বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৪৭ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ রয়েছে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে। তবে, এ সুযোগ গ্রহণের জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানভিত্তিক তৃতীয় পছন্দ বা ইবি-৩ শ্রেণির আওতায় যোগ্য আবেদনকারীরা নির্ধারিত আবেদনপত্র জমা দিয়ে অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে হলে প্রথমত সঠিকভাবে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পরিবর্তনের আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। আবেদনকারীকে অভিবাসন কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিদর্শিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশের অনুমতি অথবা আইনি প্যারোলে প্রবেশের অনুমতি থাকতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীকে অভিবাসী ভিসা পাওয়ার যোগ্য হতে হবে। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময়—দুই সময়েই তার জন্য অভিবাসী ভিসা পাওয়ার সুযোগ অবিলম্বে থাকতে হবে।
তৃতীয়ত, যে নিয়োগকর্তা আবেদনকারীর জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন, তার দেওয়া চাকরির প্রস্তাব বহাল থাকতে হবে। স্থায়ী বাসিন্দার আবেদন অনুমোদিত হলে আবেদনকারীর ওই চাকরি গ্রহণের ইচ্ছা থাকতে হবে।
চতুর্থত, আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য হতে হবে। যদি তাকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ছাড় বা আইনি সুবিধা পাওয়ার জন্য তাকে যোগ্য হতে হবে।
পঞ্চমত, আবেদনকারীর স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা থাকা যাবে না। সংশ্লিষ্ট অভিবাসন আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তাকে পূরণ করতে হবে।
ষষ্ঠত, আবেদনকারীর জমা দেওয়া সব তথ্য ও নথি সঠিক হতে হবে। অভিবাসন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী এসব তথ্য যাচাই করতে পারে।
সপ্তমত, কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনটির সঙ্গে যুক্ত চাকরির প্রস্তাব এবং নিয়োগকর্তার দেওয়া তথ্য আবেদনকারীর আবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
অষ্টমত, সব শর্ত পূরণ করার পরও আবেদন অনুমোদনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবাকে আবেদনকারীর পক্ষে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অর্থাৎ, নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না।
আই-১৪০ অনুমোদনের পর চাকরি পরিবর্তন করলেও আবেদনকারী সব ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য হয়ে যান না। স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পরিবর্তনের আবেদনপত্র অন্তত ১৮০ দিন মুলতবি থাকার পর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে নতুন চাকরিতে যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
তবে নতুন চাকরিটি আগের চাকরির মতো বা একই ধরনের পেশাগত শ্রেণির হতে হবে। চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও অনুসরণ করতে হয়।
কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে চাকরির প্রস্তাব এবং সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্রের শর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদনকারীদের স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পরিবর্তনের আবেদনপত্র, কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনপত্র এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি সঠিকভাবে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী সব যোগ্যতা পূরণ হচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রায় দুই দশক পর আবারও একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে ইমরান হাশমি ও হিমেশ রেশমিয়া। নতুন গান নিয়ে তারা হাজির হয়েছেন, যা ‘আশিক বানায়া আপনে’ গানের জনপ্রিয়তার স্মৃতি উসকে দিচ্ছে। ইমরান হাশমি অভিনীত আসন্ন রোমান্টিক-অ্যাকশন সিনেমা ‘গানমাস্টার জি৯’-এর প্রথম গান ‘আফসানা বানায়া আপনে’ মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নস্টালজিয়ার আলোচনা শুরু হয়েছে।
‘আশিক বানায়া আপনে’র সুর এবং ইমরান হাশমির পর্দায় উপস্থিতি একসময় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। নতুন গানটিতে সেই পুরনো আবহের ছোঁয়া থাকায় দর্শকদের মধ্যে ফিরে এসেছে দুই দশক আগের স্মৃতি।
হিমেশ রেশমিয়ার লেখা ও সুরে তৈরি ‘আফসানা বানায়া আপনে’ গানে দ্বৈত কণ্ঠ দিয়েছেন গায়িকা অসীস কৌর। গানটির মিউজিক ভিডিওতে ইমরান হাশমির সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন অভিনেত্রী জেনেলিয়া দেশমুখ।
গানটি নিয়ে ইমরান হাশমি মন্তব্য করেছেন যে, পুরনো সৃষ্টিকে হুবহু নকল করার কোনো চেষ্টা করা হয়নি। তার ভাষায়, গানটির সঙ্গে গভীর নস্টালজিয়া জড়িয়ে থাকলেও ‘আফসানা বানায়া আপনে’র নিজস্ব আবেগ রয়েছে, যা ‘গানমাস্টার জি৯’ সিনেমার পটভূমির সঙ্গে ভালোভাবে মিশে গেছে।
হিমেশ রেশমিয়াও জানিয়েছেন, সিনেমাটির অ্যালবাম তৈরিতে তারা প্রায় ৮-৯ মাস পরিশ্রম করেছেন। গল্পের আবহ বজায় রেখে নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের ভালো লাগার মতো সুর তৈরি করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দীপক মুকুট, হুনার মুকুট ও সঙ্গীতা আহির প্রযোজিত ‘গানমাস্টার জি৯’ পরিচালনা করেছেন আদিত্য দত্ত। এই অ্যাকশন-থ্রিলার ঘরানার সিনেমাটিতে ইমরান হাশমি ও জেনেলিয়া দেশমুখ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন অপারশক্তি খুরানা ও অভিষেক সিং।
‘গানমাস্টার জি৯’ আগামী ২৭ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়ায় আগস্ট মাসে কর্মসংস্থান প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে। তবে একই সময়ে আরো বেশি মানুষ কাজের সন্ধানে শ্রমবাজারে আসায় বেকারত্বের হার বেড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
আরো পড়ুন
ওমানে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় ১ ভারতীয় নাবিক নিহত, উদ্ধার ১৯
রয়টার্স জানায়, শ্রমবাজারের এই মিশ্র চিত্রের পরও অস্ট্রেলিয়ার সুদের হার নিয়ে বাজারের ধারণায় বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগামী সপ্তাহে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জোরালো প্রত্যাশা রয়েছে। এ বছর এটি হবে সুদের হার বাড়ানোর চতুর্থ দফা। বাজারে এখন প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্ভাবনা ধরে নেওয়া হচ্ছে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার ৪ দশমিক ৬ শতাংশে বাড়াবে। তবে কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের পর অস্ট্রেলীয় ডলারের দর কমেছে। বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলীয় ডলারের মূল্য শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ অস্ট্রেলীয় ডলারে শূন্য দশমিক ৭০২৬ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। এটি প্রায় সাত সপ্তাহের মধ্যে মুদ্রাটির সর্বনিম্ন দর। এর আগে রাতভরও অস্ট্রেলীয় ডলারের দর উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল।
আরো পড়ুন
বাংলাদেশি নাবিককে উদ্ধার করলেন ভারতীয় উপকূলরক্ষী
অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে দেশটিতে মোট কর্মসংস্থান বেড়েছে ৩৯ হাজার ৫০০টি। এর আগের মাস জুলাইয়ে কর্মসংস্থান ১৫ হাজার ৮০০টি কমেছিল। ফলে আগস্টের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি শ্রমবাজারে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। আগস্টে কর্মসংস্থান ২০ হাজার বাড়বে বলে বাজারের পূর্বাভাস ছিল। বাস্তবে এর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ কর্মসংস্থান বেড়েছে। তবে সব ধরনের চাকরিতে বৃদ্ধি হয়নি। আগস্টে পূর্ণকালীন চাকরি কমেছে ৬ হাজার ৩০০টি। অর্থাৎ মোট কর্মসংস্থান বাড়লেও পূর্ণকালীন চাকরির সংখ্যা কমেছে। কর্মসংস্থান বাড়লেও আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বেকারত্বের হার বেড়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হয়েছে। বাজারে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। ২০২১ সালের শেষ দিকের পর এবারই দেশটিতে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
আরো পড়ুন
ওমানে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় ১ ভারতীয় নাবিক নিহত, উদ্ধার ১৯
এর একটি কারণ হলো, আরো বেশি মানুষ কাজের সন্ধানে শ্রমবাজারে যোগ দিয়েছেন। ফলে চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। আগস্টে শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের হার বেড়ে ৬৭ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে এই হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট। একই সময়ে দেশটির কর্মীদের মোট কাজের সময়ও বেড়েছে। আগস্টে মোট কাজের সময় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রম পরিসংখ্যান বিভাগের প্রধান শন ক্রিক বলেন, আগস্টে সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এমন মানুষের সংখ্যা বেশি ছিল, যারা আগে শ্রমবাজারের বাইরে ছিলেন। পরে তারা কাজের সন্ধানে শ্রমবাজারে যোগ দিয়ে বেকার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তার মতে, শ্রমশক্তির আকার বাড়ার কারণেই শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের হারও বেড়েছে। অর্থাৎ আগস্টে বেকারত্বের হার বাড়ার পেছনে শুধু চাকরি কমে যাওয়ার বিষয়টি কাজ করেনি। বরং আগে কাজের বাইরে থাকা আরো বেশি মানুষ চাকরি খোঁজা শুরু করায় বেকারের সংখ্যা বেড়েছে।
আরো পড়ুন
বাংলাদেশি নাবিককে উদ্ধার করলেন ভারতীয় উপকূলরক্ষী
অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, দেশটির শ্রমবাজার কিছুটা দুর্বল হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে শ্রমবাজার এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মিশেল বুলক চলতি সপ্তাহে বলেছেন, বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে থাকলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে। তার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বর্তমান পর্যায় থেকে বেকারত্বের হার কিছুটা বাড়লেও সেটিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য গ্রহণযোগ্য পর্যায় হিসেবে দেখা হতে পারে। মূল্যস্ফীতি কমানোর লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বছর এরই মধ্যে তিনবার সুদের হার বাড়িয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে সুদের হার ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। মহামারির পর এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুদের হার। তবে সুদের হার বাড়ানোর পরও মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। দেশটির মূল মূল্যস্ফীতির হার এখনো ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ২ থেকে ৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এটি বেশি।
আরো পড়ুন
বাংলাদেশি নাবিককে উদ্ধার করলেন ভারতীয় উপকূলরক্ষী
মূল্যস্ফীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মিশেল বুলক সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগের বড় ধরনের বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এরই মধ্যে তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলারের ওপরে উঠেছে। তেলের দাম বাড়লে জ্বালানি ও পরিবহন খরচসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা আরও কঠিন হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশাতেও পরিবর্তন এসেছে। এখন বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ায় সুদের হার শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত উঠতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইবাদত কখনোই মানুষের প্রশংসা অর্জনের উদ্দেশ্যে করা উচিত নয়; বরং এটি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। মানুষের অন্তরের প্রকৃতি অত্যন্ত বিচিত্র—অনেক সময় দেখা যায়, আল্লাহর জন্য শুরু করা একটি আমলে ধীরে ধীরে মানুষের প্রশংসার আকাঙ্ক্ষা প্রবেশ করে। নামাজে কি মানুষ দেখছে, দান করার সময় অন্যরা জানল কি না, কোরআন তিলাওয়াত শুনে মানুষ কী বলবে, দ্বীনি কাজ দেখে কে প্রশংসা করবে—এসব চিন্তা যখন ইবাদতের উদ্দেশ্যকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, তখন সেখানে প্রবেশ করে রিয়া বা লোক-দেখানো।
বাহ্যিকভাবে আমলটি যতই সুন্দর হোক, আল্লাহর কাছে এর মূল্য নির্ভর করে অন্তরের নিয়তের উপর। সুতরাং একজন মুমিনের জন্য এটি অপরিহার্য যে, তিনি শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদত করবেন। কারণ লোক দেখানো ইবাদতের বিষয়ে কোরআনে কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের একটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেন, ‘আর যখন তারা নামাজের জন্য দাঁড়ায়, তখন অলসভাবে দাঁড়ায়; তারা মানুষকে দেখায় এবং আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৪২)
অন্যদিকে সুরা আল-মাউনেও আল্লাহ বলেন, ‘অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাজির জন্য, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন; যারা লোক দেখায়।’ (সুরা : মাউন, আয়াত : ৪-৬)
এখানে লক্ষ্যণীয় যে, আল্লাহ শুধুমাত্র নামাজ না পড়ার ব্যাপারে সতর্ক করেননি; বরং এমন লোকদের ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন, যারা নামাজ পড়ে কিন্তু মানুষের দেখানোর উদ্দেশ্যকে ইবাদতের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেয়।
লোক-দেখানো দানও আমলকে নষ্ট করে দিতে পারে। শুধুমাত্র নামাজ নয়—দান-সদকা, কোরআন তিলাওয়াত, দ্বীনি শিক্ষা, মানুষের সেবা—সব ধরনের নেক আমলে নিয়তের বিশুদ্ধতা অপরিহার্য। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা খোঁটা ও কষ্ট দিয়ে নিজেদের দানকে নষ্ট করো না—সে ব্যক্তির মতো, যে লোক দেখানোর জন্য তার সম্পদ ব্যয় করে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬৪)
এরপর আল্লাহ এমন ব্যক্তির আমলের উদাহরণ দিয়েছেন, যে একটি মসৃণ পাথরের ওপর সামান্য মাটি ছিল; প্রবল বৃষ্টি এসে সেই মাটি ধুয়ে পাথরটিকে পরিষ্কার করে দেয়। অর্থাৎ বাহ্যিকভাবে আমল থাকলেও রিয়ার কারণে তার প্রতিদান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) রিয়াকে ভয় করতে বলেছেন। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য আমল করে, আল্লাহ তার লোক দেখানো প্রকাশ করে দেবেন; আর যে ব্যক্তি মানুষের কাছে নিজের আমলের কথা প্রচার করে বেড়ায়, আল্লাহ তার বিষয়টি প্রকাশ করে দেবেন।’ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
অর্থাৎ মানুষের সন্তুষ্টির জন্য যে আমল করা হয়, তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। দুনিয়ায় মানুষ হয়তো প্রশংসা করবে, কিন্তু আখিরাতে সেই প্রশংসা কোনো উপকারে আসবে না।
আমল অনেক হলেও নিয়ত ভুল হলে পরিণতি ভয়াবহ। সহিহ মুসলিমের একটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) তিন শ্রেণির মানুষের কথা বলেছেন, যাদের ব্যাপারে কিয়ামতের দিন প্রথমে ফয়সালা করা হবে—শহীদ, আলেম/কোরআন পাঠকারী এবং দানশীল ব্যক্তি। এক ব্যক্তি যুদ্ধ করে নিহত হয়েছিল। সে বলবে, ‘হে আল্লাহ! আপনার জন্য আমি যুদ্ধ করেছি।’ কিন্তু আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ; তুমি যুদ্ধ করেছিলে যাতে মানুষ তোমাকে সাহসী বলে। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এক ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করেছিল, তা শিক্ষা দিয়েছিল এবং কোরআন পড়েছিল। কিন্তু তার উদ্দেশ্য ছিল মানুষ যেন তাকে আলেম ও কোরআন পাঠকারী বলে। আরেক ব্যক্তি প্রচুর সম্পদ দান করেছিল, কিন্তু তার উদ্দেশ্য ছিল মানুষ যেন তাকে দানশীল বলে। তাদের প্রত্যেকের বাহ্যিক আমল বড় হলেও নিয়ত ছিল মানুষের প্রশংসা অর্জন করা। হাদিসে তাদের কঠিন পরিণতির কথা এসেছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯০৫)
লোক দেখানো ইবাদত থেকে বাঁচার উপায়
লোক দেখানো ইবাদত থেকে বাঁচতে হলে নিজের অন্তরকে নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে—‘আমি যদি এই আমলটি করি এবং কেউ তা না জানে, তবুও কি আমি তা করব?’ কিছু আমল গোপনে করার অভ্যাস করা যেতে পারে। যেমন—গোপনে সদকা করা, নির্জনে তাহাজ্জুদ পড়া, একান্তে দীর্ঘ সিজদা করা, কাউকে না জানিয়ে কারও উপকার করা। এতে বান্দার অন্তরে আল্লাহর সঙ্গে একান্ত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের তো এ ছাড়া কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে, তারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে।’ (সুরা : বাইয়্যিনাহ, আয়াত : ৫)
আল্লাহ তাআলা আমাদের লোক দেখানো ইবাদত করা থেকে বিরত রাখুন এবং আমাদের সব নেক-আমল আল্লাহ কবুল করুন। আমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উত্তর কোরিয়া মঙ্গলবার একটি উন্নত ২৪০ মিমি ‘গাইডেড মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেমে’র পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে। এই তথ্যটি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে।
কেসিএনএ দাবি করেছে যে, পরীক্ষায় নতুন রকেটগুলোর কার্যকারিতা ও নির্ভুলতা প্রমাণিত হয়েছে। এই রকেটগুলিতে স্বয়ংক্রিয় নির্ভুল নির্দেশনা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, নতুন অস্ত্রটি দক্ষিণ সীমান্তে তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
কেসিএনএ আরও জানিয়েছে যে, এ ধরনের রকেটের উন্নয়নের ফলে উত্তর কোরিয়ার দক্ষিণ সীমান্তে সামরিক প্রস্তুতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এখানে দক্ষিণ সীমান্ত বলতে মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সীমান্তকে বোঝানো হয়েছে।
এই পরীক্ষার তদারকি করেছেন উত্তর কোরিয়ার কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান পাক জং-চন। তিনি দক্ষিণ সীমান্তে সবচেয়ে শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক আক্রমণাত্মক সামরিক শক্তি মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
রয়টার্সের সাথে যোগাযোগ করার পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে তাদের কৌশলগত ও প্রচলিত অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিক এবং শক্তিশালী করে চলেছে, এবং দেশটি এসব অস্ত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তের কাছে মোতায়েন করতে চায়।
সিউলের কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম উল-চুল মন্তব্য করেছেন, ‘নতুন রকেটে নির্ভুল নির্দেশনা ব্যবস্থা ব্যবহারের অর্থ হলো, উত্তর কোরিয়া সিউল মহানগর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে মাত্র কয়েক মিটারের ব্যবধানে হামলা চালাতে সক্ষম হতে পারে।’
লিমের মতে, এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী অঞ্চল সম্ভাব্য হুমকির মুখে পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, এর উদ্দেশ্য দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণের মধ্যে ভয় তৈরি করাও হতে পারে।
জুন মাসে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের পরীক্ষা তদারকি করেন। এর মধ্যে উন্নত রকেট লঞ্চার ও কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রও অন্তর্ভুক্ত ছিল। উত্তর কোরিয়া তখন জানিয়েছিল, এসব অস্ত্র দক্ষিণ সীমান্তের প্রতিরক্ষায় ব্যবহার করা হবে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চোয়ে সন-হুই বলেছেন, দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের মর্যাদা আর পরিবর্তন করা যাবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি আবারও নিশ্চিত করার পর পিয়ংইয়ং তার অবস্থানে আরো দৃঢ় হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ