০৩:১১ পি.এম
স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় মরক্কো থেকে হঠাৎ করে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশের ঘটনায় মাদ্রিদসহ ইউরোপের বিভিন্ন রাজধানীতে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
সেউতার শীর্ষ কর্মকর্তা হুয়ান জেসুস ভিভাস জানিয়েছেন, মাত্র তিন দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ৮৪ হাজার জনসংখ্যার এই অঞ্চলে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছে।
আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র থেকে জানানো হয়েছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবৈধভাবে সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের মধ্যে ৪৮ হাজারের বেশি মানুষকে মরক্কোতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ভিভাস বলেন, এ ঘটনার ব্যাপকতা ২০২১ সালের মে মাসের আগের একই ধরনের ঘটনার তুলনায় অনেক বেশি। ওই সময় কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ১২ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশ করেছিল।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন
উত্তর আফ্রিকার অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা স্প্যানিশ সাংবাদিক ইগনাসিও সেমব্রেরো বলেন, বুধবার থেকে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী কার্যত নিষ্কৃয় অবস্থায় ছিল।
তিনি জানান, ‘সেউতা ও মরক্কোর সীমান্ত চিহ্নিত করা বাঁধে পৌঁছানোর পথে পুলিশ ও সহায়ক বাহিনীর কয়েকটি স্তরের অবস্থান থাকে। স্পষ্টতই তাদের পার হয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’
এর একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ৮ জুলাই স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের কথা বলা হচ্ছে। এই রায়ে বলা হয়, সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের অন্যদের মতো দ্রুত ফেরত পাঠানো যাবে না।
সেমব্রেরো বলেন, ‘নিঃসন্দেহে ৮ জুলাইয়ের রায় এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে, এত বড় মাত্রার সংগঠিত কার্যক্রমের ব্যাখ্যা একক ভাবে এটি হতে পারে না।’
আরও পড়ুন: বটিয়াঘাটায় তিন গুলির ঘটনায় গ্রেফতার নেই, ওসি প্রত্যাহার
কেউ কেউ মনে করছেন, স্পেন সরকারের তুলনামূলক উদার অভিবাসন নীতিও এই পরিস্থিতির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
মরক্কোর জন্য কি এটি চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার?
কিছু বিশ্লেষকের মতে, মরক্কো কূটনৈতিক চাপ তৈরির একটি হাতিয়ার হিসেবে অভিবাসন ইস্যু ব্যবহার করছে।
১৯৫৬ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই মরক্কো সেউতা ও মেলিয়ার ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। তবে স্পেন এই দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে দেশে আরও ২ জনের মৃত্যু
সেমব্রেরো বলেন, স্পেনকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার জন্য মরক্কো ‘একটি সুযোগ দেখেছে।’
শুক্রবার ইতালি ঘোষণা করেছে, স্পেনের সঙ্গে অবাধ সীমান্ত চলাচল ব্যবস্থার শেনজেন নিয়ম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হচ্ছে।
এই নিয়ম ২৯টি দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যার অধিকাংশই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য। নির্দিষ্ট কিছু কারণেই কেবল সীমিত সময়ের জন্য এটি স্থগিত করা যায়।
ইতালির এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে মাদ্রিদ। তবে, এর বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন: আইইডিসিআর পরিচালকের ওপর হামলা, ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
এএফপির সঙ্গে কথা বলা আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বর্তমান আইনি কাঠামোর আওতায় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য স্পেনের প্রতি ‘সংহতি’ প্রকাশ করেছে।
তবে পরে ফ্রান্স জানায়, শনিবার স্পেন সীমান্তে পুলিশের সংখ্যা পাঁচ গুণ বাড়ানো হবে।
পর্তুগালও বলেছে, তারা তাদের দক্ষিণাঞ্চলের স্থল ও সমুদ্র সীমান্তে নজরদারি জোরদার করবে।
আরও পড়ুন: রুহুল কবির রিজভী: পদ্মা-তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণে নদীগুলো হবে প্রাণবন্ত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন