ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দৈনিক আয় ১১ লাখ, ব্যয় সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা


দৈনিক আয় ১১ লাখ, ব্যয় সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের প্রথম সুড়ঙ্গপথ বা টানেল চালুর পর থেকে গত ৯৪৫ দিনে (২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত) মোট যানবাহন চলাচল করেছে ৩৬ লাখ ৬৪ হাজার ৭১৬টি। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার ৮৭৮টি গাড়ি টানেল দিয়ে চলাচল করেছে।

অথচ টানেলের সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, প্রথম বছরে প্রতিদিন গড়ে ১৭ হাজার ২৬০টি; ২০২৫ সালে প্রতিদিন ১৯ হাজার ৬৬৯টি এবং বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৯ হাজার ৬৬৯ থেকে ২৮ হাজার যানবাহন চলাচল করবে। এই হিসাবে কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা থেকে সাত গুণ কম গাড়ি চলছে।

কর্ণফুলী নদীর এক পারে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, অন্য পারে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলা। কিন্তু দেশের অন্যতম বড় এই প্রকল্প থেকে সরকার আশানুরূপ সুফল পাচ্ছে না। প্রতিদিন আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: গাজীপুরের পোশাক কারখানার গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের চার ইউনিট

টানেলসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর টানেলটি উদ্বোধনের পরদিন থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত চলাচলকারী মোট গাড়ি থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ১০৬ কোটি ১০ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে টানেল থেকে আয় হয়েছে ১১ লাখ ২২ হাজার ৮৪৯ টাকা। প্রত্যাশার চেয়ে বর্তমানে সাত গুণ যানবাহন কম চলাচল করায় মারাত্মক প্রভাব পড়েছে টানেলের রাজস্ব আয়ে।

এ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে চলাচলরত যানবাহন থেকে ১১ লাখ ২২ হাজার ৮৪৯ টাকা আয় হলেও প্রতিদিন গড়ে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩৭ লাখ হাজার টাকা। এই হিসাবে টানেল থেকে রাজস্ব আয়ের বিপরীতে ব্যয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে তিন গুণ। অর্থাৎ আয়ের চেয়ে প্রতিদিন ব্যয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে ২৬ লাখ টাকা।

কর্ণফুলী টানেলের ব্যবস্থাপক বেলায়েত হোসেন বলেন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় দৈনিক প্রায় ১৯ হাজার ৬৬৯টি থেকে ২৮ হাজার যানবাহন চলাচলের পূর্বাভাস ছিল। বর্তমানে দৈনিক গড়ে তিন হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার যানবাহন টানেল ব্যবহার করছে।

নাম প্রকাশ না করে টানেল ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা একাধিক কর্মকর্তা জানান, টানেলে দৈনিক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় প্রায় ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই হিসাবে বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১৩৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে টোল বাবদ এ পর্যন্ত আয়ের তথ্যানুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ১১ লাখ ২২ হাজার ৮৪৯ টাকা আয় হয়েছে। এতে করে প্রতিবছরে ৯৮ কোটি থেকে ১০০ কোটি টাকা ঘাটতি থাকছে। গাড়ি চলাচল না বাড়লে সামনে টানেল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঘাটতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন: নেছারাবাদে বিএনপি নেতা মিঠুর গণসংযোগ, ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশা

ঈদুল আজহা উপলকে সাত দিনের সরকারি ছুটিতে কর্ণফুলী টানেলে গাড়ি চলাচল তেমন বাড়েনি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ঈদের ছুটি শুরু হলে সড়ক-মহাসড়কে যেখানে হাজার হাজার যানবাহনের চাপ সেখানে টানেলে প্রত্যাশার তুলনায় গাড়ির চলাচল ছিল খুবই কম।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, গত ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সাত দিনে টানেল দিয়ে যানবাহন চলাচল করেছে মোট ৩১ হাজার ৮৮৯টি। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে চার হাজার ৫৫৫টি যানবাহন চলাচল করে। একই সময়ে মোট রাজস্ব আয় হয় ৯৫ লাখ ৮০ হাজার ৪৫০ টাকা। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে টোল আদায় হয়েছে ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৬৩৫ টাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টানেল চালুর পর পর্যায়ক্রমে গাড়ি চলাচল বাড়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু যে হারে গাড়ি চলাচলের কথা ছিল, তার চেয়ে অনেক অনেক কম গাড়ি বর্তমানে চলাচল করছে। ভবিষ্যতে যে গাড়ির চলাচল বাড়বে তারও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কারণ টানেল ঘিরে পর্যটন শহর কক্সবাজারসহ চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প স্থাপনের কথা ছিল, তা অদ্যাবধি দৃশ্যমান না হওয়ায় টানেল দিয়ে গাড়ি চলাচল সেভাবে হচ্ছে না।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে চীনের দীর্ঘতম হাইওয়ে টাইহু টানেল নির্মাণ শুরু হয়। প্রায় ১১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের টানেলটি চালু হয় ২০২২ সালের জানুয়ারিতে। টানেলটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৫৬ কোটি ডলার। বর্তমানে বাংলাদেশি মুদ্রায় কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় দাঁড়ায় এক হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। অন্যদিকে ভারতের মুম্বাইয়ে মুম্বাই কোস্টাল রোড প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রের তলদেশে দুই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি টানেল নির্মাণ করা হয়েছে। এতে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয় এক হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা। কিন্তু কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে মোট ব্যয় প্রায় তিন হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি।

আরও পড়ুন: বরিশালে যুবদলকর্মী কাওসার হাওলাদারকে সন্ত্রাসীদের হাতে হত্যা

২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং (বাংলাদেশ সফরকালে) চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে এই টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। এতে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। পরে নির্মাণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ছয় হাজার ৭০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়েছে চীনের এক্সিম ব্যাংক থেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চেয়ে নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ এম


সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চেয়ে নির্দেশ

 

কুমিল্লায় কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

সোমবার (৮ জুন) বিকালে ১নং আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুমিনুল হক এ আদেশ দেন।

রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ।

মামুনুর রশীদ জানান, আলোচিত তনু হত্যা মামলায় তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের গ্রেফতারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করার নির্দেশনা দিয়েছেন বিচারক। এদিন আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। সন্ধ্যার পর বিচারক এ আদেশ দিয়েছেন।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, তনু হত্যাকাণ্ডের সময় সার্জেন্ট জাহিদ কুমিল্লা সেনানিবাসে ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের গড়ঘাটা এলাকায়।

তনুর বাবা ইয়ার হোসেনের অভিযোগ, তনুর ওপর পাশবিক নির্যাতন ও তাকে হত্যার নেতৃত্বে ছিলেন সার্জেন্ট জাহিদ। এরই মধ্যে তাকে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া সৈনিক শাহীন আলমের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। তনু হত্যার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন তিনি। অবসরে গিয়ে এই সেনাসদস্য বিদেশে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আদালত সূত্র জানায়, সম্প্রতি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম কুমিল্লার আদালতে সন্দেহভাজন সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশনা চেয়ে একটি আবেদন করেন। একই আবেদনে তনু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সেনাবাহিনীর কাছে তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কোনো কিছু থাকলে সেটি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। সোমবার ছিল মামলাটির ধার্য তারিখ।

এদিকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেফতার হাফিজুর রহমানকে সোমবার দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এদিন আদালতে হাজির করা হলেও হাফিজুর রহমানের পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ইন্সপেক্টর তরিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার তনু হত্যা মামলার ধার্য তারিখ ছিল। অন্য মামলা সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত থাকায় আমি আদালতে যেতে পারিনি। শুনেছি আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সন্ধ্যার পর আদালত একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। আদালতের আদেশের কপি হাতে পেলে এ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরের একটি জঙ্গল থেকে সোহাগী জাহান তনুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দেশব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুবদল নেতা বহিষ্কারের পর রমনা থানা কমিটি বিলুপ্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ এম


যুবদল নেতা বহিষ্কারের পর রমনা থানা কমিটি বিলুপ্ত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও রমনা থানা যুবদলের আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবুকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে রমনা থানা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

সোমবার (৮ মার্চ) রাতে যুবদলের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মায় গোসল করতে নেমে নিখোঁজ তিন সন্তানের জননী, চলছে উদ্ধার অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ এম


পদ্মায় গোসল করতে নেমে নিখোঁজ তিন সন্তানের জননী, চলছে উদ্ধার অভিযান

মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ীতে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়েছেন এক গৃহবধূ।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার সময় উপজেলার দিঘিরপাড় ইউনিয়নের মিতারা ঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীতে এই ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ জাহানারা বেগম (৪৮) মিতারা গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত সেন্টু শেখের স্ত্রী। তিনি দুটি মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর টংগিবাড়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এরপর মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ডুবুরি দলও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, "জাহানারা বেগমকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০ বছরে দ্বিগুণ হারে বেড়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, সতর্ক করল জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৫ এম


১০ বছরে দ্বিগুণ হারে বেড়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, সতর্ক করল জাতিসংঘ

 

বিশ্বের মহাসাগরগুলো বর্তমানে ‘তীব্র এবং দ্রুত বর্ধনশীল’ চাপের মুখে পড়েছে, যা মানবঘটিত নানা কর্মকাণ্ডের ফল। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, গত এক দশকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার এখন দ্বিগুণ হয়েছে।

বিশ্ব মহাসাগর দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত জাতিসংঘের তৃতীয় 'ওয়ার্ল্ড ওশেন অ্যাসেসমেন্ট' (বিশ্ব মহাসাগর মূল্যায়ন) প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন মতে, দূষণ এবং ব্যাপক শিল্পভিত্তিক মৎস্য শিকারের ফলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এবং সামগ্রিক মহাসাগরীয় ব্যবস্থা মারাত্মক সংকটের সম্মুখীন।

৮৬টি দেশের প্রায় ৬০০ জন বিজ্ঞানীর ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পরিচালিত গবেষণার ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে। আগের প্রতিবেদনে (যা ২০১৮ সাল পর্যন্ত তথ্য কভার করেছিল) সামুদ্রিক পরিবেশের ক্রমাগত অবক্ষয়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল, কিন্তু এবারের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে যে, বিগত কয়েক বছরে ক্ষতির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

বিজ্ঞানীদের মূল তথ্য ও পরিসংখ্যান বিষয়ক তথ্যাদি দেবেন।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি: ২০১৫ সালের আগে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রতি বছর ২ মিলিমিটার বৃদ্ধি পেত, কিন্তু ২০২৩ সালের হিসেবে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে প্রতি বছর ৪.৩ মিলিমিটার হয়েছে।

মহাসাগরের তাপমাত্রা: ১৯৫৫ সালের পর থেকে বিশ্বজুড়ে মহাসাগরের তাপমাত্রা ১৬% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কেবল ২০১৮ সালের পরের সময়ে ঘটেছে।

অধিক উষ্ণ অঞ্চল: আটলান্টিক মহাসাগর ও ভারত এবং প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণাঞ্চলে তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

অজানা সমুদ্রপৃষ্ঠ: ২০২৫ সাল পর্যন্ত সমুদ্রের তলদেশের মাত্র ২৭% মানচিত্রায়িত করা সম্ভব হয়েছে, ফলে গভীর সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের বড় ঘাটতি রয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন: “আমরা মহাসাগরকে সীমাহীন ভাবার ভুলটি আর করতে পারি না। সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় এখন জরুরি বৈশ্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। আমাদের সমুদ্রের সাথে একটি নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, যা বিজ্ঞানভিত্তিক, আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা পরিচালিত এবং যা দেশ, খাত ও প্রজন্মের যৌথ দায়িত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত।”

সুরক্ষার অগ্রগতি বনাম খণ্ডিত শাসন ব্যবস্থা

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মহাসাগর সুরক্ষায় কিছু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে এই বছর কার্যকর হওয়া ঐতিহাসিক 'হাই সিস ট্রিটি' (উন্মুক্ত সমুদ্র চুক্তি) আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা রেখেছে, যা কোনো দেশের সীমানার বাইরে থাকা মহাসাগরের দুই-তৃতীয়াংশ অঞ্চলকে সুরক্ষা দেবে।

তবে এই চুক্তি এবং অন্যান্য ৫৬টি মহাসাগর সুরক্ষা চুক্তি থাকা সত্ত্বেও, আন্তর্জাতিক শাসন ব্যবস্থা এখনো আঞ্চলিক ও খাতভিত্তিক উপায়ে “খণ্ডিত” রয়ে গেছে। তাই এই সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।

পৃথিবীর ৭০ শতাংশেরও বেশি এলাকা জুড়ে থাকা মহাসাগর জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মানুষের জন্য খাদ্য, খনিজ ও শক্তির জোগান দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে উৎপন্ন অতিরিক্ত তাপের ৯০% এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের ৩০% ইতিমধ্যেই মহাসাগর শোষণ করেছে।

প্লাস্টিক দূষণ ও অন্যান্য কারণ

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রতি বছর ৫ কোটি ২১ লাখ টন প্লাস্টিক মহাসাগরে পড়ছে। এর ফলে ২৪.৪ ট্রিলিয়ন মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ছে, যা ৪০০০-এরও বেশি সামুদ্রিক প্রজাতির জীবনকে বিপন্ন করে তুলছে।

গবেষক দলের যৌথ সমন্বয়কারী রাফায়েল গঞ্জালেজ-কুইরোজ বলেছেন, একটি সুস্থ ও স্থিতিস্থাপক মহাসাগরের প্রয়োজনীয়তা এখনকার মতো এত জরুরি আর কখনোই ছিল না।

সামুদ্রিক পরিবেশের এই বিপর্যয়ের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে মানুষের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির অপব্যবহার ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করা হয়েছে। ২০১৭ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল ৭.৭ বিলিয়ন, যা ২০২৪ সালের শেষের দিকে বেড়ে ৮.২ বিলিয়নে দাঁড়াবে। বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষ উপকূলের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে বাস করে এবং ১১% মানুষ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ মিটারেরও কম উচ্চতার জমিতে বাস করছে, যা তাদের চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে।

গ্রিনপিস-এর হুঁশিয়ারি

পরিবেশবাদী সংগঠন 'গ্রিনপিস' বলেছে, এই প্রতিবেদনটি বিশ্বনেতাদের জন্য একটি “জরুরি সতর্কবার্তা”। সমুদ্রকে গভীর সমুদ্রে খনি খনন এবং শিল্পভিত্তিক মৎস্য শিকারের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষার জন্য এখন পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।

গ্রিনপিস-এর বৈশ্বিক মহাসাগর প্রচারক লুকাস মেউস বলেছেন, “আমরা সরকারের কাছে এমন সম্পূর্ণ সুরক্ষিত সামুদ্রিক অভয়ারণ্য গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি যেখানে মানুষের সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৩০% মহাসাগর রক্ষা করার যে প্রতিশ্রুতি সরকারগুলো দিয়েছে—বিজ্ঞানীদের মতে সমুদ্রকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সেটিই সর্বনিম্ন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।”

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান.

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%