ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নকআউট থেকে বিদায়, সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপ নেই কুমানের


নকআউট থেকে বিদায়, সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপ নেই কুমানের

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ থেকে টাইব্রেকারে বিদায় নেওয়ার পরেও নিজের রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে অনুতপ্ত নন নেদারল্যান্ডসের কোচ রোনাল্ড কুমান। বরঞ্চ তাঁর দাবি, মরক্কোর মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন পরিকল্পনা দলের জন্য ছিল সবচেয়ে কার্যকর এবং একই পরিস্থিতি পুনরায় এলে তিনি আবারও একই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

মরক্কোর বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ গোলে সমাপ্ত হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে নেদারল্যান্ডস। ম্যাচটিতে ডাচদের ঐতিহ্যবাহী আক্রমণাত্মক ফুটবল থেকে সরে এসে পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে রক্ষণভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন কুমান। এই সিদ্ধান্তের জন্য ম্যাচ শেষে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হন তিনি। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে কুমান বলেন, এই কৌশলের কারণে তাঁর দল পূর্ববর্তী ম্যাচগুলোর তুলনায় কম ভুল করেছে।

কুমানের ভাষ্যে, "এই কৌশলে আমরা আগের ম্যাচের তুলনায় কম বল হারিয়েছি"। তিনি এটিকে ইতিবাচক একটি দিক হিসেবে বিবেচনা করেন এবং স্বীকার করেন যে, আক্রমণে কিছুটা কম কার্যকর ছিলেন। সমালোচকদের উদ্দেশে কুমান বলেন, কৌশল নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে, তবে সুইডেন ও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের তুলনায় মরক্কোর মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে তাঁর পরিকল্পনা সফল ছিল।

আরও পড়ুন: গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে আতিকুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

তিনি আরো বলেন, "যদি আবার একই পরিস্থিতি আসে, আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই একই কৌশল গ্রহণ করব।" নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত কোনো মন্তব্য করতে চাননি ডাচ কোচ। তাঁর মতে, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে যদি মরক্কো সমতা ফিরিয়ে আনতে না পারতো, তবে সবাই তাঁর পরিকল্পনাকে সফল বলত।

কুমান বলেন, "যদি মরক্কো শেষ মুহূর্তে গোল না করত, তাহলে হয়তো আমি আজ প্রশংসিত হতাম। কিন্তু এখন পাঁচ ডিফেন্ডার খেলানোর জন্য সমালোচনা হচ্ছে। তবুও আমি বিশ্বাস করি, সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।" তিনি আরো জানান, ম্যাচের আগে এই পরিকল্পনা নিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল এবং তাঁরাও এতে সম্মতি দিয়েছিলেন।

সমালোচনার জবাবে কুমান বলেন, "আপনারা সমালোচনা করতেই পারেন, সেটি আপনাদের অধিকার। কিন্তু আপনারা ম্যাচ দেখেন সাইডলাইন থেকে, আর আমি মাঠে দলের সঙ্গে বাস্তবতা বুঝে সিদ্ধান্ত নিই। কোথায় উন্নতি করতে হবে, সেটিও আমি জানি। তবে একই পরিস্থিতি এলে আমি আবারও একই সিদ্ধান্ত নেব।" রক্ষণাত্মক কৌশলকে ভয়ের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখার বিরুদ্ধে কুমান মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "এটা ভয়ের বিষয় নয়। কেন আমি ভয় পাব? মাঠে আমাদের তিনজন স্ট্রাইকার ছিল। লক্ষ্য ছিল রক্ষা আরও সংগঠিত করা এবং প্রতিপক্ষকে বিশ্লেষণ করে সেভাবেই পরিকল্পনা সাজানো। কারও ভিন্ন মত থাকতে পারে, আমি সেটিকে সম্মান করি। তবে আমার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।

আরও পড়ুন: জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নস্যাৎ করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এআই চিপে বিপুল বিনিয়োগ দক্ষিণ কোরিয়ার, ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক বিশ্লেষকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৭ পি.এম


এআই চিপে বিপুল বিনিয়োগ দক্ষিণ কোরিয়ার, ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক বিশ্লেষকরা

দক্ষিণ কোরিয়ার দুই শীর্ষ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির চাহিদাকে সামনে রেখে বিশাল বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে যদি এআই চিপের চাহিদা কমে যায়, তাহলে এই বিনিয়োগ বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রয়টার্সে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দুই প্রতিষ্ঠান একত্রে প্রায় ৩ হাজার ২০০ ট্রিলিয়ন ওন বা প্রায় ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই বিনিয়োগের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন চিপ ক্লাস্টার নির্মাণের পরিকল্পনাও।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশটিতে মেমোরি চিপ উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করতে চায়। এর জন্য ইয়ংইন সেমিকন্ডাক্টর ক্লাস্টারে কারখানা নির্মাণ ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে এআই প্রসেসরের জন্য ব্যবহৃত হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি চিপ উৎপাদনে বিশ্বে প্রধান নেতৃস্থানীয় অবস্থানে রয়েছে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স। এই চিপের চাহিদা এআই প্রযুক্তির বিস্তৃতির সাথে সাথে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নতুন কারখানা কার্যক্রম শুরু হতে কয়েক বছর লাগবে। এ সময়ের মধ্যে যদি এআই খাতে বিনিয়োগ কমে যায়, তাহলে বাজারে অতিরিক্ত চিপের সরবরাহের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

মর্নিংস্টারের বিশ্লেষক জিং জিয়ে ইউ মন্তব্য করেছেন, দীর্ঘ মেয়াদে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো বাজারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এআই কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে একই গতিতে বিনিয়োগ করে যাবে কিনা, তা নিশ্চিত নয়।

সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক লি জং-হো বলেছেন, এত বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে। তাই বাজার পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক সতর্ক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

অতীতে চিপের বাজারে মন্দার সময় স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স বড় ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিল। ২০২৩ সালেও এই দুই প্রতিষ্ঠান বড় অঙ্কের লোকসানের সম্মুখীন হয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠান দুটি জানায়, বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে বিনিয়োগের গতি সমন্বয় করা হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সরকারের দ্রুত অনুমোদন ও অবকাঠামোগত সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এআই যুগে এটি দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে। তবে এই বিশাল বিনিয়োগের সফলতা শেষ পর্যন্ত ভবিষ্যতের বৈশ্বিক এআই চিপের চাহিদার ওপর নির্ভর করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আনসার ব্যাটালিয়নে বড় নিয়োগ, এসএসসি পাসে চাকরির সুযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৭ পি.এম


আনসার ব্যাটালিয়নে বড় নিয়োগ, এসএসসি পাসে চাকরির সুযোগ

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এসএসসি পাসেই চাকরি দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তাদের আনসার ব্যাটালিয়নের ২৮তম ব্যাচ (পুরুষ) ‘সিপাহি’ পদে জনবল নেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম হচ্ছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার-ভিডিপি) এবং পদের নাম হলো সিপাহি (পুরুষ) যা ২৮তম ব্যাচে রয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত প্রযোজ্য। প্রার্থীদের বৈবাহিক অবস্থা অবিবাহিত হতে হবে।

শারীরিক যোগ্যতার জন্য নিচে উল্লেখিত বিষয়গুলো মানতে হবে:

উচ্চতা: সাধারণ ও অন্যান্য প্রার্থীদের জন্য সর্বনিম্ন ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি (১.৬৭৬ মিটার) এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী প্রার্থীদের জন্য ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৬২৫ মিটার) হতে হবে।

ওজন: সাধারণ ও অন্য প্রার্থীদের জন্য সর্বনিম্ন ৪৯.৮৯৫ কেজি (১১০ পাউন্ড) এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী প্রার্থীদের জন্য ৪৭.১৭৩ কেজি (১০৪ পাউন্ড) হতে হবে।

বুকের মাপ: সাধারণ ও অন্য প্রার্থীদের জন্য স্বাভাবিক অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩৪ ইঞ্চি। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী প্রার্থীদের জন্য স্বাভাবিক ৩০ ইঞ্চি এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি হতে হবে।

বয়সের ক্ষেত্রে, ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে সর্বনিম্ন ১৮ বছর এবং সর্বোচ্চ ২২ বছর হতে হবে। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।

আবেদন ফি: অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ফি আবেদন পোর্টালে প্রদর্শিত মানি ট্রান্সফার পদ্ধতিতে জমা দিতে হবে।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার-ভিডিপি) এই https://ansarvdp.gov.bd/ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে।

আবেদনের সময়সীমা: আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৯ জুলাই, ২০২৬ ইং তারিখ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার’ তিন প্রজন্ম ধরে ধরে রেখেছে স্বাদ, ঐতিহ্য ও আস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৮ পি.এম


শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার’ তিন প্রজন্ম ধরে ধরে রেখেছে স্বাদ, ঐতিহ্য ও আস্থা

মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার’ প্রায় এক শতাব্দীর ইতিহাস বুকে ধারণ করে এখনও সমান জনপ্রিয়। ১৯৩৭ সালে এটি যাত্রা শুরু করে। এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে গুণগত মান, খাঁটি উপকরণ ও ঐতিহ্যবাহী স্বাদ ধরে রেখে জেলার মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। জেলার অধিকাংশ মানুষের মধ্যে একজনও খুঁজে পাওয়া কঠিন, যিনি কোনো না কোনো সময় এই দোকানের মিষ্টির স্বাদ গ্রহণ করেননি।

বিয়ে, জন্মদিন, পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠান অথবা অতিথি আপ্যায়ন—সব ক্ষেত্রে মাদারীপুরবাসীর জন্য প্রথম পছন্দ হচ্ছে জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডারের ক্ষীরপুরি ও সন্দেশ। শুধু দেশের মধ্যে নয়, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কাতার, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাসরত প্রবাসীরা দেশে আসার সময় প্রিয়জনদের জন্য এখানকার মিষ্টি নিয়ে যান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৩৭ সালে মাদারীপুর শহরের পুরাতন কোর্ট এলাকায় একটি টিনের ছাপড়া ঘরে মণ্ডল পরিবার নির্মাণ করেন জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার। মৃত রাম চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে জীবন মণ্ডল মাত্র ১২ বছর বয়সে ব্যবসা শুরু করেন, এবং অল্প সময়ের মধ্যে তাঁর তৈরি মিষ্টির সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

সেসময় পুরাতন কোর্ট, শকুনি লেক ও আশপাশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দোকানটি খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে জীবন মণ্ডলের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে কানাই মণ্ডল ব্যবসার দায়িত্ব নেন। বর্তমানে বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আগের মতো সময় দিতে পারছেন না, ফলে দোকান পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন তাঁর ছেলে আকাশ মণ্ডল। এভাবেই তিন প্রজন্ম ধরে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে চলছে।

জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডারের সবচেয়ে জনপ্রিয় মিষ্টি ক্ষীরপুরি ও সন্দেশ। সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে পারিবারিক আয়োজন—সবখানেই এই দুই মিষ্টির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে, শীত মৌসুমে খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি সন্দেশ ক্রেতাদের কাছে আলাদা আকর্ষণ সৃষ্টি করে।

এছাড়াও দোকানে রসমালাই, রসগোল্লা, সাদা ছানা, চমচম, ড্রাই মিষ্টি, কালোজাম, ছানার জিলাপি, দই ও খাঁটি ঘিও পাওয়া যায়। দোকান সূত্রে জানা যায়, গ্রামের খামার থেকে সংগ্রহ করা খাঁটি গরুর দুধ দিয়েই সব মিষ্টি প্রস্তুত করা হচ্ছে। বর্তমানে দোকানে পাঁচজন দক্ষ কর্মী নিয়মিত মিষ্টি তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

সবথেকে বেশি সময় ও শ্রম লাগে ক্ষীরপুরি তৈরিতে। তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় ধরে বড় কড়াইয়ে দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় নাড়িয়ে মাখনের মতো ঘনত্বে এনে পরিমাণমতো চিনি মিশিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সুস্বাদু ক্ষীরপুরি প্রস্তুত করা হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে মাদারীপুরের অন্যতম পরিচিত ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে পরিচিত।

প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার। সারাদিনই থাকে ক্রেতাদের ভিড়। বিশেষ দিবস, বিয়ে অথবা বড় অনুষ্ঠানের জন্য আগেভাগে অর্ডার দিয়ে রাখতে হয়। বহু গ্রাহক কয়েক দশক ধরে নিয়মিত এখান থেকে মিষ্টি কিনে আসছেন।

দোকান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন শুধু ক্ষীরপুরিই প্রায় ২০ হাজার টাকার বিক্রি হয়। মাসে ক্ষীরপুরি বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ টাকা। অন্যান্য মিষ্টি ও ঘিসহ মোট মাসিক বিক্রি প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা হয়ে থাকে।

এখন প্রতি কেজি ক্ষীরপুরি, সন্দেশ ও সাদা ছানার দাম ৬০০ টাকা, রসমালাই ৪৫০ টাকা, চমচম, ড্রাই মিষ্টি ও কালোজাম ২৫০ টাকা, রসগোল্লা, ছানার জিলাপি ও দই ২০০ টাকা এবং খাঁটি ঘি ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক কানাই মণ্ডল বলেন, “বাবার রেখে যাওয়া ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছি। ভগবানের কৃপায় এখনো মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা রয়েছে। মানের সঙ্গে কোনো আপস করিনি বলেই এত বছর ধরে সুনাম অটুট আছে।”

মাদারীপুরের ইতিহাস গবেষক সুবল বিশ্বাস মন্তব্য করেন, “মাদারীপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম অংশ এই জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার। ক্ষীরপুরির স্বাদ না নেওয়া এমন মানুষ জেলায় খুঁজে পাওয়া কঠিন। শুধু মাদারীপুর নয়, আশপাশের জেলাগুলো থেকেও মানুষ এখানে মিষ্টি কিনতে আসেন।”

ইতালিপ্রবাসী আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, “দেশে এলে পরিবার-পরিজনকে নিয়ে এখানকার মিষ্টি খাই। বিদেশে ফেরার সময়ও ক্ষীরপুরি সঙ্গে নিয়ে যাই এবং বন্ধুদের উপহার দিই। এটি আমাদের মাদারীপুরের গর্ব ও ঐতিহ্য।”

বর্তমান পরিচালক আকাশ মণ্ডল বলেছেন, “বাবা অসুস্থ ও বয়সের কারণে এখন আমি দোকানের দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই—যে মান ও ঐতিহ্যের জন্য মানুষ জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ভালোবাসে, তা ভবিষ্যতেও অক্ষুণ্ন রাখা।”

মোট ৯০ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্বাদ, গুণগত মান ও আস্থার প্রতীক হয়ে রয়েছে জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা এই প্রতিষ্ঠান আজ শুধুমাত্র একটি মিষ্টির দোকান নয়, বরং এটি মাদারীপুরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও গৌরবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিটাকে দক্ষ জনশক্তির পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরির ওপর জোর: শিল্পমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ পি.এম


বিটাকে দক্ষ জনশক্তির পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরির ওপর জোর: শিল্পমন্ত্রী

শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)-এর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং দেশের বর্তমান শিল্প ও দক্ষ জনশক্তির চাহিদার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘বিটাকের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হচ্ছে। এ কর্মসূচিতে সরকারের বিনিয়োগের বিপরীতে উচ্চমাত্রার সুফল পাওয়া যাচ্ছে।’

মঙ্গলবার রাজধানীতে বিটাকের ২০তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ ও নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিটাকের মহাপরিচালক মো. ফিরোজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশে এমন অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, যেগুলোর সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য কিংবা প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। তবে বিটাকের এ প্রকল্পটি ব্যতিক্রম। এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৬ হাজার তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যা তাদের কর্মজীবন ও ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, তিন মাসের প্রশিক্ষণ শুধু কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগই তৈরি করে না, বরং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলে। যা তাদের সারাজীবনের সম্পদ হয়ে থাকবে।

শিল্পমন্ত্রী যোগ করেন, এ প্রকল্পের সম্প্রসারণ অথবা নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে হাজার হাজার উদ্যমী তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, প্রশিক্ষণের গুণগত মানের প্রমাণ হিসেবে বিশেষ করে নারী প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থানের হার অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৬৫ জন নারী প্রশিক্ষণার্থীর সবাই ইতোমধ্যে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন।

শিল্প সচিব বলেছেন, বিটাকের কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের চাকরি পাওয়া এ কর্মসূচির সফলতার বড় প্রমাণ।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক প্রশিক্ষণার্থী ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেও চাকরি পাননি। কিন্তু বিটাকের স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরপরই তারা চাকরির সুযোগ পেয়েছেন। এটি বিটাকের প্রশিক্ষণের প্রতি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের আস্থারই প্রতিফলন।

আব্দুন নাসের খান বলেন, বিটাকের চলমান দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প আগামী বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা। প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থানে এ প্রকল্পের ইতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় এর মেয়াদ বৃদ্ধি অথবা একই ধরনের নতুন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে মন্ত্রণালয় গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করবে।

সচিব আরও বলেন, বিটাককে শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, উদ্যোক্তাও তৈরি করা হচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে অনেক প্রশিক্ষণার্থী নিজস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য উৎসাহিত হচ্ছেন। যা ভবিষ্যতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%