ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সিলেটে আরও একজনের প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি ৯১ জন


সিলেটে আরও একজনের প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি ৯১ জন

সিলেট বিভাগে হামের পরিস্থিতি এখন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯১ জন। একই সময়ে এ রোগে আরও এক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। এর ফলে চলতি বছর বিভাগে হাম এবং রুবেলা মিলিয়ে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা এখন ১৪২-এ পৌঁছেছে।

বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের ২২ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। ফলে ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪ জন।

এদের মধ্যে সিলেটে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩৬ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন। হবিগঞ্জের আক্রান্তদের মধ্যে দুজন রুবেলার রোগীও রয়েছে।

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে বৃদ্ধকে মারধরের মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আ: লীগ নেতা নোমান মৃধা গ্রে-প্তা-র

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৯১ সন্দেহজনক রোগীর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪১ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৬ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১২ জন।

এদিকে বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি রয়েছেন ৩২৬ জন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১২৩ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অতিরিক্তভাবে রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৪ জন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩২ জন, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৫ জন ভর্তি রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুটির বয়স ৮ মাস এবং তার বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই এলাকায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুটি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় বন বিভাগের ১৩টি গাছ বিক্রি ও কাটার অভিযোগ, থানায় মামলা

জেলাভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু সুনামগঞ্জে ঘটেছে। সেখানে ৫৫ জন মারা গেছেন। সিলেটে ৫১, হবিগঞ্জে ১৪ এবং মৌলভীবাজারে ১২ জনের মৃত্যু সম্পন্ন হয়েছে।

অন্যদিকে নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৪ জন সিলেট, ৪ জন হবিগঞ্জ, ১ জন মৌলভীবাজার এবং ১ জন সুনামগঞ্জে ঘটেছে। সব মিলিয়ে বিভাগের সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা এখন ১৪২।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এবং প্রতিদিনই হাসপাতালে সন্দেহজনক রোগীর চাপ বৃদ্ধির বিষয়টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষত সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্য। তাই হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত রোগী শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার প্রয়োজন লক্ষ্য করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রুয়েটে পাইপ চুরির অভিযোগে জয় আটক, অভিভাবকের জিম্মায় হস্তান্তর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিষেধাজ্ঞা ও চাপ’ সমস্যার সমাধান নয়: চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:০৭ পি.এম


ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিষেধাজ্ঞা ও চাপ’ সমস্যার সমাধান নয়: চীন

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নতুন করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলোকে চীন সরাসরি নাকচ করেছে। বেইজিং বলেছে, ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক চাপ বা একতরফা নিষেধাজ্ঞা তেহরানের বিরুদ্ধে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংকটের কোনো সমাধান আনতে পারবে না।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান শুক্রবার এ প্রচারণা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন।

এই সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানান যে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ না বাড়িয়ে বরং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটার জন্য পরিস্থিতি পরিবর্তন করা উচিত।

এখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিজয় অথবা আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার সম্ভাবনা দিন দিন কমে আসতে থাকার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বা চরম অর্থনৈতিক অবরোধের নীতি ঘোষণা করেছেন।

এই নীতির আওতায় বিশ্বের যে কোনও দেশ বা প্রতিষ্ঠান যদি ইরানের সঙ্গে কোনো প্রকার লেনদেন বা ব্যবসা অব্যাহত রাখে, তবে তাদের ‘ভয়াবহ’ অর্থনৈতিক পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ট্রাম্পের প্রচেষ্টায় চীনকে জড়িত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তবে চীন এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সাংবাদিকদের বলেছেন, “নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে না।” তিনি আরও বলেন, “চীন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পন্থায় সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকিকে চীন ‘অবৈধ এবং অমানবিক’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরকচি নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকিকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

চীনের পক্ষ থেকে ইরানের অর্থনীতিতে সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে। তবে যুদ্ধে চীন একটি সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছে, যা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রেখেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক তৎপরতায় উদ্বিগ্ন এশিয়ার মার্কিন মিত্ররা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১০ পি.এম


ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক তৎপরতায় উদ্বিগ্ন এশিয়ার মার্কিন মিত্ররা

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়ে ষষ্ঠ মাসে প্রবেশের মুখে রয়েছে। এর ফলে, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক চাহিদা মেটাতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ সরিয়ে নিচ্ছে ওয়াশিংটন। এ কারণে এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও অংশীদারদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে গেছে।

সর্বশেষ উদ্বেগের কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন জাপান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে সেখানে প্রতিস্থাপন করতেই জর্জ ওয়াশিংটনকে পাঠানো হয়েছে বলে বলা হচ্ছে। দীর্ঘ নয় মাস ধরে মোতায়েন থাকা আব্রাহাম লিংকনের জায়গায় উল্লেখিত রণতরিটি পাঠানো হচ্ছে। এটি ঘটছে এমন এক সময়ে, যখন চীন ওই অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে। ফলে ওয়াশিংটনের সামরিক সক্ষমতার এই নতুন পুনর্বিন্যাস চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক প্রতিরোধব্যবস্থার কার্যকারিতায় কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্যমুখী যাত্রার পেছনে অন্যতম কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ওপর চাপের বিষয়টি। আব্রাহাম লিংকন প্রায় নয় মাস ধরে সারাদেশব্যাপী মোতায়েন রয়েছে। একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ মোতায়েনের সময় জাহাজটিতে খাদ্যসংকট সৃষ্টি হয়েছিল। ভাঙা টয়লেট এবং গোসলের ব্যবস্থা থেকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হয়। এমনকি অন্তত একজন নাবিক জাহাজ থেকে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

এক্ষেত্রে, আব্রাহাম লিংকনের জায়গায় জর্জ ওয়াশিংটনকে পাঠানো হলেও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরির উপস্থিতি আপাতত শূন্য হয়ে গেছে।

বিশ্লেষকরা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের এশিয়া থেকে সরে যাওয়াকে বৃহত্তর প্রবণতার অংশ হিসেবে দেখছেন। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের উত্তর-পূর্ব এশিয়া-বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং বলেন, এশিয়া থেকে এই রণতরিটি সরানো একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, যা চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক প্রতিরোধব্যবস্থার কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলছে।

শুধুমাত্র বিমানবাহী রণতরি নয়, চলতি বছরের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যবস্থার কিছু অংশও ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। রিপোর্টে আরো উল্লেখ রয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুতও কমিয়ে আনছে।

সকলের মিলিয়ে, এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ সরানোর প্রবণতা ওই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের শক্তি প্রদর্শন এবং দ্রুত সামরিক প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ বিমানবাহী রণতরিও আপাতত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ার সময় চীনা নৌবাহিনী ক্রমেই ‘ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইন’ বা প্রথম দ্বীপমালার বাইরে নিজেদের কার্যক্রম বাড়াচ্ছে। জাপানের উত্তরের অঞ্চল থেকে তাইওয়ান ও ফিলিপাইনের উত্তরাংশ হয়ে বোর্নিও পর্যন্ত বিস্তৃত দ্বীপমালাকে শীতল যুদ্ধের সময় চীনকে নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি প্রতিরক্ষামূলক রেখা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু, চীনের লিয়াওনিং ও শানডং বিমানবাহী রণতরির পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশের কারণে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত কার্যকর থাকতে পারছে না।

ইয়াংয়ের মতে, গত জুন থেকে তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় জলসীমায় চীনা কোস্টগার্ডের কার্যক্রম বেড়ে গেছে। এসব জলসীমার কিছু অংশ জাপান ও ফিলিপাইনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তিনি বলেন, এসব সামুদ্রিক অভিযান শুধু তাইওয়ান, ফিলিপাইন বা জাপানকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর জবাব দেওয়ার সক্ষমতা কতটা- সেটিও পরীক্ষার মুখে পড়ছে।

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিজ্ঞানী ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জা ইয়ান চং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরিয়ে নেওয়ার ফলে চীন আরও আত্মবিশ্বাসী হতে পারে- এমন আশঙ্কা রয়েছে ওয়াশিংটনের মিত্রদের মধ্যে। এই পদক্ষেপ চীনকে আরও বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চাপ প্রয়োগের আত্মবিশ্বাস দেবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ জাগছে।

তবে তিনি মনে করেন, বিমানবাহী রণতরি সরিয়ে নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার নমনীয়তা কমেছে। তবে এশিয়ায় এখনও বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা ও সামরিক সম্পদ রয়েছে। ফলে মিত্রদের জন্য সতর্ক হওয়ার মতো পরিস্থিতি না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক উপস্থিতি এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার সামরিক ও বেসামরিক কর্মী রয়েছে। তাদের বড় একটি অংশ দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে মোতায়েন রয়েছে। চংয়ের মতে, জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি শুধু সামরিক সম্পদ পুনর্বিন্যাস নয়, বরং এশিয়ার প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিরও একটি প্রতীকী পরিবর্তন। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, আঞ্চলিক মিত্ররা নিজেদের প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আরও বড় দায়িত্ব নিক এবং ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমাক।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের ন্যাশনাল ডিফেন্স স্ট্র্যাটেজি-তে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে ‘দায়িত্ব ভাগাভাগি’ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। চীন, উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া ও ইরান থেকে আসা হুমকি মোকাবিলায় মিত্রদের আরও বেশি ভূমিকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কৌশলটিতে ইউরোপ ও এশিয়ার মিত্রদের ২০৩০-এর দশকের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে এবং আরও ১ দশমিক ৫ শতাংশ নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও জাপান নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। তাইওয়ান চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, ২০২৭ সালে তারা প্রতিরক্ষা ব্যয় ১৮ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে ফিলিপিন্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরো জুনিয়র গত মাসে চীনের মোকাবিলায় দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৪ শতাংশে উন্নীত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে চীনের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে ফিলিপাইন জাপানের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। তাইওয়ানের সঙ্গেও তারা তুলনামূলকভাবে নীরবে নিরাপত্তা সহযোগিতা গভীর করছে।

চং মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ এশিয়া থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা এশিয়ার দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়াতে উৎসাহিত করবে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও অংশীদাররা ইতোমধ্যে মার্কিন সহায়তা কম পেলেও নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে কাজ করার দক্ষতা বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি সেই প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে এশিয়ার মিত্র দেশগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরো জোরদার করতে পারে।

যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে ফেলছে না। তাইওয়ান ও জাপানের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রহ এবং বিমানবাহী রণতরিগুলো শেষ পর্যন্ত এশিয়ায় ফিরে আসবে বলে তারা আশা করছেন। সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির পূর্ব এশীয় নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্র-জাপান জোটবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কেই কোগা বলেন, স্বল্পমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সম্পদ পাঠানোর বিষয়টি উদ্বেগজনক। তবে এটিকে এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সরে দাঁড়ানোর প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

ন্যাশনাল ব্যুরো অব এশিয়ান রিসার্চের অনাবাসিক ফেলো কে ট্রিস্টান ট্যাংও একই ধরনের মত দিয়েছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠালেও এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ এখনও রয়েছে। এর মধ্যে অ্যামফিবিয়াস রেডি গ্রুপ অন্যতম, যেগুলোতে এফ-৩৫বি স্টেলথ যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন ছোট আকারের বিমান পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে।

ইরানের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনকে ভুলে যাবেন না বলে মনে করেন ট্যাং। তার মতে, ট্রাম্পের কাছে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই অর্থনৈতিক স্বার্থের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো চীন। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনে গভীরভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক। চীনই এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” ফলে, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সামরিক সম্পদ সাময়িকভাবে এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়া হলেও ওয়াশিংটন দীর্ঘমেয়াদে চীনকে মোকাবিলার কৌশল থেকে সরে যাবে- এমন আশঙ্কা এখনই করছেন না বিশেষজ্ঞরা।

তবে বিমানবাহী রণতরি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও গোলাবারুদের মজুতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ একাধিক ফ্রন্টে ভাগ করে ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিবর্তে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। ইরান যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ততই এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং চীনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতার এই তান্ত্রিক অবস্থানটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুই টেস্টের ভেন্যু চূড়ান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৫ পি.এম


ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুই টেস্টের ভেন্যু চূড়ান্ত

বর্তমানে বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ খেলতে রয়েছে। প্রথম টেস্ট জিতে তারা ইতিহাস গড়েছিল, এবং এখন ম্যাকাইতে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে লড়ছে। অন্যদিকে, আগামী অক্টোবরে বাংলাদেশ ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আতিথ্য দেবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আরেক সিরিজে। আসন্ন টেস্ট সিরিজের ভেন্যু এখন চূড়ান্ত হয়ে গেছে।

এই টেস্ট সিরিজ অক্টোবরের শেষদিকে শুরু হবে। প্রথম ম্যাচের ভেন্যু হবে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। সিরিজটি অক্টোবরের শেষ হতে শুরু হয়ে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে।

ভেন্যুর বিষয়টি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একটি সূত্র ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জয় তাদের আরও বড় স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দিয়েছে শান্ত-হাসানদের। ঘরের মাঠে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজটি জিতলে পয়েন্ট টেবিলের অবস্থান আরও উন্নত করার সুযোগ পাবে তারা।

অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বর্তমানে ২০.৮৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলের নবম স্থানে রয়েছে। ঘরের মাঠের এই সিরিজে বাংলাদেশ নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করার সুযোগ খুঁজবে। পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য হবে কঠিন কন্ডিশনে নিজেদের প্রমাণ করে পয়েন্ট সংগ্রহ করা যাতে তাদের অবস্থান উন্নত হয়।

উল্লেখ্য, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর বাংলাদেশ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জোহানেসবার্গ ও সেঞ্চুরিয়নে দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভিসা নিয়ে সতর্ক করল দূতাবাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২০ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভিসা নিয়ে সতর্ক করল দূতাবাস

মার্কিন দূতাবাস ঢাকায় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল হতে পারে কি কারণে। সতর্কবার্তা বলছে, যদি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ছাড়েন বা ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেন, তবে তাদের শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দূতাবাসের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে এই বিষয়টিতে সচেতনতা দেওয়া হয়।

পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, আপনি যদি পড়াশোনা ছেড়ে দেন, ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেন, অথবা আপনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অবহিত না করে আপনার অধ্যয়ন কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ান, তাহলে আপনার শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হতে পারে। এর ফলে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারেন।

এছাড়া, বার্তায় আরও বলা হয়েছে, সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানোর জন্য সবসময় আপনার ভিসার শর্ত মানতে হবে এবং শিক্ষার্থী হিসেবে আপনার বৈধ অবস্থান বজায় রাখতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%