০৩:১৭ পি.এম
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের মধ্যে মস্কোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হবে।
বৈঠকটি উভয়ের মধ্যে আজ মস্কোয় অনুষ্ঠিত হবে।
আজ ঢাকায় রাশিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে প্রচারিত রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমাদের দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে। উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রয়েছে।'
আরও পড়ুন: জামায়াতের উদ্বেগ, সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার লাশ উদ্ধারে শাস্তির দাবি
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভের আমন্ত্রণে ড. খলিলুর রহমান ৭ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত তিন দিনের সরকারি সফরে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন। উল্লেখ্য, এই সফরটি তার বর্তমান দায়িত্ব গ্রহণের পর রাশিয়ায় প্রথম সরকারি সফর।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন ড. খলিলুর রহমান।
বৈঠকে বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে মতবিনিময় হবে।
রাশিয়া বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ এগিয়ে চলছে।
আরও পড়ুন: তাহসিফ জুনিয়র সহকর্মীর ফোনে বাসা থেকে বের হন
সফরসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার ফেডারেল অ্যাসেম্বলির ফেডারেশন কাউন্সিলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ এবং রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ নিয়মিতভাবে ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি রয়েছে। রাশিয়া বাংলাদেশে প্রধানত শিল্প সরঞ্জাম, খনিজ সার এবং গম রপ্তানি করে। অন্য দিকে, বাংলাদেশ থেকেও তৈরি পোশাক ও সামুদ্রিক খাদ্য আমদানি করে।
বিবৃতিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে দুই দেশের সহযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত ২৮ এপ্রিল প্রকল্পটির প্রথম ইউনিট চালু হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটও চলতি বছরের মধ্যেই উৎপাদনে আসতে পারে।
মস্কোর মতে, কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।
আরও পড়ুন: জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী নতুন প্রজ্ঞাপন জারি
রাশিয়া শিক্ষা ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তাদের ফেডারেল বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ১৮৫টি বৃত্তি বরাদ্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন