০৩:১২ এম
আক্রমণ ও প্রত্যাঘাতে ভরপুর প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধ ছিল কিছুটা নিষ্প্রাণ। এ সময় এ রকম মনে হচ্ছিল যে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছে।
কিন্তু ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা মিকেল মেরিনোর অসাধারণ ফিনিশিংয়ে পালটে যায় ম্যাচের হিসাব-নিকাশ। শেষ মুহূর্তের এই গোলের মাধ্যমে পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। আর এই হারের মাধ্যমে হয়তো বিশ্বকাপ শিরোপার আশা নিয়েই বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে।
মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের এই মহারণে শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে গোলের জন্য হতাশা ছিল।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
তবে দুই দলের গোলরক্ষকদের অসাধারণ প্রতিভা আর আক্রমণভাগের ব্যর্থতার কারণে প্রথমার্ধটি গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের পর ইনজুরি টাইমে রদ্রির দারুণ ডিফেন্সচেরা পাস ধরে বিপুল আনন্দে ফিনিশিং করেন মেরিনো, যা স্প্যানিশদের জন্য জয়ের কারণ হিসেবে কাজ করে। শেষ আটের লড়াইয়ে স্পেন এবার মোকাবিলা করবে যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের মধ্যকার বিজয়ী দলের সঙ্গে।
এই জয়ের মাধ্যমে ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জেতার পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে এসেছে স্পেন।
অপরদিকে, গত বছর উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে পর্তুগালের কাছে হারের প্রতিশোধও নিল ‘লা রোহা’রা। দ্বিতীয়দিকে, গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা পর্তুগাল এবার শেষ ষোলোতেই বিদায় নিতে হলো।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের ফরোয়ার্ডদের হতাশা এবং গোলরক্ষকদের নৈপুণ্য ছিল দৃশ্যমান। ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও ক্যান্সেলোর শট পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারসাবাল গোলরক্ষককে একা পেয়ে গোল করতে ব্যর্থ হন।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
১২ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের পাসে রোনালদোর জোরালো শট ফিরিয়ে দেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমোন। পরপর দুই মিনিটে পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা দারুণ সেভ করেন। লামিনে ইয়ামাল ও আলেক্স বায়েনার শট রুখে দিয়ে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন তিনি। ৩১ মিনিটে কস্তার আরেকটি দুর্দান্ত সেভে গোলবঞ্চিত হয় স্পেন। এরপর ৩৭ মিনিটে উনাই সিমোনও নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেন। জোয়াও ফেলিক্স ও রোনালদোর দুটি শট আটকে দেন তিনি।
ম্যাচের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত আসে ৪১ মিনিটে। পর্তুগালের নুনো মেন্দেসের বুলেট শট স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে ক্রসবারে আটকে যায়। কপাল জোরে বেঁচে যাওয়া স্পেন ঠিক তার পরবর্তী মিনিটেই ইতিহাস গড়ে। ২০২২ বিশ্বকাপ ও চলতি আসর মিলিয়ে টানা ৫৬১ মিনিট গোল না খেয়ে সুইজারল্যান্ডের ১৬ বছর পুরোনো বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দেয় স্পেন।
পুরো ম্যাচে ইয়ামালকে দারুণভাবে সামলানো মেন্দেস ৫৬ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ালে তার জায়গায় নামেন নেলসন সেমেদো। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই কিছু সুযোগ তৈরি করলেও জালের দেখা পাচ্ছিল না। ৭৩ মিনিটে ইয়ামালের বিপজ্জনক ফ্রি-কিক কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন কস্তা।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই জ্বলে ওঠেন মেরিনো। তার শেষ মুহূর্তের গোলের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় স্পেনের জয় এবং বাজে বিদায় ঘণ্টা বেজে যায় পর্তুগিজদের।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন