ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বঙ্গোপসাগর রক্ষায় শপথ নিলেন শতাধিক তরুণ পরিবেশকর্মী


বঙ্গোপসাগর রক্ষায় শপথ নিলেন শতাধিক তরুণ পরিবেশকর্মী

 

বিশ্ব সমুদ্র দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সমুদ্র রক্ষায় শত শত তরুণ পরিবেশকর্মী, আন্তর্জাতিক গবেষক এবং প্রশাসনিক নেতৃবৃন্দ শপথ গ্রহণ করেছেন।

"দূষণ প্রশমন এবং প্রবাল ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে, বাংলাদেশের সামুদ্রিক ফ্রন্টিয়ারে তৈরি হওয়া ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত সংকটকে মোকাবিলা করার জন্য ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ, বন ফাউন্ডেশন, বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন, সেভ আওয়ার সি এবং মিশন গ্রিন বাংলাদেশ-সহ একদল পরিবেশবাদী সংগঠন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে বিনামূল্যে চক্ষু শিবিরের উদ্বোধন

আজ (৮ জুন) দিনব্যাপী এই কর্মসূচি সকাল ১০টায় কক্সবাজারের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টে "ব্লু ওয়েভ" অ্যাকশনের মাধ্যমে শুরু হয়।

এ সময় উপস্থিত শতাধিক যুব স্বেচ্ছাসেবক একটি বিশাল মানবপ্রাচীর তৈরি করেন এবং সমুদ্র সৈকত থেকে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ করেন।

পরবর্তীতে তারা কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (সিবিআইইউ) অডিটোরিয়ামে 'ওয়ার্ল্ড ওশান ডে কনফারেন্স ২০২৬'-এ মিলিত হন।

সেখানে বিশেষজ্ঞ প্যানেল আলোচনার পাশাপাশি উপকূলীয় সমুদ্র রক্ষায় আগামী প্রজন্মকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ডিজিটাল 'ইউথ ফর ওশান' প্ল্যাটফর্মের উন্মোচন করা হয়।

আরও পড়ুন: নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৪, আহত ১৮

কনফারেন্সে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণে সামুদ্রিক খাদ্যচক্রের বিপর্যয়, সেন্টমার্টিন দ্বীপের চারপাশে বাংলাদেশের অন.unique প্রবাল ইকোসিস্টেমের দ্রুত ক্ষয় এবং পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত আনাগোনা ও সৈকত দূষণের ফলে বিপন্ন অলিভ রিডলি সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হওয়ার বিষয়ে পরিবেশগত জরুরি অবস্থা তুলে ধরা হয়।

কনফারেন্সের বক্তব্যে ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশের সমন্বয়ক এবং ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর সদস্য সচিব শরীফ জামিল দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষায় জরুরি নীতিগত পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, "বঙ্গোপসাগর কোনো সীমাহীন আবর্জনা ফেলার জায়গা নয়; এটি আমাদের দেশের জীবন্ত হৃৎপি-। দেশের ভেতরের প্লাস্টিক বর্জ্য আর তদারকির অভাব যখন আমাদের সামুদ্রিক জীবনকে প্রতিনিয়ত শ্বাসরোধ করছে, তখন আমরা টেকসই ব্লু ইকোনমির কথা বলতে পারি না। আমাদের সমুদ্র বাঁচাতে হলে কঠোর আইন প্রয়োগ, তাৎক্ষণিক দূষণ প্রশমন এবং স্থানীয় পর্যায় থেকে সমুদ্র শাসন নিশ্চিত করতে হবে।"

মিশন গ্রিন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি বলেন, "আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা আজ কেবল সমুদ্র সৈকত থেকে প্লাস্টিকই কুড়ায়নি; তারা পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে একটি সীমারেখা টেনে দিয়েছে। ''

বাস্তুসংস্থানের বৈজ্ঞানিক এবং জলবায়ুগত দুর্বলতা তুলে ধরে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ এর ডেপুটি ডিরেক্টর রউফা খানম বলেন, "সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় দূষণ সেন্টমার্টিনে আমাদের প্রবাল ঐতিহ্যকে এমন এক জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে যেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব। আমরা যদি এই সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে চাই, তবে আমাদের উপকূলীয় জোনিং আইনে প্রমাণ-ভিত্তিক গবেষণা এবং জলবায়ু অভিযোজন মডেলগুলোকে অবিলম্বে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।"

আরও পড়ুন: ‘বসন্তের কোকিল’ হিসেবে পরিচিত কাজী জাহিদ অভি? পূজামণ্ডপে অনুদান, ক্যানসার আক্রান্ত হাফেজকে সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুরে আলোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শেরপুর প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ এম


শেরপুরে আলোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শেরপুরে আলোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) শেরপুর জেলা শাখার আয়োজনে শেরপুর নিউমার্কেটের আইডিইবি'র মিলনায়তনে দুটি অধিবেশনে এই আলোচনা সভা এবং পরিকল্পনা সভা সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে ধরা শেরপুর জেলা শাখার আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। খুব শীঘ্রই কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হবে বলে উপস্থিত সকলকে জানানো হয়েছে।

‘প্লাস্টিক দূষণ আর নয়’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে, ‘প্লাস্টিক দূষণ আর নয়, বন্ধ করার এখনই সময়’ এই শ্লোগানে এবং ‘এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানির’ এই দাবিতে উভয় সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর মো. আব্দুর রশীদ। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এম. কে মুরাদুজ্জামান। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) শেরপুর জেলা শাখার গত বছরের বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন শেরপুর জেলা ধরা'র যুগ্ম আহবায়ক মো. মমিনুল ইসলাম। এছাড়া আগামি বছরের বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) শেরপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব মো. জিয়াউর রহমান মুন্না।

ধরা’র যুগ্ম আহবায়ক এপেক্সিয়ান মো. মমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাবেক বিভাগীয় নিরীক্ষা কর্মকর্তা আলহাজ্ব মো. গোলাম মোস্তফা এবং শেরপুর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সাংস্কৃতিক কর্মী মো. আব্দুল কাদের।

অন্যান্যদের মধ্যে সভায় বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী রোটারিয়ান মো. নাজমুল আলম, বানেশ্বরদী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. মোশারফ হোসাইন, নারী উদ্যোক্তা প্রীতি পারভীন এবং সমাজ কর্মী সাংবাদিক মো. নূর হোসেন প্রমুখ। বক্তারা জানান, ‘সুস্থভাবে মানুষের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার উপর সুনজর বাড়াতে হবে। বিশেষ করে পতিত জমিতে, বাড়ির আশেপাশে, হাট-বাজারে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গনসহ সুবিধাজনক স্থানে বৃক্ষরোপনের প্রতি জোর দিতে হবে।’ বক্তারা জানান, নির্বিচারে বনাঞ্চল উজাড় বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি সরকার ও সাধারণ মানুষকে একসাথে কাজ করার আহবান জানান। তারা জানালেন, অজ্ঞাত শক্তির প্রভাবে দখলদারিত্বের কারণে দেশের নদী-নালা, খাল-বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়গুলো আজ বিলীনের পথে; তাই সকলকে এই সুন্দর পৃথিবীটিকে জীবের বসবাস উপযোগী হিসেবে বজায় রাখতে এখনই সময় সবাই মিলে কাজ করার। এই ধরিত্রীকে বসবাস উপযোগী হিসেবে রাখতে হলে সবাইকে মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বক্তারা আরো বলেন, ‘পৃথিবী তথা ধরিত্রী মানেই আমরা, আর আমরা মানেই ধরিত्री। তাই নিজেকে সুস্থতার সহিত বাঁচতে হলেও এই পৃথিবীকে সকল প্রকার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে হবে। এর জন্য সকলকে নিজ নিজ জায়গা থেকে পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষায় একে অপরের হাতে হাত রেখে কাজ করতে হবে।’

এসময় এপেক্স ক্লাব অব শেরপুরের প্রেসিডেন্ট এপেক্সিয়ান মো. আব্দুল মান্নান, ট্রেজারার এপেক্সিয়ান মো. হাফিজুর রহমান পলাশ ও সোহেল ইসলাম, সমাজকর্মী সাংবাদিক সেলিম রেজাসহ ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর জেলা শাখার অন্যান্য সদস্যগণ, বিভিন্ন এলাকার সমাজ কর্মী, স্বেচ্ছায়সেবক ও নারী উদ্যোক্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এদিন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) শেরপুর জেলা শাখার উদ্যোগে জেলার শ্রীবরদী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায় বিভিন্ন জাতের বেশ কিছু গাছের চারা রোপন করা হয়।

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) উদ্যোগে ১৯৭৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ বিশ্ব পরিবেশ দিবস (ডব্লিউইডি) পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বের ১৪৩ টিরও বেশি দেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা সংগঠন বা সংস্থা দিবসটিকে কেন্দ্র করে র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ, আলোচনা সভা এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে একটি অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে মদ পান করিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ এম


ভারতের দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে একটি অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে মদ পান করিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ

ভারতের দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে একটি অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী (১৪) বাড়ি থেকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর মদের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে অচেতন করে হোটেলে নিয়ে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে এক তরুণীসহ তিন যুবককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সেইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট হোটেলের ম্যানেজারকেও আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রী পশ্চিম বর্ধমানের বুদবুদ থানার বাসিন্দা এবং একটি স্থানীয় স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বর্তমানে সে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৬ জুন) বুদবুদ এলাকার পরিচিত এক তরুণী ফোন করে ওই ছাত্রীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে ওই তরুণী তিন যুবকের সঙ্গে গাড়িতে করে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকার একটি হোটেলে যান। সেখানে জোর করে তাকে মদ পান করানো হয়। এতে সে বেহুঁশ হয়ে পড়লে ওই তিন যুবক তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর রাতে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই কিশোরীকে বুদবুদ বাইপাসের ধারে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ এক অটোরিকশাচালক তাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের লোকজনকে খবর দেন। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ রোববার (৭ জুন) সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায়। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার প্রণব কুমার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মূল ষড়যন্ত্রকারী তরুণীসহ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হোটেলের ম্যানেজারকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আটকদের পুলিশি হেফাজতে দেওয়ার জন্য সোমবার (৮ জুন) দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দৈনিক আয় ১১ লাখ, ব্যয় সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫০ এম


দৈনিক আয় ১১ লাখ, ব্যয় সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের প্রথম সুড়ঙ্গপথ বা টানেল চালুর পর থেকে গত ৯৪৫ দিনে (২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত) মোট যানবাহন চলাচল করেছে ৩৬ লাখ ৬৪ হাজার ৭১৬টি। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার ৮৭৮টি গাড়ি টানেল দিয়ে চলাচল করেছে।

অথচ টানেলের সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, প্রথম বছরে প্রতিদিন গড়ে ১৭ হাজার ২৬০টি; ২০২৫ সালে প্রতিদিন ১৯ হাজার ৬৬৯টি এবং বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৯ হাজার ৬৬৯ থেকে ২৮ হাজার যানবাহন চলাচল করবে। এই হিসাবে কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা থেকে সাত গুণ কম গাড়ি চলছে।

কর্ণফুলী নদীর এক পারে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, অন্য পারে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলা। কিন্তু দেশের অন্যতম বড় এই প্রকল্প থেকে সরকার আশানুরূপ সুফল পাচ্ছে না। প্রতিদিন আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।

টানেলসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর টানেলটি উদ্বোধনের পরদিন থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত চলাচলকারী মোট গাড়ি থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ১০৬ কোটি ১০ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে টানেল থেকে আয় হয়েছে ১১ লাখ ২২ হাজার ৮৪৯ টাকা। প্রত্যাশার চেয়ে বর্তমানে সাত গুণ যানবাহন কম চলাচল করায় মারাত্মক প্রভাব পড়েছে টানেলের রাজস্ব আয়ে।

এ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে চলাচলরত যানবাহন থেকে ১১ লাখ ২২ হাজার ৮৪৯ টাকা আয় হলেও প্রতিদিন গড়ে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩৭ লাখ হাজার টাকা। এই হিসাবে টানেল থেকে রাজস্ব আয়ের বিপরীতে ব্যয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে তিন গুণ। অর্থাৎ আয়ের চেয়ে প্রতিদিন ব্যয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে ২৬ লাখ টাকা।

কর্ণফুলী টানেলের ব্যবস্থাপক বেলায়েত হোসেন বলেন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় দৈনিক প্রায় ১৯ হাজার ৬৬৯টি থেকে ২৮ হাজার যানবাহন চলাচলের পূর্বাভাস ছিল। বর্তমানে দৈনিক গড়ে তিন হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার যানবাহন টানেল ব্যবহার করছে।

নাম প্রকাশ না করে টানেল ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা একাধিক কর্মকর্তা জানান, টানেলে দৈনিক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় প্রায় ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই হিসাবে বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১৩৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে টোল বাবদ এ পর্যন্ত আয়ের তথ্যানুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ১১ লাখ ২২ হাজার ৮৪৯ টাকা আয় হয়েছে। এতে করে প্রতিবছরে ৯৮ কোটি থেকে ১০০ কোটি টাকা ঘাটতি থাকছে। গাড়ি চলাচল না বাড়লে সামনে টানেল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঘাটতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।

ঈদুল আজহা উপলকে সাত দিনের সরকারি ছুটিতে কর্ণফুলী টানেলে গাড়ি চলাচল তেমন বাড়েনি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ঈদের ছুটি শুরু হলে সড়ক-মহাসড়কে যেখানে হাজার হাজার যানবাহনের চাপ সেখানে টানেলে প্রত্যাশার তুলনায় গাড়ির চলাচল ছিল খুবই কম।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, গত ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সাত দিনে টানেল দিয়ে যানবাহন চলাচল করেছে মোট ৩১ হাজার ৮৮৯টি। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে চার হাজার ৫৫৫টি যানবাহন চলাচল করে। একই সময়ে মোট রাজস্ব আয় হয় ৯৫ লাখ ৮০ হাজার ৪৫০ টাকা। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে টোল আদায় হয়েছে ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৬৩৫ টাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টানেল চালুর পর পর্যায়ক্রমে গাড়ি চলাচল বাড়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু যে হারে গাড়ি চলাচলের কথা ছিল, তার চেয়ে অনেক অনেক কম গাড়ি বর্তমানে চলাচল করছে। ভবিষ্যতে যে গাড়ির চলাচল বাড়বে তারও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কারণ টানেল ঘিরে পর্যটন শহর কক্সবাজারসহ চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প স্থাপনের কথা ছিল, তা অদ্যাবধি দৃশ্যমান না হওয়ায় টানেল দিয়ে গাড়ি চলাচল সেভাবে হচ্ছে না।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে চীনের দীর্ঘতম হাইওয়ে টাইহু টানেল নির্মাণ শুরু হয়। প্রায় ১১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের টানেলটি চালু হয় ২০২২ সালের জানুয়ারিতে। টানেলটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৫৬ কোটি ডলার। বর্তমানে বাংলাদেশি মুদ্রায় কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় দাঁড়ায় এক হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। অন্যদিকে ভারতের মুম্বাইয়ে মুম্বাই কোস্টাল রোড প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রের তলদেশে দুই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি টানেল নির্মাণ করা হয়েছে। এতে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয় এক হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা। কিন্তু কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে মোট ব্যয় প্রায় তিন হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি।

২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং (বাংলাদেশ সফরকালে) চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে এই টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। এতে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। পরে নির্মাণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ছয় হাজার ৭০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়েছে চীনের এক্সিম ব্যাংক থেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চেয়ে নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ এম


সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চেয়ে নির্দেশ

 

কুমিল্লায় কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

সোমবার (৮ জুন) বিকালে ১নং আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুমিনুল হক এ আদেশ দেন।

রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ।

মামুনুর রশীদ জানান, আলোচিত তনু হত্যা মামলায় তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের গ্রেফতারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করার নির্দেশনা দিয়েছেন বিচারক। এদিন আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। সন্ধ্যার পর বিচারক এ আদেশ দিয়েছেন।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, তনু হত্যাকাণ্ডের সময় সার্জেন্ট জাহিদ কুমিল্লা সেনানিবাসে ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের গড়ঘাটা এলাকায়।

তনুর বাবা ইয়ার হোসেনের অভিযোগ, তনুর ওপর পাশবিক নির্যাতন ও তাকে হত্যার নেতৃত্বে ছিলেন সার্জেন্ট জাহিদ। এরই মধ্যে তাকে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া সৈনিক শাহীন আলমের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। তনু হত্যার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন তিনি। অবসরে গিয়ে এই সেনাসদস্য বিদেশে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আদালত সূত্র জানায়, সম্প্রতি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম কুমিল্লার আদালতে সন্দেহভাজন সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশনা চেয়ে একটি আবেদন করেন। একই আবেদনে তনু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সেনাবাহিনীর কাছে তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কোনো কিছু থাকলে সেটি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। সোমবার ছিল মামলাটির ধার্য তারিখ।

এদিকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেফতার হাফিজুর রহমানকে সোমবার দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এদিন আদালতে হাজির করা হলেও হাফিজুর রহমানের পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ইন্সপেক্টর তরিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার তনু হত্যা মামলার ধার্য তারিখ ছিল। অন্য মামলা সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত থাকায় আমি আদালতে যেতে পারিনি। শুনেছি আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সন্ধ্যার পর আদালত একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। আদালতের আদেশের কপি হাতে পেলে এ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরের একটি জঙ্গল থেকে সোহাগী জাহান তনুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দেশব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%