম্মদ আলিম। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এনটিএ-এর নির্দেশিকার ১৮ নম্বর ধারায় স্পষ্ট বলা আছে যে পরীক্ষার্থীরা ধর্মীয় পোশাক পরে অংশ নিতে পারবেন। আমরা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে বলেছিলাম, একজন নারী কর্মীকে ডেকে আলাদা ঘরে নিয়ে গিয়ে নিয়মিত তল্লাশি করা হোক। কিন্তু তারা প্রথমে তা করতে অস্বীকৃতি জানায়।” তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ধর্মীয় পোশাক পরতে না দিলে তার মেয়ে পরীক্ষায় অংশ নেবে না।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
অন্যদিকে, কুলসুমের বোরকা পরায় বাধা দেওয়ার খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষাবিদদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বৃদ্ধি পায়। পরিস্থিতি অবনতি হওয়া দেখে আজমির পুলিশ ঘটনাস্থলে তাড়াতাড়ি আসেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে এবং এনটিএ-এর নিয়মের প্রতি সম্মানের কারণে কুলসুমকে সসম্মানে বোরকা পরিহিত অবস্থায় পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করা হয়।
আজমিরের সার্কেল অফিসার শিবম জোশী পরে জানান, পোশাক বিধি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরীক্ষা কেন্দ্রের কিছু কর্মীর মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, যা পরে আলোচনা করে সমাধান করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
এছাড়া, এনটিএ-এর স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে যে হিজাব, বোরকা কিংবা পাগড়ির মতো ধর্মীয় পোশাক পরে পরীক্ষা দিতে পারবেন, তবে সেক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীকে কিছুটা আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তল্লাশির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কুলসুমের এই সাহসী অবস্থান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, ক্যারিয়ারের দোহাই দিয়ে যারা ধর্মীয় মূল্যবোধ বিসর্জন দেন, কুলসুম বানো তাদের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন