মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:২১ এম
নিউজিল্যান্ডে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের জন্য আগাম ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সোমবার, ২৬ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে ভোটাররা আগাম ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। মূল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৭ নভেম্বর। জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং জনসেবা নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
ক্ষমতায় থাকার জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাকসনের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল পার্টি। অপরদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্রিস হিপকিন্সের নেতৃত্বে লেবার পার্টি আবার সরকার গঠনের চেষ্টা করছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি, মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্ব পাচ্ছে।
নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলোতে দুই প্রধান দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ২০ অক্টোবর প্রকাশিত একটি জরিপে ন্যাশনাল পার্টি ৩২ শতাংশ এবং লেবার পার্টি ২৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে। এর আগের দিন প্রকাশিত আরেক জরিপে লেবার পার্টি ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ন্যাশনাল পার্টি ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ সমর্থন পায়। ফলে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ন্যাশনাল ও লেবার পার্টির পাশাপাশি অ্যাক্ট, নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট, গ্রিন পার্টি, তে পাতি মাওরি এবং অপরচুনিটি পার্টিও নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে অপরচুনিটি পার্টি সংসদে আসন পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশ দলীয় ভোটের কাছাকাছি সমর্থন পাওয়ায় নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
নিউজিল্যান্ডে মিশ্র-সদস্য আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা এমএমপি পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটাররা দুটি ভোট দেন। একটি নিজ নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীর জন্য, অন্যটি পছন্দের রাজনৈতিক দলের জন্য। সাধারণত কোনো দলকে সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে আসন পেতে দলীয় ভোটের অন্তত ৫ শতাংশ পেতে হয়, অথবা একটি নির্বাচনী আসনে জয়ী হতে হয়। কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনের জন্য অন্য দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে হয়।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আগাম ভোটের প্রথম দিনে দেশজুড়ে ২০৭টি ভোটকেন্দ্র খোলা হয়েছে। নির্বাচনের দিন ৭ নভেম্বর ২ হাজার ৩০০টির বেশি ভোটকেন্দ্র চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার পর প্রাথমিক ফল প্রকাশ শুরু হবে। চূড়ান্ত সরকারি ফল ঘোষণা করা হবে ২৭ নভেম্বর। তথ্যসূত্র: বিবিসি, রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান ও বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, নতুন সুযোগ এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে পরিণত করার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান এবং পারস্পরিক লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও বৃদ্ধি করতে চায়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-এ অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে উভয় দেশের জন্য একটি আরও সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। এমন একটি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে, যা বর্তমান প্রজন্মের কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী ভিত্তি তৈরি করবে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, "বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্য দুই দেশের বন্ধুত্বের ভিত্তি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান প্রথম দিকেই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), রেলপথ, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ অঙ্গীকার করেছে। সম্পর্ক আরও গভীর করতে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে চুক্তি ও সমঝোতা বিনিময়ও হয়েছে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে জাপানের বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী পর্যায়ে জাপানি অংশীদারদের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম পর্বের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ৪০ জনের বাইরে থাকা বাকি প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই, এমনটাই জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকালে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম আসরে ১ লক্ষ ৬৮ হাজার অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মধ্যে থেকে ৩০৬ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে ৪০ দিনব্যাপী ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন কারণে অনেক খেলোয়াড় শেষ পর্যন্ত বিকেএসপিতে পৌঁছাতে পারেননি বা সুযোগ পাননি। এ পরিস্থিতিতে তাদের মেধা ও পারফরম্যান্সকে টিকিয়ে রাখার জন্য সরকার বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের পাশাপাশি ১৫, ১৬ বা ১৭ বছর বয়সী যেসব খেলোয়াড় বয়স বা অন্যান্য কারণে এই দফায় সুযোগ পাননি, তাদেরকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন লিগে খেলানোর ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় আসরে তারা ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে বিকেএসপিতে সুযোগ পাওয়ার এবং নিজেদের প্রতিভা প্রমাণ করার পূর্ণ সুযোগ পাবেন।
আমিনুল হক বলেন, সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন ও পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম আসরে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে কাজ করা হলেও ১৫ বা ১৬ বছর বয়সি খেলোয়াড়দের ধরে রাখার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এই লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’র দ্বিতীয় আসরে প্রায় ১৬ লক্ষ ২৩ হাজার ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৪ লক্ষ ক্রীড়াবিদ ৪৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠন করে পারফর্ম করবে।
তিনি আরও জানান, ১৫, ১৬ বা ১৭ বছর বয়সী এসব খেলোয়াড়কে সারা দেশের প্রতিটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন লিগে খেলানোর মাধ্যমে ধরে রাখা হবে। সরকারের এই বহুমুখী পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সব প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে তুলে আনা সম্ভব হবে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে বাংলাদেশের ৫০৩টি উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একযোগে দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করবেন বলেও উল্লেখ করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল। তিনি জানান, এই আসরে খেলোয়াড়েরা ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত খেলোয়াড়দের পুনরায় বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের স্থায়ীভাবে বিকেএসপিতে ভর্তি করিয়ে তাদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকার বহন করবে।
উল্লেখ্য, প্রথম আসরে ১ লক্ষ ৬৮ হাজার অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ৩০৬ জন প্রতিভাবান খেলোয়াড় পাওয়া গেলেও বিভিন্ন কারণে অনেকেই বিকেএসপিতে পৌঁছাতে পারেননি। এ ধরনের খেলোয়াড়দের পরবর্তী আসরে তাদের পারফরম্যান্স প্রদর্শনের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে আবারও অংশগ্রহণের সুযোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইথিওপিয়ার ওরোমিয়া অঞ্চলে ধারাবাহিক হামলার ফলে ৬০ জনেরও বেশি খ্রিস্টান নিহত হয়েছেন। দেশটির অর্থোডক্স চার্চের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ওই অঞ্চলে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে মারাত্মক সহিংসতা। গির্জার একজন কর্মকর্তা এটিকে ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে, নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও হামলা থামাতে সক্ষম হয়নি।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর ও ২৪ অক্টোবর দুই দফার হামলায় ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে। হামলার ফলে প্রায় ২০টি বাড়ি পুড়ে গেছে। জীবন বাঁচাতে অনেক স্থানীয় বাসিন্দা ইতিমধ্যে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
হামলার শিকার একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ৭৫ বছর বয়সী বাবাকে হারানোর ঘটনায় হামলাটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। হামলাকারীরা তাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেছিল এবং তারা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিলেন।
এ নৃশংসতার জন্য একজন স্থানীয় কর্মকর্তা ‘অ্যালায়েন্স ফর সারভাইভাল’ নামের একটি নবগঠিত বিদ্রোহী জোটকে দায়ী করেছেন, যা ওরোমো লিবারেশন আর্মি (ওএলএ) এর সাথে যুক্ত। তবে ওএলএ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স তেওয়াহেদো চার্চের পবিত্র সিনডের প্রকাশিত বিবৃতিতে নির্দিষ্টভাবে কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি, কিন্তু সরকার অতীতে এসব হামলার জন্য ওএলএ কে দায়ী করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ পূর্বে মন্তব্য করেছিলেন যে, বেসামরিক নাগরিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি পরিকল্পনা চলছে।
অর্থোডক্স চার্চ সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, খ্রিস্টানদের ওপর হামলা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করছে। চার্চের পক্ষ থেকে সরকারের বিভিন্ন স্তরে নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি জানানো হলেও কোনো সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে, বেসরকারি সংস্থা ‘ইথিওপিয়ান হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল’-এর ২০২৬ সালের জুলাইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত চার বছরে ওই এলাকায় বিভিন্ন হামলায় ৪৫৮ জন নিহত হয়েছেন। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বিশেষ করে অর্থোডক্স চার্চের অনুসারীদের লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানোয় এগুলোকে ধর্মীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে এই অঞ্চলে মুসলিমদের ওপর হামলার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই চলমান সহিংসতাকে জাতিগত ও ধর্মীয়—উভয় প্রকৃতির বলেই বর্ণনা করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, বারবার ঘটে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০০৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ মোট ২ হাজার ৯৫৭ জন নিহত হয়েছে। পুলিশের অভিযানে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে পুলিশের হাতে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৭১ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৬ শতাংশ। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) অভিযানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আসকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে র্যাবের হাতে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন ১ হাজার ২০০ জন। এছাড়া পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে একই ধরনের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরো ৬৯ জন। সব মিলিয়ে পুলিশ, র্যাব এবং তাদের যৌথ অভিযানে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৪০ জন।
দীর্ঘ সময় ধরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে এসব মৃত্যুর ঘটনা মানবাধিকার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণিত এসব ঘটনার ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে আসকের পরিসংখ্যান মূলত বিভিন্ন সময়ে নথিভুক্ত মৃত্যুর সংখ্যা তুলে ধরে, প্রতিটি ঘটনার পরিস্থিতি বা দায় নির্ধারণের জন্য পৃথক তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
আসকের বার্ষিক প্রতিবেদনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পর থেকে পুলিশ কিংবা র্যাবের হাতে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ কোনো ব্যক্তির নিহত হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে এসব বাহিনীর অভিযানে মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হওয়ার পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের ক্ষেত্রে এমন তথ্য না থাকার বিষয়টি পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে উঠে এসেছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ২০২৪ সালের পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অন্য কোনো অভিযানে এ ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। আসকের তথ্য বলছে, এ সময়েও অন্যান্য বাহিনীর অভিযানে ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে একজন নিহত হন। ২০২৫ সালে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। আর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে একজন নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ পুলিশ ও র্যাবের হাতে এমন মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত না হলেও অন্যান্য বাহিনীর ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
আসকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ, র্যাব, তাদের যৌথ অভিযান এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন মোট ২ হাজার ৯৫৭ জন। এর মধ্যে পুলিশের অভিযানে নিহতের সংখ্যা সর্বোচ্চ। র্যাবের অভিযান রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। পাশাপাশি যৌথ অভিযান এবং অন্যান্য বাহিনীর অভিযানে মৃত্যুর ঘটনাও এই দীর্ঘ সময়ের পরিসংখ্যানে স্থান পেয়েছে।
প্রসঙ্গত, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বর্তমানে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে পরিচিত। দীর্ঘ ২২ বছরের এই পরিসংখ্যান দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানসংক্রান্ত প্রাণহানির একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে এসব ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার গুরুত্বও সামনে নিয়ে আসে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ