বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৭ এম
জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, ভারতের কলকাতা ১৭৩ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। এই বাতাসের মানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অপরদিকে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ১৫৩ স্কোর নিয়ে তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছে। ঢাকার বাতাসের মানও নাগরিকদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, দূষিত শহরের তালিকায় কলকাতা ১৭৩ স্কোর নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে। এছাড়া, ১৬৯ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, তৃতীয় স্থানে উগান্ডার কাম্পালা ১৬৬ স্কোর নিয়ে, চতুর্থ স্থানে সিঙ্গাপুর ১৬২ স্কোর নিয়ে এবং পাকিস্তানের লাহোর ১৬১ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘অনেক ভালো’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর ‘মাঝারি বা সহনীয়’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণের জন্য দূষণের ৫টি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করা হয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলো হলো, বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।
২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো, ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণ সাইটের ধুলা।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আকাশজুড়ে যেন রঙের উৎসব। সারি সারি দেব-দেবীর প্রতিমা, লোকজ কাহিনি আর নান্দনিক সাজসজ্জায় উৎসবের রঙে সেজে উঠছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী হরি মন্দির। শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে এবার এখানে বসছে ২৭৭টি প্রতিমার বর্ণিল প্রদর্শনী। গত বছরের ২৫১টি প্রতিমার আয়োজনকে ছাড়িয়ে এবার যুক্ত হয়েছে আরও ২৬টি প্রতিমা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মন্দির প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি প্রতিমায় ফুটে উঠেছে দেব-দেবীর নানা রূপ। কোথাও বেহুলা-লখিন্দরের কাহিনি, কোথাও নবদুর্গার বিভিন্ন রূপ। প্রতিমার পাশাপাশি চলছে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। পুরো মন্দির প্রাঙ্গণে এখন উৎসবের আমেজ।
আয়োজকরা জানান, সাতক্ষীরার নীলরঞ্জন পাল ও তাঁর ছয়-সাতজনের কারিগরি দল টানা প্রায় দুই মাস ধরে ২৭৭টি প্রতিমা নির্মাণের কাজ করেছেন। মাটি, খড় ও রঙের নিপুণ ব্যবহারে তাঁরা প্রতিটি প্রতিমাকে দিয়েছেন আলাদা বৈশিষ্ট্য। দীর্ঘ দুই মাসের কর্মযজ্ঞ শেষে মঙ্গলবার সকালে মন্দিরের প্রতিমা নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করে কারিগররা সেখান থেকে চলে যান।
কারিগরদের চলে যাওয়ার পর এখন মন্দির প্রাঙ্গণে দৃশ্যমান হচ্ছে তাঁদের দুই মাসের শ্রম ও শিল্পকর্ম। প্রতিটি প্রতিমার অবয়ব, পোশাক, অলংকার ও রঙের ব্যবহারে ফুটে উঠেছে শিল্পীদের দক্ষতার ছাপ।
ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপূজা পর্যন্ত এই ২৭৭টি প্রতিমার বিশেষ প্রদর্শনী চলবে। আয়োজকদের তথ্যমতে, আগামী ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত উপজেলা কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী হরি মন্দির প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের জন্য এ আয়োজন উন্মুক্ত থাকবে।
উপজেলা কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী হরি মন্দিরের পূজা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ডা. সুমন রায় জানান, এবারের আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় ও বৈচিত্র্যময় করতে ২৭৭টি প্রতিমা প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই মাস ধরে কারিগররা পরিশ্রম করে প্রতিমাগুলো নির্মাণ করেছেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি বেহুলা-লখিন্দরের কাহিনি ও নবদুর্গার উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে বাঙালির লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভক্ত-দর্শনার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিমা দর্শনের আহ্বান জানান।
আলফাডাঙ্গা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের প্রভাষক প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, উপজেলা কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী হরি মন্দিরের এবারের আয়োজন জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পূজামণ্ডপে পরিণত হবে। গত বছর ২৫১টি প্রতিমা ছিল, এবার দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়াতে তা ২৭৭টিতে উন্নীত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে এবং সাজসজ্জার কাজ এগিয়ে চলছে।
আয়োজকরা জানান, আলফাডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী এই হরি মন্দিরে ২০০৫ সাল থেকে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবার পঞ্চমবারের মতো বড় পরিসরে প্রতিমা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিবছরই আয়োজনের পরিধি বাড়ছে। এবার ২৬টি প্রতিমা বাড়িয়ে ২৭৭টি করায় আয়োজন পেয়েছে আরও বৈচিত্র্য। তাঁদের প্রত্যাশা, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত-দর্শনার্থীদের পদচারণায় এ সময় মুখর হয়ে উঠবে হরি মন্দির প্রাঙ্গণ।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে যখন মন্দির প্রাঙ্গণে একে একে জ্বলে উঠবে রঙিন আলো, তখন ২৭৭টি প্রতিমা যেন হয়ে উঠবে এক বিশাল পৌরাণিক ও লোকজ কাহিনির দৃশ্যপট। কোথাও বেহুলার কাহিনি, কোথাও লখিন্দরের গল্প, আবার কোথাও নবদুর্গার নানা রূপ—ধর্মীয় আবহের সঙ্গে শিল্প, সংস্কৃতি ও লোকঐতিহ্যের এক বর্ণিল মেলবন্ধন তৈরি হবে।
সব মিলিয়ে গত বছরের ২৫১ থেকে এবার ২৭৭টি অর্থাৎ ২৬টি প্রতিমা বৃদ্ধিতে আলফাডাঙ্গার শারদীয় দুর্গোৎসবে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। দুই মাস ধরে কারিগরদের শ্রমে নির্মিত এসব প্রতিমা ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপূজা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার নয়াপল্টনে সড়ক দুর্ঘটনায় মিজান হাওলাদার (২৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
পুলিশের মতে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোরে গাজী শপিং কমপ্লেক্সের সামনে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় তিনি মারা যান।
মিজান হাওলাদার পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার কবপুরকাঠি গ্রামের মফিজ হাওলাদারের পুত্র।
পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদ হাসান নিরব জানালেন, বুধবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে নয়াপল্টনের গাজী শপিং কমপ্লেক্সের সামনে মিজানকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, দ্রুতগতির কোনো ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর ঘাতক গাড়িটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গাড়িটি শনাক্তের জন্য চেষ্টা চলছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মিজানের মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সকাল পৌনে ৭টার দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজন নিহত যুবকের পরিচয় জানাতে পারেননি। পরে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে। সেই ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের খবর দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫০ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৫৮ জন। মঙ্গলবার রয়টার্স জানায়, উদ্ধারকাজ চলাকালীন আরও মরদেহ উদ্ধারের পর হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে কিয়াকতাও শহরের একটি ব্যস্ত পাইকারি বাজারের কাছে এই হামলা ঘটে। এই এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হতাহতের তথ্য স্থানীয় উদ্ধারকর্মী ও আরাকান আর্মি জানিয়েছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আরাকান আর্মির দাবি, একটি যুদ্ধবিমান থেকে বাজারের কাছে দুটি বোমা ফেলা হয়। হামলায় বাজারের ক্রেতা, বিক্রেতা ও পথচারীদের মধ্যে অনেকেই হতাহত হন। স্থানীয় উদ্ধারকর্মী ওয়াই হুন অং ৫০ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েকটি ভবনে আগুন লেগেছে, যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কাছের একটি সেতুর অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা হামলাটিকে রাখাইনে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ বিমান হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে অতীতে এ ধরনের হামলার ঘটনায় জান্তা সরকার দাবি করে যে, তারা কেবল বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় এবং প্রতিরোধকারী গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর থেকে মিয়ানমারে সংঘাত চলছে। সামরিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর লড়াই তীব্র হয়ে ওঠে।
আরাকান আর্মি ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে। তারা রাখাইনের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টি এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সামরিক সদর দপ্তর দখল করে নেয়। সংঘাত তীব্র হওয়ার পর সেনাবাহিনী বাণিজ্যপথে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় রাজ্যটিতে খাদ্যসংকট আরও গভীর হয়েছে।
জাতিসংঘ মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সেখানে পরিস্থিতি এখনও এমন নয় যে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষ নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে ফিরে যেতে পারেন।
রাখাইনের এই হামলা মিয়ানমারের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের মধ্যে বেসামরিক মানুষের ওপর সামরিক হামলার সর্বশেষ ঘটনা। সংঘাতের ফলে রাজ্যটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই সংকটপূর্ণ হয়ে উঠছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এপি, আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সজুড়ে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও স্কুল অবরোধের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার পুলিশ ৪৪০ জনকে আটক করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, আটককৃতদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্যারিস থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শ্রেণিকক্ষে জায়গার সংকট, শিক্ষক ও কর্মীর ঘাটতি এবং দীর্ঘ সময়ের ক্লাস সূচির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ অবরোধ করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএমটিভিকে জানান, ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিক্ষোভের সময় ৪৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য আহত হয়েছেন।
ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার দেশটির প্রায় ৪০০টি বিদ্যালয় বিক্ষোভ বা কার্যক্রমের কারণে বিঘ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০টি বিদ্যালয় পুরোপুরি অবরুদ্ধ ছিল এবং আরও ৪৪টিতে অবরোধের চেষ্টা করা হয়।
বিক্ষোভের কিছু ঘটনায় সহিংসতা দেখা যায়। লিলসহ বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা ময়লার পাত্রে আগুন দেয় এবং পুলিশের দিকে বোতল, পাথরসহ বিভিন্ন বস্তু ছোড়ে। পুলিশ প্রতিক্রিয়া হিসেবে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। নুনেজ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পুলিশের ওপর হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড নিক্ষেপের সাতটি ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানান, মঙ্গলবারের ঘটনায় অন্তত ১০ জন শিক্ষা-কর্মী ও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার রয়েছে, তবে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন গত সপ্তাহে প্যারিসের আশপাশের ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে শুরু হয় এবং পরে তা দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলো বলছে, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষক সংকট এবং দীর্ঘ ক্লাস সূচির কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ বাড়ছে।
আন্দোলনের সঙ্গে একই দিনে দেশজুড়ে সরকারি কর্মীদের ধর্মঘটও অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য সরকারি কর্মীরা সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের ব্যয়সংকোচন, বেতন ও কর্মপরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই ধর্মঘটও ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি সেবায় প্রভাব ফেলেছে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সহিংসতা ও স্কুল অবরোধের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, স্কুলের কর্মী ও পুলিশকে ঝুঁকিতে ফেলে এমন কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়।
এর আগে সোমবার আন্দোলনের কারণে ১৬৪ জনকে আটক করা হয়েছিল। মঙ্গলবারের নতুন কর্মসূচির পর আটক ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৪৪০-এ দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং সরকারি কর্মীদের ধর্মঘট—দুই কর্মসূচিই ফ্রান্সের শিক্ষা ও সরকারি সেবা খাতে চলমান অসন্তোষকে সামনে এনেছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এএফপি, দ্য গার্ডিয়ান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ