ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সুন্দরগঞ্জে আগুন পুড়ল অর্ধকোটি টাকার সম্পদ


সুন্দরগঞ্জে আগুন পুড়ল অর্ধকোটি টাকার সম্পদ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের ফোরকানিয়া বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যেখানে ১১টি দোকানঘর আগুনে পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রাথমিক তথ্যমতে এ ঘটনায় প্রায় অর্ধকোটি টাকার সম্পদ এতে পুড়ে গেছে। এ অগ্নিকাণ্ডটি শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. কামরুজ্জামান মিয়া উল্লেখ করেন, ভোরে মো. লেবু মিয়ার মুদি দোকানে একটি বিকট শব্দ শোনা যায়। তারপরেই দোকানের ভিতর থেকে আগুনের দাউ দাউ শিখা বের হতে দেখা যায়। নিমেষের মধ্যে মুদি দোকান, ওষুধের দোকান, চায়ের দোকান, কনফেকশনারী, টেলিকম, কাঁচামাল, কীটনাশকের দোকানসহ মোট ১১টি দোকানে আগুন লেগে যায়। খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে স্থানীয় জনতা আগুন নিভানোর চেষ্টা চালায়। সুন্দরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মো. লিটন মিয়া জানান, ভোরে খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে এসে তাঁরা আগুন নিভাতে সক্ষম হন।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য হিসাব নিকাশ চলছে। তবে নগদ অর্থসহ সব মিলিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুতের শটসার্কিটের ফলে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। যাদের দোকান আগুনে পুড়ে গেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন মো. লেবু মিয়া, মো. আজিজুর রহমান, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. নওশা মিয়া, মো. কামরুজ্জামান মিয়া, মো. আল আমিন মিয়া, মো. জাহেদুল ইসলাম, পল্লী চিকিৎসক মো. মোহাইমেন, মো. আনারুল ইসলাম, মো. আব্দুর রহমান এবং মো. আল আমিন।

আরও পড়ুন: আল্লাহর জিকির মুমিনের আত্মিক উন্নতি ও প্রশান্তির অন্যতম মাধ্যম -ছারছীনার পীর ছাহেব।

পুড়ে যাওয়া দোকানের মালিক মো. কামরুজ্জামান বলেন, প্রায় সমস্ত দোকানের ঘর ও মালামাল পুড়ে গেছে। এছাড়া অনেকের নগদ অর্থও পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ দোকানদারদের মধ্যে অনেকে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। শান্তিরাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতার কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি জানান, চেয়ারম্যানের নিকট থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা চাওয়া হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুলাদীতে খালাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে খালে পড়ে শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ পি.এম


মুলাদীতে খালাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে খালে পড়ে শিশুর মৃত্যু

বরিশালের মুলাদীতে খালাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে খালের পানিতে ডুবে কাইফ (৩) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে উপজেলা কাজিরচর ইউনিয়নের খাসেরহাট গোঁজা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কাইফ পার্শ্ববর্তী হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়ি ইউনিয়নের মাউলতলা গ্রামের আবুল খায়ের হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিশু কাইফের মা অসুস্থ থাকায় গত শুক্রবার চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশালের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। হাসপাতাল থেকে ফিরতে রাত হয়ে যাওয়ায় তারা পথিমধ্যে মুলাদীর খাসেরহাট এলাকায় কাইফের খালার বাড়িতে আশ্রয় নেন।

ঘটনার দিন শনিবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা কাজে ব্যস্ত থাকার সময় অজান্তে বাড়ির পাশের খালে পড়ে যায় কাইফ। কিছুক্ষণ পর তাকে দেখতে না পেয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন তার স্বজনেরা। একপর্যায় খাল থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহরাজ হায়াৎ জানান, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে জরুরি বিভাগে আনা হয়। হাসপাতাল পৌঁছানোর আগেই কাইফের মৃত্যু হয়েছিল। মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁ ক্যাডেট এএসআই নিরস্ত্র পদে নিয়োগ-২০২৬ এর প্রথম দিনের কার্যক্রম সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ মাহবুব আলম শাওন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ পি.এম


নওগাঁ ক্যাডেট এএসআই নিরস্ত্র পদে নিয়োগ-২০২৬ এর প্রথম দিনের কার্যক্রম সম্পন্ন

 

অদ্য ২১ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে নওগাঁ জেলা পুলিশে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ-২০২৬ এর প্রথম দিনের কার্যক্রম সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম দিনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের শারীরিক মাপ গ্রহণ এবং কাগজপত্র যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

নওগাঁ জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মহোদয়ের সভাপতিত্বে সকাল ৮টায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পরিচালিত হয়।

এ সময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে আগত সম্মানিত পুলিশ সুপার মহোদয়, জয়পুরহাট ও রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, নওগাঁ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং নিয়োগ কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন পর্যায়ের অফিসার ও পুলিশ সদস্যগণ সার্বিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

বাংলাদেশ পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়া মেধা, যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে থাকে। যোগ্য ও দেশসেবায় নিবেদিতপ্রাণ তরুণ-তরুণীদের বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবময় বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে এ নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে

কাউখালীতে রাস্তার উপরে সাঁকো দিয়ে মানুষের চলাচল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ পি.এম


কাউখালীতে রাস্তার উপরে সাঁকো দিয়ে মানুষের চলাচল

 

পিরোজপুরের কাউখালীতে, উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সাউদার খাল এলাকা থেকে বড় শাপলাজা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সহজেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার বিভিন্ন অংশের মাটি, ধসে ও ভেঙে যাওয়ার ফলে, এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জীবনযাত্রার ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। ভাঙা অংশগুলো পারাপারের জন্য, স্থানীয়রা রাস্তার ওপরেই তাদের নিজস্ব উদ্যোগে অস্থায়ী কাঠের বা বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামান্য বৃষ্টি কিংবা জোয়ারের পানিতে রাস্তার অধিকাংশ অংশ সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়। ফলে তখন চলাচল আরও বিপজ্জনক হয়ে যায়। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শাপলাজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়তুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা, একটি এতিমখানা ও একটি কওমি মাদ্রাসাসহ অন্তত পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী জীবন-ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। এর সাথে এলাকার সাধারণ মানুষও এই সড়ক ব্যবহার করে মোল্লারহাট ও পাঙ্গাসিয়া বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াত করেন। সড়কটির বেহাল দশার কারণে পুরো এলাকার মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছে, "প্রতিদিন স্কুলে যেতে আমাদের এই বিপজ্জনক সাঁকো পার হতে হয়। অনেক সময় পা পিছলে বই-খাতা নিয়ে নিচে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।" এলাকা বাসিন্দা মিরাজ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, "বহু বছর আগে সাবেক ইউপি সদস্য নূরে আলম মীর এই রাস্তার সংস্কার করেছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে আর কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।" রাস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে, স্থানীয় ইউপি সদস্য এনায়েত হোসেন বলেন, "সরকারি বরাদ্দ পেলে আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করব।" একই বিষয়ে শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানাচ্ছেন, "বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই রাস্তার সংস্কার কাজ করা হবে।"

এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "শিক্ষার্থী ও এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতের সুবিধার্থে যেকোনো গ্রামীণ অবকাঠামো সচল রাখা আমাদের অগ্রাধিকার। শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের এই কাঁচা সড়কটির বেহাল দশা এবং সাঁকো দিয়ে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে আমি অবগত হলাম। গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর/কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় কিংবা এলজিইডির মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
নতুন সরকারের প্রতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান

তালতলীতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ পি.এম


তালতলীতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি

 

"মোগো প্রেত্যেকের শইল্লে চুলকানি। খাউজাইতে খাউজাইতে ক্ষ্যাত হইয়া যাইতেছে। জ্বালাপোড়ায় আর বাঁচতে পারতেছি না। এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটা হওয়ার পর থেইক্কা এই সমস্যা। চুলকানিতে আমাগো মাইয়াগো চেহারা নষ্ট হইয়া যায়। একারণে এহন এই গ্রামরে মাইয়াগোরে কেউ বিয়াও করতে চায় না। শুধু খাউজানি চুলকানি না- ক’দিন পর পর আমাগো ডায়রিয়া অয়। আরো কত সমস্যা যে মোগো জীবনসঙ্গী হইয়া গেছে বলে শেষ করা যাইতোনা।"

এই কথাগুলো বলেছিলেন বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড় অংকুজানপাড়া এলাকার নারীরা। শনিবার (২০ জুন) বিকালে তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নতুন পাড়া গ্রামে এক উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে গ্রামের নারীরা অভিযোগ করেন। বৈঠকে উপস্থিত ২১ জন নারীর মধ্যে ১৭ জনের নিজের শরীরে এলার্জি জনিত রোগ রয়েছে বলে জানানো হয়। কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে এই উঠান বৈঠক যৌথভাবে আয়োজন করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রীর জন্য আমরা (ধরা), মিশন গ্রিন বাংলাদেশ এবং পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটি।

বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিশন গ্রিন বাংলাদেশের পরিচালক, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক সাংবাদিক কেফায়েত শাকিল। বিশেষ অতিথি ছিলেন ধরিত্রীর জন্য আমরা (ধরা) এর তালতলী-আমতলী অঞ্চল সমন্বয়ক রহমান আরিফ এবং তালতলী উপজেলা সদস্য সচিব মো. মোস্তাফিজ আকন। উঠান বৈঠকে অংশ নেওয়া নারীরা জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য জোরপূর্বক আমাদের বাড়িঘর ভেঙে দিয়ে আমাদের উচ্ছেদ করেছে। আজ পর্যন্ত আমরা ক্ষতিপূরণ পাইলাম না, জমিও পাইলাম না। এখন বিদ্যুৎ কেন্দ্র হওয়ার পর থেকে নদীতে গরম পানি ছাড়ায়। এ কারণে আমাদের নদীতে মাছ নাই। অথচ আমাদের এলাকার পুরুষদের অধিকাংশের পেশা ছিল জেলে। তারা এখন মাছ না পেয়ে বেকার হয়ে গেছে। আমরা সবাই অর্থ সংকটে ভুগছি। এর মধ্যে আবার সবার শরীরে এলার্জিসহ নানান রোগ বাসা বেঁধেছে। আমরা কিভাবে এখন চিকিৎসা করবো? আমাদেরতো খাবারেরই টাকা নাই।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেফায়েত শাকিল বলেন, "পুরো বিশ্ব যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। ঠিক তখন কারো আপত্তিকে আমলে না নিয়ে সরকার চাইনিজ কোম্পানিকে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিল। অথচ যে চায়না কোম্পানি বাংলাদেশে এসে এই দূষণকারী বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে তারা নিজেদের দেশে এমন জীবন বিধ্বংসী প্রকল্প জীবনেও নিতে পারতো না। নতুন সরকারের উচিত এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করা।"

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রহমান আরিফ বলেন, "এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুরো তালতলীর মানুষের জীবন বিপন্ন করে দিয়েছে। এটি কোনো আইন মেনে নির্মাণ করা হয়নি। পরিবেশ আইনকে মোটেও তোয়াক্কা করা হয়নি। এখনো এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ কোনো আইন মানে না। তারা না ঢেকে কয়লা আনা নেওয়া করে, দূষিত পানি নদী/খালে ছাড়ে আর চিমনির দূষণতো আছেই। সরকার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ করতে না পারুক অন্তত এই দূষণগুলো বন্ধ করেতো মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারে।" বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. মোস্তাফিজ বলেন, "তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা ধোয়া বর্জ্য অবাধে পায়রা নদীতে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে আমাদের রূপালী ইলিশের বিচরণক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে এবং নদীতে ইলিশের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। যা আমাদের মৎস্যসম্পদ এবং এর সাথে জড়িত হাজারো জেলের জীবিকাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া আমাদের পার্শ্ববর্তী ঐতিহ্যবাহী টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই দূষিত বাতাস শুধু বনের পশুপাখির ক্ষতি করছে না, বরং স্থানীয় এলাকার মানুষের কৃষি জমি ধ্বংস করছে এবং জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে। ফুসফুসের রোগসহ নানা জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।"

"তাহলে অবিলম্বে কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পসহ সকল পরিবেশবিনাশী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প উৎসগুলোতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%