ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

১০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগে লাইভে ব্যাখ্যা দিলেন হাসনাত


১০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগে লাইভে ব্যাখ্যা দিলেন হাসনাত

ফেসবুক লাইভে এসে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার অভিযোগের জবাব দেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

প্রায় ৪৩ মিনিটের ওই লাইভে তিনি নিজ উপজেলা দেবীদ্বারে বরাদ্দ সংক্রান্ত বিভিন্ন হিসাব উপস্থাপনার পাশাপাশি ১০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যা দেন।

রোববার (৩১ মে) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লাইভে আসেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

আরও পড়ুন: মন্ত্রিপরিষদ সচিব জ্ঞানেশের কাছে দুই কমিশনারের চিঠি ফেরত পাঠালেন

মিডিয়া মাফিয়ার আয়নাবাজি শিরোনামে ওই লাইভের শুরুতেই হাসনাত বলেন, বাংলাদেশের মিডিয়া মাফিয়া কিভাবে কাজ করে বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে লাইভে এসেছি। বাংলাদেশের মিডিয়া কিভাবে আপনার কনসার্নকে ম্যানুফ্যাকচার করে, আপনার মতামতকে প্রভাবিত করে আপনার অবচেতন মনে এক ধরনের ধারণা তৈরি করে কোনো ব্যক্তি, কোনো প্রতিষ্ঠান এবং কোনো বিশেষ আদর্শ সম্পর্কে।

এনসিপির এই নেতা বলেন, রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপির পার্থক্য না বুঝে একজন রাজনৈতিক নেতা বক্তব্য দিয়েছেন। রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপি বরাদ্দের পার্থক্য না বুঝে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন। এসব অর্থ প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে এবং ব্যক্তি হিসেবে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

মাঝরাতের ওই ফেসবুক লাইভে ১৪৮টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকার হিসাব দেন হাসনাত।

তিনি আরও বলেন, এটি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যেটা জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রশাসক রাজস্ব খাত আর বিশেষ বরাদ্দ সম্পর্কে যদি জ্ঞান থাকতো তাহলে এভাবে কথা বলতেন না। আর উনি এমনভাবে বলেছেন, মনে হচ্ছে টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ দেবীদ্বারের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: বোদায় দেড় লাখ টাকাসহ এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আটক, পরে মুক্তি

এনসিপির এই নেতা আরো বলেন, এখানে তো লুকানোর কিছু নেই, সব কিছু ওয়েবসাইটে রয়েছে। এটি চাইলে যে কেউ দেখতে পারে। আমি আগেও যেসমস্ত বাজেটে এসেছে, সব হিসাব লাইভে এসে দিয়েছি।

হাসনাত আরও বলেন, ১০ কোটি টাকার কথাই বলা হচ্ছে। আমি যখন নির্বাচিত হইনি, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে এডিপি সাধারণ, এডিপি বিশেষ এবং রাজস্ব নিজস্বসহ সব মিলিয়ে আট কোটি ৪২ লাখ টাকার প্রজেক্ট দেবীদ্বারে দেওয়া হয়েছে। এক টাকা বেশি না, এক টাকা কমও নয়। ১৪৮টি খাতে এসব প্রজেক্ট দেওয়া হয়েছে। একটি সম্পূর্ণ প্রজেক্টও এখনও কমপ্লিট হয়নি। এগুলো আপনারা অনলাইনে গিয়ে দেখতে পাবেন।

তিনি বলেন, অথচ জেলা পরিষদের প্রশাসক বললেন আমি ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছি। গত দুই দিন মিডিয়া ট্রায়াল চালানো হলো, আমরা টাকা নিয়ে গিয়েছি, টাকার কথা মানুষের কাছে লুকিয়েছি। এটা তো লুকানোর কিছু নেই, সব কিছু ওয়েবসাইটে রয়েছে। ইটস ভেরি ওপেন, ব্রড ডেলাইট ওপেন।

কুমিল্লা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, যারা প্রচার করেছেন, আপনাদের যদি চর্মচক্ষু ও জ্ঞানবুদ্ধি থাকে, তবে ইন্টারনেটে সার্চ করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। কোন খাতে কত টাকা এবং কোন প্রক্রিয়ায় গেছে, চাইলে সবকিছু বের করা সম্ভব।

আরও পড়ুন: পানিসম্পদমন্ত্রী: প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গড়ে উঠবে আধুনিক স্বনির্ভর বাংলাদেশ

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, আমার এলাকার যত বরাদ্দ বাজেট এসেছে, সম্প্রতি লাইভে সবগুলো বিস্তারিত তুলে ধরেছি। আমার পেজ ‘জবাবদিহিতা’-য় প্রতিনিয়ত আপডেট জানানো হয়। সবার বাসায় মোবাইল, ইন্টারনেট এবং ফেসবুক আছে। সার্চ করলেই যে কেউ বিস্তারিত দেখতে পারেন। এখন এটাকে যেভাবে ফ্রেমিং করা হলো সেটা খুবই দুঃখজনক।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (৩০ মে) কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে এক অনুষ্ঠানে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার অভিযোগ ছিল হাসনাত আবদুল্লাহ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ২৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। এ বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে তোলপার সৃষ্টি করে। পরে ওই বিষয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়াকে ফোন করে জানতে চাইলে মোস্তাক মিয়া উন্নয়ন কাজে নেওয়া হয়েছে বলে জানান। কেউ ব্যক্তিগতভাবে সে টাকা নিয়ে গেছে সেটা তিনি বলেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি দপ্তরে এমপির আকস্মিক পরিদর্শন, বেশিরভাগ কর্মচারী অনুপস্থিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৯ পি.এম


সরকারি দপ্তরে এমপির আকস্মিক পরিদর্শন, বেশিরভাগ কর্মচারী অনুপস্থিত

ঈদুল আজহারের পর জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আকস্মিক পরিদর্শন করে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কুমিল্লা কার্যালয়ে গিয়েছিলেন সংসদ সদস্য। সেখানে গিয়ে তিনি একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুপস্থিত দেখতে পান। সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।

গণমাধ্যমে সংসদ সদস্য বলেন, ‘নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী, প্রাক্কলনিক কর্মকর্তা কেউই ছুটি ছাড়াই অফিসে আসেননি। এমনকি বেলা ১১টায় দপ্তরে জাতীয় পতাকাও উত্তোলন করতে দেখা যায়নি।’

তিনি আরো জানান, সার্বিক অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কুমিল্লার বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শফিউল হক বলেন, ‘প্রাক্কলনিক কর্মকর্তা তারেক মোল্লা ছুটিতে রয়েছেন। আমার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, এখানেও অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। আমি গাড়িতে কুমিল্লা অফিসে আসতেছি।’

তবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না হওয়ার ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

এর আগে, সকালে কুমিল্লা জেলা সাব-রেজিস্টার কার্যালয় পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য মনিরুল হক। সেখানে নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদরাসা শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় ময়মনসিংহে শিক্ষক আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৩১ পি.এম


মাদরাসা শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় ময়মনসিংহে শিক্ষক আটক

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে আবু রাহাত (২২) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১ জুন) সকালে শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে আবু রাহাতকে আসামি করে তারাকান্দা থানায় মামলা করেন।

মামলার পর দুপুরে আদালতে আসামিকে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রবিবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে আবু রাহাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার আবু রাহাত জেলার ফুলপুর উপজেলার অর্জুনখিলা গ্রামের আবুল হাশিমের ছেলে। তিনি তারাকান্দা ইউনিয়নের ধলীরকান্দা মাঠখলা এলাকায় অবস্থিত রওজাতুল আতফাল নূরানিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা ও জান্নাতুল মোবাশ্বিরা মহিলা মাদরাসার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ঈদের আগে সব শিক্ষার্থীকে ছুটি দিয়ে মাদরাসা বন্ধ করে দিলেও, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে বাড়িতে যেতে দেননি শিক্ষক আবু রাহাত। পরে আবু রাহাত ওই শিক্ষার্থীকে মাদরাসায় রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এরপর ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ছুটি শেষে বাড়িতে যাওয়ার পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে।

গতকাল রবিবার সকালে তার পায়ুপথে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ শুরু হলে সন্তান পরিবারে সদস্যদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়।

এদিকে, ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় গ্রামবাসী মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুল গফুরকে আটক করে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং পরে অভিযান চালিয়ে আবু রাহাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তারাকান্দা থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন জানান, আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘দুটি দুর্বল ব্যাংক মিলিয়ে একটি সুস্থ ব্যাংক তৈরি করা সম্ভব নয়’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৩২ পি.এম


‘দুটি দুর্বল ব্যাংক মিলিয়ে একটি সুস্থ ব্যাংক তৈরি করা সম্ভব নয়’

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেছেন, ‘দুটি দুর্বল ব্যাংক মিলিয়ে একটি সুস্থ ব্যাংক তৈরি করা সম্ভব নয়।’ তিনি উল্লেখ করেছেন যে, জোরপূর্বক একীভূতকরণের মাধ্যমে দুর্বল ব্যাংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে শক্তিশালী হয়ে যাবে না।

তিনি আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেন।

ড. এনামুল বলেন, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তিনি সতর্কতা প্রকাশ করেন যে, মানুষ যদি ব্যাংকের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে, তাহলে তারা আর্থিক ব্যবস্থায় টাকা জমা রাখবে না।

এই গবেষক দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূতকরণের পরিবর্তে কঠোর জবাবদিহিতা ব্যবস্থা চালু করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উন্নতি করতে ব্যর্থ হলে ব্যাংকগুলোকে তার পরিণতি ভোগ করতে দেওয়া উচিত।

আর্থিক খাতের সুশাসনের বিষয়েও ড. এনামুল মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আইনের শাসন শক্তিশালী না হলে জনগণের আস্থা ফিরবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।

তিনি আরও জানান, মানুষকে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে যে তাদের আমানত নিরাপদ রয়েছে এবং অন্যায়কারীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

সাক্ষাৎকারের শেষে ড. এনামুল হক বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রধানত টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দলের দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করল তৃণমূল কংগ্রেস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


দলের দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করল তৃণমূল কংগ্রেস

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দলের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দুই বিধায়ক—ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। দলের সহসভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

তৃণমূলের সূত্রমতে, ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ওই সিদ্ধান্ত দুই বিধায়কের কাছে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার একটি বিতর্কিত স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে রাজ্য সরকারের সদর দপ্তর নবান্নে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, বিধানসভার স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূলের এই দুই বিধায়ক। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিধানসভার সচিবালয় থানায় মামলা করা হয়েছে। এরপর বিষয়টির তদন্তে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) যুক্ত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের ১৫ মিনিটের মধ্যে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বহিষ্কারের পর প্রতিক্রিয়ায় সন্দীপন সাহা বলেন, "যারা অনৈতিক কাজ করে দল তাদের সমর্থন দেয়, আর যারা নৈতিক অবস্থান নেয় তাদের বহিষ্কার করা হয়।" তিনি দাবি করেন, একটি হাজিরা খাতার স্বাক্ষরকে প্রস্তাব অনুমোদনের স্বাক্ষর হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা তারা জানতেন না।

নিয়ম অনুযায়ী, বহিষ্কারের পর দুই বিধায়ক এখন ‘স্বতন্ত্র’ বা দলহীন সদস্য হিসেবে বিধানসভায় থাকবেন। ফলে রাজ্যসভা নির্বাচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা দলের হুইপ বা নির্দেশ মানতে বাধ্য থাকবেন না। বলতেই হবে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে এটি প্রথম বহিষ্কারের ঘটনা নয়। ২০১৪ সালে সিপিএমের হিসেবে রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। কিন্তু ২০১৭ সালে বিভিন্ন অভিযোগের কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘ সময় দলহীন সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে প্রথমে রাজ্যসভায় এবং পরে বিধানসভায় নির্বাচিত হন।

দুই বিধায়কের বহিষ্কারের পর দলের মুখপাত্র ও বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। সেখানে তিনি নাম উল্লেখ না করেই দলবিরোধী অবস্থান নেওয়ার সমালোচনা করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঋতব্রত ও সন্দীপনের নাম উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, "দলের প্রতীক ও নেত্রীর জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে নির্বাচিত হওয়ার পর এত দ্রুত দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন তোলা হলো?"

কী এই স্বাক্ষর বিতর্ক? গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ৬ মে দলীয় সভায় নির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বৈঠকে পরিষদীয় দলের নেতা, উপনেতা ও মুখ্যসচেতক নির্বাচনের দায়িত্ব তার ওপর ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এরপর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক হিসেবে মনোনীত করা হয়। এ বিষয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিধানসভায় পাঠানো হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, এসব পদে নির্বাচন পরিষদীয় দলের আনুষ্ঠানিক বৈঠকেই সম্পন্ন হতে হয়। পরে ১৯ মে আরেকটি বৈঠকে বিধায়কদের দিয়ে একটি নথিতে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই স্বাক্ষর ১৯ মে নেওয়া হলেও তা ৬ মের বৈঠকের কার্যবিবরণী হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই অভিযোগ থেকেই বর্তমান বিতর্কের সূচনা হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে সিআইডি কিছু বিধায়কের বাড়িতে যায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, তাপস মাইতি এবং বাহারুল ইসলাম। বিশেষ করে বাহারুল ইসলামের স্বাক্ষর নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ৬ মে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তদন্তকারীদেরও তিনি একই তথ্য জানিয়েছেন। তার ভাষ্য হলো, ভোট-পরবর্তী সহিংসতার কারণে সেদিন তিনি নিজ এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

এদিকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, কাউকে জোর করে স্বাক্ষর করানো হয়নি। তবে বাহারুল ইসলাম একটি স্বাক্ষর দেখে সেটি তার নয় বলে দাবি করেছেন। স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল সিআইডি। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তিনি হাজির হননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%