ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ফিলিপিন্সে ভূমিকম্পের তিনদিন পরও উদ্ধার হচ্ছে লাশ, মৃত্যু বেড়ে ৪৬


ফিলিপিন্সে ভূমিকম্পের তিনদিন পরও উদ্ধার হচ্ছে লাশ, মৃত্যু বেড়ে ৪৬

ফিলিপিন্সের দক্ষিণাঞ্চলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া এখনো বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। আজ বুধবার (১০ জুন) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতিতে এএফপি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

গত সোমবার (৮ জুন) ভোরে জেনেরাল সান্তোস শহরের দক্ষিণে ৭.৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। শহরটিতে বর্তমানে সাত লাখ ২০ হাজার মানুষের বাস। ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও কয়েক ঘণ্টা পর এটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ফিলিপিন্সের সারাঙ্গানি প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ছিল।

কম্পন মিন্দানাও জুড়ে অনুভূত হয়। এমনকি ৪২০ কিলোমিটার দূরে ইন্দোনেশিয়ার মানাদো শহরেও ভূমিকম্পের কম্পন বুঝতে পারা যায়। প্রথমদিনেই ১৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছিল। তারপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়: ববি হাজ্জাজ

ভূমিকম্পের তিনদিন পর, উদ্ধারকারীরা আজ বুধবারও ধ্বংসস্তূপ থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করছেন। একটি সুপারমার্কেটের ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে একটি ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করার জন্য উদ্ধারকারীরা প্রাণান্তকর চেষ্টা চালান।

স্থানীয় উদ্ধারকর্মী মিশেল চুয়া জানান, উদ্ধার অভিযানের শুরুতে জীবন শনাক্তকারী যন্ত্রে একটি ‘ক্ষীণ স্পন্দনের’ সংকেত পাওয়া গিয়েছিল। তবে ‘যখন তারা মরদেহটির কাছে পৌঁছায়... তখন জীবনের কোনো লক্ষণ আর পাওয়া যায়নি।’

আজ দেশের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, মৃতের সংখ্যা ৪৫ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়াও ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছে। একটি সাক্ষাৎকারে বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা রাফায়েলিতো আলেহান্দ্রো বলেন, নতুন করে শনাক্ত হওয়া মৃতের অধিকাংশ দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশে। তাদের বেশিরভাগের মৃত্যু হয়েছে ভূমিধস বা ভবন ধসে।

ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি’র প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমিকম্পের কেন্দ্র জেনারেল সান্তোস সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে এবং ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরতা ছিল। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে এটি আঘাত হানে।

আরও পড়ুন: বিএনপির শোভাযাত্রা উপলক্ষে নয়াপল্টনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমিকম্পের কারণে একটি জোলিবি রেস্তোরাঁর উপরের তলা ধসে গেছে। এছাড়া ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছে অবস্থিত জেনারেল সান্তোষ সিটির একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সের বাইরের কংক্রিটের দেয়ালও ভেঙে পড়ে।

ভূমিকম্পের পর দক্ষিণ ফিলিপিন্স, উত্তর ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছিল। তবে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আসন্ন বৈশ্বিক টুর্নামেন্টকে ‌‘বিশৃঙ্খলার বিশ্বকাপ’ অ্যাখ্যা ইংলিশ তারকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:১০ পি.এম


আসন্ন বৈশ্বিক টুর্নামেন্টকে ‌‘বিশৃঙ্খলার বিশ্বকাপ’ অ্যাখ্যা ইংলিশ তারকার

ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর দুই দিন। এর মধ্যেই মাঠের ভেতরে ও বাইরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

দলগুলো যখন বিশ্বকাপ প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তের কাজ সারছে, তখন খেলোয়াড়, স্টাফ এবং রেফারিকে পড়তে হচ্ছে আয়োজক দেশের কঠোর ভিসা নীতিতে।

এখন সব কিছুকে ছাপিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ভিসা সংক্রান্ত সমস্যা শিরোনামে উঠে এসেছে। এই ক্রমবর্ধমান ঘটনা তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইতিমধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপকে আর্সেনাল ও ইংল্যান্ডের সাবেক কিংবদন্তি খেলোয়াড় এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টকে ‘বিশৃঙ্খলার বিশ্বকাপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

বুধবার (১০ জুন) আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন ‘দ্য বিউটিফুল গেম’ শিরোনামে ধারাবাহিক প্রতিবেদন পর্ব শুরু করেছে। প্রতিবেদনে তারা বিশ্বকাপ উদ্বোধনী সপ্তাহের আগে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বিতর্কে আলোকপাত করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে এখন এটি বাস্তবায়নের জোরালো চিত্র সামনে এসেছে।

এতে নির্দিষ্ট কিছু দেশের মানুষ কীভাবে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে, সে বিষয়ে একটি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে এই নীতির কঠোর প্রয়োগ দেখা গেছে সোমালি রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। কেন তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে সে বিষয়ে মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগের একজন মুখপাত্র সিএনএনকে জানিয়েছেন, ইস্তাম্বুল থেকে একটি ফ্লাইটে মায়ামিতে পৌঁছানোর পর তাকে তল্লাশির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

কিন্তু আফ্রিকার সেরা পুরুষ রেফারি হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন আরতান। শুধুমাত্র কঠোর অভিবাসন নীতির বলি হিসেবে তিনি বিশ্বকাপে রেফারি হিসেবে কাজ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

এরপরই ফিফাও তার নাম বিশ্বকাপ রেফারি থেকে সরিয়ে নিয়েছে। মার্কিন সরকার কারণ হিসেবে যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা বলেছে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় ৩৯টি দেশের মধ্যে সোমালিয়াও রয়েছে।

ফিফার একজন মুখপাত্র বলেছেন, কে ভিসা পাবে এবং কাকে আয়োজক দেশে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হবে, তা নির্ধারণের দায়িত্ব সেই দেশের সরকারের।

আরতানের নিষেধাজ্ঞার খবরটি এমন সময় এসেছে যেখানে ইরান ফুটবল দলও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে গিয়ে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষত টুর্নামেন্টের জন্য আগত নির্দিষ্ট কিছু দলের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে, বিবিসি স্পোর্টসের খবর অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন স্কটল্যান্ড সমর্থকের ভ্রমণ অনুমতি শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। ফলস্বরূপ তাদের হোটেল ও ফ্লাইট বাবদ খরচকৃত অর্থ ক্ষতি হয়েছে।

এই ক্রমবর্ধমান ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, এবং আর্সেনালের সাবেক কিংবদন্তি ও ইংল্যান্ডের আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ইয়ান রাইট এই টুর্নামেন্টকে “বিশৃঙ্খলার বিশ্বকাপ” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার ইরানের ফুটবল ফেডারেশন (এফএফআইআরআই) এক বিবৃতিতে জানায়, আসন্ন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের এক সপ্তাহ আগেই দেশটির সমর্থকদের বরাদ্দকৃত টিকিট বাতিল করা হয়েছে।

তবে ফিফা কর্তৃক নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকারী দেশের জন্য প্রতিটি ম্যাচের প্রায় ৮% টিকিট সংরক্ষিত রাখার নিয়ম রয়েছে। যাতে ফেডারেশনগুলো তাদের সমর্থকদের কাছে সেগুলো বিক্রি করতে পারে।

ইরান গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাচ্ছে। তবে কেনো ইরানের জন্য বরাদ্দকৃত টিকিট বাতিল করা হলো, এ বিষয়ে ফিফা কোনো কিছুই জানায়নি।

১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবার কোনো আয়োজক দেশ এমন একটি দেশকে আতিথ্য দেবে, যার সঙ্গে তারা সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।

এসব বিতর্কে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টটিকে কিছুটা ম্রিয়মাণ করে তুলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শহীদ জিয়া মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিলেন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


শহীদ জিয়া মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিলেন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশের প্রতিটি থানার হেডকোয়ার্টারে ৩১ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।

আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আধুনিকায়নে শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে জিয়াউর রহমানের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ জিয়াই প্রথম রাষ্ট্রনায়ক যিনি গ্রামের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রতিটি থানা হেডকোয়ার্টারে ৩১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন।

মন্ত্রী বলেন, তিনি ছিলেন এ দেশের স্বাস্থ্য খাতের প্রকৃত পথপ্রদর্শক। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ জিয়ার দেখানো পথ অনুসরণ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৩১ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, শহীদ জিয়ার উন্নয়ন দর্শনকে ধারণ করে বর্তমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সূচনা করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ৩১ বা ৫০ শয্যার বিদ্যমান সব হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মন্ত্রী জানান, আমরা এরই মধ্যে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে দিয়েছি। শহীদ জিয়ার অন্যান্য কালজয়ী কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে শহীদ জিয়া যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, বর্তমান সরকারও পানি ধারণক্ষমতা বাড়াতে তা পুনরায় চালু করেছে।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান শিশুদের বিকাশের জন্য শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তার সততা ছিল প্রশ্নাতীত।

আলোচনা সভায় ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. আবুল কেনানের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ও সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, সংগঠনটির মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল বক্তব্য দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লন্ডনে স্বামীর ‘নির্যাতনের শিকার’ মেয়ে, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান মা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:১২ পি.এম


লন্ডনে স্বামীর ‘নির্যাতনের শিকার’ মেয়ে, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান মা

লন্ডনে বসবাসরত একটি মেয়ের ওপর তার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে এবং মেয়েকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইছেন একটি মা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে এই আকুতি জানিয়েছেন নির্যাতিতার মা রেখা খাতুন চৌধুরী। তিনি সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ থানার শাপলাবাগ এলাকার বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রেখা খাতুন চৌধুরী জানান, তার মেয়ে আনিকা হক চৌধুরীর বিয়ে আফজালুর রহমান জুলুর ছেলে রোম্মান আলমের সঙ্গে ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ের কিছুদিন পরে স্বামী রোম্মান আলম লন্ডনে চলে যান। তারপর থেকে দেশে স্বামীর বাসায় থাকার সময় আনিকার ওপর তার ভাসুর রুহুল আমিন এবং শাশুড়ি নাসিমা বেগম রিনু বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন।

বিয়ের পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত শাশুড়ি তার মেয়েকে বাবার বাসায় আসতে দেননি। তখন আনিকা তার মাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, স্বামী তাকে লন্ডন নিয়ে গেলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর আনিকাকে লন্ডন নিয়ে যান তার স্বামী রোম্মান আলম। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর তার ওপর আরও নির্মম নির্যাতন শুরু হয়। রোম্মান আলম এবং তার পরিবারের লোকজনের হুমকি, নির্যাতন এবং আচরণ বোঝাচ্ছে, আনিকা বর্তমানে তাদের কাছে নিরাপদ নয় এবং যেকোনো সময় তারা পরিকল্পনা করে লন্ডনে তাকে হত্যা এবং লাশ গুম করতে পারে। মেয়ের ওপর অকথ্য নির্যাতনের খবর যাতে দেশে জানাতে না পারে, সেজন্য তার স্বামী তার মোবাইল ফোনটিও নিয়ে নিয়েছেন।

রেখা খাতুন চৌধুরী অভিযোগ করেন, তার মেয়ের স্বামী কোনো কাজ না করে ঘরে বসে থাকেন এবং আনিকাকে দিয়ে চাকরি করিয়ে সেই অর্থ দিয়ে সংসার চালাতে বাধ্য করেন। প্রতি সপ্তাহের আয়ের পুরো টাকা রোম্মান নিয়ে নেন। আনিকা যদি টাকা দিতে না চান, তবে তার ওপর তীব্র নির্যাতন চালানো হয়। এ ব্যাপারে স্থানীয় শাহপরাণ থানা এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনারের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

নির্যাতিতার মা আরো অভিযোগ করেন, মেয়ের জামাই রোম্মান আলমের আপন চাচা বিএনপি নেতা সিদ্দিকুর রহমান পাপলু দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বাংলাদেশে তার ভাইয়ের বউ (আনিকার শাশুড়ি) এবং ভাতিজার (ভাসুর রুহুল আমিন) সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তিনি লন্ডনে থাকা আনিকা এবং দেশে থাকা তার বাবা-মা সহ পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে গালিগালাজ এবং অশালীন আচরণ করতে সহায়তা করে আসছেন। এমনকি তিনি পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে মিলে পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তে বাধা দিচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে রেখা খাতুন চৌধুরী বলেন, ‘প্রায় এক মাস আগে সিদ্দিকুর রহমান পাপলু আমাকে ফোন করে বলেন, আপনি যা বলে বেড়াচ্ছেন এবং থানায় যে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন, আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি তার কোনো সত্যতা নেই। এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট, তাই আপনারা কোনো বিচার পাবেন না। আমি নাকি মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালিয়ে তাদের সম্মান নষ্ট করছি। অথচ আমি তাকে মেয়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন, ভাইয়ের বউয়ের অকথ্য গালিগালাজ এবং তার দুই ভাতিজা রোম্মান ও রুহুলের আচরণের ভিডিও ফুটেজও দেখিয়েছিলাম।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার মেয়ের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি তার চাচা শ্বশুর সিদ্দিকুর রহমান পাপলুকে জানালে তিনি এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আমাকে গালিগালাজ করেন এবং নির্যাতনের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।’

বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর মনে করে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধের স্বার্থে মেয়েকে দ্রুত উদ্ধার করে রোম্মান আলমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জোর দাবি করেছেন অসহায় এই মা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০২৭ সালের শেষ নাগাদ মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ শেষ হবে : যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:১২ পি.এম


২০২৭ সালের শেষ নাগাদ মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ শেষ হবে : যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুত এই দক্ষিণ সীমান্তের দেয়াল নির্মাণ ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হবে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ আশা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) কমিশনার রডনি স্কট মঙ্গলবার এই তথ্য জানান। ওয়াশিংটনে সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তজুড়ে নির্মাণাধীন শক্তিশালী ধাতব বিম দিয়ে তৈরি এ বাধ সান ডিয়েগো থেকে মেক্সিকো উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। তবে যে সব স্থানে এর প্রয়োজন নেই বলে কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এমন কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় দেয়াল নির্মাণ করা হবে না। এই খবর সরকারি সংবাদ সংস্থা এএফপি ওয়াশিংটন থেকে জানিয়েছে। স্কট বলেন, ‘মূল সীমান্ত দেয়ালের কাজ ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ শেষ হবে।’ তিনি জানান, এখনও দেয়ালটির কিছু অংশে কাজ বাকি রয়েছে। স্কট আরও বলেন, ‘যেসব এলাকায় আমরা সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে দেয়ালের প্রয়োজন নেই, শুধু সে সব স্থানেই দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে বিগ বেন্ড ন্যাশনাল পার্কের কথাও বলা যেতে পারে। এটি অত্যন্ত দুর্গম এলাকা এবং সেখানে অনেক উঁচু খাড়া পাহাড় রয়েছে।’ তিনি উপকার করা অন্যান্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম স্থাপন এবং ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্যবস্থা বিষয়েও জানান। এসব কাজ ২০২৮ সালের জুলাই অথবা সর্বোচ্চ আগস্টের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সীমান্তঘেঁষা রিও গ্র্যান্ডে নদীর দীর্ঘ অংশে পৃথক ভৌত প্রতিবন্ধক ব্যবস্থা থাকবে। দুই দেশের মধ্যে নদীটির সীমান্ত অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৯০০ কিলোমিটার। মেক্সিকো থেকে অবৈধ অভিবাসন ও মাদক পাচার ঠেকানোর লক্ষ্যেই এই দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারি সূচক অনুযায়ী, উভয় কার্যক্রমই কমেছে। তবে স্কটের মতে, শুধু ভৌত দেয়াল নির্মাণ করলেই গোপন তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%