মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৪৭ এম
গাজীপুর মিডিয়া ক্লাবের নবনির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির শপথ ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৪টায় গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন চেরাগ আলীর সুরতরঙ্গ রোডে অবস্থিত গাজীপুর সেন্ট্রাল ল কলেজে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ২০২৬-২০২৯ মেয়াদে তিন বছরের জন্য ক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের পরিচিতি ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান ক্লাবের আইনবিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. শরিফুল ইসলাম মাসুদ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শেখ মো. আলেক, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিশাত মাহমুদ জালাল এবং টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সেলিম কাজলসহ ক্লাবের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ, উপদেষ্টামণ্ডলী ও সদস্যরা।
নেতৃত্বে তারেক রহমান জাহাঙ্গীর ও বশির আলম
গাজীপুর মিডিয়া ক্লাবের ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. তারেক রহমান জাহাঙ্গীর এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. বশির আলম।
কমিটির অন্যান্য পদে রয়েছেন—সিনিয়র সহসভাপতি মো. আবু ছালেহ মুসা ও মো. রেজাউল করিম রাজিব; সহসভাপতি মো. মশিউর রহমান ও মো. রফিকুল ইসলাম রফিক; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনসুর শেখ ও মাহবুবুর রহমান জুয়েল; সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মশিউর রহমান মাসুম; সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. তৈমুর আলম অপু; কোষাধ্যক্ষ মো. আবু রায়হান; দপ্তর সম্পাদক আশিকুর রহমান এবং প্রচার সম্পাদক মো. জাফর আলী।
এ ছাড়া ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন সরকার, আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম সাগর, সাংস্কৃতিক সম্পাদক কাজী মো. আশরাফুল আলম, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুল আল হাতেম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. জিয়াউল রহমান, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন দায়িত্ব পেয়েছেন।
মহিলা বিষয়ক বিভাগে সিনিয়র মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে তাসলিমা আক্তার এবং মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে সৈয়দা রোকসানা পারভীন রুবি নির্বাচিত হয়েছেন।
কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন মো. সোহেল চৌধুরী, মো. মাহাবুব আলম রবিন, মো. জাহিদ হাসান, মো. মাসুম মিয়া, মো. হাসান মিয়া, মো. সাইফুল আকতার ও মো. পাপেল মিয়া।
প্রধান উপদেষ্টা হাসান উদ্দিন সরকার
গাজীপুর মিডিয়া ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার। উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান এবং দৈনিক নরস পত্রিকার মফস্বল সম্পাদক মনসুর আহমেদ।
সাংবাদিকদের ঐক্য ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় গুরুত্বারোপ
শপথ ও পরিচিতি সভায় গাজীপুর অঞ্চলের সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও পেশাগত সম্প্রীতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণ, মর্যাদা রক্ষা এবং ক্লাবের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
উপস্থিত সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃত্বে গাজীপুর মিডিয়া ক্লাব সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
নতুন কমিটির মাধ্যমে ক্লাবের কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হবে এবং সাংবাদিকদের কল্যাণে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদার হবে—এমন প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার একসময়ের খরস্রোতা নদ-নদীগুলো বর্তমানে নাব্য সংকটে রয়েছে। পলি জমে ভরাট হওয়া এবং তীর দখলের কারণে এ নদীগুলো অস্তিত্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে। কিছু নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে, কিছু শুকিয়ে ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে, আবার কিছু নদীতে বর্ষায় পানি থাকলেও শুকনো মৌসুমে বিস্তীর্ণ চর দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিন নিয়মিত খনন না হওয়া এবং অপরিকল্পিত ভরাট ও দখলের কারণে নদীগুলোর এই অবস্থা হয়েছে।
নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের পাশাপাশি এর সাথে জড়িত নৌপথ, কৃষি, এবং জীববৈচিত্র্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। একসময় যেসব নদী দিয়ে লঞ্চ, ট্রলার ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করত, সেগুলোর অনেক অংশ এখন পলি ও কাদায় ভরাট হয়ে গেছে। এলাকাবাসী দ্রুত খনন এবং দখল-দূষণ রোধে কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জেলার পাঁচটি উপজেলায় কাগজে-কলমে নদ-নদীর সংখ্যা ১৭টি। তবে পদ্মা, পালরদী, ময়নাকাটা সহ বিভিন্ন নদ-নদীর মধ্যে দৃশ্যমান রয়েছে মাত্র ১০টি। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় বেশ কয়েকটি নদী নাব্য হারিয়েছে এবং কিছু নদীর গতিপথও পরিবর্তিত হয়েছে।
শিবচরের শিরুয়াইল, নিলখী, বাঁশকান্দি, শিবচর পৌর এলাকা, পাচ্চর ও দ্বিতীয়াখণ্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় নদ-নদীর সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। একসময় প্রবহমান নদীগুলোর অনেক অংশ এখন ভরাট হয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও নদীর অস্তিত্বও বিলীন হওয়ার পথে।
শিরুয়াইল থেকে নিলখী হয়ে প্রবাহিত আড়িয়াল খাঁ নদীর একটি অংশ বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ‘মরা আড়িয়াল খাঁ’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন পলি জমে নদীটির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে কিছু পানি জমলেও শুকনো মৌসুমে এর বিস্তীর্ণ অংশ শুকিয়ে যায় এবং অনেক স্থানে নদীর বুকজুড়ে চাষাবাদ করা হচ্ছে।
শিরুয়াইল এলাকার বাসিন্দা রানা হামিদ বলেন, ‘আমাদের শিরুয়াইল বাজারের পাশের নদীটি এখন আর নদী নেই! এটা আড়িয়াল খাঁ নদেরই অংশ। একসময় এটি বড় নদী ছিল, যার এখন কোনো গতিপথই নেই। নদীর মাঝে বর্ষায় পানি জমে আর শুকনো মৌসুমে শুকিয়ে যায়; এমনকি এখন সেখানে ফসল ফলানো হচ্ছে।’ স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই নদীর অবশিষ্ট অংশও হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।
শিবচর পৌর এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ময়নাকাটা নদীও নাব্যতা সংকটে রয়েছে। বর্ষায় নদীটি পানিতে ভরপুর থাকলেও শুকনো মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে পানি শুকিয়ে যায়। নদীর তলদেশে পলি জমে প্রবাহের পথ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি দুই তীরের বিভিন্ন অংশ ভরাট ও দখলের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলেই মূলত নদীর তীরসহ বিভিন্ন অংশ ভরাট করে দখল করা হয়েছে। এমনকি শিবচর পৌরসভার ‘ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী (দাদাভাই) শিবচর উপশহর’ নদীর চরাংশেই গড়ে উঠেছে বলে স্থানীয়রা জানান। উপশহর নির্মাণের ফলে নদীর চরাঞ্চলের অনেক এলাকা দখল ও ভরাট হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে মন্তব্য করেছেন।
একসময় এই ময়নাকাটা নদী দিয়ে বর্ষা মৌসুমে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করত। বর্তমানে পলি ও কাদা জমে নাব্যতা কমে যাওয়ায় শুকনো মৌসুমে নদীর বুকে জেগে ওঠা চর ও অগভীর পানিপ্রবাহ নদীটির চিরচেনা রূপ বদলে দিয়েছে।
এদিকে শিবচরের বাঁশকান্দি ইউনিয়নের বিলপদ্মা নদীও নাব্য সংকটে বিপর্যস্ত। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় নদীটির দুই তীরে চর জেগে উঠেছে এবং ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে প্রবাহপথ। অথচ একসময় এই নদী দিয়েই বড় বড় লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল করত।
বাঁশকান্দি ইউনিয়নের শুম্ভুক গ্রামের বাসিন্দা জরিনা খাতুন বলেন, ‘আমাদের বাড়ির পাশের বিলপদ্মা নদী কালের বিবর্তনে এখন অনেকটাই শুকিয়ে গেছে। একসময় এই নদী দিয়ে বড় বড় লঞ্চ ও ট্রলার চলত, আর এখন চর পড়ে নদী শুকিয়ে গেছে।’ নদীটির নাব্যতা ফেরাতে অবিলম্বে পরিকল্পিত খননের দাবি জানান তিনি।
পদ্মার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত শিবচরের দ্বিতীয়াখণ্ড ও কুতুবপুর এলাকাতেও রয়েছে ভরাট হয়ে যাওয়া নদী ও পুরোনো প্রবাহপথ। দীর্ঘদিন পলি জমা ও পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় এসব নদীর অনেক অংশই সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, পদ্মা-সংলগ্ন মাদবরেরচর এলাকাসহ পদ্মা নদীর বিভিন্ন অংশেও শুকনো মৌসুমে চর জেগে ওঠে। পদ্মা সেতুর আশপাশেও বিস্তীর্ণ চর দৃশ্যমান। নদীতে চর জাগা প্রাকৃতিক পলি সঞ্চয়ের অংশ হলেও নদীর প্রবাহ, নাব্য ও তীরবর্তী এলাকার সামগ্রিক চিত্র বুঝতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা প্রয়োজন।
স্থানীয়রা মনে করেন, নদ-নদী কেবল পানিপ্রবাহের পথ নয়; বরং কৃষি, মৎস্যসম্পদ, নৌযোগাযোগ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। নদী ভরাট হয়ে গেলে বর্ষার পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা, জলজ পরিবেশ এবং নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। তাই নদীগুলোর প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ভরাট বন্ধ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খননের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
শিবচরের বিশিষ্ট সমাজসেবক বাবুল গোমস্তা বলেন, ‘আমরা একটি পরিকল্পিত শিবচর চাই। আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ময়নাকাটা নদী রক্ষা করা জরুরি। এই নদীকে রক্ষা করতে পারলে তবেই পরিকল্পিত শিবচর গড়ে তোলা সম্ভব।’
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, ‘শিবচরের নদীগুলো রক্ষার জন্য আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাচ্ছি। তবে বিআরএস নকশা ও পর্চা অনুযায়ী নদীটির সঠিক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলার প্রতিটি নদী ও খালের প্রকৃত চিত্র বের করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ সাপেক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবু সাদত মো. হাসান কবির বলেন, ‘শিবচর উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা ময়নাকাটা নদীর অনেক স্থানেই দখল ও নাব্যতা সংকটে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হওয়ার পথে। তবে এই মুহূর্তে নদীটি খনন বা পুনরুদ্ধারের কোনো কার্যক্রম আমাদের হাতে নেই। ভবিষ্যতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।’
কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে নদী উদ্ধারের আশার কথা শোনা গেলেও আপাতত নির্দিষ্ট কোনো ড্রেজিং প্রকল্প না থাকায় স্থানীয়দের মাঝে হতাশা রয়ে গেছে।
শিবচরের নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতি স্থানীয় পরিবেশ ও পানিপ্রবাহের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি করছে। দীর্ঘদিনের পলি জমা, নদীপথ সংকুচিত হওয়া এবং দখল-ভরাটের অভিযোগের মুখে নদীগুলোকে বাঁচাতে হলে সমন্বিত পরিকল্পনা অপরিহার্য। নদীগুলোর সীমানা ও বর্তমান প্রবাহপথ চিহ্নিত করা, নাব্য যাচাইয়ে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা পরিচালনা, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খনন এবং দখল-ভরাট রোধে কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি। এককালের জীবন-জীবিকা ও যোগাযোগের মাধ্যম এই নদীগুলো যেন কেবল মানচিত্র আর স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ হয়ে না পড়ে—এটাই এখন শিবচরের নদীপাড়ের মানুষের প্রধান প্রত্যাশা।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের বাধার সম্মুখীন হয়েছেন যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির দুই সংসদ সদস্য ক্লাইভ লুইস এবং লারা বার্ড। জর্ডান থেকে পশ্চিম তীরে প্রবেশের সময় তাদের এবং তাদের সফরসঙ্গীদের আটক করা হয়। পরে আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং আটক রাখা হয় বলে জানিয়েছেন উক্ত দুই এমপি।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টের মাধ্যমে ক্লাইভ লুইস এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সংগঠন প্রগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনালের দ্বিতীয় রামাল্লা কংগ্রেসে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে তারা সেখানে গিয়েছিলেন।
এছাড়া, জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার শিকার ফিলিস্তিনি কৃষকদের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনাও ছিল তাদের।
লুইস বলেন, ‘আমরা কোনো অন্যায় না করা সত্ত্বেও আট ঘণ্টার বেশি সময় আমাদের আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন জানাতে এবং তাদের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ অবিচার ও সহিংসতার বিষয়টি তুলে ধরতেই আমরা সেখানে গিয়েছিলাম।’
অন্যদিকে, লারা বার্ড এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর নিপীড়ন ও গণহত্যার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে এবং নেতানিয়াহু সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।
বার্ড বলেন, ‘ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর নিপীড়ন ও গণহত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এবং নেতানিয়াহু সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে আমি আমার সাধ্যমতো সবকিছু করে যাব।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের টেকনাফে ২০১৮ সালে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনায় কাউন্সিলর একরামুল হককে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত পলাতক প্রধানমন্ত্রী হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ মঙ্গলবার নির্ধারিত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্যানেলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির।
এ মামলায় চার আসামি বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বদিউর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান তুষার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
হাসিনা ছাড়া পলাতক অন্যান্য আসামির মধ্যে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশিকুর রহমান এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস মাহমুদ রয়েছেন।
গত ২৬ জুলাই, ১১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগ অনুসারে, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলীতে হোটেল নেটংয়ের সামনে থেকে একরামুল হককে অপহরণ করা হয়। এরপর রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়াপাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র্যাবের কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনি নিহত হন।
একরামুল হক ছিলেন টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে একরামুলকে বেআইনিভাবে আটক ও অপহরণ, কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা, অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা ও সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে নতুন ও কনিষ্ঠ শিক্ষকদের শিক্ষাদান এবং গবেষণা দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তিন দিনব্যাপী ‘ট্রেইনিং অন প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ফর জুনিয়র ফ্যাকাল্টি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯ টায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের আইকিউএসির নিজস্ব কনফারেন্স কক্ষে কনিষ্ঠ শিক্ষকদের পেশাগত বিকাশ, বিশ্বমানের শিক্ষাদান পদ্ধতি, উচ্চতর গবেষণা পরিচালনা এবং একাডেমিক ক্যারিয়ার গঠনে এ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। প্রধান অতিথি ও প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. হামাদুর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, "একজন ছাত্র থেকে শিক্ষক হওয়ার প্রক্রিয়াটি একটি বড় রূপান্তর।" এই রূপান্তরের সময়ে নবীন শিক্ষকদের ক্লাসরুমে কার্যকর শিক্ষাদান, গবেষণা পরিচালনা এবং একাডেমিক নীতি নৈতিকতা পালনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, "শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি বড় দায়িত্ব।" শিক্ষকদের সততা, স্বচ্ছতা, সময়ের প্রতি অনুবর্তিতা এবং ইতিবাচক আচরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য রোল মডেল হয়ে উঠতে হবে। উপাচার্য বিশ্বাস করেন যে, আজকের এই প্রশিক্ষণ কনিষ্ঠ শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, "বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক স্তরের শিক্ষা ও গবেষণা পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, আগামীতে এক ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি অর্জনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষাব্যবস্থার আমূল রূপান্তর ও মানসম্মত গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, "শিক্ষকতা কেবল একটি সাধারণ চাকরি নয়, এটি একটি মহান দায়বদ্ধতা ও ‘প্যাশন’।" নবীন শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এগিয়ে নিতে এবং মানসম্মত গবেষণা নিশ্চিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। নিয়মিত দক্ষতা উন্নয়ন ও আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির প্রশিক্ষণই শিক্ষকদের বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার উপযুক্ত করে গড়ে তুলবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, "শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি মহান ব্রত বা প্যাশন।" শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে আদর্শ ও রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নতি ও অগ্রযাত্রায় শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের দায়িত্ব হলো কেবল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। তাই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের অন্যতম সেরা উচ্চশিক্ষালয় হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. হামাদুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মীর মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক ড. ফারহানা ইয়াসমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ