ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কিশোরগঞ্জে একদিনে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ৩ জনের


কিশোরগঞ্জে একদিনে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ৩ জনের

কিশোরগঞ্জের সদর ও বাজিতপুর উপজেলায় একদিনের মধ্যে পানিতে ডুবে মোট তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) সদর উপজেলার নীলগঞ্জ এলাকার একজন এবং বাজিতপুর পৌরসভার মীরারবন্দ এলাকায় দুইজন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মীরারবন্দ গ্রামের সুজন মিয়ার ছেলে মো. তাসিন (৫), একই এলাকার শাওন মিয়ার মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া (৫) এবং সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের ডুবাইল গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে ফয়সাল (২২)।

আরও পড়ুন: আজ থেকে পাঁচ জেলার যাত্রীরা ট্রেনে কক্সবাজার যেতে পারবেন

বাজিতপুর থানার ওসি এস এম শহীদুল্লাহ জানিয়ে বলেন, দুপুরে তাসিন ও মাওয়া বাড়ির পাশে খেলছিল। এক সময় তারা পাশের খালে পড়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাদের খোঁজাখুজি শুরু করেন। পরে স্বজনরা খালে নেমে তাদের সন্ধানের চেষ্টা করেন। পরে এক পর্যায়ে তাসিন ও মাওয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চলে আসে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে আজ বিকেলে সদর উপজেলার নীলগঞ্জ বাজার ঘাট সংলগ্ন নরসুন্দা নদীতে এক তরুণ ফয়সালের মৃত্যু ঘটে।

কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মোমেন মুর্শেদ জানান, ফয়সালসহ কয়েকজন নীলগঞ্জ বাজারের জামে মসজিদে তাবলিগ জামাতে অংশ নিতে এসেছিলেন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তারা বাজারের নদীর ঘাটে গোসল করতে নেমে ফয়সাল পানিতে তলিয়ে যান।

আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে নিজ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে বাস মালিক নিহত

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি স্থান থেকে ফয়সালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মন্ত্রী পদত্যাগের পরও থামেনি দিল্লির বিক্ষোভ—মোদির দুর্গ কি ভেঙ্গেই ছাড়বে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৮ পি.এম


মন্ত্রী পদত্যাগের পরও থামেনি দিল্লির বিক্ষোভ—মোদির দুর্গ কি ভেঙ্গেই ছাড়বে?

সম্প্রতি কিছুদিন আগেই শুরু হওয়া অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে একটি ক্ষুদ্র ছাত্র জনগোষ্ঠীর আন্দোলন অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে গোটা ভারতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে যা, দীর্ঘ এক যুগের মোদী বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতিকেও যেন ছাড়িয়ে গেছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরেও এই আন্দোলনের উত্তাল ঢেউয়ের আন্দোলন বন্ধ না করায় বিশ্লেষকদের কাছে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি মোদীর ক্ষমতার মসনদকে না কাঁপিয়ে ওরা থামবে না?

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস, দুর্নীতি, শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা এসব অল্প কিছু দাবি নিয়ে তৈরি হওয়া আন্দোলন অতি অল্প সময়ের মধ্যে গোটা ভারতকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। মোদির অপশাসন, একনায়ক তান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার কাঠামো ভাঙতে দীর্ঘ এক যুগ ধরে বিরোধীরা ব্যর্থ হওয়া কিংবা প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো যখন মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ব্যর্থ, তখন ছাত্রদের এই অনলাইন প্লাটফর্মটি যেন গোটা ভারতের জন্য এক আশীর্বাদ হয়ে নেমে এসেছে। তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলন বিশ্বগুরু মনে করা মোদি সরকারের শিক্ষামন্ত্রীকেও পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে।

কিন্তু অরাজনৈতিক ছাত্রদের সংগঠন সিজেপি তাতেও সন্তুষ্ট নয়, তাদের আরো দুটি দাবি পূরণ না করা হলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আর এই বিক্ষোভ সারা দেশে এত দ্রুত দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে যে, দীর্ঘ এক যুগের মোদীর শাসনামলেও মোদি সরকারের এমন টনক নড়াতে পারেনি কোন শক্তি। অথচ শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগের পরেও ছাত্রদের হাতে তৈরি হওয়া এই আন্দোলন থেকে বলা হয়েছে, বাকি দুটো দাবি সরকার পূরণ না করা পর্যন্ত এ আন্দোলন থামবে না। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরেও আন্দোলন না থামানোর ঘোষণা কি অন্য কিছুর বার্তা দিচ্ছে? ছাত্রদের পক্ষ থেকে করা বাকি দুটি দাবি পূরণ হলেও এ আন্দোলন এখানেই থেমে যাবে নাকি এর মাধ্যমে দীর্ঘ এক যুগের শাসন ক্ষমতায় থাকায় ১৪০ কোটি মানুষের কাছে অজনপ্রিয় হওয়া মোদি সরকারের ক্ষমতার ভিত নাড়িয়ে দেবে সেটি এখন বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্ষমতা যত দীর্ঘ হয়, তার আত্মবিশ্বাসও তত দীর্ঘ হয়। কিন্তু ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, কখনো কখনো সেই দীর্ঘ আত্মবিশ্বাসই ক্ষমতাসীনদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতায় পরিণত হয়। রাষ্ট্রযন্ত্র, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আমলাতন্ত্র, এমনকি জনমত তৈরির বিভিন্ন মাধ্যম—সবকিছুর ওপর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর অনেক সরকারই মনে করে, রাস্তায় মানুষের কণ্ঠ আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। অথচ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিস্ময়গুলোর একটি হলো—নিয়ন্ত্রিত নীরবতার ভেতরেই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিবাদের জন্ম হয়।

দিল্লিকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া ছাত্র-জনতার চলমান বিক্ষোভ সেই প্রশ্নটিকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। আন্দোলন দমাতে লাঠিচার্জ, জলকামান কিংবা কাঁদানে গ্যাসের মতো কঠোর পন্থা যত বেশি আলোচনায় এসেছে, ততই প্রতিবাদের আগুন অন্য প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়েছে—এমন ধারণা অনেক বিশ্লেষকের।

কোনো আন্দোলন কেবল একটি ঘটনার বিরুদ্ধে থাকে না; অনেক সময় তা বহু বছরের জমে থাকা ক্ষোভ, বঞ্চনা ও অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হয়ে ওঠে। যখন মানুষ মনে করতে শুরু করে যে তাদের কণ্ঠস্বর শোনা হচ্ছে না, তখন একটি দাবির আন্দোলন ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রশ্নে রূপ নেয়। তখন আর প্রশ্ন থাকে না শুধু একটি সিদ্ধান্তের; প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন।

ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও সেই প্রশ্ন উচ্চারিত হচ্ছে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ—রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্রমেই অতিমাত্রায় কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে, যার ফলে সমালোচনার পরিসর সংকুচিত হয়েছে। অন্যদিকে সরকার ও তাদের সমর্থকদের বক্তব্য, তারা সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই উন্নয়ন ও প্রশাসন পরিচালনা করছে। এই দুই বিপরীত বয়ানের সংঘাতই আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এমন পরিস্থিতিতে যদি কোনো আন্দোলনের চাপে একজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেন, তবুও আন্দোলন থেমে না থেকে আরও দাবি সামনে আনে, তাহলে সেটি নিছক প্রশাসনিক সংকটের ইঙ্গিত নয়; বরং জনআস্থার গভীর সংকটের প্রতিফলন বলেই অনেকে মনে করেন। কারণ আন্দোলন যখন নেতৃত্বের চেয়ে বৃহত্তর জনমনে স্থান করে নেয়, তখন সেটিকে কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপ দিয়ে থামানো কঠিন হয়ে পড়ে।

ইতিহাসের বহু অধ্যায়ে দেখা গেছে, প্রথমে মানুষ একটি দাবিতে রাজপথে নামে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই দাবি রূপ নেয় বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায়। সে কারণেই আজ অনেকের প্রশ্ন—এই আন্দোলন কি কেবল কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এটি আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক রূপ নেবে?

এর উত্তর সময়ই দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস লাঠি, জলকামান কিংবা কাঁদানে গ্যাস নয়; জনগণের আস্থা। সেই আস্থায় ফাটল ধরলে সবচেয়ে সুদৃঢ় ক্ষমতার কাঠামোও অপ্রতিরোধ্য থাকে না।

শেষ পর্যন্ত এই আন্দোলনের পরিণতি যাই হোক না কেন, একটি শিক্ষা ইতিহাস বারবার দিয়েছে—ক্ষমতা মানুষের কণ্ঠকে দীর্ঘদিন স্তব্ধ রাখতে পারলেও চিরদিন নীরব রাখতে পারে না। আর যখন নীরবতা ভাঙে, তখন তার প্রতিধ্বনি শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; তা ছড়িয়ে পড়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সকালে খালি পেটে জিরা পানি পান করলে যেসব উপকার মিলতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৯ পি.এম


সকালে খালি পেটে জিরা পানি পান করলে যেসব উপকার মিলতে পারে

বিভিন্ন ধরনের ভেষজ মসলায় রয়েছে বিভিন্ন গুণাগুণ। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জিরা। সকালে খালি পেটে জিরা ভেজানো পানি পান করা বর্তমানে একটি জনপ্রিয় অভ্যাস হয়ে উঠেছে। এটি একটি সহজলভ্য ঘরোয়া পানীয়, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে নানা উপকারে আসে। নিয়মিত জিরা ভেজানো পানি পান করলে শরীরের ভেতর থেকে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়। আসুন এবার বিস্তারিত জানি সকালে খালি পেটে জিরা ভেজানো পানি পানের উপকারিতা সম্পর্কে-

হজমশক্তি বাড়াতে সহায়ক

জিরা পানি হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করতে সাহায্য করতে পারে। সকালে খালি পেটে এটি পান করলে পাকস্থলীতে হজমে সহায়ক রস নিঃসরণ বাড়তে পারে। ফলে খাবার সহজে হজম হয়।

গ্যাস ও পেট ফাঁপা কমায়

অনেকেই গ্যাস, অম্বল বা পেট ফাঁপার সমস্যায় ভোগেন। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে জিরা পানি পান করলে এসব সমস্যাগুলো কিছুটা কমতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

জিরা পানি শরীরের বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে ক্যালরি পোড়ানোর প্রক্রিয়া কিছুটা সক্রিয় হয়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

জিরায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান। এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়ক

দিনের শুরুতে এক গ্লাস জিরা পানি শরীরকে চাঙা ও সতেজ অনুভব করতে সাহায্য করতে পারে। এটি সারাদিনের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

পানিশূন্যতা দূর করতে পারে

সারা রাত ঘুমের পর শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। সকালে জিরা পানি পান করলে শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করতে সহায়তা করে এবং শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।

ত্বকের জন্য উপকারী

জিরায় থাকা উপকারী উপাদান ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে এটি ত্বকের যত্নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান দূর করতে সহায়ক

জিরা পানি শরীরের স্বাভাবিক পরিশোধন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতে পারে বলে অনেকের ধারণা রয়েছে। ফলে শরীর হালকা ও স্বস্তিদায়ক অনুভূত হতে পারে।

তবে অতিরিক্ত জিরা পানি পান করা উচিত নয়। এতে বুক জ্বালা করতে পারে। কোনো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা বা নিয়মিত ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জিরা পানি পান করাই নিরাপদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোরে ড্রাম কিনতে গিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ফরিদপুরের সংগীতশিল্পী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এস এম সাহান,ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫০ পি.এম


যশোরে ড্রাম কিনতে গিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ফরিদপুরের সংগীতশিল্পী

ফেসবুকে ড্রামস বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখে যশোরে গিয়ে পরিকল্পিত প্রতারণার ফাঁদে পড়ার অভিযোগ করেছেন ফরিদপুরের সংগীতশিল্পী ও ড্রামার ফ্রাংঙ্ক ব্রত। তার দাবি, অভিযুক্তদের সন্দেহজনক আচরণ এবং বারবার নগদ অর্থ সঙ্গে আছে কি না তা নিশ্চিত করার চেষ্টায় সতর্ক হয়ে যাওয়ায় তিনি সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, যশোর শহরের মনিহার বাঁশতলা এলাকার আতিব জুনায়েদ নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অ্যালেসিস ব্র্যান্ডের একটি ড্রামস বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন। বিজ্ঞাপন দেখে ফ্রাংঙ্ক ব্রত তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। উভয়ের মধ্যে দরদাম চূড়ান্ত হলে অভিযুক্ত তাকে যশোরে গিয়ে ড্রামস দেখে মূল্য পরিশোধ করে নিয়ে যেতে বলেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে ফ্রাংঙ্ক ব্রত একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। যশোরের মনিহার সিনেমা হল এলাকায় পৌঁছানোর পর অভিযুক্তের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তাকে বাঁশতলা মোড়ে যেতে বলা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ড্রামস পরীক্ষা করে দেখার কথা বলা হলেও ভুক্তভোগীর দাবি, সেখানে আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে কয়েকজন অবস্থান করছিল।

ফ্রাংঙ্ক ব্রতের অভিযোগ, বাসায় নেওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তরা বারবার জানতে চান তার কাছে নগদ টাকা রয়েছে কি না। একই সঙ্গে একজন অভিযুক্ত বারবার বিভিন্ন কক্ষে যাতায়াত করতে থাকলে তার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি জানান, তার কাছে কোনো নগদ অর্থ নেই; প্রয়োজন হলে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে পরিশোধ করবেন।

এরপরও আতিব জুনায়েদ তাকে আলাদা একটি কক্ষে নিয়ে যান, যেখানে আগে থেকেই আরেক ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। সেখানে আবারও তার কাছে নগদ অর্থ আছে কি না তা জানতে চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি নগদ টাকা সঙ্গে নেই বলে জানালে কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত হঠাৎ ঘোষণা দেন, তিনি আর ড্রামস বিক্রি করবেন না।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, এত দূর ফরিদপুর থেকে যশোরে ডেকে এনে হঠাৎ ড্রামস বিক্রি না করার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতে থাকেন।

ফ্রাংঙ্ক ব্রতের দাবি, পুরো ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত একটি প্রতারণার অংশ। প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাকে দূর-দূরান্ত থেকে ডেকে আনা হয়। এরপর বারবার নগদ অর্থ সঙ্গে আছে কি না তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। তার ধারণা, সঙ্গে নগদ অর্থ রয়েছে—এমনটি নিশ্চিত হতে পারলেই কৌশলে অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া বা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নগদ টাকা না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই অভিযুক্তরা বিক্রির সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ায় এবং উল্টো ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন শুরু করে।

তিনি আরও জানান, পরদিন (রোববার) তার কলেজের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা থাকায় নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ থেকে দ্রুত সরে এসে ফরিদপুরে ফিরে যেতে বাধ্য হন। ফলে ঘটনাস্থলেই যশোর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আতিব জুনায়েদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অনলাইন কেনাবেচার ক্ষেত্রে অপরিচিত ব্যক্তির ডাকে নির্জন স্থানে না যাওয়া, নগদ অর্থ বহন না করা, নিরাপদ স্থানে লেনদেন করা এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন মহল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি মুসলিম’: লামিনে ইয়ামাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫১ পি.এম


‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি মুসলিম’: লামিনে ইয়ামাল

ফুটবল শুধুই প্রতিযোগিতার মঞ্চ নয়, এটি বিভিন্ন জাতি, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের মানুষের মিলনস্থলও। তবে এই আবেগঘন খেলাকে ঘিরে কখনো কখনো মাথাচাড়া দেয় বর্ণবাদ, বিদ্বেষ ও ধর্মীয় বিদ্রূপের মতো নেতিবাচক প্রবণতা। এমন এক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন স্পেনের তরুণ ফুটবল তারকা লামিনে ইয়ামাল। প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া একটি ধর্মীয় বিদ্রূপাত্মক স্লোগানের পর তিনি নিজের পরিচয় আড়াল না করে গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করেন— ‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ।’

ঘটনার সূত্রপাত হিসেবে দেখা যায়, গত ৩১ মার্চ ২০২৬ বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্পেন ও মিশরের মধ্যকার প্রীতি ফুটবল ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রতে শেষ হয়। দুই দলের পারফরম্যান্স ছিল বেশ কাছাকাছি। তবে ম্যাচকে কেন্দ্র করে স্পেনের কিছু সমর্থকের আচরণ নিয়ে সমালোচনা তৈরি হতে শুরু করে। ম্যাচ দেখতে আসা কয়েকজন স্প্যানিশ সমর্থক মিশরীয় খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে একটি স্লোগান দিতে থাকে—

“El que no bote es un musulmán”

যার অর্থ হচ্ছে—‘যে লাফাবে না বা ভালো খেলতে পারবে না, সে মুসলিম।’ স্প্যানিশ ফুটবল সংস্কৃতিতে প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে ‘যে লাফাবে না, সে…’ ধরনের ছড়া বা স্লোগান দেওয়ার প্রচলন দীর্ঘদিনের। কিন্তু ওই ঘটনায় সমালোচনার কারণ ছিল— মিশরের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বিদ্রূপ করতে তাদের মুসলিম পরিচয়কে ব্যবহার করা।

সমর্থকেরা হয়তো এটিকে শুধুই প্রতিপক্ষকে খোঁচা দেওয়ার একটি পদ্ধতি হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল, যে দলের সমর্থনে তারা এই স্লোগান দিচ্ছিল, সেই স্পেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, লামিনে ইয়ামাল, নিজেও একজন গর্বিত মুসলিম। তাই ‘মুসলিম’ শব্দটিকে বিদ্রূপ হিসেবে ব্যবহার করা শুধু মিশরীয় খেলোয়াড়দের নয়, ইয়ামালের নিজের পরিচয়ের প্রতি অসম্মান হিসেবে ধরা পড়ে।

ইয়ামালের জবাব ছিল— ‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ’। ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ১ এপ্রিল ২০২৬, ইয়ামাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি নিজের মুসলিম পরিচয়কে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরে লেখেন—

‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল স্টেডিয়ামে আমরা শুনেছি স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল—‘যে লাফাবে না সে মুসলিম’। আমি জানি, এটি প্রতিপক্ষ দলকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছিল, ব্যক্তিগতভাবে আমাকে লক্ষ্য করে নয়। কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে আমার কাছে এটি অত্যন্ত অসম্মানজনক। আমরা এমন আচরণ মেনে নিতে পারি না।’

ইয়ামাল এই প্রসঙ্গে আরও লেখেন, ‘আমি বুঝি, সব সমর্থক এমন নন। তবে যারা এই ধরনের স্লোগান দিয়েছেন, তাদের বলব— ফুটবল স্টেডিয়ামে মানুষকে উপহাস করার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করা আপনাদের অজ্ঞতা ও বর্ণবাদী মানসিকতার পরিচয় দেয়।’ তিনি ফুটবলের প্রকৃত চেতনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ফুটবল উপভোগ ও ভালোবাসার জায়গা। কার পরিচয় কী বা কে কোন বিশ্বাস ধারণ করে, তা নিয়ে অপমান করার জায়গা নয়।’

এখানে মনে করলে দেখা যায়, মুসলমান ইয়ামালের এই প্রতিক্রিয়া শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রতিবাদ ছিল না; বরং এটি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে একটি শক্ত অবস্থান হিসেবে দেখা হয়। তিনি দেখিয়েছেন যে, নিজের ধর্মীয় পরিচয় লুকিয়ে না, বরং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেও একজন ক্রীড়াবিদ বিশ্বমঞ্চে সফল হতে পারেন।

ইয়ামাল কখনোই তার মুসলিম পরিচয় গোপন করেননি। পেশাদার ফুটবলের কঠোর অনুশীলন, ব্যস্ত সূচি এবং শারীরিক চাপের মধ্যেও তিনি রমজান মাসে রোজা পালনের বিষয়টি আগেও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।

মিশরের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে দেওয়া ওই স্লোগান মূলত একটি নির্দিষ্ট দলকে লক্ষ্য করে হলেও এর মধ্যে থাকা ধর্মীয় বিদ্রূপ অনেকের কাছে আপত্তিকর হয়ে ওঠে। ইয়ামাল সেই জায়গাতেই মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, খেলাধুলার মাঠে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু ঘৃণা, বিদ্বেষ কিংবা কোনো মানুষের বিশ্বাসকে অপমান করার জায়গা সেখানে হওয়া উচিত নয়।

লামিনে ইয়ামালের ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন মুসলিম’— এই বক্তব্য শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রকাশ নয়; এটি সম্মান, সহনশীলতা ও বৈচিত্র্যের পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা। ফুটবল বিশ্বের কোটি মানুষের আবেগের জায়গা। এই আবেগ যেন কখনো বিদ্বেষে পরিণত না হয়, বরং পারস্পরিক সম্মান ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করে— ইয়ামালের প্রতিবাদ সেই প্রত্যাশাকেই সামনে রেখেছে।

সূত্র: রিলিজিয়ন আনপ্ল্যাগ্ড ডটকম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%