রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৫ পি.এম
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে সাড়ে ৫৭ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে।
এছাড়াও, ২০১৫ সালে ৫ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা তিন কোটি টাকার বেশি) পাচার করে আমেরিকায় ওয়েলিংটনে বাড়ি খোঁজার জন্য এমএলএআর পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সম্প্রতি আদালতের আদেশের মাধ্যমে নজরুল দম্পতির ক্রোককৃত সম্পদের মধ্যে রাজধানীর অভিজাত এলাকা বারিধারা, গুলশান, বসুন্ধরা, নিকুঞ্জ, মাতুয়াইল, যাত্রাবাড়ী, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক বাড়ি, প্লট, ফ্ল্যাট ও জমির মতো অঢেল সম্পদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, "আদালতের আদেশে নজরুল ইসলাম দম্পতির সম্পদ ক্রোক হয়েছে। দুদক আদালতের আদেশ অনুসরণ করে আইনগত সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।"
দুদক ও আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহকদের সঞ্চয়ের অর্থ দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে রক্ষিত এফডিআর এবং প্রতিষ্ঠানটির নামে অতিরিক্ত মূল্যে জমি কিনে অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গত বছরের অক্টোবর মাসে তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর এসব সম্পত্তির সন্ধান পায় দুদক।
নজরুল ইসলামের নামে ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুন্সীগঞ্জ, পটুয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মোট ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে গুলশান বারিধারায় ৮ কাঠা বা ১৩.২২২ শতাংশ জমিসহ বাড়ি (মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা), উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক নাল জমি ও প্লট, ময়মনসিংহের ভালুকায় (হবিরবাড়ী মৌজায়) ও মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ীতে বড় আকারের নাল জমি ও পুকুর, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় (কুয়াকাটা) ৬.১৬ একর নামা জমি এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, বন্দর ও সদর এলাকায় একাধিক আবাসিক প্লট ও জমি রয়েছে।
অন্যদিকে, তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৯ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ী উপজেলার পাইকপাড়া ও সলিমাবাদ এলাকায় প্রায় শতাধিক শতাংশ নাল ভূমি, গুলশান আবাসিক এলাকায় একাধিক বাড়ি ও প্রায় ৩ হাজার বর্গফুটের একাধিক ফ্ল্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সবমিলিয়ে স্থাবর সম্পত্তির মোট আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৫৭ কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। যার বেশিরভাগই বাণিজ্যিক ও আবাসিক প্লট, নাল জমি, বাড়ি এবং ফ্ল্যাট।
দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, নজরুল ইসলাম ঢাকা বোট ক্লাব, ঢাকা ক্লাব ও গুলশান ক্লাবসহ ১৪টি অভিজাত ক্লাবের সদস্য। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নজরুল ইসলাম ও তার পুরো পরিবার আমেরিকার নাগরিক। ২০১৫ সালে ৫ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বা তিন কোটি টাকার বেশি টাকা পাচার করে আমেরিকার ওয়েলিংটনে বাড়ি কেনেন। ওই বাড়ির বিষয়ে আমেরিকার তথ্য উদ্ধারে শিগগিরই এমএলএআর পাঠানো হবে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
মো. নজরুল ইসলাম ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দুদক এখন পর্যন্ত ৭টি মামলা দায়ের করেছে। যেখানে আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমাণ হাজার কোটি টাকার বেশি বলে জানা গেছে। যার তদন্ত চলমান রয়েছে। আরও ৫ থেকে ৭টি মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত তিনটি গ্রাহক ক্যাম্পেইনের বিজয়ীদের সম্মানিত করেছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউসিবি ফিনটেক কোম্পানি লিমিটেড, যা উপায় নামে পরিচিত। সম্প্রতি ঢাকায় উপায়-এর প্রধান কার্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে।
এই তিনটি ক্যাম্পেইন হলো ‘অ্যাড মানি উইক ১’, ‘অ্যাড মানি উইক ২’ এবং ‘উইকেন্ড ক্যাম্পেইন (লাভ সামলাও) উইক ৩’। এই ক্যাম্পেইনগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রাহকদের উপায়-এর ডিজিটাল আর্থিক সেবা ব্যবহারে আরও উৎসাহিত করা।
অনুষ্ঠানে তিনটি ক্যাম্পেইনের তিনজন বিজয়ীকে পুরস্কৃত করা হয়। বিজয়ীদের মধ্যে দুজন ৫০ হাজার টাকা এবং একজন ১ লাখ টাকা করে ক্যাশ রিওয়ার্ড পুরস্কার লাভ করেন।
উপায়-এর প্রতিনিধিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে তাঁদের অভিনন্দন জানান।
এ ধরনের ক্যাম্পেইনগুলোর মাধ্যমে উপায় গ্রাহকদের ডিজিটাল আর্থিক সেবা ব্যবহারে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাঁদের জন্য বাড়তি সুবিধা ও পুরস্কারের সুযোগ তৈরি করতে চায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজনদের মধ্যে। আলোচনায় ব্যাংকগুলোর মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পুঁজিবাজারের ভূমিকা জোরদারের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও রূপালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে ঢাকার দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্টেকহোল্ডারস মিট-আনলক পসিবিলিটিজ ইন দ্য নেক্সট চ্যাপ্টার অব প্রগ্রেস’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন, বিনিয়োগকারী এবং বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনায় দেশের অর্থনীতির পরবর্তী প্রবৃদ্ধির অধ্যায়ে পুঁজিবাজারের ভূমিকা এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে নেওয়া সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রক উদ্যোগ ও সংস্কার নিয়ে মতবিনিময় হয়।
অনুষ্ঠানে ইউসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ মন্তব্য করেন, ‘গত দুই বছরে আমরা ব্যাংকের তারল্য, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও আদায় কার্যক্রম এবং সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। এর ফলে ব্যাংকটি এখন স্থিতিশীলতা থেকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের চলমান রাইট শেয়ার ইস্যু ব্যাংকের মূলধনভিত্তি আরও সুসংহত করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সক্ষমতা বাড়াবে। এই যাত্রায় শেয়ারহোল্ডার ও পুঁজিবাজারের অংশীজনদের আস্থা ও অংশগ্রহণ ইউসিবির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
রূপালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাম্প্রতিক টার্নঅ্যারাউন্ড যাত্রা দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। শক্তিশালী নেতৃত্ব, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং সুস্পষ্ট কৌশলগত দিকনির্দেশনা এই অগ্রযাত্রার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইউসিবির এই অগ্রযাত্রায় রূপালী ব্যাংক ও রূপালী ইনভেস্টমেন্ট সহযোগী হিসেবে পাশে থাকবে এবং দেশের অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করে যাবে।’
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ব্যাংকখাতকে ধ্বংস করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ খাত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে ইউসিবি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শেয়ার বিনিয়োগকারীদের জন্য ইউসিবি নির্ভরযোগ্য, এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি তা প্রমাণ করেছে।’
আলোচনায় ব্যাংকিং খাতের মূলধনসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জও উঠে আসে। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে সম্মিলিত মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। অংশগ্রহণকারীরা ব্যাংকগুলোর মূলধন অবস্থান শক্তিশালী করা, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়নের সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
গত দুই বছরে ইউসিবির আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নতির বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। ব্যাংকটির অবস্থান আরও সুসংহত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির রাইটস শেয়ার ইস্যুতে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও রূপালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড যৌথ ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।
আয়োজকদের মতে, বিনিয়োগকারী, ইস্যুয়ার, মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময় পুঁজিবাজারে আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও গভীর, কার্যকর ও শক্তিশালী বাজার গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম মন্তব্য করেছেন, "শিক্ষার মান যত উন্নত হবে, ততই দেশ এগিয়ে যাবে।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, একটি শিক্ষিত, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা আবশ্যক। বর্তমান শিক্ষার্থীরা আগামী দিনে দেশের পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সুতরাং, তাদের জন্য একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করাও সরকারের দায়িত্ব।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলড্রেস, ব্যাগ ও জুতা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আফরোজা খানম আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে শিক্ষাজীবনকে আরও সহজ ও সুন্দর করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, "দেশের কোনো শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে।" বিশেষ করে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা প্রদান করলেই হবে না। তাদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষক ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বক্তব্য শেষে খাদ্যমন্ত্রী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলড্রেস, ব্যাগ ও জুতা বিতরণ করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) খুলশী থানা পুলিশ চট্টগ্রাম নগরীতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা, নগদ অর্থ, এফডিআর ও একটি বিলাসবহুল প্রাইভেট কারসহ কোটি টাকার প্রতারণার মামলার এক এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও দক্ষ নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। থানার অপারেশন অফিসার এসআই (নিঃ) গোলাম মোহাম্মদ নাসিম হোসেন এবং এসআই (নিঃ) মো. মিজানুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে নগরের ডবলমুরিং থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মো. মেহেদী হাসান (৩৪)। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার চুয়াডাঙ্গা সদর থানার মিমরুল্লা (স্কুল পাড়া) এলাকার হান্নান মোল্লা ও লতিফা খাতুনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার ২৩ নম্বর রোডে পরিবারসহ বসবাস করছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে খুলশী থানায় পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০/৩৪ ধারায় একটি প্রতারণা মামলা (মামলা নম্বর: ১৮) দায়ের করা হয়। মামলার সূত্র ধরে ডবলমুরিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রতারণার বিপুল পরিমাণ আলামত উদ্ধার করে পুলিশ।
উদ্ধারকৃত আলামতের তালিকা:
১. স্বর্ণালংকার: ৩৫.৩০ গ্রাম ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের মানতাসা, ৪৬.২৫ গ্রাম ওজনের দুই জোড়া স্বর্ণের চুড়ি, ১২.৩০ গ্রাম ওজনের একটি ভাঙা ব্রেসলেট, ৪.৪৪ গ্রাম ওজনের একটি গলার চেইন, ৩০.৩০ গ্রাম ওজনের একটি নেকলেস এবং ৭.৬০ গ্রাম ওজনের তিনটি স্বর্ণের আংটি।
২. বৈদেশিক মুদ্রা: ১,১৫০ মার্কিন ডলার (১১টি ১০০ ডলারের নোট ও ১টি ৫০ ডলারের নোট)। যার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মূল্য আনুমানিক ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯০০ টাকা।
৩. নগদ অর্থ: ১,০০০ টাকা মূল্যমানের ৬টি বান্ডিলে সর্বমোট নগদ ৬ লাখ টাকা।
৪. এফডিআর: ওয়ান ব্যাংকের ৭টি এফডিআর (FDR) রশিদ, যার প্রতিটির মান ৫ লাখ টাকা করে মোট ৩৫ লাখ টাকা।
৫. যানবাহন: একটি সাদা রঙের ‘Toyota Allion’ প্রাইভেট কার (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: চট্ট মেট্রো-গ-১২-৯৫০০)।
৬. অন্যান্য: একটি নেভি-ব্লু রঙের 'CAT' ব্র্যান্ডের কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ।
খুলশী থানা পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ আলামত জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে নগরজুড়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ