ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জেতায় বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর


অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জেতায় বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডে সিরিজে হারিয়ে বাংলাদেশ ইতিহাস তৈরি করেছে। মিরপুরে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ৫ উইকেটে পরাজিত করেছে স্বাগতিকরা।

এই ঐতিহাসিক জয় পাওয়ার জন্য অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিষয়টি ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’ নামক ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। পোস্টটিতে বলা হয়েছে— অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয় করায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় ৫০ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) রাজধানীর মিরপুরে শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টাইগাররা বৃষ্টি আইনে ৫ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করে।

এভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এক ম্যাচ হাতে রেখেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে। এর আগে, একই মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ৮৬ রানের জয় পেয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশাবাদ প্রকাশ করেছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং দেশের তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আরো বেশি আগ্রহী করে তুলবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলোয়াড়দের দলগত ঐক্য, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস বজায় রেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিশ্ব ক্রিকেটে আরো বড় সাফল্য অর্জন করবে।

আরও পড়ুন: নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের দাবি জানালো নিসচার

এ অর্জনের জন্য তিনি সকল খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৩৬ বল বাকি থাকতেই বাংলাদেশ ৫ উইকেটের জয় অর্জন করে। একই সাথে, মিরপুরে অনুষ্ঠিত প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ৮৬ রানের জয় পেয়েছিল। সিরিজের শেষ ও তৃতীয় ওয়ানডে আগামী ১৪ জুন অনুষ্ঠিত হবে, ভেন্যু আবারও মিরপুর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণবিরোধী বাজেট দাবি করে রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ পি.এম


গণবিরোধী বাজেট দাবি করে রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল

বাজেট উপস্থাপনের পরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সংসদে উপস্থাপিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাংলাদেশের ইতিহাসে বৃহত্তম বাজেট হলেও, এই বাজেটে জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এর আগে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট উপস্থাপনের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে সমাবেশে অংশ নেয় দলটি।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সরকার জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে দলীয়কর্মী পালনের বাজেট উপস্থাপন করেছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের অর্থমন্ত্রী যে বাজেট উপস্থাপন করেছেন, সেই বাজেট গণবিরোধী ও লুটপাটের বাজেট। এই বাজেটে জুলাই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নেই। পুরনো ব্যবস্থার বাজেটের চিত্র এভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

এই বাজেট বিশাল ঋণনির্ভর বাজেট। এ বাজেটে ঋণ ও করের বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়ে সরকার গণবিরোধী বাজেট উপস্থাপন করেছে।’

দলীয় কর্মীদের লুটপাটের জন্য বাজেটের আকার বৃদ্ধি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন বরাদ্দের তহবিল সরাসরি যাবে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের পকেটে। যারা বাজেট প্রণয়ন করেছে তারা ধনী শ্রেণির। তারা ধনীবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করেছে।

তারা গরিবের দুঃখ-কষ্ট বুঝে না। এ জন্য গরিববান্ধব বাজেট প্রণয়ন করতে পারেনি। বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলে জনবান্ধব বাজেট উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। বাজেটের ৭০ শতাংশ চলে যাচ্ছে পরিচালন ব্যয় হিসাবে! তাহলে জনগণ বাজেট দিয়ে কী উপকৃত হবে, সেটি সরকার বিবেচনা করেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হামিদুর রহমান আযাদ মনে করিয়ে দেন, ‘সরকারের উপস্থাপিত বাজেট থেকে ১ লাখ কোটি টাকার কম বাজেট প্রস্তাব করেছে জামায়াতে ইসলামী।

কারণ জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত বাজেটে দলীয় কর্মীদের পালন করা হবে না, লুটপাটের সুযোগ থাকবে না, দুর্নীতি হবে না। জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত বাজেট সরাসরি জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে। তাই সরকারকে বাজেট সংশোধন করে জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত বাজেট অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনটি লাইনীয় বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘নতুন উপস্থাপিত বাজেটের মধ্যে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে! যার মধ্যে এনবিআরকে একাই তুলতে হবে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল রাজস্ব আদায়ের চাপ সামলাতে গিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর আগাম কর (Advance Tax), কাস্টমস ডিউটি এবং বিভিন্ন সেবার ওপর পরোক্ষ কর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা ৩.৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩.৭৫ লাখ করার প্রস্তাব রয়েছে, তবে পরোক্ষ করের খড়গ সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে দেবে। এই বিশাল রাজস্ব আদায়ের ফলে জনগণের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। দরিদ্র জনগোষ্ঠী অধিক দারিদ্র্যতার সম্মুখীন হবে।

তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, উপস্থাপিত বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। (যা জিপিডির প্রায় ৩.৬%)। এই ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি সরকার ব্যাংক থেকে এত বিপুল পরিমাণ টাকা ধার করে, তবে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যেতে পারে (Crowding-out effect)। ফলে নতুন ব্যবসা শুরু করা বা শিল্প প্রসারে উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় ঋণ পাবেন না, যা সামগ্রিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে স্থবিরতা আনতে পারে। সরকারের উপস্থাপিত বাজেটে একদিকে করের বোঝায় জনগণ পিষ্ট হবে, অন্যদিকে ঋণের বোঝায় দেশ কাবু হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল উল্লেখ করেন, ‘বাজেটের আকার বিশাল হলেও বাজেট জনবান্ধবের পরিবর্তে দলীয়বান্ধব বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে।

উপস্থাপিত বাজেটে সরকার দলীয় ব্যবসায়ী, দলীয় সন্ত্রাসী আর চাঁদাবাজদের সুবিধা দিয়েছে। সুতরাং এই সরকারকে জনবান্ধব সরকার বলা যায় না। এই সরকার পরিপূর্ণভাবে দলীয়বান্ধব সরকার।’ অতিথিরা জানান, জনবান্ধব বাজেট উপস্থাপন না করতে পারলে জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত বাজেট অনুসরণ করতে সরকারকে আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে, এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেনের পরিচালনায় বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শামছুর রহমান প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী জাতির প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পরিবর্তে সরকার পুরনো ব্যবস্থার গতানুগতিক ধারার বাজেট উপস্থাপন করেছে। সরকারের উপস্থাপিত বাজেট গণবিরোধী ও লুটপাটের বাজেট। এই বাজেটে জনগণকে শোষণ করার বাজেট পরিণত হয়েছে। একজন সাধারণ নাগরিক একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে টিন সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক উপস্থাপন করার বিধান যুক্ত করে সরকার জনগণের পকেট কাটার বাজেট উপস্থাপন করেছে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি ও মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সালাম, মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ড. মোবারক হোসেন, শাহীন আহমেদ খান, মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমনসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ শেষে, বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগর প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী হাজার হাজার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন সরকারের উপস্থাপিত বাজেট সংশোধন করে জনবান্ধব বাজেট ঘোষণা দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আশাবাদে ভারাক্রান্ত সুলিখিত বাজেট, বাস্তবায়নে অনিশ্চিয়তা প্রকট: ইসলামী আন্দোলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ পি.এম


আশাবাদে ভারাক্রান্ত সুলিখিত বাজেট, বাস্তবায়নে অনিশ্চিয়তা প্রকট: ইসলামী আন্দোলন

বাজেটে এত অধিক আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে যে, বাজেটকে আশাবাদে ভারাক্রান্ত বলেই মনে হচ্ছে। অথচ বাস্তবায়ন করা এই বাজেট কঠিন হবে। সুতরাং, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এই বাজেটকে সুলিখিত বলে উল্লেখ করেছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম-মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পেশকৃত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের উপরে প্রদত্ত তৎক্ষণাৎ এক প্রতিক্রিয়াতে এসব কথা বলেছেন।

বাজেট বক্তৃতায় জুলাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে, যেখানে “সমাজ-সংস্কৃতির বুনন, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন”, জনমিতিকি লভ্যাংশ, দীর্ঘজীবিতা লভ্যাংশ ও গণতান্ত্রিক লভ্যাংশের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। “স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ন্যায্যতা”কে মূল বিবেচনা করেই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো সাধুবাদযোগ্য। তবে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির আশাবাদ, মূল্যস্ফীতি ৭.৫ এ নামিয়ে আনা এবং ৬.৫ প্রবৃদ্ধির লক্ষমাত্রা অর্জন করা, বর্তমান বাস্তবতায় অত্যন্ত কঠিন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাজেট বক্তৃতায় ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অস্থির বিশ্বরাজনীতির কথাও আলোচনা করা হয়েছে কিন্তু এর পরেও এমন আশাবাদ ব্যক্ত করা কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বলেই মনে হচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে, জনগণকে অপ্রাপ্তিযোগ্য আশা না দিয়ে বাস্তবভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র বলেছেন বাজেট বক্তৃতায় ২০৩০-৩১ অনু্ষ্ঠানে দেশে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.৫ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপি'র ২.৭ শতাংশে উন্নীত করা এবং মোট বিনিয়োগকে জিডিপি'র ৪০ শতাংশে উন্নীত করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। এ সকল লক্ষ্যই চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে কর ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আনার মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি রোধ করা, রাজস্ব-জিডিপি'র অনুপাত বাড়ানো যা বর্তমানে ৬.৮ শতাংশ এবং যা ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে ৯.৬ শতাংশে উন্নত করার আশা ব্যক্ত করা হচ্ছে, সেগুলোও চ্যালেঞ্জিং সমস্যা। কারণ রাজস্ব আদায় পদ্ধতি ও চর্চা বর্তমানে দুর্নীতি ও অদক্ষতায় নিমজ্জিত রয়েছে। এই খাতে সংস্কার আনতে অন্তর্বতী সরকারকে প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়েছিল।

ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতির যে আশাবাদকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে, সেখানেও রাজনৈতিক অস্থিরতা, নীতি দুর্বলতা, সংস্কার নিয়ে সরকারের অনিহা বিনিয়োগের জন্য অদৃশ্য বাঁধা হয়ে আছে।

ব্যাংক ও আর্থিক খাতে যা প্রতিশ্রুতি ও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে, তার বাস্তবতা এখন পর্যন্ত নেই। ব্যাংকের প্রতি রাজনৈতিক ব্যক্তিকে বসানো এবং ইসলামী ব্যাংকে রাজনৈতিক কারণে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। খেলাপি ঋণ হ্রাসের পাশাপাশি ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিলের ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এখনই দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই।

বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি, পরিচালন ব্যয় হ্রাস করা এবং ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ গ্রহণ কমিয়ে আনার নীতিকে সাধুবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে সম্পদ সঞ্চালনে বিশেষভাবে শিক্ষা ও মানবসম্পদ, স্বাস্থ্য, দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো, স্থানীয় সরকার ও গ্রামীণ উন্নয়ন, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই খাতগুলোর বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায়।

ধর্মীয় উপাসনালয়ের নেতৃত্বকে সম্মানি বাবদ ১,০৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব একটি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। তবে দেশের সকল মসজিদের ইমামদের এ প্রকল্পের আওতাভুক্ত করার দাবি জানানো হচ্ছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র বলেছেন, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর ও কর্পোরেট কর না বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিদ্যমান করসীমার ভেতরে আদায়যোগ্য কর আদায় করতে পারলে এই বরাদ্দে কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না।

মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্য, যেমন-ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ, ১ শতাংশ হতে কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাবকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। একই সাথে স্বাস্থ্য খাতে কর ছাড়ের অংশ হিসেবে কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফ করার প্রস্তাবকেও একটি ভালো প্রস্তাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, এই সরকার সব অর্থেই একটি নতুন সরকার। তাদের প্রস্তাবিত বাজেটকে ইতিবাচকভাবে দেখা যেতে পারে তবে এই বাজেট বাস্তবায়নে নজর রাখা হবে তাদের ওপর। আগামী অর্থ বছরে তাদের প্রকৃত দক্ষতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পাবে। বাজেট সম্পর্কে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খার্গ দ্বীপ রক্ষায় যেসব প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান: সিএনএন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫৯ পি.এম


খার্গ দ্বীপ রক্ষায় যেসব প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান: সিএনএন

ইরানের খার্গ দ্বীপে মার্কিন সামরিক অভিযানের আশঙ্কায় দেশটি কয়েক মাস ধরে ব্যাপক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানাচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বীপটিতে হামলার হুমকি দেওয়ার পর এই প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির বিষয়টি আবারও গুরুত্ব পায়।

গত মার্চে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলার পরপরই ইরান খার্গ দ্বীপে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের ঝুঁকি প্রসঙ্গক্রমে প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা আরও বৃহৎ আকারে সম্প্রসারিত হয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, দ্বীপের প্রতিরক্ষায় ইরান অতিরিক্ত স্বল্প-পাল্লার, কাঁধে বহনযোগ্য ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপের জন্য ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা (ম্যানপ্যাডস) মোতায়েন করেছে। এইসব ব্যবস্থা মূলত কম উচ্চতায় উড্ডয়নকারী বিমান ও হেলিকপ্টার এড়াতে ব্যবহৃত হয়।

এছাড়া, সম্ভাব্য স্থল অভিযান প্রতিহত করার জন্য দ্বীপটির বিভিন্ন স্থানে স্থলমাইন স্থাপন করা হয়েছে বলে সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে দ্বীপের উপকূলীয় এলাকায় এসব বিস্ফোরক বসানো হয়েছে, যেখানে মার্কিন সেনাদের অবতরণের ঝুঁকি থাকতে পারে।

খার্গ দ্বীপকে ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে মনে করা হচ্ছে। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের মাধ্যমে রফতানি করা হয়, ফলে দ্বীপটির নিরাপত্তা ইরানের জন্য কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।

মার্কিন সামরিক ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের কোনো অভিযান পরিচালনা করে, তাহলে সেটা অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হবে এবং এতে বড় ধরনের প্রাণহানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:০২ পি.এম


চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ. কে. এম. শামছুল ইসলাম চট্টগ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা, শিল্প ও সামরিক স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন।

বৃহস্পতিবার পরিদর্শনকালে তিনি নৌবাহিনীর ঘাঁটি বানৌজা ঈসা খানে অবস্থিত আইএফএফ (IFF) সেন্টার, সেন্টার ফর নেভাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (CNRD) এবং চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (CDDL)-এর কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ‘আইএফএফ সেন্টার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের সমুদ্রসীমায় সকল জাহাজের গতিবিধি, তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও সংরক্ষণ করে থাকে। এটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নজরদারি কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

অপরদিকে, সিএনআরডি হল নৌবাহিনীর একটি গবেষণা ও উদ্ভাবনমুখী প্রতিষ্ঠান যেখানে জ্বালানি পরিশোধন প্রযুক্তি, ড্রোন উন্নয়ন এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড-এর কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন। এই প্রতিষ্ঠানটি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজসহ বিভিন্ন বেসামরিক জাহাজের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং দেশের সামুদ্রিক শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

এ সময় তিনি চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড-এর সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে মেড ইন বাংলাদেশ নীতির আলোকে চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড-এর গুরুত্ব অপরিসীম বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড-এর পেশাগত ও কারিগরি দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এছাড়া তিনি কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড এবং ওয়েস্টার্ন মেরিন লিমিটেড পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান সক্ষমতা, চলমান প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের অগ্রগতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং দক্ষ জনশক্তির প্রশংসা করেন। তিনি দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জাহাজ নির্মাণ শিল্প এবং প্রতিরক্ষা খাতের টেকসই উন্নয়নে সকলকে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%