ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিদেশের মাটিতে সাফল্যের খোঁজে ভারতের নতুন পরিকল্পনা


বিদেশের মাটিতে সাফল্যের খোঁজে ভারতের নতুন পরিকল্পনা

বিদেশের মাটিতে সাফল্যের খোঁজে নতুন পরিকল্পনা ভারতের

 

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) বিদেশ সফরের বড় সিরিজ শুরুর আগে ভারতীয় ক্রিকেটারদের বিশ্রাম ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য বাড়তি সময় দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

আরও পড়ুন: ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতের আহ্বান

২০২৭-৩১ মেয়াদের ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রামে (এফটিপি) এই ধরনের সময় রাখার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত।

 

বোর্ড পরিচালকরা আগামী ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সূচি-সংক্রান্ত কর্মশালায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন।

ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ঠাসা সূচিতে খেলোয়াড়দের ওপর চাপ কমানোর জন্য বিসিসিআই এই উদ্যোগ গ্রহণ করতে চায়। কর্মশালায় বিভিন্ন সদস্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা ও সূচি-সংক্রান্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। আটটি সহযোগী দেশকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: আত্মপ্রত্যয়ী জাতি গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম : প্রধানমন্ত্রী

 

বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া ক্রিকবাজকে জানিয়েছেন, “আমরা যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি, তা হলো এখন বছরে অনেক বেশি ম্যাচ হচ্ছে। এ কারণেই পরবর্তী এফটিপিতে আমরা কিছু বিষয় পরিবর্তন করব এবং কিছু পদক্ষেপ নেব।”

সাইকিয়া আরও বলেন, “আমরা আমাদের এফটিপি-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি। তারা শিগগিরই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বৈঠক করবেন।

 

আরও পড়ুন: শিক্ষকদের সাংবাদিকতা করার অনুমতি নেই: প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান

এফটিপি এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে খেলোয়াড়দের জন্য যথাযথ বিশ্রামের সুযোগ থাকে। পাশাপাশি এসইএনএ (দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া) দেশগুলোতে সিরিজের আগে কিছুটা মানিয়ে নেওয়ার সময় বা প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

২০২৭-৩১ চক্রে ভারত ব্যস্ত সময় কাটাতে যাচ্ছে। ২০২৮ সালের শুরুতে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ টেস্টের সিরিজ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের। এরপর একই বছর অস্ট্রেলিয়া সফর।

 

২০২৯ সালে ইংল্যান্ড সফর এবং ২০৩১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন মাসে তিন সংঘর্ষ, আহত ৯ শিক্ষার্থী

এছাড়া একাধিক আইসিসি ও এসিসির টুর্নামেন্টও রয়েছে। ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৯ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজক ভারত। ২০৩০ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে। আর ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক ভারত ও বাংলাদেশ। এই সময়ে একাধিক এশিয়া কাপও অনুষ্ঠিত হবে।

ঠাসা সূচির কারণে দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেটের আর্থিক কার্যকারিতা নিয়েও আলোচনা চলছে। ফলে আগামী এফটিপিতে বহুদলীয় টুর্নামেন্ট বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে দুবাইয়ের বৈঠকের পর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভবিষ্যতে যেন জ্বালানি সমস্যায় না পড়তে হয়, সে জন্য কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৭ পি.এম


ভবিষ্যতে যেন জ্বালানি সমস্যায় না পড়তে হয়, সে জন্য কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে বিশ্বে নানা সংকট তৈরি হলেও দেশের মানুষ জ্বালানি সমস্যায় না পড়তে পারে।

তিনি শনিবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) অডিটোরিয়ামে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার বিগত স্বৈরাচারী সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাগুলোকে কেবল ‘অজুহাত’ হিসেবে দাঁড় করাতে চায় না। তিনি বলেন, "আমরা সরকার গঠন করার পর একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি।" ভঙ্গুর স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রধান সমস্যা হিসেবে তিনি জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "দেশের বহু মানুষ এখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কষ্টে ভুগছেন, আমরা সেটা অস্বীকার করছি না।"

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ভোগা সাধারণ মানুষ এবং শিল্পকারখানার মালিকদের কাছে দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, "স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া যে সমস্যাগুলোর কারণে আজ দেশ ও দেশের মানুষ কষ্ট ভোগ করছে, আমরা শুধু এটিকে এক্সকিউজ বা অজুহাত হিসেবে বলে দিতে চাই না।" তিনি আরও বলেন, "বরং বাস্তবতা মানুষের কাছে তুলে ধরে আমরা এমন পদক্ষেপ ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে দেশের মানুষ এই ধরনের সমস্যার মধ্যে আর না পড়ে।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা একটি যুদ্ধ সামাল দিয়ে চলছি।" তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপসহ পৃথিবীর প্রায় ৬৫টি দেশে জ্বালানির দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, "আমরা চেষ্টা করেছি যতটুকু সম্ভব দাম না বাড়ানোর।" বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত যখন আর সম্ভব হয়নি, তখন জ্বালানির দাম কিছুটা বৃদ্ধি করতে হয়েছে। তবে জনগণের ওপর যাতে কোনোভাবেই চাপ না পড়ে, সেজন্য কিছুদিন আগে পাস হওয়া বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর ট্যাক্স (কর) আরও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "কারণ আমাদের প্রতিটি কাজের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের জনগণ।"

তিনি আরও বলেন, "দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে প্রত্যেকটি সংকটকালীন মুহূর্তে দেশের মানুষ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে। এবারও আমরা বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে সামলে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লার যে বাড়ির সুর ছড়িয়ে পড়েছিল উপমহাদেশজুড়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ পি.এম


কুমিল্লার যে বাড়ির সুর ছড়িয়ে পড়েছিল উপমহাদেশজুড়ে

কুমিল্লার চর্থা। শহরের ব্যস্ততার মাঝেও এখানে দাঁড়িয়ে আছে শতবর্ষের ইতিহাসের সাক্ষী একটি বাড়ি।

সময়ের বিবর্তনে রাজপরিবারের সেই পুরোনো স্থাপনার অনেক কিছুই হারিয়ে গেছে। তবুও ইতিহাসের পাতায় এর গুরুত্ব একটুও কমেনি। কারণ, এই বাড়ির সঙ্গেই জড়িয়ে আছে উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংগীতস্রষ্টা, গায়ক ও সুরকার শচীন দেব বর্মণের শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি।

বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রের সংগীতাঙ্গনে যাঁর সৃষ্টিশীলতা কয়েক দশক ধরে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে, সেই ‘শচীন কর্তা’র জন্ম কুমিল্লার চর্থায়। লোকসংগীত, বিশেষ করে ভাটিয়ালি, সারি ও বাংলার মাটির সুরকে শাস্ত্রীয় সংগীতের সঙ্গে সৃজনশীলভাবে মিলিয়ে তিনি গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব এক সংগীতধারা।

তাঁর কণ্ঠ ও সুরে কুমিল্লা তথা বাংলার লোকজ জীবনের যে আবহ উঠে এসেছে, তা তাঁকে ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীত ইতিহাসে স্বতন্ত্র আসন দিয়েছে।

১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর কুমিল্লার চর্থার গোলপুকুরপাড়ে জন্মগ্রহণ করেন শচীন দেব বর্মণ। ত্রিপুরা রাজপরিবারের দেব বর্মণ বংশে জন্ম হলেও তাঁর শৈশব ও কৈশোরের বড় একটি সময় কেটেছে কুমিল্লায়। পিতা নবদ্বীপচন্দ্র দেব বর্মণ এবং মাতা নিরুপমা দেবীর সন্তানদের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ।

শৈশবেই সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর আকর্ষণ তৈরি হয়। কুমিল্লার নদী, মাঠ, গ্রাম এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা তাঁর সংগীতচেতনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গোমতী নদীর পাড়ের মাঝিদের গান, ভাটিয়ালি, সারি, বাউলসহ নানা ধরনের লোকসুর তাঁর মনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের শিক্ষা গ্রহণ করে তিনি সেই লোকজ সুরকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যান।

শচীন দেবের শিক্ষাজীবনেরও বড় অংশ কেটেছে কুমিল্লায়। তিনি কুমিল্লার ইউসুফ স্কুল ও কুমিল্লা জিলা স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে অধ্যয়ন করেন। সংগীতের প্রতি প্রবল আকর্ষণের কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি সংগীতকেই জীবনের প্রধান সাধনা হিসেবে বেছে নেন।

তাঁর সংগীতগুরুদের মধ্যে ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র দে, ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়, ওস্তাদ বাদল খান ও সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর মতো বিশিষ্ট শিল্পী। শাস্ত্রীয় সংগীতের কঠোর সাধনার পাশাপাশি বাংলার লোকসংগীতের প্রতি তাঁর ছিল গভীর অনুরাগ। এই দুই ধারার সৃজনশীল সমন্বয়ই পরবর্তীতে তাঁর সংগীতের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়।

কুমিল্লা থেকে শুরু হওয়া সেই সংগীতযাত্রা একসময় তাঁকে কলকাতা হয়ে মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্র জগতে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি একের পর এক চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেন এবং নিজের স্বতন্ত্র সুরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেন অনন্য এক অবস্থান। তাঁর সুরারোপিত ‘পিয়াসা’, ‘গাইড’, ‘বন্দিনী’, ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’, ‘আরাধনা’সহ বহু চলচ্চিত্রের গান ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।

লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে, মোহাম্মদ রফি, কিশোর কুমার, মান্না দে, গীতা দত্ত, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়সহ উপমহাদেশের বহু কিংবদন্তি শিল্পী তাঁর সুরে গান গেয়েছেন। নিজের কণ্ঠেও তিনি অসংখ্য গান গেয়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। তাঁর কণ্ঠে বাংলার লোকগানের যে মাটির গন্ধ পাওয়া যায়, সেটিই ছিল তাঁর সংগীতের অন্যতম শক্তি।

শচীন দেব বর্মণের পারিবারিক জীবনও সংগীতজগতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর স্ত্রী মীরা দেব বর্মণ ছিলেন গীতিকার। তাঁদের একমাত্র সন্তান রাহুল দেব বর্মণ পরবর্তী সময়ে ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতে নিজস্ব বিপ্লব ঘটান। পিতা-পুত্র দুজনের সৃষ্টিশীলতা ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতের ইতিহাসে আলাদা অধ্যায় তৈরি করেছে।

সংগীতের জন্য অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন শচীন দেব বর্মণ। এর মধ্যে রয়েছে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, সংগীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার এবং ভারতের পদ্মশ্রী সম্মাননা। ১৯৬৯ সালে তিনি পদ্মশ্রী লাভ করেন। তাঁর সংগীতজীবনের বিস্তৃতি ছিল কয়েক দশকজুড়ে। ১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর মুম্বাইয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর সৃষ্টি ও সুর আজও ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীতপ্রেমীদের কাছে সমান জনপ্রিয়।

শচীন দেব বর্মণের জন্মভিটা একসময় ছিল বৃহৎ পরিসরের রাজপ্রাসাদসদৃশ স্থাপনা। সময়ের সঙ্গে নানা কারণে বাড়িটির অনেক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অবহেলা ও অযত্নে একসময় জায়গাটি প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, একপর্যায়ে বাড়ির আশপাশে মাদকসেবীদের আনাগোনাও বেড়ে যায়।

কুমিল্লার সাংস্কৃতিক কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রচেষ্টার পর বাড়িটির একটি অংশ সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বাড়িটির চেহারায় এসেছে পরিবর্তন। সংস্কারের পর এখানে শচীন দেব বর্মণের জীবন, সংগীত ও পারিবারিক ইতিহাস তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশপথের পাশেই শচীন দেব বর্মণের বড় আকারের একটি ম্যুরাল। দর্শনার্থীরা সেখানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। পুরোনো স্থাপত্যের সঙ্গে নতুন করে সাজানো অংশ মিলিয়ে বাড়িটিতে তৈরি হয়েছে একটি স্মৃতিবহ আবহ।

ভেতরে প্রবেশ করলেই শচীন দেব বর্মণের বড় দু’টি ছবি দর্শনার্থীদের স্বাগত জানায়। দেয়ালে রয়েছে তাঁর জীবন ও কর্মের সংক্ষিপ্ত বিবরণ। আলাদা অংশে রয়েছে শৈশব, কৈশোর, কর্মজীবন, দাম্পত্য জীবন, পুরস্কার ও সংগীতজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোকচিত্র ও তথ্য।

পুরোনো উঁচু ছাদের বাড়িটির ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে দর্শনার্থীরা শচীন দেব বর্মণের গান শুনতে পারেন— এমন একটি পরিবেশ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ফলে এটি শুধু একটি পুরোনো বাড়ি নয়, ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে একটি স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্থান।

শচীন দেব বর্মণের জন্মভিটাকে ঘিরে কুমিল্লার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের দাবি— এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ সংগীত জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা।

সাংস্কৃতিক কর্মীদের দাবি, শুধু একটি বাড়ি সংরক্ষণ করলেই শচীন দেব বর্মণের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হবে না। তাঁর সংগীত, জীবন, ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র, রেকর্ড, ছবি, চিঠিপত্র, স্বরলিপি, চলচ্চিত্রের তথ্য এবং তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা গেলে এটি দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সংগীত গবেষণা ও প্রদর্শন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে শচীন দেব বর্মণের ভিটেবাড়ি নিয়ে কাজের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কমিটি ভিটেবাড়ি পরিদর্শন এবং সেখানে সংগীত জাদুঘর প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ করছে।

সম্প্রতি জাতীয় জাদুঘরের কর্মকর্তা ও সংগীত জাদুঘর বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক মো. সেরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শচীন দেব বর্মণের জন্মভিটা পরিদর্শন করে।

কুমিল্লার সংগীতশিল্পী ইকরাম মোস্তাফিজ পপলু বলেন, শচীন দেব বর্মণের কণ্ঠ ও সুরের মধ্য দিয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের লোকজ সংগীতের স্বাদ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর জন্মভিটা সংরক্ষণ করে আগামী প্রজন্মের কাছে তাঁর সংগীত ও জীবনকে তুলে ধরার পাশাপাশি বাড়িটিকে আরো কার্যকর সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত করা প্রয়োজন।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হোসেন মাহমুদের মতে, শচীন দেব বর্মণের জীবন ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে গবেষণার জন্য তাঁর জন্মভিটা একটি মূল্যবান কেন্দ্র হতে পারে। এখানে দলিল, আলোকচিত্র, স্বরলিপি এবং অডিও-ভিডিও সংরক্ষণ করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকরা উপকৃত হবেন।

জাসাস কুমিল্লা মহানগর শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সংগীতশিল্পী ইশতিয়াক আহমেদ পল্লব বলেন, শচীন দেব বর্মণ শুধু একজন সংগীতশিল্পী নন; তিনি কুমিল্লার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও অন্যতম প্রতীক। তাই তাঁর জন্মভিটা সংরক্ষণ স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্বের পাশাপাশি জাতীয় দায়িত্বও।

লাভ ফর বাংলাদেশ টুরিজম ক্লাবের সভাপতি মীর মফিজুল ইসলাম বলেন, কুমিল্লা জেলা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির দিক থেকে সমৃদ্ধ। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের পাশাপাশি সংগীত ও সাহিত্যেও এ জেলার রয়েছে গৌরবময় অবদান। শচীন দেব বর্মণের জন্মভিটা সেই ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কুমিল্লার পর্যটন মানচিত্রে এটিকে আরো কার্যকরভাবে যুক্ত করা গেলে সাংস্কৃতিক পর্যটনের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। কুমিল্লার পর্যটন আকর্ষণের তালিকায় শচীন দেব বর্মণের বাড়ির উল্লেখও রয়েছে।

ঐতিহ্য কুমিল্লার পরিচালক গবেষক জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল বলেন, কুমিল্লার চর্থার সেই বাড়িটিও তাই নীরব কোনো পুরোনো স্থাপনা হয়ে থাকতে পারে না। একদিন এখানে গড়ে উঠবে এমন একটি সংগীত জাদুঘর, যেখানে কুমিল্লার মাটিতে জন্ম নেওয়া এক কিংবদন্তির জীবন ও সৃষ্টির সঙ্গে পরিচিত হবে নতুন প্রজন্ম। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের সংগীতপ্রেমীরা জানতে পারবেন, কীভাবে কুমিল্লার মাটি, গোমতীর স্রোত আর বাংলার লোকসুর একদিন জন্ম দিয়েছিল উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংগীতস্রষ্টা শচীন দেব বর্মণকে।

গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. আলী হোসেন চৌধুরী বলেন, শচীন দেব বর্মণের জন্মভিটা সংরক্ষণের দাবিতে কুমিল্লার সাংস্কৃতিক কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। বিভিন্ন সময়ে বাড়িটির অংশবিশেষ উদ্ধার ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে মেলারও আয়োজন হয়ে আসছে। এখানে সংগীত জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছে কুমিল্লার সাংস্কৃতিক পরিচিতি আরো শক্তিশালী হবে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কুমিল্লা কার্যালয়ের মাঠ কর্মকর্তা সজিব মিয়া বাসস-কে বলেন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বাড়িটি সংরক্ষণের অংশ হিসেবে অধিগ্রহণ করেছে এবং গত ২৫-২৬ ইংরেজি অর্থবছরে প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এর সংস্কারকাজ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ বাড়ির নিরাপত্তায় সীমানা প্রচীরের জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত হলে এখানে মিউজিয়াম করার পরিকল্পনা রয়েছে।

১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর শচীন দেব বর্মণের জীবনাবসান ঘটে। কিন্তু তাঁর সৃষ্ট সুরের মৃত্যু হয়নি। তাঁর গান এখনো নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে ফিরে আসে, তাঁর সুর নিয়ে গবেষণা হয়, তাঁর সংগীত নিয়ে আলোচনা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৮৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪২ পি.এম


ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৮৮

গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দু’জনের মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৯৮৮ জন ডেঙ্গুরোগী ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে আজ প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪২৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১২৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৬৩ জন, বরিশাল বিভাগে ১৭০ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪৯ জন এবং রংপুর বিভাগে ছয়জন রয়েছেন।

চলতি বছরের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, সারাদেশে মোট ৪১ হাজার ৩২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ৯৮৬ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ৩৮ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র লাভ করেছেন।

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব ব্যবসার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৪ পি.এম


জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব ব্যবসার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদের

পরিবেশবান্ধব ব্যবসার প্রতি আহ্বান জানিয়ে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষিজমির উর্বরতা রক্ষা, বায়ুদূষণ কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের জন্য পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করা আবশ্যক।

 

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মতবিনিময়সভায় এই কথা বলেন তিনি। সভায় বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্মাণ খাতে পরিবেশের ওপর চাপ কমানোর জন্য ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি জানান, ব্লক শিল্পের উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।

 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি নির্মাণ খাতের চাহিদাও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রকৌশল বিভাগ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, উৎপাদক এবং অন্যান্য অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, টেকসই নির্মাণব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের উদ্যোগ একা যথেষ্ট নয়; ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে পরিবেশ সচেতন হয়ে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী।

 

এতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%