ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নাগরিক সেবায় অবহেলা করলে চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর ব্যবস্থা: ডিএসসিসি প্রশাসক


নাগরিক সেবায় অবহেলা করলে চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর ব্যবস্থা: ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সেবার অন্তর্ভুক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশক নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গতিশীলকরণ এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণশুনানি পরিচালনা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গটি ছিল সোমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-২ ও অঞ্চল-৫ এর আওতাধীন বিষয়াবলি। এই গণশুনানির আয়োজন করা হয় বাসাবোর বৌদ্ধ মন্দির অডিটোরিয়ামে।

এ সময় মূল অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

গণশুনানিতে অঞ্চল-২-এর খিলগাঁও, বাসাবো, মুগদাপাড়া, কমলাপুর, শাহজাহানপুর ও মতিঝিল এবং অঞ্চল-৫-এর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, স্বামীবাগ, গোপীবাগ, নারিন্দা, দয়াগঞ্জ, টিকাটুলী, ধলপুর, মান্ডা, মুগদা ও বাসাবোর আংশিক এলাকার নাগরিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীরা স্বাগতম জানান।

এখনই নাগরিকরা এলাকার জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা, ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্সসহ বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ ও মতামত তুলে ধরেন। প্রশ্নোত্তরে নাগরিকদের প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দেন ডিএসসিসি’র সংশ্লিষ্ট অঞ্চল ও বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সিটি কর্পোরেশনের মূল দায়িত্ব হলেও এতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্জ্য অপসারণ, সড়ক বাতি নিশ্চিত করা, মশা নিধন ও রাস্তাঘাট সংস্কারে প্রশাসন কাজ করছে। তবে, প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে জনগণকে সচেতন হতে হবে। সিটি কর্পোরেশন ও জনগণের দায়িত্ব ৫০-৫০ ভাগে ভাগ করে নিতে হবে।

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বৃষ্টি হলেই পানি জমার সমস্যাটি নিরসনে কাজ চলছে এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

সেবা প্রদানে অবহেলার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রশাসক বলেন, এতদিন অনেক ক্ষেত্রে অবহেলা ও দায়িত্বে শিথিলতা ছিল, এখন আর সেই সুযোগ নেই। জাতীয় সনদপত্র, জন্মনিবন্ধন, মশক নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্ট্রিট লাইটের মতো মৌলিক সেবাগুলোতে অবহেলা করলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে চাকরিচ্যুত করা হবে।

সামনে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মৌসুম উল্লেখ করে তিনি মশক নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি এলাকায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান এবং নাগরিকদের নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা, ফুলের টব ও ফ্রিজের নিচের অংশ পরিষ্কার রাখতে আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘জনগণই রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে কোথায় উন্নয়ন হচ্ছে, কীভাবে অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী। এই স্বচ্ছতাই সুশাসনের ভিত্তি।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা-৯ আসনে ইতোমধ্যে সড়ক উন্নয়ন, আরসিসি ঢালাই, ড্রেনেজ ও পাইপলাইন স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অনেক প্রকল্প চলমান রয়েছে। একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে নাগরিক সচেতনতা ও সম্মিলিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম

উল্লেখ্য, ধানমন্ডির পর বাসবোতে এটি ছিল ডিএসসিসির দ্বিতীয় গণশুনানি। পর্যায়ক্রমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১০টি অঞ্চলেই এই ধরনের গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপ ফুটবল: নন্দন থেকে বন্ধনের বিষাদযাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ পি.এম


বিশ্বকাপ ফুটবল: নন্দন থেকে বন্ধনের বিষাদযাত্রা

ফুটবল খেলার ইতিহাস হচ্ছে নন্দন থেকে বন্ধনের এক বিষাদযাত্রা। খেলাটি যখন থেকেই পরিণত হলো ইন্ডাস্ট্রি তথা শ্রমশিল্পে, তখন থেকেই ফুটবল সৌন্দর্য হারাতে শুরু করে। কেউ কেউ আবার বলেন, ফুটবল আসলে ঘটনাবলীর সমষ্টি, এবং গোল হচ্ছে খেলাটির প্রাণবিন্দু।

কবির ভাষায় বলা হয়েছে, সবুজ মাঠই হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মঞ্চ, যেখানে ২২ জন শিল্পী মাটিতে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর চিত্রকলা আঁকেন। লাতিন ফুটবল এবং ইউরোপীয় ফুটবল এর লড়াইটা আদিকালের। বর্তমান সময়ে ইউরোপীয় পাওয়ার ফুটবল খানিকটা এগিয়ে গেছে। তবে ইতিহাস বলে, ঔপনিবেশিক অঞ্চলগুলোর ছাপিয়ে লাতিন ফুটবলের শৈল্পিকতার সৌন্দর্য্য বিশ্বের বুকে রাজত্ব কায়েম করেছে।

শৈল্পিক কারিকুরির নান্দনিকতায় পূর্ণ লাতিন ট্যাকটিক্স নয়তো গতির ঝড় তোলা ইউরোপীয় পাওয়ার ফুটবল? ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্বের এই বিতর্ক শতবর্ষ হয়ে চলমান। মহাদেশীয় ফুটবল ইতিহাসে লাতিন ফুটবলে আছে বনেদিয়ানা, যেখানে মাঠেও পায়ের কারুকার্যে শৈল্পিকতার সুর বেজে ওঠে। অন্যদিকে ইউরোপের পাওয়ার ফুটবলে আক্রমণ এবং গতির ঝড় আগে শুরু হয়, যা প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে শেষ করে দিতে পারে।

জীবন এবং ফুটবলের মধ্যে একটি দারুণ মিল লক্ষ্য করেছেন আর্জেন্টাইন গ্রেট ডিয়েগো ম্যারাডোনা। তার আত্মজীবনী ‘এল ডিয়েগো’তে তিনি উল্লেখ করেছেন—জীবনের ব্যাপারে যেভাবে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, ফুটবল মাঠে খেলার সময়ও একইভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়; এর মধ্যে একজনকে বাছাই করে নেওয়ার মতো একটি প্রক্রিয়া রয়েছে।

আর ব্রাজিলিয়ান গ্রেট পেলের মতে, ফুটবল হলো জাদুকরী এক বিষয়। তার আত্মজীবনী ‘পেলে’তে তিনি বলেন—‘ফুটবল সবসময়ই আলাদা। এটি দলীয় খেলা, এককভাবে কখনো খেলা যায় না। একটি দলীয় সমন্বয়ের মাঝে এই খেলার সৌন্দর্য নিহিত আছে।’

ফুটবলপ্রেমী সাহিত্যিকদের তালিকা দীর্ঘ। এ তালিকায় প্রথমেই রয়েছে আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত ফরাসি সাহিত্যিক আলবেয়ার কাম্যুর নাম। আলজেরিয়ার বস্তিতে কঠিন শৈশবেই তিনি ফুটবলে প্রেমে পড়েন। দাদির নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তিনি ফুটবল খেলতেন। গোলকিপার হিসেবে তিনি সুনাম অর্জন করেন এবং ১৭ বছর বয়সে আলজিয়ার্স রেসিং বিশ্ববিদ্যালয় দলের হয়ে আলোচিত হন। কিন্তু যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে তাকে চিরতরে ফুটবল বিদায় বলতে হয়। ফুটবল নিয়ে তার একটি বিখ্যাত উক্তি আছে—‘নৈতিকতা এবং দায়িত্ববোধের বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদে আমার যা জ্ঞান, তার জন্য আমি ফুটবলের কাছে ঋণী।’

ফুটবলের প্রতি কাম্যুর অগাধ প্রেমের কারণে উনাকে ‘নোবেলজয়ী একমাত্র সাহিত্যিক ফুটবলার’ বলা হয়। মৃত্যুর আগে তিনি একটি আত্মজৈবনিক উপন্যাস লেখার চেষ্টা করেছিলেন, যেখানে একটি বালক চরিত্রের নাম ‘জ্যাক’। জ্যাকের জীবনে ফুটবল ছিল সবচেয়ে বড়। এর মাধ্যমে কাম্যুর শৈশবের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।

নোবেলজয়ী জার্মান সাহিত্যিক গুন্টার গ্রাসও ফুটবল ভালোবাসতেন। তিনি আক্রমণ ভাগে খেলতে পছন্দ করতেন, কিন্তু খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ফুটবল নিয়ে তার আলোচনা সবসময় ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানির মানুষের টিকে থাকার লড়াইকে ফুটবল খেলার সঙ্গে তুলনা করতে ভালবাসতেন।

শার্লক হোমসের স্রষ্টা ব্রিটিশ সাহিত্যিক আর্থার কোনান ডয়েল জীবনের একটি সময় ফুটবল খেলেছেন। তিনি পোর্টসমাউথ অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল ক্লাব দলের একজন গোলকিপার ছিলেন। ফুটবলের পাশাপাশি ভালো ক্রিকেটারও ছিলেন। এসময়ের আরেক জনপ্রিয় সাহিত্যিক জে কে রাউলিং ফুটবল ভালোবাসতেন। ইংলিশ লিগের ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেড তার প্রিয় দল, যা দেখতে তিনি নিয়মিত মাঠে যেতেন।

ব্রিটিশ সাহিত্যিক জর্জ অরওয়েলের ফুটবল নিয়ে বিরক্তি ছিল। তিনি খেলাধুলা ভালোবাসলেও ফুটবলের উগ্র জাতীয়তাবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে ঘৃণা করতেন। তার মতে, যদি পৃথিবীকে অশান্তিতে ভরিয়ে দিতে চান, তাহলে কয়েকটি রাষ্ট্র ও জাতির মধ্যে এক লাখ মানুষের ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করলেই যথেষ্ট। ফুটবল প্রসঙ্গে আইরিশ নাট্যকার অস্কার ওয়াইল্ড বলেছেন, ‘ফুটবল হলো ভদ্রলোকের খেলা, কিন্তু এটি খেলে এক দল বর্বর অসভ্য মানুষ!’

ফুটবলপ্রেমী অন্যান্য সাহিত্যিকদের নাম আরও অনেক আছে। যেমন—জ্যঁ পল সার্ত্রে, জ্যাক কেরুয়াক, অ্যান্থনি বার্গেস, ওয়াল্টার স্কট, ভ্লাদিমির নবোকভ, মার্টিন এমিস, সালমান রুশদি, জুলিয়ান বার্নস এবং আরও অনেক। বিখ্যাত ফুটবলাররা তাদের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে অসংখ্য আত্মজীবনী রচনা করেছেন। এসব গ্রন্থ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে এবং আধুনিক সমাজের পরিবর্তনশীল অধ্যায়ের কিছু অজানা তথ্য প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য হলো ইয়োহান ক্রুয়েফের ‘মাই টার্ন’, জর্জ বেস্টের ‘ব্লেসড’, রয় কেনের ‘দ্য সেকেন্ড হাফ’, পাওলো মালদিনির ‘মুন্দেয়াল’, অ্যালেক্স ফার্গুসনের ‘মাই অটোবায়োগ্রাফি’ এবং আর্সেন ওয়েঙ্গারের ‘মাই লাইফ ইন রেড অ্যান্ড হোয়াইট’।

কবি-সাহিত্যিকদের প্রশংসা পেতে হয়। স্প্যানিশ ভাষার অন্যতম সেরা কবি সিজার ভায়েয়ো ও ষোড়শ শতাব্দীর ইতিহাসবিদ গার্সিলাসো-এর নামে দুটি ফ্রন্ট ক্লাব পরিচিত আছে দেশটিতে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুনের প্রথম সপ্তাহে এলো ৮৭ কোটি ১১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ পি.এম


জুনের প্রথম সপ্তাহে এলো ৮৭ কোটি ১১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স

চলতি মাসের প্রথম ৭ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৮৭ কোটি ১১ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১২ কোটি ৪৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, চলতি জুন মাসের প্রথম ৭ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৮৭ কোটি ১১ লাখ ৪০ হাজার ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৮ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার। অর্থাৎ, বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৭ জুন পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩ হাজার ৩৬২ কোটি ৭৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

এর আগে গত মে মাসে দেশে এসেছে মোট ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এটি দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।

গত এপ্রিলে দেশে এসেছিল ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এটি দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।

গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এছাড়া, গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাইবান্ধায় কলেজছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যার প্রতিবাদে বি-ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪৪ পি.এম


গাইবান্ধায় কলেজছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যার প্রতিবাদে বি-ক্ষোভ

গাইবান্ধা সদরের ত্রিমোহনীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ফাহমিদ রুমন নামের এক কলেজছাত্রকে হত্যার প্রতিবাদে স্বজন ও এলাকার বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেছেন।

সোমবার বিকেলে নিহত রুমনের স্বজন এবং স্থানীয়রা প্রতিপক্ষ রাকিবের বাড়িতে ভাঙচুর করে। এরপর তারা গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কে দুটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করেন। ফলস্বরূপ সেখানে ঘণ্টাব্যাপী যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়দের থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ত্রিমোহনী এলাকার মৃত ফারুকের ছেলে রুহিত এবং একই গ্রামের ছানা হাজীর ছেলে রাকিবের মধ্যে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই ফলস্বরূপ, রবিবার রাত ১০টার দিকে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে রাকিব ধারালো ছুরির দ্বারা রুহিতকে আঘাত করেন।

এসময়, রুহিতের ছোট ভাই রুমন এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে রাকিব। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় দুই সহোদরকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রুহিত বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে: শুভেন্দু অধিকারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪৫ পি.এম


৫ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে: শুভেন্দু অধিকারী

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার দাবি করেছেন যে, গত এক মাসে প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে, এ কথা বললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার (৭ জুন) কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় না পড়া বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর কাজ আমরা শুরু করেছি।’ গত মাসে রাজ্যের সমস্ত জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ স্থাপন করা হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী আরও জানিয়েছেন, ‘এসব কেন্দ্র থেকে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, বর্তমানে ওই হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে আরও ৮৩৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক আছেন এবং তাদেরও শিগগিরই ফেরত পাঠানো হবে।

এএফপি জানিয়েছে, ভারতের এক অন্যতম রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে। দলটি নির্বাচনী প্রচারে অবৈধ অভিবাসীদের ‘ শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ এবং ফেরত পাঠানোর’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

বাংলাদেশের সাথে ভারতের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে অভিবাসন ইতিহাসগতভাবে চলমান। পশ্চিমবঙ্গ সরকার বর্তমানে কাগজপত্রবিহীন বাংলাদেশি নাগরিক এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আটককেন্দ্র স্থাপন করেছে।

এAAফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের অভিবাসন ইস্যু অনেকদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অতীতে অভিবাসীদের ‘উইপোকা’ ও ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে উল্লেখ করেছেন।

সমালোচকদের অভিযোগ, বিজেপির বক্তব্য ও নীতিমালায় ভারতের ২০ কোটির বেশি মুসলমানের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রান্তিকতার অনুভূতি বাড়াচ্ছে। তাদের মতে, দলটি ধর্মীয় পরিচয়কে অবৈধ অভিবাসনের সাথে একত্রে দেখে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ রয়েছে যে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ভারত শত শত বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানকে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠ মিত্র শেখ হাসিনা পরে ভারতে আশ্রয় নেন।

তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে ধীরে ধীরে উন্নতি দেখা যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে সোমবার (৮ জুন) নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%