ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে চায় সরকার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী


বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে চায় সরকার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সামাজিক কল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকা যথাযথভাবে ব্যবহার করতে কাজ চলছে। তিনি জানান, সরকার বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে চায়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে রাজধানী ঢাকার শ্যামলীতে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং সমাজসেবা কার্যালয়ের রোগী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন আরও জানান, সরকারের উদ্দেশ্য হলো বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা, যাতে মানুষ অর্থের অভাবে মারা না যায়। জনগণের সুশিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

আরও পড়ুন: হিরণ পয়েন্ট ও নলিয়ান পরিদর্শন শেষে মোংলা নৌঘাঁটিতে প্রধানমন্ত্রী

এ ছাড়া, সমাজকল্যাণমন্ত্রী চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন যে, শিশুদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে না গিয়ে দেশে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেবাননে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল আমিরাত, ইরান-ইরাকে বহাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:১১ পি.এম


লেবাননে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল আমিরাত, ইরান-ইরাকে বহাল

প্রায় দুমাসের বিরতির পর লেবাননে ভ্রমণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এখন থেকে দেশটির নাগরিকরা আবারও লেবানন সফর করতে পারবেন।

আজ মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একটি প্রতিবেদন এই তথ্য জানিয়েছে।

ইউএই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লেবাননে যাত্রার আগে সকল আমিরাতি নাগরিককে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে। এই শর্ত নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই রাখতে বলা হয়েছে।

গত ৩০ এপ্রিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, লেবানন ও ইরাকে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। একই সময়ে ওই তিন দেশে অবস্থানরত আমিরাতি নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফেরার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে শুধু লেবাননের ক্ষেত্রে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে ইরান ও ইরাকের ওপর আগের বিধিনিষেধ এখনও বহাল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা কমে আসার প্রেক্ষাপটে এরই মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরান ও দুবাইয়ের মধ্যে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল পুনরায় চালু হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামী নির্বাচনে সর্বাধিক প্রবাসী ভোটারকে পোস্টাল ব্যালটের আওতায় আনার পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:১৫ পি.এম


আগামী নির্বাচনে সর্বাধিক প্রবাসী ভোটারকে পোস্টাল ব্যালটের আওতায় আনার পরিকল্পনা

সংসদ ভবন, ৩০ জুন, ২০২৬ : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রথমবারের মতো আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার আওতায় ভোটার নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) পদ্ধতি চালু করেছে।

আজ জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।

মন্ত্রী আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিকে পোস্টাল ব্যালটের আওতায় এনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন অনন্য সৃষ্টিশীল শিল্পী: তথ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:১৬ পি.এম


মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন অনন্য সৃষ্টিশীল শিল্পী: তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা, ৩০ জুন, ২০২৬ : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দেশের বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেছেন, তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এবং অন্তর্গতভাবেই একজন খাঁটি শিল্পী।

তিনি আরো বলেন, দেশের সকল প্রতিভাবান মানুষের তালিকা করা হলে মুস্তাফা মনোয়ার প্রথম সারির অনন্য মানুষ হিসেবে গণ্য হবেন।

আজ সকালে রাজধানীর রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে মরহুমের নামাজে জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তার জান্নাত প্রার্থনা করেন।

মুস্তাফা মনোয়ারের বৈচিত্র্যময় কর্মজীবনের ওপর আলোকপাত করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমাদের কৈশোর থেকেই আমরা তাঁর বহুমুখী প্রতিভা ও কাজের সাথে পরিচিত। তিনি শিল্পকলা ও সাহিত্যের জগতের বহু ক্ষেত্রে বিচরণ করেছেন। নিজে যেমন মেধার অবিরাম চর্চা করেছেন, ঠিক তেমনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মুস্তাফা মনোয়ার যখনই যেখানে যে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই তার কর্মের আন্তরিকতা, দক্ষতা, যোগ্যতা এবং সর্বোপরি এক অনন্য মননশীলতার গভীর ছাপ রেখে গেছেন।’

মরহুমের অন্তিম যাত্রায় তাঁর স্মৃতিবিজড়িত কর্মস্থল বিটিভি প্রাঙ্গণে উপস্থিত হতে পারাকে পরম সৌভাগ্য উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বিটিভি পরিবার এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষ থেকে মরহুমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেন।

বিটিভি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই জানাজার নামাজে বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, বিটিভির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং মরহুমের দীর্ঘদিনের সহকর্মীগণ অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
চীন-মালয়েশিয়া সফর

জিয়া পরিবারের কূটনৈতিক দর্শনের ধারাবাহিকতায় নতুন অধ্যায়ে তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:১৮ পি.এম


জিয়া পরিবারের কূটনৈতিক দর্শনের ধারাবাহিকতায় নতুন অধ্যায়ে তারেক রহমান

বিদেশ সফরের প্রকৃত সাফল্য দেশে ফিরে আসার দিন নির্ধারিত হয় না। আসল বিচারক হল সময়। কোনো সফরের মূল্য কেবল কতগুলি চুক্তি হলো, কতটি সমঝোতা স্মারক সই হলো বা কতটি ঘোষণা এলো, এসব বিষয় নিয়ে নির্ধারণ করা যায় না।

কূটনীতির অনেক অর্জন দৃশ্যমান হতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। কখনও তা বাণিজ্যে প্রতিফলিত হয়, কখনও বিনিয়োগে, আবার কখনও আন্তর্জাতিক আস্থায়, অথবা একটি দেশের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গেও তা প্রকাশ পায়।

এই বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীনকে অগ্রাধিকার দেওয়া নিছক একটি কূটনৈতিক কর্মসূচি নয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি স্পষ্ট দর্শনের প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। এই দর্শনের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তা নতুন বাস্তবতার মধ্যে প্রসারিত করেছিলেন। আর আজকের পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে তারেক রহমান সেই ধারাবাহিকতাকে নতুন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন, এমন প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে।

অনেকে প্রশ্ন করছেন, প্রথম বিদেশ সফরের জন্য কেন চীন ও মালয়েশিয়া? কেন অন্য কোনো দেশ নয়? এর উত্তর জানতে হলে কয়েক দশক পেছনে ফিরে দেখতে হবে।

স্বাধীনতার পর আন্তর্জাতিক রাজনীতি ছিল দুই পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিভক্ত। সেই বাস্তবতায় জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে কোনো একক শক্তির ওপর নির্ভরশীল না রেখে বহুমাত্রিক করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর কূটনৈতিক দর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ যেখানে সবচেয়ে বেশি সুরক্ষিত হবে, সেখানেই সম্পর্ক আরও গভীর করা। এর অংশ হিসেবেই চীন সঙ্গে সম্পর্ক নতুন গতি পায়। একই সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণেও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

মালয়েশিয়া তখন দ্রুত শিল্পায়নের পথে এগোচ্ছে। চীনও ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক সংস্কারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট জিয়া হয়তো আজকের বৈশ্বিক অর্থনীতির চিত্র দেখেননি। তবে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে কেবল রাজনৈতিক বন্ধুত্ব নয়, বরং অর্থনৈতিক অংশীদারও খুঁজতে হবে।

খালেদা জিয়ার সময় সেই নীতির বাস্তব প্রয়োগ আরও স্পষ্টভাবে দেখা যায়। চীনের সঙ্গে অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। অপরদিকে মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারে পরিণত হয়। হাজার হাজার বাংলাদেশির কর্মসংস্থান দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে যায়। নতুন বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রও উন্মুক্ত হতে থাকে।

এই ধারাবাহিকতায় এসেছে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সফর। তবে এটিকে কেবল অতীতের পুনরাবৃত্তি বললে ভুল হবে। কারণ, বিশ্ব এখন অনেক বদলে গেছে।

আজকের পৃথিবীতে রাষ্ট্রগুলোর প্রতিযোগিতা কেবল কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিল্প, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দক্ষ জনশক্তি, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বাজারে প্রবেশাধিকার নিয়েও। ফলে বাংলাদেশের কূটনীতিকেও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে।

এ কারণে চীন সফরের গুরুত্ব কেবল নতুন সহযোগিতা ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নয়। এর বড় তাৎপর্য হলো—বাংলাদেশ নিজেকে কেবল উন্নয়ন সহায়তা গ্রহণকারী রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং উৎপাদন, শিল্পায়ন এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় অংশীদার হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। যদি এই প্রচেষ্টা বাস্তবে রূপ পায়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে নিম্নমূল্যের শ্রমনির্ভর উৎপাদন থেকে উচ্চমূল্যের শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হতে পারে।

একইভাবে মালয়েশিয়া সফরের তাৎপর্যও কেবল শ্রমবাজারে সীমাবদ্ধ নয়। বহু বছর ধরে দুই দেশের সম্পর্কের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল কর্মী পাঠানো। কিন্তু বর্তমানে আলোচনা দক্ষ মানবসম্পদ, বিনিয়োগ, কৃষি, হালাল শিল্প, প্রযুক্তি এবং শিল্প সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের চরিত্র পরিবর্তন হতে পারে।

এই সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির ভাষা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। অতীতে উন্নয়ন সহযোগিতা বা অবকাঠামো নির্মাণ ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এখন বিনিয়োগ, বাজার, প্রযুক্তি, শিল্প স্থানান্তর এবং উৎপাদন বিষয়গুলোর দিকে দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে। এই পরিবর্তন কেবল শব্দের পরিবর্তন নয়; এটি অর্থনৈতিক কৌশলেরও পরিবর্তন।

এমন অনেকেই বিদেশ সফরের মূল্যায়ন করেন কতটি চুক্তি হলো, কত ডলারের প্রতিশ্রুতি এল বা কতটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলো, সেগুলো দিয়ে। কিন্তু কূটনীতির ইতিহাস ভিন্ন কথা বলে। অনেক বড় ঘোষণাও বাস্তবায়নের অভাবে ইতিহাসে হারিয়ে গেছে। আবার অনেক ছোট উদ্যোগ সময়ের সঙ্গে একটি দেশের অর্থনীতিকে পরিবর্তন করেছে। তাই সফরের প্রকৃত মূল্য নির্ভর করে ঘোষণার ওপর নয়, বরং বাস্তবায়নের ওপর।

চীন ও মালয়েশিয়া, দুটি দেশই বাংলাদেশের জন্য কেবল বন্ধু রাষ্ট্র নয়; তারা অর্থনৈতিক রূপান্তরের সম্ভাব্য অংশীদার। একটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উৎপাদনশীল অর্থনীতি, অন্যটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সফল শিল্পোন্নত রাষ্ট্র। বাংলাদেশের সামনে যখন মধ্যম আয়ের ফাঁদ এড়িয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ মুখোমুখি, তখন এই দুই দেশের সঙ্গে গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা দিচ্ছে।

তবে এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রেখে যায়। এই সফর কি ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নেবে? এর উত্তর এখনই দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ ইতিহাস তাৎক্ষণিক রায় দেয় না।

জিয়াউর রহমান যে বহুমাত্রিক কূটনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং খালেদা জিয়া যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও শ্রমবাজারভিত্তিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করেছিলেন, তারেক রহমানের চীন ও মালয়েশিয়া সফর সেই ধারাবাহিকতাকে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় নতুন মাত্রা দেওয়ার একটি প্রয়াস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এর প্রকৃত মূল্যায়ন হবে বাস্তবায়নের অগ্রগতির ভিত্তিতে।

তবে চীন ও মালয়েশিয়া সফর বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে—এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে সেই সম্ভাবনা কতটা বাস্তবায়নে পরিণত হবে, তা নির্ভর করবে প্রতিশ্রুত উদ্যোগের বাস্তবায়ন, বিনিয়োগের প্রবাহ, বাণিজ্যের বিস্তার, প্রযুক্তি সহযোগিতার অগ্রগতি এবং দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে কতটা প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো যায়, তার ওপর।

চীন ও মালয়েশিয়া সফরকে তাই কেবল একটি কূটনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতিকে নতুন বাস্তবতায় অভিযোজিত করার একটি প্রয়াস। জিয়া পরিবারের বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতার নতুন অধ্যায়। এখন প্রয়োজন ঘোষণাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। কারণ কূটনীতির সাফল্য শুধুমাত্র ঘোষণায় নয়, বাস্তবায়নেই প্রতিষ্ঠিত হয়।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%