মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:০৯ পি.এম
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুর্যোগ মোকাবিলায় দূরদর্শী নীতি ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এই তাগিদ প্রদান করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনা যেন শুধুমাত্র কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হতে হবে বিজ্ঞানভিত্তিক, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলো জনগণের অংশগ্রহণ। তিনি দেশের সবচেয়ে উদীয়মান ঝুঁকি হিসেবে ভূমিকম্পের কথা উল্লেখ করেন। নগরে ভবন নির্মাণ বিধির যথাযথ প্রয়োগের অভাব ভূমিকম্পের ঝুঁকি বৃদ্ধি করেছে।
এসময় রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনায় নারী, শিশু, প্রবীণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্ব রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ার কারণে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি টি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি এবং আসন্ন দুর্গাপূজার বোনাস প্রদান করতে পারছে না। এই অবস্থার প্রতিবাদে এবং বকেয়া পাওনার দাবিতে গত রবিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন কোম্পানির আওতাধীন চারটি চা বাগানের প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক। এর ফলে বাগানগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
দেউন্দি টি কোম্পানির অধীনে থাকা চা বাগানগুলোর মধ্যে হবিগঞ্জের দেউন্দি, লাল চান্দ, নোয়াপাড়া এবং মৌলভীবাজার জেলার মিরথিংগা চা বাগান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জানা যায়, রবিবার সকাল থেকেই চার বাগানের হাজার হাজার শ্রমিক কাজে যোগ না দিয়ে চুনারুঘাটের দেউন্দি টি কোম্পানি অফিসের মূল ফটকের সামনে জড়ো হন। সেখানে তারা বকেয়া মজুরি, রেশন এবং দুর্গাপূজার বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। শ্রমিকদের স্পষ্ট বার্তা হলো, পাওনা টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তারা কোনো কাজে ফিরবেন না।
বিক্ষোভের বিষয়ে চা শ্রমিক নেতা প্রদীপ বোনার্জী বলেন, "আমরা দিন আনি দিন খাই। দীর্ঘদিন ধরে সাপ্তাহিক মজুরি ও রেশন বকেয়া পড়ে আছে। সামনে দুর্গাপূজা, কিন্তু বোনাস দেওয়ারও কোনো লক্ষণ নেই। বেতন-ভাতা না পেলে আমাদের সংসার চলবে কীভাবে? বাচ্চাদের লেখাপড়াও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।" তিনি অভিযোগ করেন, ২০২২ সাল থেকেই প্রতিবার দুর্গাপূজা আসলে কৃষি ব্যাংক দেউন্দি টি কোম্পানিকে ঋণ দিতে নানা টালবাহানা করে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের চা শিল্পের বিকাশ ও সংকট নিরসনে সহায়তার কথা বললেও ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাগান বন্ধের ডাক দিয়েছেন। এ বিষয়ে দেউন্দি টি কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার দেবাশীষ দেব রায় জানান, "দেউন্দি টি কোম্পানি বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক ঋণ না পাওয়ায় শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা ও পূজার বোনাস মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।"
তিনি আরও বলেন, "কৃষি ব্যাংক লোন না দেওয়ায় আমরা মারাত্মক সংকটে পড়েছি। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে দ্রুতই কোনো সুরাহা করে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও পূজার বোনাস পরিশোধ করা যায়।" এদিকে, চা মৌসুমের এই সময়ে হঠাৎ বাগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদনে ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি বকেয়া পাওনা না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার চা শ্রমিক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরগুনার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির, কৃষকের আয় বাড়ানোর এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চেহারা পরিবর্তনের বিশাল সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে। তবে উপকূলীয় এই জেলার ৩৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমি বর্তমানে সাময়িকভাবে পতিত রয়েছে, যা কৃষির সম্ভাবনাকে নতুনভাবে সামনে এনেছে। লবণাক্ততা, অপর্যাপ্ত সেচ, জলাবদ্ধতা, নিষ্কাশনব্যবস্থার দুর্বলতা, মানসম্মত বীজ ও কৃষি উপকরণের অভাব এবং উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার মতো সমস্যার কারণে অনেক জমিতে সারা বছর আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিকল্পিত উদ্যোগ, উপযোগী ফসল নির্বাচন, পানি ব্যবস্থাপনা এবং কৃষকের জন্য কার্যকর প্রণোদনা নিশ্চিত করা গেলে এসব জমির একটি উল্লেখযোগ্য অংশে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
বরগুনা সদর, আমতলী, তালতলী, পাথরঘাটা, বেতাগী ও বামনা- এই ছয় উপজেলার কৃষির বাস্তবতা একরকম নয়। কোথাও নদী ও সাগরের লবণাক্ত পানির প্রভাব, কোথাও বর্ষায় জলাবদ্ধতা, আবার কোথাও শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকট কৃষকের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপকূলীয় দুর্যোগের ঝুঁকিও কৃষি পরিকল্পনাকে জটিল করে তোলে। ফলে পতিত জমির পুরো অংশকে একই পদ্ধতিতে আবাদযোগ্য করা সম্ভব নয়। জমির প্রকৃতি, মাটির লবণাক্ততা, পানির প্রাপ্যতা এবং মৌসুমি ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় জমিতে আমন ধান কাটার পর আর্দ্রতা কাজে লাগিয়ে মুগ, সরিষা, সূর্যমুখী, তিল, গম এবং বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চাষের সুযোগ রয়েছে। বরগুনায় ফসলের বহুমুখীকরণের বাস্তব উদাহরণও দেখা যাচ্ছে। তালতলী উপজেলার সওদাগরপাড়া গ্রামে একসময় লবণাক্ততার কারণে অনাবাদি থাকা জমিতে কৃষকেরা মাটি উঁচু করে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ শুরু করেন। বর্তমানে সেখানে প্রায় দুই শতাধিক চাষি সবজি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং উৎপাদিত সবজি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এছাড়া, আমন ধান কাটার পর সরিষা চাষের সম্প্রসারণ নতুন আশা জাগিয়েছে। বরগুনা সদর থেকে পাথরঘাটা, আমতলী, তালতলী ও বেতাগী পর্যন্ত বারি-১৪, বারি-১৭, বারি-১৮, বারি-১৯ এবং টরি-৭ জাতের সরিষা চাষ বেড়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরগুনা সদরেই ১৪৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে।
তবে উপকূলীয় এলাকায় মাটির লবণাক্ততা, শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকট, বর্ষায় অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা এবং ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা কৃষকের বিনিয়োগকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, শ্রমিকের সংকট, কৃষিঋণ পেতে জটিলতা এবং ফসল বিক্রির সময় ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার সমস্যা।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিয়নভিত্তিক পতিত জমির নির্ভুল তালিকা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। লবণসহিষ্ণু ও স্বল্পমেয়াদি জাতের বীজ সরবরাহ, খাল ও নালা পুনঃখনন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং সাশ্রয়ী সেচ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সহজ শর্তে কৃষিঋণ, প্রণোদনা এবং ফসল কাটার পর সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
বরগুনার ৩৩ হাজার হেক্টরের বেশি সাময়িক পতিত জমিকে আবাদযোগ্য করার লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিএডিসি, কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পতিত জমিকে উৎপাদনমুখী এবং তিন ফসলি আবাদের আওতায় আনা গেলে এটি উপকূলীয় অর্থনীতির রূপান্তরের অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সের শত শত সুপারশপে সাইবার হামলার মাধ্যমে শীতলীকরণ যন্ত্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করেছে হ্যাকাররা। এই হামলার ফলে ফ্রিজ ও হিমায়কের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এর ফলে বিপুল পরিমাণ তাজা ও হিমায়িত খাবার নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু দোকানে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। দেশটির বড় বড় খাদ্যপণ্যের বিপণিবিতানে এই ধরনের হামলাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ফ্রান্সের একাধিক বড় বিপণিবিতান কর্তৃপক্ষ সাইবার হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দেশটির জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা। একই সঙ্গে ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতেও এই ধরনের হামলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের ইন্টারমার্শে ও এর সহযোগী ব্র্যান্ড নেটোর অন্তত ৩০০টি দোকান এই হামলার শিকার হয়েছে। কো-অপারেটিভ ইউর এর শতাধিক বিপণিবিতানেও প্রভাব পড়েছে।
এছাড়া ক্যারেফুরের ৮০টি সুপারশপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোনোপ্রির প্রায় ৪৯০টি দোকানের মধ্যে ৫ শতাংশের মতো এই হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ই লেক্লেরকের কিছু দোকানেও হামলা হয়েছে।
প্যারিসের সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর জানিয়েছে, ফ্রান্সের একাধিক বড় খাদ্যপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেট-সংযুক্ত শীতলীকরণ যন্ত্রে এই হামলা সংঘটিত হয়েছে। এতে খাবার নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কিছু স্থানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হ্যাকাররা দূর থেকে শীতলীকরণ ব্যবস্থার বরফ গলানোর প্রক্রিয়া সক্রিয় করে দেয়। এর ফলে বিভিন্ন দোকানের ফ্রিজ ও হিমায়কের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। ফলে তাজা খাবার ও হিমায়িত পণ্য নষ্ট হয়ে যায়।
বড় সুপারশপে সাধারণত ফ্রিজ ও হিমায়কের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয় একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে। ইন্টারনেটের সাহায্যে এসব যন্ত্রের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় প্রবেশ করা সম্ভব হওয়ায় দূর থেকেই তাপমাত্রা পরিবর্তন করা যায়। তবে এই সুবিধাই সাইবার হামলার ঝুঁকি তৈরি করে।
ইন্টারমার্শের প্রধান নির্বাহী থিয়েরি কোটিয়ার্দ ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএম টিভিকে জানিয়েছেন, দেশজুড়ে এক দিনেই কয়েক কোটি ইউরোর ক্ষতি হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোকে তাজা ও হিমায়িত খাবারের সব পণ্য ফেলে দিতে হতে পারে বলেও জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটি।
কো-অপারেটিভ ইউর প্রধান নির্বাহী দমিনিক শেলশে বলেন, রোববার (১১ অক্টোবর) রাত থেকেই তাদের শীতলীকরণ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে। তাজা খাবার সংরক্ষণ ও মানুষের খাদ্য সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো গুরুতর ও অগ্রহণযোগ্য।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু দেশটির জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাকে হামলার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান ড্যানফসের তৈরি একটি সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্ত করা হয়েছে।
ড্যানফস জানিয়েছে, ফ্রান্সে তাদের শীতলীকরণ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের কিছু যন্ত্রে সমস্যা হওয়ার বিষয়টি তারা জানে। ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রগুলোতে সফটওয়্যারের পুরোনো সংস্করণ ব্যবহার করা হচ্ছিল। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখা এবং পুরোনো যন্ত্র বদলে ফেলার পরামর্শ দিয়ে আসছে।
গত ৯ আগস্ট সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্ল্যারোটি ড্যানফসের কয়েকটি ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ করে। ওই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের ধাপ এড়িয়ে অননুমোদিতভাবে ব্যবস্থায় প্রবেশ করা সম্ভব হতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছিল।
তবে এই দুর্বলতাই হামলার একমাত্র কারণ কি না, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সাইবার হুমকি বিশ্লেষক ফেলিক্স এইমের দাবি, স্পেন, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, জার্মানি ও বেলজিয়ামেও এ ধরনের হামলার প্রভাব পড়েছে। ফ্রান্সের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ড্যানফসের কাছে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কিছু দোকানে ইতোমধ্যে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ ইউরোপের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে ফ্রান্সের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও ঝুঁকিতে রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক স্টিভেন লাশাঁসের মতে, এমন হামলা একেবারে নতুন নয়, তবে এত বড় পরিসরে ঘটনার নজির বিরল। ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত কোনো যন্ত্রে নিরাপত্তার দুর্বলতা থাকলে হামলাকারীরা দূর থেকে সেটিতে প্রবেশ করে তার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
তিনি এ ঘটনাকে বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তার জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার আশঙ্কা, যথাযথ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা আরও বাড়তে পারে।
সুপারশপে খাবার নষ্ট করে আর্থিক ক্ষতি ঘটানোই শেষ কথা নয়। একই ধরনের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা কিংবা হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিতে হামলা চালানো হলে ক্ষতির মাত্রা আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই ইন্টারনেট-সংযুক্ত যন্ত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন শুধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নয়, জননিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই’—এ ধারণাটি ভুল। যদি রোগটি সময়মতো শনাক্ত করা হয় এবং নিয়মিত ও পূর্ণ মেয়াদে চিকিৎসা গ্রহণ করা হয়, তাহলে যক্ষ্মা সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। যশোরের মণিরামপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যক্ষ্মার লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে বসুন্ধরা শুভসংঘ একটি সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মণিরামপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা যক্ষ্মার লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করার, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার এবং চিকিৎসা সম্পর্কে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ব্র্যাক হেলথ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, মণিরামপুর উপজেলায় প্রতি মাসে অন্তত ৮০ জন মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে রোগটি সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি বলে আয়োজকদের মতামত।
সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাশি, কাশির সঙ্গে কফ বা রক্ত বের হওয়া, জ্বর, রাতে ঘাম হওয়া, ক্ষুধামন্দা, ওজন কমে যাওয়া ও দুর্বলতা যক্ষ্মার উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে যদি দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় কাশি থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে যক্ষ্মা হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, ফুসফুসের যক্ষ্মা আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা, ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা, প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। যক্ষ্মা শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে। মাঝপথে ওষুধ বন্ধ করলে রোগ জটিল হতে পারে এবং ওষুধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বসুন্ধরা শুভসংঘ মণিরামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি এস এম হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আকাশের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক জি এম মমিনুর রহমান, প্রণয় কুমার বিশ্বাস, কার্তিক চন্দ্র হালদার ও স্বপ্নীল মল্লিক রিজু।
এ সময় বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, আখতারুজ্জামান, মিলন মণ্ডল, নাজমা খাতুন, ফাতিমা খাতুন, শাহরিয়ার রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান ও মো. ইয়াছিন আলী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বসুন্ধরা শুভসংঘের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরকার, সদস্য কাইয়ুম হাসান শিমুল, দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি অধ্যাপক মোহাম্মদ বাবুল আকতারসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং শুভসংঘের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে যক্ষ্মার মতো রোগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা ছড়িয়ে দিতে হবে। ‘যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই’—এই ভ্রান্ত ধারণা সমাজ থেকে দূর করতে হবে। নিয়মিত চিকিৎসায় যে যক্ষ্মা ভালো হয়, সেই বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।”
সভাপতি এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, ‘তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ সব সময় সমাজকল্যাণমূলক কাজে ভূমিকা রাখছে। যক্ষ্মার বিরুদ্ধে আমাদের এই সচেতনতামূলক উদ্যোগ শুধু একটি সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
বসুন্ধরা শুভসংঘ মণিরামপুর উপজেলা শাখার সহসভাপতি চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘যক্ষ্মা এখন আর অনিরাময়যোগ্য কোনো রোগ নয়। সচেতনতা, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ এবং নিয়ম মেনে চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব। যক্ষ্মার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে পরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের পূর্ণ কোর্স শেষ করতে হবে।’
সভা সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে যক্ষ্মা সম্পর্কে ভীতি ও ভুল ধারণা দূর করা, রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ