০৪:৫৬ এম
নার্গিস খাতুনের স্বপ্ন ছিল যে তিনি শিক্ষক হয়ে শিক্ষার্থীদের মানুষের মতো মানুষ গড়ে তুলবেন। এই স্বপ্ন নিয়ে প্রায় ১১ বছর আগে তিনি একটি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেছিলেন। তবে দীর্ঘ এই সময়কাল ধরে তিনি একদিনের জন্যও বেতন পাননি। এমপিওভুক্ত না হওয়ায়, বিনা বেতনে শিক্ষকতা করতে করতে এখন তিনি অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন। তার অভিযোগ হল যে, শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও প্রতারণার মাধ্যমে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষকের নাম নার্গিস খাতুন, যিনি নওগাঁর মান্দা উপজেলার গোয়ালমান্দা গ্রামের খোরশেদ আলম শিলালের মেয়ে। তিনি জোতবাজার আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদে কর্মরত আছেন।
আরও পড়ুন: নলছিটি ফেরিঘাটের রাস্তা মেরামত, যাত্রীদের স্বস্তি ফিরেছে
নার্গিস খাতুন জানিয়েছেন, তিনি জোতবাজার আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি বের হওয়ার ভিত্তিতে আবেদন করেন। ২০১৫ সালের ২৪ জুলাই তিনি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান দেওয়ান ২০১৫ সালের ২৭ জুলাই তাকে যোগদানের চিঠি দেন। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে নার্গিস খাতুন ২০১৫ সালের ১ আগস্ট স্কুলে সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দান করেন।
তিনি বলেন, যোগদানের পর থেকে তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত তার পদ এমপিওভুক্ত হয়নি। প্রায় ১১ বছর ধরে কোনো বেতন-ভাতা ছাড়া তিনি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। খোঁজ নিলে তিনি জানতে পারেন, সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদে আগে থেকেই একজন ইনডেক্সধারী শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। অর্থাৎ, সেই পদটি শূন্য ছিল না। তার দাবি, নিয়োগের সময় এই বিষয়টি তাকে বলা হয়নি।
নার্গিস খাতুনের অভিযোগ, ‘আমি বিল-বেতনের বিষয়ে জানতে গেলে প্রধান শিক্ষক প্রতিবারই প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু সময়ক্ষেপণ করেন। নিয়োগের সময় তিনি জমি ও গহনা বিক্রি করে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান দেওয়ানকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। এখন জানতে পেরেছি, প্রতারণার মাধ্যমে শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার চাকরির বয়সও নেই। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচার চান। নার্গিস খাতুনের বাবা খোরশেদ আলম শিলাল বলেন, ‘প্রতারণার মাধ্যমে আমার মেয়ের জীবন নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান দেওয়ান মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সাক্ষাতে কথা হবে এবং পরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম জানান, কোনো পদে ইনডেক্সধারী শিক্ষক থাকলে সেই পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া বিধিবহির্ভূত। এই বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন