০৬:০৬ এম
গুগল তাদের নতুন এআই প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে ম্যাক ব্যবহারকারীদের জন্য। নতুন এআই এজ গ্যালারি প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই নিজেদের ডিভাইসে এআই মডেল চালানোর সুবিধা পাবেন।
ক্লাউডভিত্তিক এই প্রযুক্তির তুলনায়, স্থানীয়ভাবে পরিচালিত এআই মডেল সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে কাজ করে। ফলে, ইন্টারনেট ছাড়াও এআই ব্যবহার করা সম্ভব হয়ে ওঠে, এবং ব্যক্তিগত তথ্য বাহ্যিক সার্ভারে পাঠানোর প্রয়োজন হয় না, যা গোপনীয়তা সুরক্ষায় সহায়ক।
স্থানীয় এআই মডেলগুলো সাধারণত ক্লাউডভিত্তিক বৃহৎ মডেলের তুলনায় ছোট হলেও, এগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে। ব্যবহারকারীরা অফলাইনে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন, শক্তিশালী হার্ডওয়্যারে দ্রুত সাড়া পাবেন এবং সংবেদনশীল তথ্য নিজেদের ডিভাইসে সংরক্ষণ করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: অ্যানথ্রোপিকের সতর্কবার্তা: এআই মানবজাতির জন্য ‘বিপর্যয়কর ঝুঁকি’ তৈরি করতে পারে
এখন পর্যন্ত ম্যাক ব্যবহারকারীরা স্থানীয় এআই মডেল চালানোর জন্য সাধারণত তৃতীয় পক্ষের সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করতেন, যেমন ওলামা বা এলএম স্টুডিও।
এআই এজ গ্যালারিতে গুগল তাদের নিজস্ব পাঁচটি ইনস্ট্রাকশন-টিউনড জেমা মডেল অন্তর্ভুক্ত করেছে। এগুলো হলো—জেমা-৪-১২বি-আইটি, জেমা-৪-ই২বি-আইটি, জেমা-৪-ই৪বি-আইটি, জেমা-৩এন-ই২বি-আইটি এবং জেমা-৩এন-ই৪বি-আইটি।
অ্যাপটি বর্তমানে শুধুমাত্র গুগলের জেমা সিরিজের মডেলগুলোর ওপরেই কেন্দ্রিত, এবং বিভিন্ন ডেভেলপারের মডেল সমর্থন করে না।
গুগল একইসাথে একটি নতুন মাল্টিমোডাল জেমা ৪ ১২বি নামে এআই মডেলও উন্মোচন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই মডেলটি ১২ বিলিয়ন প্যারামিটারের হওয়া সত্ত্বেও ২৬ বিলিয়ন প্যারামিটারের মডেলের পারফরম্যান্সের সমান।
আরও পড়ুন: সরকারের পাঁচ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য: মাহবুব আনাম
এই মডেলটি ১৬ জিবি র্যামযুক্ত সাধারণ ল্যাপটপেও ব্যবহার করা যাবে, এবং এটি টেক্সট, ছবি ও অডিও প্রসেসিংয়ের জন্য সক্ষম। বিভিন্ন কাজে যেমন কনটেন্ট তৈরি, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও ডেটা অ্যানালাইসিসের জন্য এটি ব্যবহার করা যাবে।
এছাড়া, গুগল ম্যাক ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন ডিকটেশন অ্যাপও চালু করেছে, নাম এআই এজ এলোকুয়েন্ট। এই বিনামূল্যের অ্যাপটি ব্যবহারকারীর কথাকে লিখিত টেক্সটে রূপান্তর করে, এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপ্রয়োজনীয় শব্দ বাদ দিয়ে লেখাকে আরও প্রাঞ্জল ও পাঠযোগ্য করে তোলে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, যেখানে ক্লাউডভিত্তিক অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সরাসরি ব্যক্তিগত ডিভাইসে এআই পরিচালনার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হার্ডওয়্যারের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো গোপনীয়তা, দ্রুত সাড়া প্রদান এবং ইন্টারনেটের প্রতি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে আরও বেশি বিনিয়োগ করছে।
গুগলের এআই অ্যাপ ইতোমধ্যে ম্যাকওএস-এর জন্য উন্মোচিত হয়েছে। এর আগে অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস সংস্করণও চালু ছিল। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি অন-ডিভাইস এআই টুলের পরিসর আরও সম্প্রসারণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে এআই কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন