রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৬ পি.এম
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) খুলশী থানা পুলিশ চট্টগ্রাম নগরীতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা, নগদ অর্থ, এফডিআর ও একটি বিলাসবহুল প্রাইভেট কারসহ কোটি টাকার প্রতারণার মামলার এক এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও দক্ষ নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। থানার অপারেশন অফিসার এসআই (নিঃ) গোলাম মোহাম্মদ নাসিম হোসেন এবং এসআই (নিঃ) মো. মিজানুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে নগরের ডবলমুরিং থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মো. মেহেদী হাসান (৩৪)। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার চুয়াডাঙ্গা সদর থানার মিমরুল্লা (স্কুল পাড়া) এলাকার হান্নান মোল্লা ও লতিফা খাতুনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার ২৩ নম্বর রোডে পরিবারসহ বসবাস করছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে খুলশী থানায় পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০/৩৪ ধারায় একটি প্রতারণা মামলা (মামলা নম্বর: ১৮) দায়ের করা হয়। মামলার সূত্র ধরে ডবলমুরিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রতারণার বিপুল পরিমাণ আলামত উদ্ধার করে পুলিশ।
উদ্ধারকৃত আলামতের তালিকা:
১. স্বর্ণালংকার: ৩৫.৩০ গ্রাম ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের মানতাসা, ৪৬.২৫ গ্রাম ওজনের দুই জোড়া স্বর্ণের চুড়ি, ১২.৩০ গ্রাম ওজনের একটি ভাঙা ব্রেসলেট, ৪.৪৪ গ্রাম ওজনের একটি গলার চেইন, ৩০.৩০ গ্রাম ওজনের একটি নেকলেস এবং ৭.৬০ গ্রাম ওজনের তিনটি স্বর্ণের আংটি।
২. বৈদেশিক মুদ্রা: ১,১৫০ মার্কিন ডলার (১১টি ১০০ ডলারের নোট ও ১টি ৫০ ডলারের নোট)। যার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মূল্য আনুমানিক ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯০০ টাকা।
৩. নগদ অর্থ: ১,০০০ টাকা মূল্যমানের ৬টি বান্ডিলে সর্বমোট নগদ ৬ লাখ টাকা।
৪. এফডিআর: ওয়ান ব্যাংকের ৭টি এফডিআর (FDR) রশিদ, যার প্রতিটির মান ৫ লাখ টাকা করে মোট ৩৫ লাখ টাকা।
৫. যানবাহন: একটি সাদা রঙের ‘Toyota Allion’ প্রাইভেট কার (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: চট্ট মেট্রো-গ-১২-৯৫০০)।
৬. অন্যান্য: একটি নেভি-ব্লু রঙের 'CAT' ব্র্যান্ডের কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ।
খুলশী থানা পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ আলামত জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে নগরজুড়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীর ঘোড়াশাল পৌরসভা, যা শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত, বিভিন্ন এলাকার নাগরিক সুবিধা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ২৭.৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে এবং এর অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো কার্যকর সড়ক বাতির তীব্র অভাব। সন্ধ্যা নামলেই পুরো পৌর এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়, যা জনজীবনে ভীতি সৃষ্টি করছে।
সরেজমিন পরিদর্শনের সময়, রাস্তাগুলো দিয়ে চলাচলকারী ভুক্তভোগীরা, যেমন রিফাত ভূইয়া, পারভেজ মিয়া জামান, হাসান, আলোমগীর, জানান যে পৌরসভার প্রধান সড়কের দীর্ঘ অংশসহ অধিকাংশ অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় সোলার বা বৈদ্যুতিক বাতি নেই। পলাশ বাসস্ট্যান্ড থেকে ঘোড়াশাল বাইপাস (চিনিক রোড) এবং ঘোড়াশাল বাস কাউন্টার থেকে ঘোড়া চত্বর পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার প্রধান সড়কের প্রায় ৩শত সড়ক বাতি নেই।
এছাড়া, পলাশ সারকারখানা রোড, কো-অপারেটিভ স্কুলের রাস্তা, উত্তর চরপাড়া পোস্ট অফিস সড়ক, বাংলা জুট মিল থেকে ঘাগড়া এবং মিয়াপাড়া থেকে কাবিলা সড়কসহ পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় দেড় হাজার সড়ক বাতি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। লাগানোর পর কিছুদিনের মধ্যেই বাতি তারসহ সংশ্লিষ্ট মালামাল চুরি হয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী, শিক্ষার্থী ও চাকুরিজীবীরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে এসব রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় অপরাধ চক্র ও ছিনতাইকারী দল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গভীর রাতে বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে চুরির আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও পৌর কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এদিকে, ঘোড়াশাল পৌরসভার সড়কবাতি পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান জানান, প্রয়োজনীয় মালামাল সংকট এবং পুরাতন গাড়ির বেশিরভাগ সময় নষ্ট থাকার কারণে কাজে কিছুটা ধীরগতি রয়েছে। পৌর এলাকায় ৩ হাজার বাতির মধ্যে প্রায় দেড় হাজার বাতি নষ্ট হয়ে আছে। এসব সমস্যা সমাধানে বাতি লাগানোর কয়েক দিনের মধ্যে সেগুলো পুনরায় চুরি হয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ঘোড়াশাল পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মো. আবু ওবায়েদ বলেন, পলাশ বাসস্ট্যান্ড থেকে ঘোড়াশাল বাইপাস (চিনিক রোড) এবং ঘোড়াশাল বাস কাউন্টার থেকে ঘোড়াশাল ঘোড়া চত্বর রাস্তা ছাড়া অন্যান্য রাস্তা থেকে গত এক/দেড় বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকার তারসহ মালামাল চুরি হয়ে গেছে। রাস্তা বাতি লাগানোর কয়েকদিনের মধ্যে আবারও তার বাতিসহ সংশ্লিষ্ট মালামাল চুরি হয়ে যাচ্ছে।
এসব বিষয় নিয়ে পৌরসভা বিব্রত। তবে তিনি আশাবাদী যে অতিদ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।
ঘোড়াশাল পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ জানান, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি স্থানে লাইট লাগানো হয়েছে। সমস্যা হলো লাগানোর কিছুদিন পরেই লাইট চুরি হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণকে সচেতন থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো। পর্যায়ক্রমে যেসকল স্থানে লাইট নেই, সেখানে সংযোগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও অলিগলিতে অবিলম্বে পর্যাপ্ত সড়ক বাতি স্থাপন এবং পুলিশি টহল জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পৌরবাসী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ফৌজিহাটের একটি দীর্ঘদিনের বন্ধ থাকা বস্ত্রকলের ৫৫ একর জমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। আধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এই জমিতে।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, এটি দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি অংশ। জমি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমরা যা কিছুই ব্যবহার করব, তা নিজেরাই তৈরি করব। কারণ বিদেশ থেকে আমদানি করে যুদ্ধ পরিচালনা করা সম্ভব নয়।"
তবে ফৌজিহাটের এই উদ্যোগটিকে শুধুমাত্র একটি একক প্রকল্প হিসেবে দেখলে এর বিস্তৃত তাৎপর্য আড়ালেই থেকে যায়। চীন থেকে যুদ্ধবিমান অর্জন, যৌথভাবে চালকবিহীন আকাশযান (ইউএভি বা ড্রোন) উৎপাদন, তুরস্কের সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং সম্ভাব্য 'মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে' যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আলোচনা—সব মিলিয়ে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা নীতি নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে।
প্রশ্ন হচ্ছে: ২০২৪ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ কি তার নিরাপত্তা কৌশল নতুন করে সাজাচ্ছে, নাকি এসব উন্নয়ন দেশের সামরিক আধুনিকায়নের একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ারই অংশ?
বাংলাদেশ নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলা, চীন ও তুরস্কের সাথে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং মক্কা জোটে আগ্রহ প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা নীতির রূপরেখাকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করছে। একই সাথে এই পরিবর্তনগুলো ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলছে।
বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর মনে করেন, সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর এই প্রচেষ্টাটি ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশিদের মধ্যে জাগ্রত হওয়া জাতীয় আত্মবিশ্বাস ও স্বনির্ভরতার অনুভূতির সাথে সম্পর্কিত। ওই বছর ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবং রাজনৈতিক পরিবর্তন আসে। তিনি উল্লেখ করেন, সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমান আগ্রহেরই একটি প্রতিফলন হলো, "প্রয়োজনে আমরা নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করতে পারি।"
তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমোডোর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী এসব পদক্ষেপকে সরাসরি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফল হিসেবে দেখতে রাজি নন। তিনি বলেন, "সামরিক কৌশল ও পররাষ্ট্রনীতি হলো দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। আমি মনে করি না যে কেবল ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মতো একটি একক ঘটনা এই নীতিগুলোর মৌলিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে।"
যাই হোক, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে কেবল পুরনো সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।
হুমায়ুন কবীরের মতে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিবেশও বাংলাদেশের চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করছে। ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট এবং মিয়ানমার সীমান্ত বাংলাদেশের বড় উদ্বেগের কারণ। তিনি উল্লেখ করেন, মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের প্রভাব বাংলাদেশে এসে পড়ায় নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বাংলাদেশকে একটি সামরিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, দেশ মূলত প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ঘাটতিগুলো পূরণ করার চেষ্টা করছে।
নতুন অংশীদার
চীন দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের প্রধান উৎস। তবে সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলোর একটি লক্ষণীয় দিক হলো, চীনের সাথে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এখন আর শুধু তৈরি পোশাক বা অস্ত্র কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং 'চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ কর্পোরেশন ইন্টারন্যাশনাল'-এর মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুবিধাসহ বাংলাদেশে ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজন কেন্দ্র স্থাপনের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে আগস্টে প্রধান উপদেষ্টার একজন সহকারী জানান, চীনের 'জে-১০সিই' যুদ্ধবিমান ও আক্রমণকারী হেলিকপ্টার কেনার জন্য একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।
তুরস্কের সাথেও বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান চলতি বছরের জুনে বাংলাদেশ সফর করেন এবং উভয় দেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে একটি যৌথ কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা করেন। জুলাই মাসে বাংলাদেশ তুরস্কের সহযোগিতায় বগুড়ায় একটি ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানায়।
ফৌজিহাটের উদ্যোগ এবং বগুড়ার প্রস্তাবিত ড্রোন কারখানা—উভয় পদক্ষেপই বাংলাদেশের একটি নতুন প্রতিরক্ষা নীতির দিকে নির্দেশ করে: দেশটি কেবল সামরিক সরঞ্জামের উৎস বহুমুখী করছে না, বরং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে।
মক্কা জোট এবং আঞ্চলিক হিসেব-নিকেশ
চীন ও তুরস্কের সাথে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা যেখানে মূলত অস্ত্র, প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতার ওপর কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, সেখানে 'মক্কা জোট' দেশের নিরাপত্তা নীতি নিয়ে ভিন্ন প্রশ্ন তুলছে।
২০২৬ সালের আগস্টে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান 'মক্কা প্রতিরক্ষা জোট' নামে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। বাংলাদেশ এর সদস্য না হলেও, ২৭ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সংসদে বলেন যে সদস্য রাষ্ট্রগুলো আগ্রহ দেখালে বাংলাদেশ এতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি "ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে"।
তবে এই জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের 'জোটনিরপেক্ষ' পররাষ্ট্রনীতির সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হুমায়ুন কবীর মনে করেন, এই জোটে যোগ দেওয়ার আগে বাংলাদেশের উচিত নিজস্ব কৌশলগত স্বাধীনতার দিকটি ভালোভাবে চিন্তা করা। তিনি বলেন, "আমরা গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনো সামরিক জোটে যোগ দিইনি।" তার মতে সঠিক পথ হলো: "আমরা কারও জোটে যোগ দেব না, তবে সবার সাথেই নিজেদের স্বার্থ বজায় রেখে চলব।"
ইশফাক ইলাহী চৌধুরীও এই জোটে যোগ দেওয়ার কৌশলগত মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, বাংলাদেশের প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কেন্দ্রিক; তাই সুদূর অঞ্চলের কেন্দ্রিক সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার যৌক্তিকতা ভেবে দেখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা যে নয়াদিল্লির নজর এড়াবে না—তা নিশ্চিত। চীনের কাছ থেকে যুদ্ধবিমান কেনা এবং মক্কা জোটে সম্ভাব্য অংশগ্রহণ—উভয় বিষয়ই ভারতের আঞ্চলিক নিরাপত্তা হিসেব-নিকেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান হলো বিষয়টি সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মক্কা জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যে বিষয়গুলো ভারতের জাতীয় নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে, সেগুলোর ওপর তারা গভীর নজর রাখছে।
বিশ্লেষক ড. দেলোয়ার হোসেন বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের উদ্দেশ্য কোনো দেশকে হুমকি দেওয়া নয়। তবে তিনি একটি মূল উদ্বেগের কথা স্বীকার করে বলেন: "বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়লে বর্তমান বন্ধু রাষ্ট্রগুলোও হয়তো ভাবতে পারে যে বাংলাদেশ অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে কিনা।"
নতুন নির্ভরশীলতা নাকি কৌশলগত স্বাধীনতা?
মূল প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে—বিভিন্ন দেশ থেকে অস্ত্র ও প্রযুক্তি সংগ্রহ করা কি বাংলাদেশকে বৃহত্তর কৌশলগত স্বাধীনতা দেবে, নাকি কেবল এক দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অন্য দেশের ওপর নতুন নির্ভরতা তৈরি করবে?
অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরির অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়লে তা বাহ্যিক সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে বিকল্প পথ দেবে। তবে এমন একটি শিল্প টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন প্রযুক্তি, অর্থায়ন, দক্ষ জনবল এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ।
বাংলাদেশ কি কোনো নতুন নিরাপত্তা মেরুকরণের দিকে এগোচ্ছে, নাকি মক্কা জোটে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা কেবল একটি কূটনৈতিক কৌশলের অংশ—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, মক্কা জোটে যোগ দেওয়ার পথ খোলা রাখলে ভারত ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সাথে দরকষাকষিতে ঢাকা বাড়তি সুবিধা পেতে পারে। ফলে মূল বিষয়টি কেবল জোটে যোগ দেওয়া না-দেওয়া নয়, বরং এই সুযোগটি অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নিজস্ব অবস্থানকে কতটা শক্তিশালী করে তোলে—তা-ই দেখার বিষয়।
সাবেক কূটনীতিক কবীরের মতে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা কিংবা অধ্যাপক হোসেনের মতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি দূর করা—যে উদ্দেশ্যই থাক না কেন, দুটি মতামতই একটি বড় সত্যকে তুলে ধরে। বাংলাদেশ যত বেশি তার প্রতিরক্ষা জোরদার করতে চাইবে, তত বেশি এই প্রশ্নটি সামনে আসবে—এই সক্ষমতা কীভাবে তৈরি করা হবে এবং বাস্তবে বিদেশী নির্ভরতা ঠিক কতটা কমানো সম্ভব?
যে জমিতে একসময় সুতা ও কাপড় তৈরি হতো, সেখানে এখন তৈরি হবে অস্ত্র। বাংলাদেশের আগামী দিনের নিরাপত্তা কৌশল কেবল দেশে কী তৈরি হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করবে না; বরং নিজস্ব স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে বহির্বিশ্বের সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করার ওপরও অনেকাংশে নির্ভর করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে খাইরুননেছা (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত মনফর আলীর স্ত্রী।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই গ্রামের জনৈক রহিমার একটি পরিত্যক্ত ডোবায় এক নারীর মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে সুনামগঞ্জ সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পরপরই নিহত নারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার বয়স আনুমানিক ৬০ থেকে ৬৫ বছর। মাথার চুলে মেহেদি লাগানো ছিল। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন সেখ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বৃদ্ধা কীভাবে ওই ডোবায় গেলেন এবং তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর আদাবর এলাকা থেকে ‘কব্জিকাটা’ আনোয়ার গ্রুপের কার্যক্রম পুনর্গঠনের নেতৃত্বদানকারী শাহীনসহ তার আরও দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-২। এ সময় তাদের কাছ থেকে থানা লুটের ঘটনায় ব্যবহৃত ২৭ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি ওয়ান শুটারগান, একটি সামুরাই, ৩ হাজার ৩৩৫ পিস ইয়াবা ও ৫ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব-২ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর আদাবর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে শাহীন ‘কব্জিকাটা’ আনোয়ার গ্রুপের কার্যক্রম পুনর্গঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে র্যাব। তার সঙ্গে থাকা অপর দুই সহযোগীর নাম-পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ