ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন চেষ্টা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে: বিশেষজ্ঞ


ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন চেষ্টা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে: বিশেষজ্ঞ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান আত্মসমর্পণের বদলে আরও সংঘাত ও উত্তেজনার পথে হাঁটতে পারে বলে মনে করছেন ইতালির তুরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক লরেঞ্জো কামেল। 

তার মতে, ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের প্রত্যাশার বিপরীত ফল বয়ে আনতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কামেল বলেন, ইতিহাসের শিক্ষা হলো—ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করলে তার ফল হতে পারে ঠিক উল্টো। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের চাপ ইরানকে দুর্বল করার পরিবর্তে দেশটির আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার কারণ হতে পারে।

আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে

কামেল বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও বিচ্ছিন্ন করার নীতি নতুন কোনও কৌশল নয়। অতীতের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর নেওয়া কিছু পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান ও পরবর্তী ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার মতে, যেসব শক্তি ইরাককে ব্যাপকভাবে দুর্বল করে দিয়েছিল, তারাই এখন ইরানকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিচ্ছিন্ন করার কথা বলছে। অথচ ইরাকের পতন ও দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব ও মিত্রজোট আরও বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছিল।

কামেলের ভাষায়, ইরানকে চাপের মধ্যে রেখে বিচ্ছিন্ন করার নীতি অতীতে যেমন প্রত্যাশিত ফল দেয়নি, ভবিষ্যতেও তা একইভাবে ব্যর্থ হতে পারে। বরং এ ধরনের চাপ ইরানকে আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার এবং নিজেদের অবস্থান শক্ত করার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ইসরায়েলের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন
চলমান যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবেও যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে ইসরায়েলের প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেছেন কামেল। তার দাবি, এই যুদ্ধ দেখিয়েছে যে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করছে।

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে কোনও সমঝোতায় পৌঁছাতে দেবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কামেলের মতে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, তাতেও ইসরায়েলের অবস্থান বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তিনি আরও বলেন, লেবানন ফ্রন্টকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। অর্থাৎ ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পাশাপাশি লেবাননকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে তা যুদ্ধের পরিধি ও স্থায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশ্লেষক কামেলের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে চাপে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেশটির নীতিতে পরিবর্তন আনা হলেও, তেহরান এ ধরনের পদক্ষেপের জবাবে আরও কঠোর অবস্থান নিলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ফলে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন নীতি দেশটিকে শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকারে বাধ্য করবে, নাকি আরও সংঘাতমুখী ও আঞ্চলিকভাবে সক্রিয় করে তুলবে—এ প্রশ্নই এখন মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: আল-জাজিরা

আরও পড়ুন: রাজউকের ১২৬৯ ভবনের মালিককে চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘নবীর আগমনে ঈদ উদযাপন করা আল্লাহর নির্দেশ’: সৈয়দ বাহাদুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৮ পি.এম


‘নবীর আগমনে ঈদ উদযাপন করা আল্লাহর নির্দেশ’: সৈয়দ বাহাদুর

 

"তোরা দেখে যা আমেনা মায়ের কোলে", "ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায়", "আজ ঈদে মিলাদুন্নবীর মাহফিল, নবীর আশিক কে আছো ভাই হওরে শামিল, আজ ঈদে মিলাদুন্নবীর মাহফিল" - এইভাবে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভাগমনকে স্বাগত জানাতে নাতে রাসুল, দুরুদ ও সালাম গাইতে গাইতে হাজার হাজার নবী প্রেমিক সুন্নী মুসলমান জশনে জুলুছ ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে চাঁদপুর শহরে নবী প্রেমিকদের ঢল নামে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) সকালে এই জশনে জুলুছ ও সুন্নী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। চাঁদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মাইক্রো স্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয় এই সুন্নী সমাবেশ। এখান থেকেই শহরে বিশাল বর্ণাঢ্য জুলুছ বের হয়।

জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী ও সুন্নী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মজলিশে শুরার অন্যতম সদস্য, ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফের পীর সাহেব আওলাদে রাসুল আল্লামা সাইয়েদ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী আল-মাদানী। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "পৃথিবীময় এ কথা স্বীকৃত যে, সৃষ্টি জগতের জন্য মহান স্রষ্টার সর্বশ্রেষ্ঠ রহমত, দয়া, অনুগ্রহ হচ্ছেন আল্লাহর প্রিয় হাবীব আমাদের পেয়ারা নাবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।" আল্লাহ পাক নিজেও কোরআনে তাঁর প্রিয় হাবীবকে সৃষ্টি জগতের জন্য রহমত বলে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ পাক সূরা ইউনুসের মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন- আমরা যেনো আল্লাহর অনুগ্রহ, দয়া এবং রহমত প্রাপ্তিতে খুশি উদযাপন করি। বাংলায় হলো খুশি, আর আরবিতে হলো ঈদ। তাই আমরা আল্লাহর হুকুম পালনার্থে প্রিয়নবীর শুভাগমন উপলক্ষে ঈদ উদযাপন তথা জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী করে থাকি। এই ঈদ হচ্ছে ঈমানের ঈদ। আর ঈদুল ফিতর, ঈদুল আদ্বহা হচ্ছে ইবাদতের ঈদ। ঈদে মিলাদুন্নবী তথা নবীর আগমন যদি না হতো, তাহলে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আদ্বহা কোনো কিছুই হতো না এবং আমরা পেতামও না। কারণ ঈদুল ফিতর, ঈদুল আদ্বহা হচ্ছে উম্মতে মোহাম্মদী মুসলমানদের জন্য। তাই সকল ঈদের সেরা ঈদ, শ্রেষ্ঠ ঈদ হচ্ছে ঈদে মিলাদুন্নবী। অথচ কিছু জাহেল মুর্খ মৌলভী বলে ইসলামে নাকি দুই ঈদ ছাড়া তৃতীয় কোনো ঈদ নাই। অথচ হাদীসে পাকের ঘোষণা অনুযায়ী জুমার দিন ঈদ, আরাফাতের দিন ঈদ। সৈয়দ বাহাদুর শাহ ওই সমস্ত জাহেল মোল্লাদের ফতোয়ার দিকে কান না দিয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করতে মুসলিম উম্মাহর প্রতি আহ্বান জানান।

অন্যান্য বক্তারা সরকারিভাবে ঘোষিত ঈদে মিলাদুন্নবীর বিরোধিতাকারীদের রাষ্ট্রদ্রোহীতার আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান। বক্তারা সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারুজ্জানের সম্প্রতি "বিদআতে দেশ আছে গেছে, নামাজে বিদআত, দোয়ায় বিদআত" বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সেনাপ্রধান এই বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের ৯৯ ভাগ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। তাই আমরা আজকের এই সমাবেশ থেকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারুজ্জামানের অপসারণ দাবি জানাচ্ছি। বক্তারা শহীদে মিল্লাত আল্লামা নূরুল ইসলাম ফারুকী এবং ইমাম মাওলানা রইস উদ্দিন হত্যার বিচারের জোরালো দাবি জানান।

ফরিদগঞ্জ ঘনিয়া সাঈদিয়া দরবার শরীফের শাহজাদা মাওলানা নাজমুল আখন্দ নকশবন্দীর সভাপ্রধানে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ আল্লামা জাকারিয়া মাদানী, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন, বড়কুল দরবার শরীফের পীর সাহেব মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ আল-কাদেরী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের কেন্দ্রীয় পরিষদের অন্যতম সদস্য ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবে সাবেক সভাপতি মাওলানা এএইচএম আহসান উল্লাহ, পীরজাদা মাওলানা খাজা মোহাম্মদ জোবায়ের, মুফতি মাওলানা আবুল হাশেম শাহ মিয়াজী, মুহাদ্দিস মাওলানা মাসুদ হোসাইন, অধ্যক্ষ আল্লামা রফিকুল ইসলাম হেলালী, মদনা দরবার শরীফের পীরজাদা মাওলানা শাহ মোহাম্মদ কাউসার, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাড. এমদাদ হোসেন পাটওয়ারী, জমঈয়াতে হিযবুল্লাহ চাঁদপুর শহর শাখার সেক্রেটারি সাংবাদিক মাওলানা আব্দুর রহমান গাজী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চাঁদপুর সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবদুল হান্নান নিজামী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অন্যতম নেতা মোহাম্মদ আনিসুর রহমান মজুমদার, গাউসিয়া বোরহানিয়া দরবার শরীফের পক্ষে মাওলানা রবিউল হাসান, অ্যাড. ফরিদ হোসেন প্রমুখ ওলামায়ে কেরাম ও নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অন্যতম নেতা মোতাসিম বিল্লাহ মাসুম। উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা গাউসিয়া কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শাহজামাল তালুকদার, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি কামরুল হাসান বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক খাজা নূরুল আমিন, সদর উপজেলার সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নেতা আবুল বাশার, ডা. সাদেক উল্লাহ প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে জশনে জুলুছ শহর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সমাবেশস্থলে এসে মিলাদ কিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জমি বিরোধে স্কুল মাঠে তারকাঁটার বেড়া, ব্যাহত খেলাধুলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০০ পি.এম


জমি বিরোধে স্কুল মাঠে তারকাঁটার বেড়া, ব্যাহত খেলাধুলা

জমি বিরোধের কারণে লক্ষ্ণীপুরের ধর্মপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের একটি অংশ তারকাঁটার বেড়া দ্বারা ঘিরে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতির ফলে মাঠের আয়তন কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মাঠের ভেতরে তারকাঁটার বেড়া থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়রা। বিদ্যালয়ের মাঠটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শারীরিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান হওয়ায় স্থানীয়রা দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি করে মাঠটি তারকাঁটামুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের একটি অংশ তারকাঁটার বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। এর ফলে মাঠের স্বাভাবিক ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ২০০১ সালে ধর্মপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় স্থানীয় আব্দুল আলীর কাছ থেকে এওয়াজ-বদলের মাধ্যমে ১২ শতাংশ জমি নেওয়ার কথা ছিল। তিনি বিদ্যালয়ের নামে আরও ৫ শতাংশ জমি দান করার সম্মতি দেন। এর বিনিময়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থানীয় আইনজীবী মনোরঞ্জন পালের কাছ থেকে আব্দুল আলীর বাড়ির পাশে ১২ শতাংশ জমি কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই জমিটি বিদ্যালয়ের নামে রেজিস্ট্রি না করে তৎকালীন বিদ্যালয় সভাপতি আমিন হাওলাদার ও প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেনের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। ফলে আব্দুল আলী তার মালিকানাধীন জমির অংশে তারকাঁটার বেড়া দিয়ে ঘিরে দেন, কারণ তিনি প্রতিশ্রুত জমি পাননি। এই কারণে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের আয়তন কমে গেছে। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শারীরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং মাঠের ভেতরে তারকাঁটার বেড়া থাকায় অসাবধানতাবশত শিক্ষার্থীরা আহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ধর্মপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেন মন্তব্য করেন, “বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই একটি মীমাংসা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আশা করছি, বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান হবে।” অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। লক্ষ্ণীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াই প্রূ মারমা বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাসিরনগর-মাধবপুর সড়ক যেন ‘মৃত্যুফাঁদ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৩ পি.এম


নাসিরনগর-মাধবপুর সড়ক যেন ‘মৃত্যুফাঁদ’

নাসিরনগর-মাধবপুর সড়ক যেন ‘মৃত্যুফাঁদ’

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর-মাধবপুর সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। খানাখন্দে ভরা এই সড়ক দিয়ে চলাচল এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক স্থানে পায়ে হেঁটে চলাচল করা পর্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি গর্তে জমে থাকার কারণে দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। চলতি বছরের ১৯ মার্চ "২৬ দৈনিক ইত্তেফাকে" সংবাদ প্রকাশের পর সড়ক মেরামতের কাজ শুরু হলেও তা আবার আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে জনদুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এই অচলাবস্থার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষ করে নাসিরনগর থেকে মাধবপুর পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ আঞ্চলিক সড়কটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করলেও বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে এর অবস্থা চরমভাবে অবনতি হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন এই সড়কে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তে পানি জমে যায়, ফলে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। সড়কে গর্তে চাকা পড়লে যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন দুই উপজেলার অসংখ্য মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নুরপুর, চৈয়ারকুড়ি, শ্যামপুর, বেলুয়া, নরহা, হরিণবেড় ও হরিপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কটির বেশিরভাগ অংশ ভেঙে খানা-খন্দে পরিণত হয়েছে। সড়কের কার্পেটিং ছাড়াও পাথর, অনেক জায়গায় খোয়া ও বালি পর্যন্ত উঠে গেছে। বড় বড় গর্তের কারণে একদিন বৃষ্টি হলেই প্রায় এক সপ্তাহ পানি জমে থাকে। তখন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটতে থাকে। স্থানীয়দের কেউ কেউ রসিকতা করে এই সড়কের নাম দিয়েছেন ‘কোমড়ভাঙা রোড’।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল মোমেন জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ঠিকাদারের ব্যর্থতার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তিনি কোনো কর্ণপাত করছেন না। দ্রুতই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তাছাড়া মাননীয় সংসদ সদস্যও এই রাস্তার সমস্যা নিয়ে মহান জাতীয় সংসদে কথা বলেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাগেরহাটে আইএমইআই পরিবর্তন করা ৫৯ চোরাই মোবাইল উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৫ পি.এম


বাগেরহাটে আইএমইআই পরিবর্তন করা ৫৯ চোরাই মোবাইল উদ্ধার

বাগেরহাট, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ : জেলার ফকিরহাটে একটি মোবাইল ফোনের দোকানে অভিযান চালিয়ে আইএমইআই পরিবর্তন করা ৫৯টি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, চোরাই মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে সেগুলো বিক্রি করা হতো। সোমবার  রাত ১০টার দিকে ফকিরহাট উপজেলা বাজারে রেজাউর রহমান পলাশের ‘পুষ্প টেলিকম’ নামের মোবাইল ফোনের দোকানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

আজ মঙ্গলবার সকালে নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস বিফ্রিং এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার হাসান মো. নাছের রিকাবদার।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, ফকিরহাট উপজেলার পাগলা শ্যামনগর এলাকার শেখ সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে রেজাউর রহমান পলাশ (৩৪), আতাইকাঠি এলাকার আক্কেল আলী শেখের ছেলে মো. অহিদুল ইসলাম (২৬), খুলনার রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ এলাকার চৈতন্য সাহার ছেলে চন্দন সাহা (৩০) এবং বাগেরহাটের ভট্ট বালিয়াঘাটা এলাকার জাহাঙ্গীর খানের ছেলে মো. হুছাইন খান (২২)।

পুলিশ সুপার জানান, অভিযানের সময় আরও তিনজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তারা হলেন ফকিরহাটের পাগলা শ্যামনগর এলাকার শেখ সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো. শিমুল শেখ (২৫), আট্টাকী এলাকার কাদের ফকিরের ছেলে মো. শফিকুল ফকির (২২) এবং খুলনার রূপসা উপজেলার নারকেলী চাদপুর এলাকার মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে তৌফিকুর রহমান (৩৪)। অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫৯টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন, যে তারা পুষ্প টেলিকমে চোরাই মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে সেগুলো বিক্রি করতো। তাদের মধ্যে রেজাউর রহমান পলাশের বিরুদ্ধে আগে একটি চুরির মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। 

এ ঘটনায় ফকিরহাট মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার করা ৫৯টি মোবাইল ফোন মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%