মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৯ এম
দেশের পুঁজিবাজারে বড় মূলধনি, অবকাঠামোগত ও বহুজাতিক কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করার জন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন খসড়ায় অবকাঠামো ও মূলধননিবিড় কোম্পানির জন্য কাঠামোগত শর্ত এবং মুনাফায় থাকার বাধ্যবাধকতায় শর্ত শিথিল করা হয়েছে, পাশাপাশি কম শেয়ার ছেড়ে বড় মূলধন উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫’-এর সংশোধনীর খসড়া বিএসইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে সর্বসাধারণ ও অংশীজনদের মতামত আহ্বান করা হয়েছে। খসড়ার উপর লিখিত মতামত আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে প্রদান করা যাবে।
বড় ও অবকাঠামো খাতের জন্য বিশেষ সুবিধা হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, টেলিকমিউনিকেশন, স্বাস্থ্যসেবা, পানি সরবরাহসহ বড় প্রকল্পে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ‘ক্যাপিটাল-ইন্টেনসিভ কোম্পানি’ নামে নতুন সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব কোম্পানির আইপিও আসার ক্ষেত্রে মুনাফার শর্তে শিথিলতা প্রদান করা হয়েছে। সাধারণ কোম্পানির ক্ষেত্রে আইপিওতে আবেদনের সময় সর্বশেষ আর্থিক বছরে মুনাফায় থাকা বাধ্যতামূলক হলেও, ন্যূনতম ৫০০ কোটি টাকা মোট সম্পদ থাকা ক্যাপিটাল-ইন্টেনসিভ কোম্পানি, রেগুলেটেড কোম্পানি ও নতুন (গ্রিনফিল্ড) কোম্পানিকে বিএসইসি এই শর্ত থেকে ছাড় দিতে পারবে। তবে তালিকাভুক্তির দুবছরের মধ্যে মুনাফায় আসার কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে হবে।
কম শেয়ার ছেড়ে আইপিওর সুযোগ
প্রাক-আইপিও নিট সম্পদ ৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি হলে, ঐ কোম্পানিকে প্রচলিত ১০% শেয়ার ছাড়ার বাধ্যবাধকতার পরিবর্তে ন্যূনতম ৫% শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন দেওয়া যাবে।
‘হাইব্রিড মোড’ ও অফার ফর সেল
যেসব কোম্পানির বার্ষিক টার্নওভার বা মোট সম্পদ ৫০০ কোটি টাকার বেশি, বিটিআরসি নিবন্ধিত (ন্যূনতম ৩০০ কোটি টাকা নিট সম্পদ) অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠ বিদেশি মালিকানাধীন, তারা বাজারে নতুন শেয়ার ছাড়ার পাশাপাশি বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার অফলোডের সমন্বয়ে ‘হাইব্রিড মোড’-এ আসতে পারবে।
আইপিও আবেদনের আগের দুবছরের মধ্যে মূলধন উত্তোলনের সাধারণ আইনি বিধিনিষেধ পিপিই (পিপিপি) প্রকল্প, সরকারি ও বিদেশি সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার থাকা কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীদের আইপিও কোটা বাতিল করা হয়েছে। বিদ্যমান ২০২৫ সালের বিধিমালার উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি বিনিয়োগকারী শ্রেণির জন্য বিশেষ পাঁচ শতাংশ সংরক্ষিত কোটা খসড়া বিধিমালায় সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে।
সাধারণ ও প্রবাসী কোটা বৃদ্ধি
ফিক্সড প্রাইস ও বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ৬০% থেকে বাড়িয়ে ৬৫% করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অপরদিকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কোটা ৪০% থেকে কমিয়ে ৩৫% এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা ৩৫% থেকে বাড়িয়ে ৪০% করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের কোটা ৭% থেকে বাড়িয়ে ১০% এবং কর্মচারীদের কোটা ৩% থেকে বাড়িয়ে ৫% করা হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী শ্রেণির
লক-ইন শিথিল
বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দের ৫০% শেয়ার প্রথম দিনেই লেনদেনযোগ্য থাকবে। বাকি শেয়ারের মধ্যে ২৫% শেয়ারে ৬০ দিন এবং অবশিষ্ট ২৫% শেয়ারে ৯০ দিনের লক-ইন থাকবে।
প্রি-আইপিও নিরপেক্ষ অডিট
আর্থিক বিবরণী ও প্রসপেক্টাসের তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আইপিও আবেদনের আগে বিএসইসির প্যানেলভুক্ত নিরপেক্ষ অডিটর দিয়ে ‘প্রি-আইপিও ভেরিফিকেশন’ অডিট সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করার নিয়ম আনা হয়েছে।
বুয়েট দ্বারা লটারি নিরীক্ষা
সাধারণ ও এনআরবি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বরাদ্দের লটারি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করার পাশাপাশি এর অ্যালগরিদম বুয়েট দ্বারা পরীক্ষিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়ার ওয়াঙ্গারাত্তা শহরে একটি স্থানীয় নারী সংসদ সদস্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনার পর হামলাকারীকে আটক করে প্রশংসিত হচ্ছেন রিকি জেফরিজ, যিনি একজন নাপিত। সংসদ সদস্য হেলেন হেইনসকে বাঁচাতে নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে তিনি হামলাকারীকে ধরে ফেলেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ রিকি জেফরিজের এই সাহসিকতার জন্য তাকে ‘বীর’ বা ‘নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রিকি জেফরিজ তার সেলুনে এক গ্রাহকের চুল কাটা শেষ করার পর বাইরে বিকট শব্দ শুনতে পান। বাইরে এসে তিনি দেখতে পান, একটি টয়োটা ল্যান্ডক্রুজার গাড়ি নিয়ে ৪৩ বছর বয়সী এক চালক স্থানীয় জনপ্রিয় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হেলেন হেইনসকে (৬৫) সজোরে ধাক্কা দিয়েছে। হেইনস তখন তার গাড়ির পেছনের অংশ থেকে জিনিসপত্র নামাচ্ছিলেন।
ঘটনার সময় জেফরিজ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি লক্ষ্য করেন হামলাকারীর পকেটে একটি ছুরি রয়েছে। ঝুঁকি না নিয়ে, তিনি কৌশলে লোকটির পকেট থেকে ছুরিটি বের করে দূরে ফেলে দেন এবং তাকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে মাটিতে চেপে ধরেন। পুলিশ আসা পর্যন্ত তিনি একাই অভিযুক্তকে আটকে রাখেন। হামলায় গুরুতর আহত হেলেন হেইনসকে দ্রুত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার একটি জটিল অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে চালকটি ইচ্ছা করেই ইউ-টার্ন নিয়ে এসে হেইনসকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাটির তদন্তে অস্ট্রেলিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থাও যুক্ত হয়েছে। যদিও কোনো সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য এখনও জানা যায়নি, এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে অত্যন্ত বিরল।
প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসী তাকে প্রশংসায় ভাসালেও রিকি জেফরিজ বেশ বিনীত। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে নায়ক মনে করি না। একজন মানুষ বিপদে পড়েছিলেন এবং আমার হস্তক্ষেপ করার সুযোগ ছিল, তাই আমি সাহায্য করেছি।’
উল্লেখ্য, জেফরিজের সেলুনটি আহত সাংসদ হেইনসের নির্বাচনী কার্যালয়ের একেবারেই পাশেই অবস্থিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় চিকিৎসা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার অপরাধে আসলাম ও রোথী নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আসলাম, যিনি একজন ভুয়া পশু চিকিৎসক, তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সময়ে রোথী নামে এক পল্লী চিকিৎসককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই অভিযানটি পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান। ভুল চিকিৎসার কারণে প্রসূতির মায়ের জীবন বিপন্ন হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, কয়েক দিন আগে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদত মেম্বারপাড়ার চাঁন মিয়ার মেয়ে চাঁদনী নামের এক প্রসূতির প্রসবের সময় গুরুতর অনিয়ম ঘটেছিল। অভিযোগ রয়েছে যে, আসলাম, যিনি স্বাভাবিক প্রসবের কথা বলে ওই প্রসূতিকে স্যালাইন ও ইনজেকশন প্রদান করেন, ফলে তার ডেলিভারি সফল হয়নি। পরে এক নারীর সাহায্যে কাটাছেঁড়া করে মৃত সন্তান প্রসব করানো হয়। প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে পল্লী চিকিৎসক রোথীকে ডেকে আনা হয়। রোথী জরায়ুর ক্ষতস্থানে সেলাই করে রক্তক্ষরণ বন্ধ করার চেষ্টা করেন।
পরে প্রসূতি চাঁদনীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ফরিদপুরে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার শরীরে গজ রয়ে যাওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করেন।
এই ঘটনার সামাজিক ও স্থানীয়ভাবে প্রচারিত হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন চিকিৎসা সেবার মান নিশ্চিত করার এবং অনিবন্ধিত চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করার লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর আসলামকে 'মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০'-এর ২৮(১) ধারা অনুযায়ী ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং রোথীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনার সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার প্রতিনিধি, আবাসিক মেডিকেল অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বৈচিত্র্যময় পরিবেশ, যা গাছগাছালিতে ভরা, ধ্বংসের মুখে রয়েছে। উপজেলায় একটি সড়কের প্রশস্তকরণ কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য রাস্তার দুই পাশে থাকা জমির টপসয়েল এবং ১ হাজার ৫০০ এর অধিক গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। এক বা দুইটি গাছ নয়, বরং ১ হাজারের বেশি গাছ কাটা হয়েছে। এছাড়া আরও ৫০০ গাছ কাটা হবে। নেয়াজের টেক থেকে কলাউজান বোর্ড অফিস পর্যন্ত ৭ দশমিক ৭০০ মিটার রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য এই গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন, প্রায় এক মাস আগে গাছ কাটা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে নেয়াজের টেক থেকে লেইঙ্গা পুকুর পাড়ের পশ্চিম পাড় পর্যন্ত আনুমানিক ১ হাজারের অধিক গাছ কাটা হয়েছে এবং লেইঙ্গা পুকুরপাড় থেকে কানুরামবাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় গাছ এখনো কাটা হয়নি।
অন্যদিকে, স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজে মাটি জোগান দিতে গিয়ে অনেক কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ফসলি জমি থেকে মাটি খননের যন্ত্র দিয়ে কয়েকফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়েছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, সিডিডব্লিউএসপি কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে এই রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। নেয়াজের টেক থেকে কলাউজান বোর্ড অফিস পর্যন্ত ৭ দশমিক ৭০০ মিটার রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স। কৃষকের ফসলি জমি কেটে ফেলার বিষয়ে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী কাজি ফাহাদ বিন মাহমুদ আমার দেশকে জানান, রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ গাছ কাটা হয়েছে। যেসব স্থানে গাছ কাটা হয়েছে, সেসব স্থানে পুনরায় গাছ লাগানো হবে। ফসলি জমি থেকে মাটি ও গাছ কেটে ফেলার বিষয়ে কারো কাছ থেকে অভিযোগ পায়নি, পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাছ কেটে ফেলার বিষয়ে দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াদুর রহমান ভূইয়া বলেন, গাছগুলো উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে, তাই তাদের পক্ষ থেকে বন বিভাগকে গাছের পরিমাণ এবং মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলা সাহিত্যের আকাশে যেসব কবি নিজেদের চিন্তা, স্বতন্ত্র কাব্যভাষা ও আদর্শিক চেতনায় উজ্জ্বল হয়ে আছেন, তাঁদের মধ্যে ফররুখ আহমদ অন্যতম। এই সাহিত্যস্রষ্টা, যিনি ‘মুসলিম রেনেসাঁর কবি’ হিসেবে পরিচিত, তাঁর কবিতায় মুসলিম সমাজের আত্মপরিচয়, জাগরণ, মানবিকতা ও ঐতিহ্যচেতনার বিষয়গুলি তুলে ধরেন। কবিতায় আরবি-ফারসি শব্দের সৃজনশীল প্রয়োগ, সমৃদ্ধ উপমা, ছন্দের বৈচিত্র্য এবং গভীর জীবনবোধের মাধ্যমে তিনি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছেন। কবিতা ছাড়াও তিনি ছড়া, সনেট, কাব্যনাট্য, ব্যঙ্গকবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও সংগীত রচনায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।
জন্ম ও শৈশব
ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন তৎকালীন যশোর জেলার অন্তর্গত, বর্তমানে মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা খানসাহেব সৈয়দ হাতেম আলী এবং মাতা রওশন আখতার। তিনি ছিলেন তাঁদের দ্বিতীয় পুত্র।
শৈশব থেকেই সাহিত্যের প্রতি তাঁর অনুরাগ ছিল। ছাত্রাবস্থায় তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন এবং বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। অল্প বয়সেই তাঁর কাব্যপ্রতিভা সাহিত্যপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ১৯৩৭ সালে খুলনা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর কলকাতার রিপন কলেজ থেকে ১৯৩৯ সালে আইএ পাস করেন। পরে স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন ও ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স নিয়ে বিএ শ্রেণিতে ভর্তি হন, তবে পড়াশোনা শেষ না করেই কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।
কর্মজীবন ও সাহিত্যসম্পাদনা
কর্মজীবনের শুরুতে ফররুখ আহমদ কলকাতার আইজি প্রিজন অফিস ও সিভিল সাপ্লাই বিভাগে কাজ করেন। পরে তিনি সাহিত্য ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৪৫ সালে মাসিক ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন। দেশভাগের পর ঢাকায় এসে তিনি তৎকালীন রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্রে যোগ দেন। সেখানে স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি শিশুদের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘খেলাঘর’ পরিচালনা করতেন। বেতারকেন্দ্রে তাঁর কর্মজীবন সাহিত্যচর্চাকে বিস্তৃত করার সুযোগ করে দেয়। কবিতা, গান, বেতার কথিকা ও শিশুতোষ রচনার মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন বয়সী পাঠক-শ্রোতার কাছে পৌঁছে যান। যদিও তাঁর সৃষ্টিশীলতার পরিধি বিস্তৃত ছিল, তবে কবি হিসেবেই তিনি সর্বাধিক পরিচিতি অর্জন করেন।
আদর্শ, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ
ফররুখ আহমদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক চিন্তায় সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে। ছাত্রজীবনে তিনি এম এন রায়ের র্যাডিক্যাল মানবতাবাদে আকৃষ্ট হন এবং বামপন্থী চিন্তাধারার সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তী সময়ে মুসলিম পুনর্জাগরণ, ইসলামী মূল্যবোধ ও মুসলিম ঐতিহ্য তাঁর সাহিত্যচিন্তার প্রধান অনুষঙ্গে পরিণত হয়।
তবে তাঁর আদর্শিক অবস্থানকে কেবল একটি রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করলে তাঁর জীবন ও সাহিত্যকে পূর্ণাঙ্গভাবে বোঝা সম্ভব নয়। পাকিস্তান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন থাকলেও রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে বাংলা ভাষার অধিকারের পক্ষে তিনি অবস্থান নেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তাঁর সমর্থন ছিল স্পষ্ট। তৎকালীন শাসকদের ভাষানীতি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনাও তিনি লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশ করেন। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিও তাঁর সমর্থনের কথা বিভিন্ন জীবনী ও সাহিত্যবিষয়ক আলোচনায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অবস্থান তাঁর রাজনৈতিক জীবনের জটিলতা ও সময়ের সঙ্গে তাঁর চিন্তার বিবর্তন বুঝতে সহায়তা করে।
‘সাত সাগরের মাঝি’: কাব্যজগতে স্বতন্ত্র পরিচয়
১৯৪৪ সালে ফররুখ আহমদের প্রথম ও বহুল আলোচিত কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থের কবিতায় মুসলিম সমাজের জাগরণ, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, মানবিক বোধ ও স্বপ্নময় অভিযাত্রার চিত্র ফুটে উঠেছে। তাঁর কাব্যভাষায় আরবি-ফারসি শব্দের ব্যবহার, ঐতিহ্যনির্ভর প্রতীক এবং গতিময় ছন্দ এক বিশেষ আবহ তৈরি করে।
চল্লিশের দশকে বাংলায় দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা কবিদের লেখায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ফররুখ আহমদও এ দুর্ভিক্ষের মানবিক বিপর্যয় নিয়ে কবিতা রচনা করেন। তাঁর ‘লাশ’ কবিতাটি ১৯৪৪ সালে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য সম্পাদিত দুর্ভিক্ষবিষয়ক সংকলন ‘আকাল’-এ স্থান পায়। দুর্ভিক্ষের নির্মম বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে রচিত এ কবিতায় ক্ষুধা, মৃত্যু ও মানুষের অসহায়তার মর্মস্পর্শী চিত্র ফুটে উঠেছে।
কাব্যনাট্য, সনেট ও ব্যঙ্গকবিতায় দক্ষতা
ফররুখ আহমদের সাহিত্যিক পরিচয় কেবল একটি কাব্যগ্রন্থ বা একটি ধারায় সীমাবদ্ধ নয়। কাব্যনাট্য, সনেট, ব্যঙ্গকবিতা ও গদ্যরচনায়ও তিনি স্বাতন্ত্র্য দেখিয়েছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে— কাব্যগ্রন্থ: ‘সাত সাগরের মাঝি’ (১৯৪৪), ‘সিরাজাম মুনীরা’ (১৯৫২), ‘মুহূর্তের কবিতা’ (১৯৬৩)। কাব্যনাট্য ও আখ্যানকাব্য: ‘নৌফেল ও হাতেম’ (১৯৬১), ‘হাতেম তা’য়ী’ (১৯৬৬)। শিশুতোষ সাহিত্য: ‘পাখির বাসা’ (১৯৬৫), ‘নতুন লেখা’, ‘হরফের ছড়া’ (১৯৭০), ‘চাঁদের আসর’ ও ‘ছড়ার আসর’ (১৯৭০)। ব্যঙ্গ ও অন্যান্য রচনা: ‘ধোলাই কাব্য’, ‘তসবির নামা’ এবং ‘ঐতিহাসিক অনৈতিহাসিক কাব্য’।
‘নৌফেল ও হাতেম’ তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যনাট্য। অন্যদিকে ‘হাতেম তায়ী’ কাহিনিকাব্য রচনায় তাঁর দক্ষতার পরিচয় বহন করে। ‘মুহূর্তের কবিতা’সহ তাঁর সনেটসংকলনগুলো বাংলা কবিতায় তাঁর শিল্পসাধনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।
ব্যঙ্গকবিতায় তিনি সমাজের অসংগতি, ভণ্ডামি ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে বিদ্রূপাত্মক ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন। শিশুদের জন্য রচিত ছড়া ও কবিতায়ও তাঁর ভাষার সাবলীলতা ও কল্পনাশক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। ফলে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক পাঠক—বিভিন্ন শ্রেণির পাঠকের জন্য তিনি রেখে গেছেন বৈচিত্র্যময় সাহিত্যভান্ডার।
ফররুখ আহমদ মূলত কবি হলেও সাহিত্যের অন্যান্য শাখায়ও তাঁর বিচরণ ছিল সমানতালে। তিনি গল্প, প্রবন্ধ, বেতার কথিকা, গীতি-নকশা, হামদ, নাত, দেশাত্মবোধক গান, প্রেমের গান ও ভক্তিমূলক সংগীত রচনা করেছেন। ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক লেখালেখিতেও তাঁর আগ্রহ ছিল।
তাঁর গল্পের মধ্যে ‘প্রচ্ছন্ন নায়িকা’, ‘মৃত বসুধা’ ও ‘বিবর্ণ’ উল্লেখযোগ্য বলে পরিচিত। ‘হাবেদা মরুর কাহিনী’ তাঁর গদ্যকবিতার পরিচয় বহন করে। ‘সিকান্দার শা’র ঘোড়া’ নামে একটি উপন্যাস রচনার উদ্যোগও তিনি নিয়েছিলেন, যদিও তা সম্পূর্ণ করতে পারেননি বলে জীবনীমূলক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। শিশুদের জন্য তাঁর রচিত ছড়া ও কবিতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সহজ ভাষা, ছন্দময়তা এবং কল্পনার জগৎ নির্মাণের ক্ষমতা তাঁর শিশুতোষ সাহিত্যকে স্বতন্ত্র মর্যাদা দিয়েছে।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ফররুখ আহমদ জীবদ্দশায় একাধিক পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৬০ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। ১৯৬১ সালে লাভ করেন প্রেসিডেন্ট পুরস্কার ‘প্রাইড অব পারফরম্যান্স’। ১৯৬৬ সালে তিনি আদমজী সাহিত্য পুরস্কার ও ইউনেসকো পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর মৃত্যুর পরও রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৯৭৭ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক এবং ১৯৮০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
জীবনের শেষ পর্বে ফররুখ আহমদ আর্থিক অনটন ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। তাঁর কর্মজীবন, সরকারি চাকরি এবং বাসস্থান নিয়ে নানা জটিলতার কথাও বিভিন্ন জীবনীতে উঠে এসেছে। সাহিত্যিক হিসেবে সম্মান অর্জন করলেও জীবনের শেষ সময়ে তাঁর আর্থিক কষ্টের বিবরণ পাঠককে ব্যথিত করে। ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেনের বাসায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ