বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৭:০৫ এম
সম্প্রতি প্রযোজক হওয়া নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন প্রিয়ঙ্কা চোপড়া। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন এবং প্রতিভাবান নির্মাতাদের সাহায্য করার জন্যই তিনি নিজের প্রযোজনা সংস্থা শুরু করেছেন।
বলিউড থেকে হলিউডে নিজের স্থায়ী জায়গা তৈরি করেছেন প্রিয়ঙ্কা চোপড়া। সম্প্রতি প্রযোজক হওয়া নিয়ে তিনি নিজের মতামত প্রদান করেছেন। অভিনেত্রী বলেন, নতুন এবং প্রতিভাবান নির্মাতাদের সাহায্য করার জন্যই তিনি প্রযোজনা সংস্থা স্থাপন করেছেন। পাশাপাশি, প্রিয়ঙ্কা স্পষ্ট জানান, আমেরিকায় নিজের কর্মজীবনে আরও উন্নতি করতে চান।
বুধবার এক আলোচনাসভায় প্রিয়ঙ্কা জানান, তার কাজের প্রয়োজন মানুষের কাছে তুলে ধরার। এই উদ্দেশ্যে নেটমাধ্যমের সাহায্য নিতে হবে। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘অবসেশন’-এর উল্লেখও তিনি করেন। প্রিয়ঙ্কা বলেন, “আমার মনে হয়, আপনার যদি ভাল কোনও ভাবনা থাকে, তাহলে সেটি শুট করে ইউটিউবে তুলে ধরুন। সেটি ‘অবসেশন’-এর মতো সফল ছবিও হয়ে উঠতে পারে।”
বলিউডের ‘দেশি গার্ল’ আরও বলেন, “বিনোদন জগতে কাজ করার জন্য এখন দারুণ সময়। কারণ এখনকার দিনে ভাবনাই সবচেয়ে বড় সম্পদ।” প্রিয়ঙ্কা জানান, আগে বিষয়টি এত সহজ ছিল না। তিনি যখন চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন, তখন তাঁর কোনো পরিচিতির অভাব ছিল। তাঁর কথায়, “আমার বাবা-মা দু’জনেই চিকিৎসক ছিলেন। তাই চলচ্চিত্র জগতে কীভাবে এগোতে হয়, সে সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণাই ছিল না। তখন এই জগতে প্রবেশ করা খুব কঠিন ছিল।”
প্রিয়ঙ্কা জানিয়েছেন, কর্মজীবনের গোড়ার দিকে তাঁকে বলা হয়েছিল যে, ভারতীয় চলচ্চিত্রগুলি কখনও হলিউডের মতো বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হবে না। কারণ সেগুলো ইংরেজি ভাষায় তৈরি হয় না। অভিনেত্রী বলেন, “আমাদের ছবি হিন্দি, তেলুগু, মরাঠি বা অন্য ভাষায় তৈরি হয়। তাই সবাই সেগুলো বুঝবে না, এমনটাই বলা হত।”
সম্প্রতি ‘সিটাডেল’-এর সাফল্যের পরে তিনি পরিষ্কারভাবে বলেন যে, হলিউডের কাজকে তিনি আরও বড় পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান। তাঁর কথায়, “হিন্দি ছবিতে আমি সেরা পরিচালক ও অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছি। নানা ধরনের গল্প ও চরিত্রে অভিনয় করেছি। কিন্তু আমেরিকাতে ইংরেজি ভাষার কাজের ক্ষেত্রে এখনও তেমন সুযোগ পাইনি।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বুধবার দেশটির রাজধানী কারাকাসের পশ্চিম এলাকায় এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর ফলে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ছবি : বিবিসি
বিস্তারিত আসছে...
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্ষা শুরু হতেই দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলের চিরচেনা আতঙ্ক বেড়িবাঁধ ভাঙন আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় নদীর তীব্র স্রোত ও জোয়ারের চাপে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে শতাধিক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। কোনো স্থানে দেখা যাচ্ছে বড় বড় ফাটল, কোথাও আবার নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বাঁধের অংশ। নদীপাড়ের হাজারো মানুষের জন্য দুর্ভোগের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে, কারণ যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে লবণাক্ত পানিতে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হতে পারে।
খালনার দাকোপ উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের ঝপঝপিয়া নদীর তীরে আতঙ্ক যেন এখন নিত্যসঙ্গী হয়। নদীর পাশের বেড়িবাঁধ ভাঙছে। বর্ষার ঢেউ ও জোয়ারের চাপে প্রতিদিন ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা রোকেয়া বেগম বাঁধের পাশে দাঁড়িয়ে আক্ষেপ ও শঙ্কার সুরে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে তিন দফা নদীভাঙনে আমি নিজের বসতভিটা হারিয়ে ফেলেছি। নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় আমাদের পরিবার আবারও অন্ধকারের মুখোমুখি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগের ভাঙনে সব হারাইছি। অনেক কষ্টে আবার ঘর তুলেছি। এখন আবার বাঁধ ভাঙতেছে। রাত হলেই ভয় লাগে, কখন কী হয়।’
পানখালী ইউনিয়নে এই সমস্যা শুধু সীমাবদ্ধ নেই, দাকোপ উপজেলার জাবেরের খেয়াঘাট, লক্ষীখোলা ও নলডাঙ্গাসহ অন্তত ১০টি পয়েন্টে ভাঙনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। পাইকগাছার দেলুটি ও লতা ইউনিয়ন, কয়রার মহেশ্বরীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় নদীর পাড় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, খুলনায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গফুর বলেন, ‘জোয়ারের সময় ঘুম আসতে চায় না। যদি বাঁধ ভেঙে যায়, তবে ঘের, জমি, বাড়িঘর সব শেষ হয়ে যাবে। তাই আমি প্রায়ই রাত জেগে বাঁধের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করি।’ পানখালীর আরেক বাসিন্দা রহিমা খাতুন বলেন, ‘আইলা আর আম্পানের সময় যা কষ্ট হয়েছে, তা আমি এখনো ভুলতে পারি না। আকাশে মেঘ দেখলেই ভয় লাগে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই স্থানে ভাঙন দেখা দিলেও স্থায়ী সমাধান হয় না। সাময়িক মেরামতের পর কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু পরবর্তী বর্ষায় আবারও দেখা দেয় সেই একই সমস্যা। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই তাদের কাছে নতুন দুর্যোগের বার্তা নিয়ে আসে।
এছাড়া খুলনার পাশাপাশি বাগেরহাটের সরনখোলা ও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই দুই জেলায় আরও ৬০ কিলোমিটারের বেশি বেড়িবাঁধ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত মন্তব্য করেছেন, উপকূলীয় এলাকার বাস্তবতা মেনে নিয়ে পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়নের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই উপকূল সুরক্ষায় কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য।
তবে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহির মাজহার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার ও মেরামতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় তাদের আওতায় প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর একটি বড় অংশ নিয়মিত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন।
প্রতি বছর উপকূল রক্ষায় নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়, ব্যয় হয় শতশত কোটি টাকা। কিন্তু নদীপাড়ের মানুষের প্রশ্ন একটাই, এই বর্ষায় বাঁধ টিকবে তো? কারণ বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু মাটি বা ইটের কাঠামো ভাঙে না, ভেঙে পড়ে মানুষের স্বপ্ন, জীবিকা ও নিরাপত্তাবোধও। তাই সাময়িক সংস্কারের গণ্ডি পেরিয়ে উপকূলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি টেকসই, কার্যকর ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে দুর্ভোগের এই চক্র থেকে মুক্তির আগ্রহ তারা পোষণ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফল শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং সুস্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান উৎসও।
কিছু ফল সারা বছর পাওয়া যায়, আবার কিছু ফল নির্দিষ্ট মৌসুমে বাজারে আসে। দেশের ভিতরে ও বাইরের নানা ধরনের ফলে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন পুষ্টিগুণ। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি পূরণে ফলের ভূমিকা অপরিসীম। জেনে নিন কোন ফলে কী ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে এবং সেগুলো আমাদের কীভাবে উপকার করে।
আমড়া: আমড়ায় প্রচুর ভিটামিন বি ও সি, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ক্যারোটিন, পেকটিন ও খাদ্যআঁশ রয়েছে। এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে, রক্তস্বল্পতা কমাতে সাহায্য করে এবং হজমশক্তি উন্নত করে। আমড়ার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক, চুল ও নখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক।
আমলকী: ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ আমলকী রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম। এটি সর্দি-কাশি প্রতিরোধ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ এবং ত্বক ও চুলের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাতাবিলেবু: বাতাবিলেবুর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান। এটি পেশির দুর্বলতা দূর করতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
পেয়ারা: পেয়ারা ভিটামিন এ, বি, সি ও কে, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং খাদ্যআঁশের উৎকৃষ্ট উৎস। এটি চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার পাশাপাশি হজমশক্তি উন্নত করে।
জামরুল: জামরুলে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যকৃতের সুরক্ষায় সহায়তা করে। একই সঙ্গে এটি রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
লটকন: লটকনে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজ রয়েছে। এটি হাড় ও দাঁতকে মজবুত রাখে, চোখের জন্য উপকারী এবং কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
কামরাঙা: কামরাঙা ভিটামিন এ, সি এবং অন্যান্য খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ। এটি কোলেস্টেরল কমাতে ও হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক। শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়।
বেল: বেলে ভিটামিন এ, সি ও খাদ্যআঁশ রয়েছে। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পেটের সমস্যায় যেমন ডায়রিয়া ও আমাশয়ে উপকারী। গরমে বেলের শরবত শরীরকে সতেজ রাখে।
গাব: গাবে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, খাদ্যআঁশ ও অ্যান্টিক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি দুর্বলতা দূর করতে, রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে এবং হজমে সহায়তা করে।
কলা: কলা পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬ ও ভিটামিন সি-এর সমৃদ্ধ উৎস। এটি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং দ্রুত শক্তি প্রদান করে। কলার খাদ্যআঁশ হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে।
পেঁপে: পেঁপেতে ভিটামিন এ, সি ও ই, সঙ্গে পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ রয়েছে। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা উন্নত করে এবং ত্বক ও চোখের জন্য উপকারী। ওজন নিয়ন্ত্রণেও পেঁপে কার্যকর।
নারিকেল: নারিকেলের পানি ইলেকট্রোলাইটে সমৃদ্ধ, যা শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। নারিকেলের শাঁসে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, খাদ্যআঁশ, ভিটামিন বি ও সি এবং ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। এটি হাড়, দাঁত ও ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
লেবু: লেবু ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের অন্যতম উৎস। এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, হজমে সহায়তা করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত লেবু খেলে শরীর সতেজ থাকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাড়ি থেকে শুরু করে খেলাগ্রুপ এসকাল ৭টা, মেক্সিকো ও চেক প্রজাতন্ত্রের খেলাসমূহ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া শুক্রবার ২৬ জুন ২০২৬ রাত ২টায় ইকুয়েডর ও জার্মানির ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
নতুন কোনো তথ্য শেখার পর মানুষের মস্তিষ্ক কীভাবে তা দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিতে রূপান্তর হয়, এ নিয়ে চীনের গবেষকরা চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছেন। গত ১৫ জুন চিকিৎসা বিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞান বিষয়ক বিখ্যাত জার্নাল ‘নিউরণ’-এর অনলাইন সংস্করণে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।
আর্মি মেডিকেল ইউনিভার্সিটির শিনছিয়াও হাসপাতালের নিউরোসার্জারি গবেষণা দলের পরিচালিত এই গবেষণা প্রমাণ দিয়েছে যে, মাত্র এক রাতের ঘুমের পর মস্তিষ্কের ‘স্মৃতি অধিনায়ক’ বা ‘মেমোরি কমান্ডার’ দায়িত্ব বদলাতে শুরু করে।
এ সময় নতুন শেখা তথ্য নিয়ন্ত্রণ মস্তিষ্কের ‘হিপোক্যাম্পাস’ অঞ্চল থেকে ‘নিওকর্টেক্স’ অঞ্চলে স্থানান্তরিত হয়ে যায়।
গবেষক দলটি টানা ছয় দিন ধরে ১৪ জন মৃগীরোগীর মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করেছেন। রোগীরা যখন বিভিন্ন ছবি দেখছিলেন এবং সেগুলো মনে করার চেষ্টা করছিলেন, তখন ‘স্টিরিওইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাফি’ প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ রেকর্ড করা হয়।
গবেষকরা দেখতে পায়, স্মৃতি গঠনের প্রক্রিয়া মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে একটি গতিশীল আদান-প্রদানের মাধ্যমে সংঘটিত হয়।
প্রথম দিনে নতুন কিছু শেখার সময় নতুন স্মৃতি সংরক্ষণের মূল কেন্দ্র ‘হিপোক্যাম্পাস’ একজন কমান্ডারের ভূমিকা পালন করে। এটি ‘রিপলস’ নামের বৈদ্যুতিক তরঙ্গের মাধ্যমে মস্তিষ্কের ‘নিওকর্টেক্স’ অংশকে নির্দেশনা দেয়।
যদিও এক রাতের ঘুমের পর সেখানে একটি নীরব ‘গার্ড বদল’ বা দায়িত্ব হস্তান্তর ঘটে। দ্বিতীয় দিনে নিওকর্টেক্সের ‘রিপল’ কার্যকারিতা হিপোক্যাম্পাসের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং এই স্মৃতি মনে রাখার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেয়। একই সাথে দুই অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরালো হয় এবং তথ্যের প্রবাহ হিপোক্যাম্পাস থেকে নিওকর্টেক্সের দিকে স্থানীয় হয়ে যায়।
গবেষণার প্রধান লেখক ওয়াং লুকাং বলেন, এই প্রক্রিয়াটিকে গাড়ি চালানো শেখার সঙ্গে তুলনা করা যায়। প্রথম দিনে একজন ড্রাইভিং ইন্সট্রাক্টর যেমন শিক্ষার্থীর প্রতিটি পদক্ষেপ গাইড করেন, ঠিক তেমনই হিপোক্যাম্পাসও করে। কিন্তু এক रातের ভালো ঘুমের পর মস্তিষ্কের কর্টিকাল নেটওয়ার্ক নিজেই নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে, ফলে অর্জিত দক্ষতাটি স্বয়ংক্রিয় ও স্থায়ী রূপ নেয়।
এই আবিষ্কারটি ইঙ্গিত করে যে, স্মৃতি স্থায়ী হওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি শেখার রাতেই ঘটে যায়, যা আগের ধারণার চেয়ে অনেক দ্রুত। গবেষকদের মত অনুযায়ী, এই আবিষ্কার আলঝেইমার্স, মস্তিষ্কের আঘাতজনিত সমস্যা এবং মৃগীরোগের কারণে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি খুঁজে পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ডেইলি; নিউরণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ