১১:০৪ পি.এম
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলার কারণে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ছয়জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরের পর উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শাখারিকাঠী গ্রামে পুলিশের উপস্থিতিতে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন—শাখারিকাঠী গ্রামের মোফাজ্জেল হোসেন জমাদ্দার (৫০), মো. মাসুম (৩৫), মো. স্বপন আকন (৪০), তাসলিমা আকন (৩০), রুনু বেগম (৪৫) এবং সেলিনা বেগম (৫০)।
স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, শাখারিকাঠী গ্রামের খালেক জোমাদ্দার ও হেমায়েত আকন গংয়ের মধ্যে একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান ছিল। এই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে স্থানীয়দের দ্বারা একাধিকবার সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু কোনো সমাধান আসেনি।
আরও পড়ুন: নাসিরনগরের চাপরতলায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রচারণায় সরগরম মাঠ, বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে আলোচনা
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির ভিত্তিতে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ জমিটি খালেক জোমাদ্দার গংয়ের দখলে ছিল এবং কয়েক দিন আগে তাঁরা সেই জমিতে ধানের চারা রোপণ করেছেন। শুক্রবার সালিশ বৈঠক চলাকালে, হেমায়েত আকন গং সেই জমিটি নিজেদের দাবি করে সেখানে রোপণ করা ধানের চারা তুলে ফেলতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এর পর বিষয়টি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের ফলে উভয় পক্ষের ছয়জন আহত হন। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন অংশ, মাথা ও হাতে আঘাত লেগেছে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে মোফাজ্জেল হোসেন জোমাদ্দারের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। অন্য আহতরা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
আহত রুনু বেগম বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই জমি নিয়ে সমস্যা চলছিল। পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশ চলছিল এবং পুলিশ কয়েক মিনিটের জন্য চোখের আড়ালে চলে গেলে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
আরও পড়ুন: কোম্পানীগঞ্জে কাদের মির্জার অনুসারী শীর্ষ সন্ত্রাসী কেচ্ছা রাসেল গ্রেফতার
এদিকে, মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম সংঘর্ষের ঘটনা স্বীকার করেছেন, তবে পুলিশের উপস্থিতিতে সংঘর্ষ হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সংঘর্ষের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন