ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পূবাইলে কেমিক্যাল কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ২০১৬ সালে নিহত হয়েছিল ৬ জন


পূবাইলে কেমিক্যাল কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ২০১৬ সালে নিহত হয়েছিল ৬ জন

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার কলেজ গেইট এলাকায় 'ইকো গ্রীন ওয়েল কোম্পানি লিমিটেড' নামের একটি অবৈধ পোড়া মবিল ও টায়ার গলিয়ে কেমিক্যাল উৎপাদনকারী কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে, এ আগুনের সূত্রপাত হয়।

খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়, কিন্তু আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে, এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুরে হঠাৎ করেই কারখানার ভেতর থেকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে শ্রমিকরা দ্রুত কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন।

আরও পড়ুন: ডাকাতিয়ায় সেতু না থাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ

এলাকাবাসীদের অভিযোগ, আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা এই ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ কারখানাটিতে এর আগে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি, একই কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় নারীসহ ৬ জন শ্রমিক নিহত হন এবং আহত হন আরও অন্তত ১০ জন। সেই মর্মান্তিক ঘটনার এক দশক পর আবারও একই প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বছরের পর বছর ধরে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অবিলম্বে কারখানাটি সিলগালা করে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহিন আলম জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে খবর পেয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় তারা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

তিনি আরও জানান, এটি সম্পূর্ণ একটি অবৈধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানে পরিত্যক্ত টায়ার পুড়িয়ে অশোধিত জ্বালানি উৎপাদন করে তা বাজারজাত করা হতো। অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে মালিকপক্ষ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি.

আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন ২০ জুনকেই ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে বেছে নিল বিজেপি সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ পি.এম


কেন ২০ জুনকেই ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে বেছে নিল বিজেপি সরকার

২০ জুন আজ সরকারিভাবে প্রথমবারের মতো ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উৎসব হিসেবে পালিত হচ্ছে। ২০২৫ সালে মিছিল করার সময় শুভেন্দু অধিকারী এই দাবিটি জানান। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের সরকার গঠন করার পর থেকে দিনটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি’ এবং ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দিন হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে। তবে আজ থেকে পাঁচ বছর আগে এই দিনটির উদযাপনের কোনো চল ছিল না।

বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের অবস্থান ছিল, বাংলা ভাগ হওয়া উদযাপনের বিষয় নয়। কারণ দেশভাগের ফলে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন এবং তারা তাদের স্বজন হারিয়েছিলেন। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০ জুনের পরিবর্তে পহেলা বৈশাখকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে বিজেপি সরকার গঠনের পর সেই সিদ্ধান্ত বদলে ২০ জুনকেই সরকারিভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

বিজেপি সরকার এই দিনটি উদযাপন করছে, তার নিচে যে সকল কারণ তুলে ধরা হলো সেগুলো হল, ইতিহাসের পাতায় ২০ জুনের সিদ্ধান্ত ও ভারতভুক্তি। আজ থেকে ৭৯ বছর আগে, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভায় অবিভক্ত বাংলা ভাগ হওয়া নিয়ে ভোটাভুটি হয়। ওই দিন মুসলিম সংখ্যাগুরু পূর্ববঙ্গ এবং হিন্দু সংখ্যাগুরু পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রতিনিধিরা আলাদাভাবে ভোট দেন। পূর্ববঙ্গের মুসলিম নেতাদের বেশিরভাগ বাংলা ভাগের বিপক্ষে ভোট দিলেও, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু জনপ্রতিনিধিরা বাংলা ভাগের পক্ষে ভোট দেন। এই কারণেই সিদ্ধান্ত হয় যে বাংলার পূর্ব অংশ পাকিস্তানে যাবে এবং পশ্চিম অংশ ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো একে পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির দিন হিসেবে গণ্য করে।

আরএসএসের ইতিহাসবিদ রবি রঞ্জন সেনের মতে, এই দিনটিকে বাংলা ভাগের দিন হিসেবে না দেখে, এটি পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি ও তার ভারতভুক্তির দিন হিসেবে দেখা উচিত। স্বাধীনতার আগে বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং কংগ্রেস নেতা শরৎ চন্দ্র বসু বাংলাকে ভাগ না করে একটি স্বাধীন ‘যুক্তবঙ্গ’ গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু হিন্দু মহাসভার নেতা ও জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেন। জওহরলাল নেহেরু ও বল্লভভাই প্যাটেলও এর বিরোধী ছিলেন। বিজেপি ও আরএসএস শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে ‘পশ্চিমবঙ্গের জনক’ মনে করে।

বিজেপির দাবি, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর লড়াইয়ের কারণেই বাঙালি হিন্দুরা নিজেদের জীবন সুরক্ষিত করার জন্য একটি ‘হোমল্যান্ড’ বা আবাসভূমি পেয়েছেন। রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত মনে করেন, বাংলা ভাগ হওয়া অনিবার্য ছিল। তার মতে, যদি দুই বাংলা যুক্ত থাকত তবে হিন্দু বাঙালিদের সমস্যা আরো বাড়ত। তিনি এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার চিরকাল বাংলায় হিন্দু রাজনৈতিক চেতনাকে অস্বীকার করে এসেছে।

তিনি আরো দাবি করেন, ভারতের বাঙালি স্বত্বা এবং বাংলাদেশের বাঙালি স্বত্বার মধ্যে কিছু মিল থাকলেও, দুটি পরিচয় সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই ভিন্ন পরিচয় উদযাপন করা এবং ‘বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড’ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসগত ভিত্তি তৈরি করতেই বিজেপি এই দিনটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কলকাতা সফরে এসেছেন। পশ্চিমবঙ্গ দিবস ও ২১ জুনের যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতায় তার দুই দিনের কর্মসূচি রয়েছে। এই দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা, ছোট শহর ও গ্রামে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর ছবিতে মাল্যদান অনুষ্ঠান চলছে। সকালে কলকাতার ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর মূর্তিতে মালা পরান বিজেপি নেতা অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, ‘ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর জন্যই আমরা আজ বাংলাদেশে নেই। উনি না থাকলে হয়তো আমরা থাকতাম না।’

তবে এই উদযাপনের ভিন্ন মতও রয়েছে। ইতিহাসবিদ ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুগত বসু জানান, মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনায় আগেই দেশভাগ নিশ্চিত হয়েছিল এবং ২০ জুনের ভোটে শুধু সিলমোহর পড়েছিল। তার মতে, ‘এটি কোনো গৌরবের দিন নয়, এটি আত্মঘাতী বাঙালীর লজ্জার দিন।’

সূত্র: বিবিসি বাংলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অন-ক্যাম্পাস মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন জমার সময় বাড়ল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ পি.এম


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অন-ক্যাম্পাস মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন জমার সময় বাড়ল

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের অন-ক্যাম্পাস মাস্টার্স (ফাইনাল) প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন জমার সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এখন পর্যন্ত আগামী ১৯ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্যটি প্রকাশ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভর্তিচ্ছু প্রার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করে অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদনের সঙ্গে প্রাথমিক আবেদন ফি বাবদ এক হাজার টাকা জমা দিতে হবে। প্রার্থীরা সোনালী সেবা অথবা নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে আগামী ২৩ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে ফি পরিশোধ করতে সক্ষম হবেন।

ভর্তি-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার জন্য প্রার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটের দিকে নজর রাখতে পারেন।

সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণের শেষ সময় ১৯ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে। সোনালী সেবার মাধ্যমে আবেদন ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখও ২৩ জুলাই। আবেদন ফি জমা দেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় পে-স্লিপে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সংশ্লিষ্ট খাতের সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ০২১৮১১০০০০২৭০১ উল্লেখ করে টাকার পরিমাণ লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ভর্তির লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার তারিখ এবং কেন্দ্র পরে বিস্তারিতভাবে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তির অন্যান্য সমস্ত শর্ত পূর্বের মতো অপরিবর্তিত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার আগামী ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন করতে চায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ পি.এম


সরকার আগামী ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন করতে চায়

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল আলোচিত থার্ড টার্মিনাল (তৃতীয় টার্মিনাল) আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন করার জন্য সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) এই তথ্য প্রদান করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

এর আগে দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে, ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে থার্ড টার্মিনালের কাজের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠক শেষে, বিমান প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাপানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনায় আমাদের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের বিষয়টি অন্যতম প্রধান ইস্যু ছিল। আমরা আগামী ১৬ ডিসেম্বর এটি উদ্বোধন করতে চাই। সম্প্রতি জাপানের বিমান অবকাঠামো বিষয়ক মন্ত্রীও ঢাকা সফর করেছেন এবং সুমিতোমো করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা শেষে ওই তারিখে উদ্বোধনের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পের অন্যতম প্রধান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাপানের সুমিতোমো করপোরেশন ও নিপ্পন কোয়ে যাতে দ্রুত কাজ শেষ করে, সে জন্য রাষ্ট্রদূতের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচিও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন যে জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো যথাসময়ে কাজ সম্পন্ন করবে।

প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘রিকুয়েস্ট ফর প্রপোজাল’ (আরএফপি) প্রক্রিয়া এরইমধ্যে শুরু করা হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য প্রয়োজনীয় দাফতরিক নথি আগামী ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে টোকিওতে জমা দেয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করলে নিপ্পন কোইয়ের মাধ্যমে ওআরটিএ (অপারেশনাল রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার) প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৭ সালে একনেকে অনুমোদন পায়। শুরুতে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে আরও ৭ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্পের বর্তমান মোট আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। এই ব্যয়ের সিংহভাগ অর্থায়ন করছে জাপানি সহযোগিতা সংস্থা জাইকা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই মেগা প্রকল্পের মোট আয়তন ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার, যা বিমানবন্দরের বর্তমান দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত আয়তনের চেয়েও দ্বিগুণের বেশি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘বর্ষা আসলেই ভয়, কখন বসতভিটা ভেঙে নেয় নদী’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫১ পি.এম


‘বর্ষা আসলেই ভয়, কখন বসতভিটা ভেঙে নেয় নদী’

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই তেঁতুলিয়া নদীতে ভাঙনের তীব্রতা দেখা দিয়েছে। এ কারণে পটুয়াখালীর গলাচিপার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের নিজহাওলা গ্রামের বাসিন্দা বারেক রাঢ়ীর মধ্যে বসতভিটা হারানোর ভয় ক্রমাগত ছায়া ফেলছে। শনিবার সকালে তার বাড়ির পাশে নদীর পাড়ে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনাটি নজর কাড়ে। ছবি : কালের কণ্ঠ। প্রতিবারই নদী ভাঙনের সম্মুখীন হচ্ছে এলাকাবাসী। তারা বলেন, ‘প্রতিবছরই বেড়িবাঁধের কাজ হয়, কিন্তু বর্ষা আসলেই ভাঙে, বাড়িঘরও ভেঙে যায়। মৌসুম জুড়ে মনের ভেতর এক আতঙ্ক বিরাজ করে, কখন বসতভিটা নদীতে হারিয়ে যাবে। সাথে চলে যাবে বাপ-দাদার কবরও।’ বারেক রাঢ়ী বলেন, ‘দশ বছরে চারবার বাড়ি করেছি। বর্তমানে যে বাড়িতে আছি, সেটাও হয়তো থাকবে না। সব বিষয় আমার জন্য সহ্য হয়ে গেছে। তবে মারা যাওয়ার আগে আর নতুন বাড়ি করার সামর্থ্য নেই। প্রাণশক্তি এবং অর্থ কোনোটাই নেই।’ শুধু বারেক রাঢ়ী নয়, বরং তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে ভীতিতে দিন কাটাচ্ছে ৫০০ পরিবারের মানুষ। নদীর করাল গ্রাসের সৃষ্টি করেছে বহু বাড়িঘর ও কবরস্থানও ভেঙে যাচ্ছে, ফলে জীবনের শেষ সময়ে এসে হতাশায় রয়েছে বারেকের মতো অনেকেই। বেড়িবাঁধ ভাঙনের আতঙ্ক চলছে রতনদী তালতলী ইউনিয়নের নিজহাওলা, বন্যাতলী স্লুইসের দুই পাশের এবং গ্রামর্দনের চার গ্রামে। এই পরিস্থিতিতে ঢেউয়ের তীব্রতায় ওই এলাকার বেড়িবাঁধের পাড় ভেঙে যাচ্ছে। বন্যাতলী লঞ্চঘাটের উত্তর পাশে অন্তত ৫০০ মিটার বেড়িবাঁধ ধসে পড়েছে। রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী লঞ্চঘাটের উত্তর পাশে বসবাসকারী শাহজাহান হাওলাদার জানান, ‘নদীভাঙনে আমরা সব হারিয়েছি। চারবার বাড়ি করেও সবকিছু হারিয়েছি। এখন কোনোরকমে জীবনযাপন করছি। বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরও প্রায় সাড়ে আট একর জমি নদীতে চলে গেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এখন আর এসব বেড়িবাঁধ দিয়ে কিছুই হবে না; আমাদের টেকসই বাঁধের প্রয়োজন। ব্লক দিয়ে বাঁধ দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন। বারবার ভাঙা এবং নতুন করে গড়ার খেলায় আমি বর্তমানে নিঃস্ব।’ একই ইউনিয়নের গ্রামর্দন এলাকার ফরিদ হাওলাদার বলেন, ‘আমার ঘরসহ সবকিছুই তেঁতুলিয়া নদী নিয়ে গেছে। কয়েক দফা ভাঙনের পর ১২ বছর পূর্বে পরিবারসহ কাটাখালী শ্বশুরবাড়িতে চলে যাই।’ তিনি বলেন, ‘আমি নিজের চোখে ২০০ থেকে আড়াই শ বাড়ি নদীতে বিলীন হতে দেখেছি। নদীর উত্তাল ঢেউয়ে বেড়িবাঁধের পাড় প্রতিদিন ভেঙে যাচ্ছে। এখন রাস্তাও ভেঙে যাচ্ছে।’ নিজহাওলা গ্রামের সত্তার রাঢ়ীর স্ত্রী লুৎফা বেগম জানান, ‘আমার বাপের বাড়ি একই ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া গ্রামে। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে আছি। এক সময় যে বাড়িতে রান্না-বান্না করতাম, সেটিও বহুদিন আগেই নদীগর্ভে চলে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী এক সময় এখানে কৃষি কাজ করতেন। এখন সবই স্মৃতি। নদীর ভাঙনে ৫০ একরের ওপর জমি নদীতে চলে গেছে। বর্তমানে আমরা নিঃস্ব।’ রতনদী তালতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা খান বলেন, ‘রতনদী তালতলী ইউনিয়নের ৮, ৯ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বন্যাতলী অংশের বেড়িবাঁধ ভাঙনের কবলে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। গ্রামর্দন এলাকার অবস্থা একই।’ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রতিবছর ভাঙনে নদীরগর্ভে বিলীন হচ্ছে বেড়িবাঁধ, সড়ক, কৃষিজমি ও ঘরবাড়ি। ভাঙন প্রতিরোধ ও ওয়াপদা মেরামত করা না হলে বন্যাতলী, নিজহাওলা, টাইট্টাবুনিয়া, ভাইয়ার হাওলা, পাতাবুনিয়া, গ্রামর্দ্দন এলাকার মানুষের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। নদীভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। আমি আশা করে আছি।’ গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুর হক বলেন, ‘ইতোমধ্যেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে এই ব্যাপারে আলোচনা করেছি। তারা জানিয়েছেন, রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী লঞ্চঘাটের উত্তর পাশে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ রক্ষায় ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান। বর্ষা মৌসুমের তীব্রতার আগেই কাজ শুরু করবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%