ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিকায়নে এডিবির ১৮০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প


কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিকায়নে এডিবির ১৮০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিকায়নে এডিবির ১৮০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প

 

দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহযোগিতায় ১৮০ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প সরকারি অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি ‘স্ট্রেনদেনিং এগ্রিকালচারাল টারশিয়ারি এডুকেশন প্রজেক্ট’ (এসএটিইপি)–এর মাধ্যমে কৃষি উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি শিক্ষা ও গবেষণা জোরদার করা এবং কৃষিশিল্পের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: ক্যানসার সচেতনতায় বাকৃবিতে সিসিআরটিবির ক্যাম্পাস চ্যাপ্টার গঠনের উদ্যোগ, আবেদন ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত

 

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে (বাকৃবি) কৃষি গবেষণার উৎকর্ষকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক গবেষণা ও জ্ঞান হাব হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদান করা হবে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে এডিবির প্রতিনিধিদলের একটি পরামর্শ সভায় এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। ইউজিসি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সভাকক্ষে ‘স্ট্রেনদেনিং এগ্রিকালচারাল টারশিয়ারি এডুকেশন প্রজেক্ট’ (এসএটিইপি) নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

 

আরও পড়ুন: সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা: প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত

প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ১৮০ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এডিবি ১০৫ মিলিয়ন এবং কোরিয়া এক্সিম ব্যাংক/ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (কেএক্সিম/ইডিসিএফ) ৫৫ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে। অবশিষ্ট অর্থ বাংলাদেশ সরকার বহন করবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৭ থেকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় কৃষি উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কৃষি শিক্ষাকে শিল্প ও কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পাশাপাশি আধুনিক ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এছাড়া উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা, আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়ন, পাঠক্রম ও একাডেমিক কাঠামোর আধুনিকায়ন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং শিক্ষক ও গবেষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুন: আজ যেসব দামে স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি হচ্ছে

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি গবেষণা সংক্রান্ত একটি আধুনিক ইনস্ট্রুমেন্টেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশগত বিভিন্ন বিষয়ে আধুনিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

 

প্রকল্পের আওতায় কৃষি গবেষণা ও শিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হবে। রিমোট সেন্সিং, জিপিএস, জিআইএস, ড্রোন, ডিজিটাল টুইন, ওয়েদার অ্যানালিটিকস, বিগ ডেটা অ্যানালিটিকস, বায়োটেকনোলজি ও রোবটিকসের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনের ফলাফলকে কৃষি খাত ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা। গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ, কৃষিশিল্পের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকর অংশীদারিত্ব এবং গবেষণা-শিল্প-উদ্যোক্তা সংযোগ জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রি-স্টার্টআপ, স্টার্টআপ ও ইনকিউবেশন সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগ কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়: মাহদী আমিন

সভায় এডিবির সিনিয়র সোশ্যাল সেক্টর ইকোনমিস্ট ও মিশন লিডার রিওতারো হায়াশি বলেন, "আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।" প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও গবেষণার সক্ষমতা আরো বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণ করা হবে।" গবেষণা, উদ্ভাবন, শিল্প ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাও প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

তরুণদের কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রি-স্টার্টআপ থেকে শুরু করে স্টার্টআপ ও ইনকিউবেশন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, "এডিবির প্রস্তাবিত প্রকল্পটি দেশের কৃষি, উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।" কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নে ইউজিসি কাজ করছে।

আরও পড়ুন: মামলা হলে আত্মসমর্পণের ঘোষণা ইশরাকের, নাহিদকে সতর্কতা

তিনি বলেন, দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিদ্যমান সক্ষমতার বৈষম্য কমিয়ে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদার করা সম্ভব হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরো বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য শুধু তরুণদের সরকারি বা প্রচলিত চাকরির উপযোগী করে গড়ে তোলা নয়; তাদের একটি অংশকে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এজন্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্টার্টআপ, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

তিনি বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাদি জমি কমে যাওয়া এবং খাদ্য ও পুষ্টির ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও গবেষণা আরো বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইউজিসি ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, প্রকল্পটি শিক্ষার্থীদের আধুনিক দক্ষতায় দক্ষ করে কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন: ঢাকায় ২৪ ঘণ্টায় আটক আরো ৪৮৬ জন

সভায় ইউজিসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান ভূঁইয়া, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পটির ফোকাল পয়েন্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামসুল আলম ভূঁইয়া, ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক সুরাইয়া ফারহানাসহ ইউজিসি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও এডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিলিত কূজনে মুখর ‘পাখি কলোনি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৯ পি.এম


মিলিত কূজনে মুখর ‘পাখি কলোনি’

 

গাছের শাখা-প্রশাখা, কাণ্ড এবং পাতার ফাঁকে ফাঁকে পাখিদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়। প্রতিটি গাছ যেন এক একটি বহুতল নীড়; উপরে থেকে নিচ পর্যন্ত কেবল পাখিরই সমাহার।তাদের আনাগোনা, ডাকাডাকি এবং ডানা ঝাপটানোর শব্দে নিস্তব্ধ প্রকৃতিতে নতুন প্রাণের স্পন্দন সৃষ্টি হয়েছে।

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার কানাইপুকুরের বৃক্ষরাজি এই প্রাণের উপস্থিতি মেনে নিয়েছে। পাখিরা আবাস গড়ার পর, এখন জায়গাটির নাম পাখি কলোনি।কলোনির গাছগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় পাখিদের ব্যস্ত সংসার।

 

কোথাও পাশাপাশি বসে থাকা কয়েকটি পাখি, কোথাও বাসার ভেতর ছানা ঘিরে অভিভাবকদের ব্যস্ততা। কিছু পাখি গাছের উঁচু ডালে উঠে বিশাল ডানা মেলে ধরছে। সব মিলিয়ে কানাইপুকুর যেন মানুষের তৈরি কোনো জনপদ নয়, বরং পাখিদের নিজেদের গড়া একটি জীবন্ত নগরী।

এই দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা আসছেন।

 

মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় পাখিদের বিভিন্ন গতিময় মুহূর্ত বন্দি করছেন। তবে ছবি তোলার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই আয়োজনকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা।দর্শনার্থী ইমামা নুর বলেন, ‘এখানে ঢোকার পর মনে হয়, শহর-গ্রামের পরিচিত দৃশ্যের বাইরে অন্য একটি জগতে চলে এসেছি। চারপাশের সবুজের মধ্যে এত পাখির একসঙ্গে বসবাস সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। পাখিদের ডাক শুনলেই মনটা শান্ত হয়ে যায়। ফাহমিদা রোশনি নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘গাছের প্রতিটি ডালে যেন আলাদা একটি গল্প। কোথাও পাখির সংসার, কোথাও তাদের বিশ্রাম; আবার কোথাও উড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি। এমন দৃশ্য শুধু চোখে দেখার নয়, অনুভব করারও বিষয়। জায়গাটি সংরক্ষণ করা গেলে এটি আরো পরিচিতি পাবে।’

রওশনারা রিফাহর ভাষ্য, ‘ছবিতে অনেক পাখি দেখা যায়, কিন্তু একসঙ্গে এত পাখিকে নিজেদের মতো করে থাকতে দেখা সম্পূর্ণ ভিন্ন অনুভূতি। মনে হয় প্রকৃতি এখানে মানুষের জন্য নয়, পাখিদের জন্য একটি নিরাপদ ঠিকানা নির্মাণ করেছে।’

পরিবেশকর্মী শাহজাহান আলী বলেন, ‘পাখিরা কোনো এলাকার সৌন্দর্যের অংশ হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কানাইপুকুরে পাখিদের এমন বড় আবাসস্থল গড়ে ওঠা আমাদের জন্য প্রকৃতির একটি মূল্যবান উপহার। এই আবাসস্থল টিকিয়ে রাখতে গাছপালা রক্ষা, পাখি শিকার বন্ধ এবং তাদের নির্বিঘ্ন বিচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।’

কানাইপুকুর পাখি কলোনির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পাখিরা বছরের পর বছর ধরে এখানে এসে নীড় তৈরি করছে। এখন জায়গাটি তাদের নিজেদের একটি নিরাপদ আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। আমরা চাই, মানুষের অসচেতনতার কারণে যেন পাখিদের এই আশ্রয় নষ্ট না হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেকসই উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা এলজিআরডি মন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৯ পি.এম


টেকসই উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা এলজিআরডি মন্ত্রীর

দেশের টেকসই উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের মিশন প্রধান জ্যাঁ পেসমে’র সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।

 

বৈঠকের সময় বাংলাদেশের চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পল্লী উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং স্থানীয় সরকার খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও টেকসই করতে সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনগণের কাছে মানসম্মত নাগরিক সেবা পৌঁছে দিতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, পল্লী উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এসব কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বিশ্বব্যাংকের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য মন্ত্রী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মতবিনিময়কালে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও বিশ্বব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতীয় পেশাজীবীদের মার্কিন গ্রিন কার্ডের অপেক্ষাকাল বেড়ে ১৭৯ বছর হলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৫ পি.এম


ভারতীয় পেশাজীবীদের মার্কিন গ্রিন কার্ডের অপেক্ষাকাল বেড়ে ১৭৯ বছর হলো

আমেরিকাতে বার্ষিক কর্মসংস্থান ভিত্তিক ভিসার সীমা এবং কঠোর দেশভিত্তিক কোটা ব্যবস্থার কারণে ভারতীয় পেশাজীবীরা মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থায় যেকোনো দেশের নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ বিলম্বের মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসির (এনএফএপি)-এর সাম্প্রতিক এক মূল্যায়ন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত, কর্মসংস্থান-ভিত্তিক অভিবাসনের জট ১২ লাখেরও বেশি আবেদনকারী ছাড়িয়ে গেছে।

প্রায় ১০ লাখ উচ্চদক্ষতাসম্পন্ন ভারতীয় পেশাজীবীকে আমেরিকার কর্মসংস্থান-ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে গিয়ে আনুমানিক ১শ’ ৭৯ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। এর ফলে, ভারতীয় কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা কর্মসংস্থানভিত্তিক মোট অপেক্ষমাণ তালিকার ৭৯ শতাংশ গঠন করছেন।

 

এনএফএপি-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চীন এবং ফিলিপাইনসহ অন্যান্য দেশের কর্মীদের তুলনায় জাতীয়তার কোটা কীভাবে ভারতীয় আবেদনকারীদের ওপর অনেক বেশি বোঝা চাপিয়ে দেয়। ইবি-১ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে, চীনা নাগরিকদের আনুমানিক চার থেকে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়, যা ভারতীয়দের মতোই। চীনা ইবি-২ উচ্চ-ডিগ্রিধারী পেশাদারদের আনুমানিক ২৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে, যেখানে ইবি-৩ দক্ষ কর্মীদের জন্য প্রায় সাত বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসির নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “২০২৬ সালের জানুয়ারি বা তার পরে দাখিল করা লেবার সার্টিফিকেশন আবেদন বা কর্মসংস্থান-ভিত্তিক অভিবাসী পিটিশনসহ ভারতের একজন উচ্চদক্ষ বিদেশি নাগরিকের গ্রিন কার্ড (স্থায়ী বাসস্থান) পাওয়ার জন্য কর্মসংস্থান-ভিত্তিক দ্বিতীয় অগ্রাধিকার (ইবি-২)-এ ১৭৯ বছর, কর্মসংস্থান-ভিত্তিক তৃতীয় অগ্রাধিকার (ইবি-৩)-এ ৩৮ বছর এবং কর্মসংস্থান-ভিত্তিক প্রথম অগ্রাধিকার (ইবি-১)-এ ৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।”

আমেরিকার এই চলমান জটের পেছনে দুটি প্রধান আইনগত বাধা চিহ্নিত করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। প্রথমটি হলো ১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেস নির্ধারিত বার্ষিক ১ লাখ ৪০ হাজারের সীমা। এই জাতীয় আইনি সীমার আওতায় প্রতি অর্থবছরে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড দেওয়া হয়। এই সংখ্যার মধ্যে মূল কর্মী এবং তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্য উভয়েই অন্তর্ভুক্ত থাকেন, ফলে করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতার চাহিদা সামাল দেওয়ার জন্য এই বরাদ্দ যথেষ্ট নয়।

দ্বিতীয় বাধাটি হলো দেশভিত্তিক সীমা, যার অধীনে জনসংখ্যার আকার বিবেচনা না করে প্রতিটি দেশকে একই শতাংশ হারে সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে ভারত ও চীনের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশও লুক্সেমবার্গ ও আইসল্যান্ডের মতো ছোট দেশগুলোর সমান সংখ্যক স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রভোস্ট অপসারণের দাবিতে ঢাবি শিক্ষার্থীর অবস্থান কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৬ পি.এম


প্রভোস্ট অপসারণের দাবিতে ঢাবি শিক্ষার্থীর অবস্থান কর্মসূচি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং তাকে অপসারণের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহীম।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে তিনি এ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

ইব্রাহীমের অভিযোগ, হলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় গত ১৬ আগস্ট প্রভোস্ট তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। ঘটনার প্রতিবাদে ওই সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা হল কার্যালয়ে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে ১৭ আগস্ট ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ইব্রাহীম বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গত বৃহস্পতিবার জমা দেওয়ার কথা থাকলেও বারবার সময় পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবারও প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে কমিটি কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেনি।

তার দাবি, ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা ১৭ মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজে সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরও দুই সপ্তাহেও তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত না হওয়া তদন্ত দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ইব্রাহীম বলেন, মঙ্গলবার সকালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে তিনবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে প্রক্টর কার্যালয়ে গিয়ে মঙ্গলবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত না হলে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করার কথা জানিয়ে আসেন।

ইব্রাহীম বলেন, প্রশাসনকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার পরও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত প্রভোস্ট এখনো পদে বহাল থাকায় তিনি অবস্থান কর্মসূচিতে বসেছেন।

তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এবং ছাত্র নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রভোস্টকে অপসারণ না করা পর্যন্ত আমার অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

এ বিষয়ে ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম বলেন, দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রভোস্টকে অপসারণ ও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দাবি মানা না হলে আরো কর্মসূচি নেওয়া হবে

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%