ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার’ তিন প্রজন্ম ধরে ধরে রেখেছে স্বাদ, ঐতিহ্য ও আস্থা


শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার’ তিন প্রজন্ম ধরে ধরে রেখেছে স্বাদ, ঐতিহ্য ও আস্থা

মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার’ প্রায় এক শতাব্দীর ইতিহাস বুকে ধারণ করে এখনও সমান জনপ্রিয়। ১৯৩৭ সালে এটি যাত্রা শুরু করে। এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে গুণগত মান, খাঁটি উপকরণ ও ঐতিহ্যবাহী স্বাদ ধরে রেখে জেলার মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। জেলার অধিকাংশ মানুষের মধ্যে একজনও খুঁজে পাওয়া কঠিন, যিনি কোনো না কোনো সময় এই দোকানের মিষ্টির স্বাদ গ্রহণ করেননি।

বিয়ে, জন্মদিন, পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠান অথবা অতিথি আপ্যায়ন—সব ক্ষেত্রে মাদারীপুরবাসীর জন্য প্রথম পছন্দ হচ্ছে জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডারের ক্ষীরপুরি ও সন্দেশ। শুধু দেশের মধ্যে নয়, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কাতার, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাসরত প্রবাসীরা দেশে আসার সময় প্রিয়জনদের জন্য এখানকার মিষ্টি নিয়ে যান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৩৭ সালে মাদারীপুর শহরের পুরাতন কোর্ট এলাকায় একটি টিনের ছাপড়া ঘরে মণ্ডল পরিবার নির্মাণ করেন জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার। মৃত রাম চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে জীবন মণ্ডল মাত্র ১২ বছর বয়সে ব্যবসা শুরু করেন, এবং অল্প সময়ের মধ্যে তাঁর তৈরি মিষ্টির সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: পূর্বধলায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

সেসময় পুরাতন কোর্ট, শকুনি লেক ও আশপাশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দোকানটি খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে জীবন মণ্ডলের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে কানাই মণ্ডল ব্যবসার দায়িত্ব নেন। বর্তমানে বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আগের মতো সময় দিতে পারছেন না, ফলে দোকান পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন তাঁর ছেলে আকাশ মণ্ডল। এভাবেই তিন প্রজন্ম ধরে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে চলছে।

জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডারের সবচেয়ে জনপ্রিয় মিষ্টি ক্ষীরপুরি ও সন্দেশ। সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে পারিবারিক আয়োজন—সবখানেই এই দুই মিষ্টির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে, শীত মৌসুমে খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি সন্দেশ ক্রেতাদের কাছে আলাদা আকর্ষণ সৃষ্টি করে।

এছাড়াও দোকানে রসমালাই, রসগোল্লা, সাদা ছানা, চমচম, ড্রাই মিষ্টি, কালোজাম, ছানার জিলাপি, দই ও খাঁটি ঘিও পাওয়া যায়। দোকান সূত্রে জানা যায়, গ্রামের খামার থেকে সংগ্রহ করা খাঁটি গরুর দুধ দিয়েই সব মিষ্টি প্রস্তুত করা হচ্ছে। বর্তমানে দোকানে পাঁচজন দক্ষ কর্মী নিয়মিত মিষ্টি তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

সবথেকে বেশি সময় ও শ্রম লাগে ক্ষীরপুরি তৈরিতে। তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় ধরে বড় কড়াইয়ে দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় নাড়িয়ে মাখনের মতো ঘনত্বে এনে পরিমাণমতো চিনি মিশিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সুস্বাদু ক্ষীরপুরি প্রস্তুত করা হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে মাদারীপুরের অন্যতম পরিচিত ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন: শিবচরে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের উপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার। সারাদিনই থাকে ক্রেতাদের ভিড়। বিশেষ দিবস, বিয়ে অথবা বড় অনুষ্ঠানের জন্য আগেভাগে অর্ডার দিয়ে রাখতে হয়। বহু গ্রাহক কয়েক দশক ধরে নিয়মিত এখান থেকে মিষ্টি কিনে আসছেন।

দোকান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন শুধু ক্ষীরপুরিই প্রায় ২০ হাজার টাকার বিক্রি হয়। মাসে ক্ষীরপুরি বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ টাকা। অন্যান্য মিষ্টি ও ঘিসহ মোট মাসিক বিক্রি প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা হয়ে থাকে।

এখন প্রতি কেজি ক্ষীরপুরি, সন্দেশ ও সাদা ছানার দাম ৬০০ টাকা, রসমালাই ৪৫০ টাকা, চমচম, ড্রাই মিষ্টি ও কালোজাম ২৫০ টাকা, রসগোল্লা, ছানার জিলাপি ও দই ২০০ টাকা এবং খাঁটি ঘি ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক কানাই মণ্ডল বলেন, “বাবার রেখে যাওয়া ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছি। ভগবানের কৃপায় এখনো মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা রয়েছে। মানের সঙ্গে কোনো আপস করিনি বলেই এত বছর ধরে সুনাম অটুট আছে।”

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে মহাসড়কে মিলল অজ্ঞাত নারীর মরদেহ

মাদারীপুরের ইতিহাস গবেষক সুবল বিশ্বাস মন্তব্য করেন, “মাদারীপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম অংশ এই জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার। ক্ষীরপুরির স্বাদ না নেওয়া এমন মানুষ জেলায় খুঁজে পাওয়া কঠিন। শুধু মাদারীপুর নয়, আশপাশের জেলাগুলো থেকেও মানুষ এখানে মিষ্টি কিনতে আসেন।”

ইতালিপ্রবাসী আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, “দেশে এলে পরিবার-পরিজনকে নিয়ে এখানকার মিষ্টি খাই। বিদেশে ফেরার সময়ও ক্ষীরপুরি সঙ্গে নিয়ে যাই এবং বন্ধুদের উপহার দিই। এটি আমাদের মাদারীপুরের গর্ব ও ঐতিহ্য।”

বর্তমান পরিচালক আকাশ মণ্ডল বলেছেন, “বাবা অসুস্থ ও বয়সের কারণে এখন আমি দোকানের দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই—যে মান ও ঐতিহ্যের জন্য মানুষ জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ভালোবাসে, তা ভবিষ্যতেও অক্ষুণ্ন রাখা।”

মোট ৯০ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্বাদ, গুণগত মান ও আস্থার প্রতীক হয়ে রয়েছে জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা এই প্রতিষ্ঠান আজ শুধুমাত্র একটি মিষ্টির দোকান নয়, বরং এটি মাদারীপুরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও গৌরবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আরও পড়ুন: বিএমপি কমিশনারের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্সের পুকুরে মৎস্যপোনা অবমুক্ত, উৎপাদন বৃদ্ধি ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের প্রত্যাশা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিটাকে দক্ষ জনশক্তির পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরির ওপর জোর: শিল্পমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ পি.এম


বিটাকে দক্ষ জনশক্তির পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরির ওপর জোর: শিল্পমন্ত্রী

শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)-এর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং দেশের বর্তমান শিল্প ও দক্ষ জনশক্তির চাহিদার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘বিটাকের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হচ্ছে। এ কর্মসূচিতে সরকারের বিনিয়োগের বিপরীতে উচ্চমাত্রার সুফল পাওয়া যাচ্ছে।’

মঙ্গলবার রাজধানীতে বিটাকের ২০তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ ও নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিটাকের মহাপরিচালক মো. ফিরোজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশে এমন অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, যেগুলোর সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য কিংবা প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। তবে বিটাকের এ প্রকল্পটি ব্যতিক্রম। এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৬ হাজার তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যা তাদের কর্মজীবন ও ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, তিন মাসের প্রশিক্ষণ শুধু কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগই তৈরি করে না, বরং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলে। যা তাদের সারাজীবনের সম্পদ হয়ে থাকবে।

শিল্পমন্ত্রী যোগ করেন, এ প্রকল্পের সম্প্রসারণ অথবা নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে হাজার হাজার উদ্যমী তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, প্রশিক্ষণের গুণগত মানের প্রমাণ হিসেবে বিশেষ করে নারী প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থানের হার অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৬৫ জন নারী প্রশিক্ষণার্থীর সবাই ইতোমধ্যে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন।

শিল্প সচিব বলেছেন, বিটাকের কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের চাকরি পাওয়া এ কর্মসূচির সফলতার বড় প্রমাণ।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক প্রশিক্ষণার্থী ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেও চাকরি পাননি। কিন্তু বিটাকের স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরপরই তারা চাকরির সুযোগ পেয়েছেন। এটি বিটাকের প্রশিক্ষণের প্রতি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের আস্থারই প্রতিফলন।

আব্দুন নাসের খান বলেন, বিটাকের চলমান দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প আগামী বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা। প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থানে এ প্রকল্পের ইতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় এর মেয়াদ বৃদ্ধি অথবা একই ধরনের নতুন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে মন্ত্রণালয় গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করবে।

সচিব আরও বলেন, বিটাককে শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, উদ্যোক্তাও তৈরি করা হচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে অনেক প্রশিক্ষণার্থী নিজস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য উৎসাহিত হচ্ছেন। যা ভবিষ্যতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধলাই নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ শিশু, ২০ ঘণ্টা পর মিলল ম-র-দেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ পি.এম


ধলাই নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ শিশু, ২০ ঘণ্টা পর মিলল ম-র-দেহ

নেত্রকোনার পূর্বধলায় ধলাই নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মারা গেছে হোসাইন (১০) নামের এক শিশু। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে নিখোঁজ হওয়ার পর প্রায় ২০ ঘণ্টা পেরিয়ে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শিশুটি আগিয়া ইউনিয়নের কালডোয়ার দক্ষিণপাড়া গ্রামের রুক্কু মিয়ার ছেলে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে হোসাইন (১০), সাইমন (৬) এবং আরিয়ান (১০) খেলার ছলে ধলাই নদীতে গোসল করতে যায়। কিন্তু সাঁতার জানার অভাবে একপর্যায়ে তিনজনই পানিতে তলিয়ে যায়। পরে সাইমনের বড় বোন আখি (১৪) ভাইকে খুঁজতে এসে নদীতে ভাসতে দেখে পানিতে নেমে সাইমন ও আরিয়ানকে উদ্ধার করে।

তবে হোসাইন নিখোঁজ থাকে। পরে খবর পেয়ে পূর্বধলা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এবং ময়মনসিংহ থেকে আসা ডুবুরি দল বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান করেও হোসাইনের সন্ধান না পাওয়ায় সন্ধ্যায় অভিযানটি স্থগিত করা হয়।

মঙ্গলবার পুনরায় সকালে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হোসাইনের স্বজনেরা নদীতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তার বাবা রুক্কু মিয়া ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নদীতে ভাসমান অবস্থায় হোসাইনের মরদেহ দেখতে পান এবং পরে তিনি মরদেহটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

পূর্বধলা থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে শিশুটির মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বনাথে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩১ পি.এম


বিশ্বনাথে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত

সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ বিন কাশেম।

‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা দীপক কুমার দাস, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী গৌছ আলী, সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো. আবদুল হাই এবং সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম বেগ, যারা বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়নের সাথে যুক্ত। কৃষকদের পক্ষে বক্তব্য দেন মো. নিজাম উদ্দিন।

বক্তারা এ সময় বলেন, দেশের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ সফল করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় এনে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তারা।

উল্লেখ্য যে, অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুস শহীদ, বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোবিন্দ মালাকার, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শিপন আহমদ, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ সাকী, বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক মশিউর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক কৃষক-কৃষাণী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাণ্ডারিয়ায় উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


ভাণ্ডারিয়ায় উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়ায় মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান। সভার আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বাজার তদারকি, জননিরাপত্তা এবং বিভিন্ন সরকারি সেবার মানোন্নয়ন।

এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জ্বল হালদার, ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মন্ডল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইব্রাহিম মোল্লা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুদেব সরকার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, ২নম্বর নদমূলা-শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবা উদ্দিন আরিফ, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাংবাদিক শাহজাহান হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, উপজেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%