ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অভিবাসন কমাতে নজিরবিহীন গণভোটের উদ্যোগ নিয়েছে সুইজারল্যান্ড


অভিবাসন কমাতে নজিরবিহীন গণভোটের উদ্যোগ নিয়েছে সুইজারল্যান্ড

দেশে অভিবাসনের চাপ কমানোর লক্ষ্যে এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে সুইজারল্যান্ড নজিরবিহীন একটি প্রস্তাব নিয়ে গণভোটের আয়োজন করেছে। প্রস্তাবটি পাস হলে দেশের জনসংখ্যা আগামী কয়েক দশকে ১ কোটির মধ্যে সীমিত রাখতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যা ভবিষ্যতের অভিবাসন নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।

এই গণভোট আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সুইস নাগরিকরা সিদ্ধান্ত নেবেন, দেশের জনসংখ্যা ১ কোটির বেশি হতে দেওয়া হবে কি না। সুইজারল্যান্ডের সরাসরি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত প্রশ্নগুলো নিয়ে নিয়মিত গণভোটের আয়োজন করা হয়।

প্রস্তাবটির পক্ষে দেশের বৃহত্তম পার্লামেন্টারি দল ডানপন্থী ও জনতাবাদী সুইস পিপলস পার্টি রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে দলটি অভিবাসনবিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ভোটের ফলাফল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে।

আরও পড়ুন: জুলাইকে অস্বীকার করে রাজনীতি করার সুযোগ নেই: তথ্যমন্ত্রী

প্রস্তাবের সমর্থকরা যুক্তি দিচ্ছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা বিপুল সংখ্যক মানুষের আগমনে আবাসন, অবকাঠামো, সামাজিক সেবা, প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীবনযাত্রার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে।

অন্যদিকে, বিরোধীরা এমন উদ্যোগকে সুইজারল্যান্ডের অর্থনীতি ও শ্রম বাজারের জন্য ক্ষতিকর মনে করছেন। তাদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি, আর্থিক খাত ও ওষুধশিল্পে বিদেশি কর্মী ও বিশেষজ্ঞদের ওপর দেশটির ব্যাপক নির্ভরশীলতা রয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

ফেডারেল সরকার ও পার্লামেন্ট উভয়েই এই প্রস্তাবটির বিরোধিতা করছে। ব্যবসায়ীদের সংগঠন ইকোনোমিসুইস প্রস্তাবটিকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে বলেছে যে, এটি দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

সুইস পিপলস পার্টির আইনপ্রণেতা বার্নার্ড বাপস্ট দাবি করেছেন, উন্মুক্ত সীমান্ত নীতির কারণে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব এখন স্পষ্ট হয়েছে।

আরও পড়ুন: স্ত্রী পবিত্র আমানত, মাদক ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি : রাশেদ খান

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে সুইজারল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নাগরিকদের বসবাস ও কাজের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর দেশটির জনসংখ্যা ২৩ শতাংশ বেড়ে গত বছরের শেষে ৯১ লাখে পৌঁছেছে। একই সময়ে অর্থনৈতিক উৎপাদনও ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

উত্তর সুইজারল্যান্ডের সেন্ট গ্যালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রেটো ফেলমি মন্তব্য করেছেন, “আমরা মূলত নিজেদের সাফল্যেরই শিকার।”

গণভোটে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে সরকারকে ২০৫০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা ১ কোটির মধ্যে রাখতে ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি জনসংখ্যা ৯৫ লাখে পৌঁছে যায়, তাহলে আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ, পরিবার পুনর্মিলন কর্মসূচি এবং আবাসিক অনুমতিপত্রের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মানুষের অবাধ চলাচলসংক্রান্ত চুক্তিও বাতিল হলে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটি দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় তাৎক্ষণিক প্রভাব সীমিত থাকবে। তবে জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যাপক রেনে শভোকের মতে, এটি পাস হলে ব্রাসেলসের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশটির অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার।

আরও পড়ুন: উত্তরায় কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতা পিচ্চি সানি গ্রেপ্তার

অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সুইজারল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার ৩২ শতাংশ বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। এই ক্ষেত্রে দেশটির অবস্থান বিশ্বের শীর্ষগুলোর মধ্যে রয়েছে; শুধু লুক্সেমবার্গ এবং অস্ট্রেলিয়া এর ওপরে রয়েছে।

অভিবাসন বিষয়টি ইউরোপের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে দীর্ঘকাল ধরে রয়েছে। জনসংখ্যার বার্ধক্য ও বিদেশি বিরোধী মনোভাব— এই দুই বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে বহু দেশ। সুইজারল্যান্ডেও গত কয়েক দশক ধরে এ ইস্যু নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলমান রয়েছে।

এর আগে ২০১৪ সালে ‘অতিরিক্ত অভিবাসনের বিরুদ্ধে’ শীর্ষক একটি গণভোট অল্প ব্যবধানে পাস হয়েছিল। জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যাবিদ ফিলিপ ভ্যানারের মতে, গণভোটের মাধ্যমে কোনো দেশের জনসংখ্যার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের এমন উদ্যোগ বিশ্বে প্রায় নজিরবিহীন।

অন্যদিকে নিউশাতেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলবিদ এতিয়েন পিগের মন্তব্য করেছেন, অনেক দেশই অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করে, তবে সুইজারল্যান্ডে এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক বহু দশক ধরে অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: জার্মানিতে রাশিয়ার সন্দেহভাজন গুপ্তচর ইউক্রেনীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

সহস্রাব্দের শুরুতে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব আরও প্রবল হওয়ার সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আদলফ ওগি বলেছিলেন, বিদেশিরা আমাদের অর্থনীতি চালায়। পর্যটন খাতের জন্য শ্রমিকের প্রয়োজন, আর সুইজারল্যান্ডের জন্য মেধাবী মানুষেরও প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি জন্ম থেকেই সাংবাদিকবান্ধব দল : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৯ পি.এম


বিএনপি জন্ম থেকেই সাংবাদিকবান্ধব দল : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শেখ শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু, যিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, তিনি উল্লেখ করেছেন যে বিএনপি জন্ম থেকেই সাংবাদিকবান্ধব একটি রাজনৈতিক দল। তিনি বলেন, "আমরা সব সময় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি।"

তবে তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছেন যে, মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে তাদের বিরত থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১২ জুন) বিকেলে ফরিদপুরের সালথা প্রেসক্লাবের ভবন উদ্বোধনের পর এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাকশালকে বিতাড়িত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, "বিগত একটা সময়ে প্রত্যেকটা সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। তখন তিনি সকল সংবাদপত্রকে খুলে দিয়েছিলেন এবং সব সাংবাদিককেও স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও সংবাদ পরিবেশন করার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন।" শহীদ জিয়ার সেই দল ১৭ বছর আন্দোলনের পর একটি সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে সরকারে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, "বিভিন্ন অঞ্চলের সাংবাদিকরা স্বৈরাচারের দ্বারা মতপ্রকাশ ও সঠিক সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে নির্যাতিত হয়েছে। অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে এবং অনেকেই দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। অনেকে আহত ও নিহত হয়েছে এবং তাদের পরিবার বহু কষ্ট ভোগ করেছে ১৭-১৮ বছর। তাদের আমি স্মরণ করছি।"

শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনারা যারা সাংবাদিকরা বিগত সময়ে অত্যন্ত অত্যাচারের মধ্যে থেকেও সত্য সংবাদটি সাহসের সঙ্গে পরিবেশন করেছেন, তাদের এই সাহসিকতার জন্য অবশ্যই সাধুবাদ জানাচ্ছি।"

তিনি উল্লেখ করেন, "বিগত ১৭ বছর সাংবাদিকরা গুলি উপেক্ষা করে নির্ভয়ে সংবাদ পরিবেশন করেছেন। তৎকালীন বিএনপি পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। উনারা যদি সঠিক সংবাদ পরিবেশন না করতেন, তাহলে সারাদেশের মানুষ জানতেই পারতেন না স্বৈরাচারের দ্বারা মানুষ কি ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।"

শামা ওবায়েদ বলেন, "৫ আগস্টে যে অত্যাচার ও নির্যাতন চালানো হয়েছিল, সেই সংবাদটি সাংবাদিকরা সুষ্ঠুভাবে পরিবেশন করেছিলেন। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের সংবাদ পরিবেশন করেছেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন, উপজেলা, গ্রামে আমাদের নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হয়েছেন, সেই সংবাদ পরিবেশন করেছেন। এজন্য দলের পক্ষ থেকে আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাতে চাই।"

তিনি সাংবাদিক পেশাকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পবিত্র পেশা হিসেবে মর্যাদা দিতে বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, "আপনারা যেমন সংবাদ প্রকাশ করতে সক্ষম হন, তেমনি অনেক সাংবাদিক অনেক সংবাদপত্রে ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করছেন। এই কারণে বিএনপি সরকার সোচ্চার রয়েছে। সুতরাং আমাদের মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে।"

এর আগে তিনি ফিতা কাটার মাধ্যমে ও দোয়ার মধ্য দিয়ে প্রেসক্লাবের ভবনের উদ্বোধন করেন। পরে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকেও তাকে ক্রেস্ট ও ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সার্কেল) মুহাম্মদ আল ফাহাদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুন সরকার, সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আতাউর রহমান, যুবদল নেতা এনায়েত হোসেন এবং হাসান আশরাফ প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছিনতাইচেষ্টার সময় রিকশা থেকে পড়ে প্রাণ গেল এক নারীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:২৩ পি.এম


ছিনতাইচেষ্টার সময় রিকশা থেকে পড়ে প্রাণ গেল এক নারীর

রাজধানীতে ছিনতাইকারীর টানাহেঁচড়ায় চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার চারদিন পর একজন নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত সোহেলি ইসলাম, যিনি মেয়েকে নিয়ে বাসায় ফেরার সময় এই ঘটনার শিকার হন। গত রবিবার ভোরে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর, চারদিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।

স্বজনদের কথায় জানানো হয়েছে, সোহেলি ইসলাম বাস থেকে নেমে রিকশায় করে মেয়েকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী তার হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ টানতে শুরু করে। এক পর্যায়ে তিনি চলন্ত রিকশা থেকে নিচে পড়ে যান। সেই ঘটনায় তার ডান হাত ভেঙে যায় এবং মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত লাগে। তাঁর কান দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তারপর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত সোহেলির বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায়। তিনি এসকেএফ ওষুধ কোম্পানিতে মেডিক্যাল সার্ভিস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ঢাকার ধানমন্ডির গ্রীন রোড সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। স্বজনরা জানান, কয়েক দিন আগে পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মেয়েসহ তিনি পার্বতীপুরে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে শনিবার রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে রবিবার ভোরে গাবতলীতে নামেন। সেখান থেকে রিকশায় বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইকারীর হামলার শিকার হন।

সোহেলির বোনের স্বামী তরিকুল ইসলাম জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি অনেকের কাছে সাহায্য চাইতে থাকেন কিন্তু প্রথমে কেউ সাহায্যে এগিয়ে আসেননি। পরে রিকশাচালকসহ একজনের সহায়তায় হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়। তখন সোহেলি কথা বলতে পারছিলেন না।

এ ঘটনায় বর্তমানে থানায় কোনো মামলা হয়নি। স্বজনরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার ভীমপুর তদন্ত কেন্দ্র আকস্মিক পরিদর্শন করেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ মাহবুব আলম শাওন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:২৫ পি.এম


নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার ভীমপুর তদন্ত কেন্দ্র আকস্মিক পরিদর্শন করেন

 

অদ্য ১২ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ নওগাঁ জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মহোদয় ভীমপুর তদন্ত কেন্দ্র আকস্মিক পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি তদন্ত কেন্দ্রের সার্বিক কার্যক্রম, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন কার্যক্রম, মামলা তদন্তের অগ্রগতি এবং দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনা করেন।

এ সময় পুলিশ সুপার মহোদয় তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং জনগণকে আরও উন্নত ও মানসম্মত পুলিশি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ, পেশাদারিত্ব বজায় রাখা, তদন্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শনের সময় তদন্ত কেন্দ্রের অবকাঠামোগত অবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন। তিনি কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি ও কর্মদক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিন হাজার ফুটের পতাকা নিয়ে নরসিংদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:২৯ পি.এম


তিন হাজার ফুটের পতাকা নিয়ে নরসিংদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস

ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে চলছে উন্মাদনার দুরন্ত ছোঁয়া, যা নরসিংদীতেও স্পষ্ট। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে, নরসিংদীর পলাশ উপজেলার পলাশ বাজার থেকে শুরু করে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা তিন হাজার তিনশত ফুট বিশাল পতাকা নিয়ে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠিত করেছেন।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকালে, পলাশ বাজার এলাকা থেকে শুরু হওয়া র‌্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষে পলাশ বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছায়। শিশু, যুবক থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী কয়েক হাজার আর্জেন্টিনা সমর্থক এই বিশাল আনন্দ র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন।

র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারী সমর্থকদের গায়ে ছিল আর্জেন্টিনা দলের জার্সি। অনেকে হাতে ধরে রেখেছিল আকাশী-সাদা রঙের জাতীয় পতাকা। বাঁশির সুর, ঢাক-ঢোল ও বাদ্যের তালে নেচে-গেয়ে তারা প্রিয় দল ও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি-এর প্রতি তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করেন। পুরো এলাকা তাদের বিভিন্ন স্লোগানে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

র‌্যালি চলাকালে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও এই আয়োজন উপভোগ করেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারন করেন। রঙিন এই আয়োজনের কারণে পুরো এলাকায় ভিন্নমাত্রার উৎসব অনুভূত হয়।

আয়োজকরা জানান, বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের সাফল্য কামনার পাশাপাশি ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্যই এ আয়োজন করছে। পাশাপাশি, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলার বার্তাও এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেয়া হয়েছে।

র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, খেলাধুলা সম্প্রীতি ও সৌহাদ্যের বার্তা নিয়ে আসে। বিশ্বকাপ ঘিরে বিভিন্ন দলের সমর্থকদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হলেও, তা যেন সুস্থ প্রতিযোগিতা ও আনন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, সেটিই তাদের প্রত্যাশা। শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া সমর্থকরা আসন্ন বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা আবারো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মেসির ক্যারিয়ারের শেষ সীমায় এসে আরেকটি বিশ্বকাপ জয় দেখার প্রত্যাশাও তারা রাখেন।

এছাড়া, তারা সময় টেলিভিশনকে সরাসরি খেলা প্রচার করার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%