০৩:০০ এম
আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ কতটা বিতর্কিত ছিল, তা জানা যাচ্ছে। খেলার প্রথমার্ধে গোল শূন্য আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত ফর্মে কামব্যাক করে দ্বিতীয়াংশ খেলায়। আটলান্টা স্টেডিয়ামে অসাধ্যকে সাধন করে মিশরকে কাঁদিয়ে শেষ হাসি হাসেন আকাশি দলের সমর্থকরা। যদিও জয় পেলেও বিতর্ক থেকে মুক্তি মেলেনি। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আর্জেন্টিনা দলের জয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা নেটিজেনদের একাধিক মন্তব্য ও কটাক্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
আর্জেন্টিনা- মিশর ম্যাচের বিতর্কিত মুহূর্তের ফলে রেফারি ফ্রাঁসোয়ারকে এআই প্রযুক্তিতে আর্জেন্টিনার ক্যাপ নিয়ে নতুনভাবে উপস্থাপন করেন নেটিজেনরা (ডানে)।
৭ জুলাই মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। খেলায় উত্তেজনা ও নাটকীয়তার ভিড়ে তাদের মুখে হাসি ফোটে। তবে জয়ের সাথে একাধিক বিতর্কের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ র্যাঙ্কিং এবং শক্তির দিক থেকে এই বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল।
আরও পড়ুন: আমজনতার তারেককে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী করলেন কড়া জবাব
এক নজরে আর্জেন্টিনা- মিশর ম্যাচের বিতর্কিত বিষয়গুলো সবার নজরে আসছে।
১। ম্যাচের ১৪তম মিনিটে মারওয়ান আত্তিয়ার একটি চমৎকার ক্রস থেকে হেড করে মিসরের ইয়াসির ইব্রাহিম আর্জেন্টিনার জালে বল জড়ান। গোল হজম করার পর পেনাল্টি পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা, কিন্তু পেনাল্টি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়।
২। প্রথমার্ধ ১-০ গোলে পিছিয়ে শেষ করে আর্জেন্টিনা। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে তারা আবার পিছিয়ে পড়ে। ৫৮তম মিনিটে মোস্তফা জিকোর দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু রেফারি গোলটি বাতিল করেন। ভিএআর চেক করে দেখা যায়, গোলের মুহূর্তে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের সাথে ফাউল হয়েছিল।
৩। আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের সময়ও ফাউল দাবি করেন মিসরের মোহামেদ সালাহ। ম্যাচের ৯২ মিনিটে সালাহ আর্জেন্টিনার বক্সে ঢুকে শট নিতে চেষ্টা করেন। কিন্তু আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার জুলিয়ান আলভারেজের পা সালাহর গোড়ালিতে আঘাত করে। সালাহ মাটিতে পড়ে যান এবং আর্জেন্টিনা কাউন্টার অ্যাটাক শুরু করে। এরপর এনজো গোল করেন। কিন্তু মিসর ভিএআরে চেক করার দাবি করেন এবং রেফারি তা নাকচ করেন।
আরও পড়ুন: শব্দচয়ন নিয়ে আইজিপিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সতর্কবার্তা, গুম-হত্যা রোধের আহ্বান
৪। যদি ভিএআর চেক করে সালাহর ফাউলের জন্য পেনাল্টি পেত মিসর, তবে ঘটনা উল্টো হয়ে যায়। আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত কাউন্টার অভিযান শুরু করে, যা তাদের রূপকথার জয় এনে দেয়।
৫। মাঠে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের অনৈতিকতায় মেজাজ হারান মিসরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ। তারা অভিযোগ করেন, রেফারি ম্যাচে কিছু অনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মিসরের সুবাইর, ফাতি, হাইসেন হাসান এবং কোচ হোসাম হাসান হলুদ কার্ড পান। ম্যাচের শেষ পর্যায়ে আর্জেন্টিনা মাত্র ১৪ মিনিটের মধ্যে ৩টি গোল করে অবিশ্বাস্য বিজয় অর্জন করে।
৬। ম্যাচ শেষে মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো রেফারিং নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তিনি হতাশা ও ক্ষোভে বিশ্বকাপকে পাতানো দাবি করে বলেন, ‘মনে হচ্ছে, আর্জেন্টিনাকে আরেকটি বিশ্বকাপের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে রাখা উচিত।’
প্রসঙ্গত, মিশরের এবং দর্শক ও নেটিজেনদের এসব অভিযোগ সম্পর্কিত ম্যাচ কর্মকর্তারা বা বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে আতিকুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন