বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:১৮ পি.এম
পুলিশ মহা পরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির আজ বলেছেন যে, পুলিশকে জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে।
বৃহস্পতিবার সকালবেলায় রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ৪২তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই)-২০২৫ ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা, অপরাধ দমন এবং নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলো পুলিশের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি ভয়-ভীতি ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে সততা, নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।
আইজিপি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক পুলিশ ব্যবস্থার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। অপরাধ দমনে কঠোর হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিনয়ী, মানবিক ও বন্ধুসুলভ আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
সেবা নিতে আসা মানুষের যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে তিনি পুলিশ সদস্যদের সর্বদা সজাগ থাকার জন্য বলেন। তিনি দ্রুত পরিবর্তনশীল অপরাধ প্রবণতা বিশেষ করে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি নবীন কর্মকর্তাদের অনলাইন জুয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোসহ প্রযুক্তি নির্ভর বিভিন্ন অপরাধ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের বিষয়ে পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে নবীন কর্মকর্তাদের অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আইজিপি বলেন, তাঁদের সন্তানরা আজ থেকে রাষ্ট্রসেবার এক গৌরবময় দায়িত্ব পালন করার সুযোগ লাভ করেছেন।
তিনি ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’—এই আদর্শকে ধারণ করে দেশ সেবার মহান ব্রতে আত্মনিয়োগের জন্য নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ জি এম আজিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সহকারী পুলিশ সুপার শুভ কুমার ঘোষ প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী এসআইদের অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেছেন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেছেন। পরে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন বিষয়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী শ্রেষ্ঠ এসআইদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রকাশ: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ১৫:০৭
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মন্তব্য করেছেন, দুই বছরেও ওয়াসিম হত্যা মামলার বিচার না হওয়া বিচার বিভাগের দুর্বলতা। তিনি উল্লেখ করেছেন, শেখ হাসিনা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নানান অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন।
তবে দেশের জনগণই এসব অপকৌশল প্রতিহত করবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে সাড়ে ৯টায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা মুরাপাড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদকদের সাথে। সেখানে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের কবরে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন ও জিয়ারত করেছেন তিনি। এ সময় শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের একজন কর্মী হিসেবে আমিও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেছেন, ‘দুই বছরেও মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা তিনিও সমান অপরাধী। তারও বিচার হওয়া উচিত।’
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘খুনি হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে পারলে জুলাই-আগস্টের সকল শহীদের আত্মা শান্তি পাবে।’
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুরের ষোলশহর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম।
এদিকে, বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে দক্ষিণ মেহেরনামা গ্রামের বাড়িতে শহীদ ওয়াসিম আকরামের মা জোছনা বেগমের সাথে কথা হয়। তিনি ছেলে ওয়াসিমের স্মৃতি আঁকড়ে দিন কাটাচ্ছেন। ঘরের একটি কোণে যত্ন করে রাখা ওয়াসিমের ক্রেস্ট, বিভিন্ন উপহার ও ছবিগুলো বারবার স্পর্শ করেন। কথা বলতে বলতে চোখ ভিজে যায় তার।
জোছনা বেগম বলেন, ‘ছেলেকে খুব মনে পড়ে। তিন বছর আগে এমন বন্যার সময় সাঁতার কেটে বাড়ি এসেছিল ওয়াসিম। বাজার থেকে শুকনো খাবার এনে দিয়েছিল, বাড়ির সব কাজও করেছে। কবরের পাশে গেলে ফিরতে মন চায় না। মনে হয়, ছেলেটা এখানেই আছে। খুব কষ্ট লাগে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে যেভাবে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া হয়, একইভাবে জুলাই-আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আজীবন সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা হবে। তিনি এ বিষয়ে জানান, শহীদদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানীভাতা প্রদান করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে মাদারীপুরে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে শহরের শকুনি লেকপাড়ে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। এমপি জাহান্দার আলী মিয়া আরও বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, জুলাই-আগস্টে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের রাষ্ট্র আজীবন সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করবে। মুক্তিযুদ্ধের শহীদ পরিবারের মতো তাদের পরিবারও সম্মান ও রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাবে।"
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা হলে সেটি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। মাদারীপুরের ১৭ জন সহ সারা দেশের সব শহীদের আত্মত্যাগ রাষ্ট্র চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। জাতীয় সংসদও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করছে।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া। এরপর জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার, পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, জুলাই আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি এবং বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ এবং অবদান স্মরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশের পথচলা শুরু হয়েছে। এই বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না দেশের মানুষ।
আলোচনা সভা শেষে জুলাই-আগস্টের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শঙ্খ এবং কাশর ঘণ্টার মুখরতা ভরিয়ে দিয়েছে। ঢাক বাজছে, ঢোল বাজছে। ভক্তদের উলুধ্বনি শোনা যাচ্ছে। রথে আরোহন করেছেন জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা।
এসবের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব নওগাঁয়। ৯ দিনব্যাপী আয়োজনে শিল্পিত হয়েছে শহরের শ্রীশ্রী বুড়া কালিমাতা মন্দির কমিটি।
মন্দির থেকে দিবাগত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় শুরু হয় এই রথযাত্রা। এতে সমাগম ঘটে হাজার হাজার নারী ও পুরুষের।
পুরনো মাঠ থেকে প্রথম টানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে রথযাত্রা অবশেষে মন্দির প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এদিন বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় টান।
আগামী ২৪ জুলাই উল্টো টানের মাধ্যমে শেষ হবে এই ৯ দিনের রথযাত্রা উৎসব।
ধর্মীয় গ্রন্থের বর্ণনা মতে, পুণ্য তিথিতে প্রতিটি রথে প্রভু জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা শোভাযাত্রার সঙ্গে নিজ মন্দির থেকে মাসির বাড়িতে গমন করেন। সপ্তাহখানেকের সেই বেড়াতে যাওয়ার উৎসব নামকরণ করা হয় রথযাত্রা।
হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী রথের দড়ি টানলে পুণ্যলাভ হয়। সেই অনুযায়ী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই রথযাত্রা পালিত হচ্ছে। টানার সময় বাঁ পাশে একদল, ডান পাশে আরেকদল, সামনে একদল এবং পেছনের দিকে অন্য একদল থাকবে, আর শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু রয়েছেন মাঝখানে।
এদিকে, রথযাত্রা উৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দির এলাকার চারপাশে বসেছে গ্রামীণ মেলা। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উৎসবে এসেছেন। অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরাও উৎসব উপভোগ করার জন্য উপস্থিত হয়েছেন।
নওগাঁ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপনের স্বাগত বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীশ্রী বুড়া কালিমাতা মন্দির কমিটির সভাপতি নিরোদ বরন সাহা চন্দন, সহ-সভাপতি শিশির কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক অখিল চন্দ্র ঘোষ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নেপাল চন্দ্র সাহা, সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সুবল চন্দ্র মণ্ডল এবং পরিচালনা কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
শ্রীশ্রী বুড়া কালিমাতা মন্দির কমিটির সভাপতি নিরোদ বরন সাহা চন্দন জানান, রথযাত্রার আগে হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গল কামনার জন্য গীতা পাঠ করা হয়। দেশ স্বাধীনের আগে থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই রথযাত্রা উৎসব হয়ে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানিয়েছেন যে, ক্যান্টনমেন্টসহ দেশের যেসব স্থানে সেনা মোতায়েন রয়েছে, সেসব স্থানে বৃক্ষরোপণ করা হবে। তিনি বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের নির্ঝর এলাকায় বৃক্ষরোপণ অভিযানের উদ্বোধন করতে গিয়ে এ কথা জানান।
এবারের বৃক্ষরোপণ অভিযানের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ সেনাপ্রধান বলেন, বনায়ন বৃদ্ধি করতে প্রতি বছরের মতো এবারও সেনাবাহিনী অনেক ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কেবল গাছ লাগানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, পরিচর্যার মাধ্যমে গাছকে বড় করার দায়িত্বও সেনাবাহিনী গ্রহণ করে থাকে।
তিনি আরও জানান, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সেনাবাহিনী সবসময় কাজ করে যাবে।
এই উদ্দেশ্যে ১১ লাখ গাছ রোপণ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ