জেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান প্যাদা
০৩:৩৬ পি.এম
ধুমকি উপজেলার ১ নং পাংগাশিয়া ইউনিয়নের পাংগাশিয়া মমতাজ উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে আজ একটি বিশেষ
মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির
সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল সভাপতি এবং সাবেক সফল চেয়ারম্যান জনাব আলমগীর শিকদারের নেতৃত্বে। এই সভায় প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল পাঠদানের আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক অগ্রগতি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনার দিঘলিয়ায় মো. নাসিমুল করিম (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ফরমাইশখানা এলাকায় চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে ফায়ার সার্ভিসের সামনে দুই ব্যক্তি তার পথরোধ করে গুলি চালায়। পরে স্থানীয় হাসপাতালে আহত অবস্থায় নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নাসিমুল করিম ফরমাইজখানা এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের পুত্র। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে চারটি হত্যা মামলা এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলা রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুর ১২টার দিকে নাসিমুল করিম দিঘলিয়া থানাধীন ফরমাইশখানা এলাকায় জনৈক তৈয়ব আলী শিকদারের চায়ের দোকানের সামনে বসে ছিলেন। এ সময় অজ্ঞাতনামা দুই দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাসিমের বিরুদ্ধে পুলিশ অ্যাসল্টসহ মোট ৮টি মামলা রয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক তদন্তে তার পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (জনযুদ্ধ) সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া গেছে।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার সানোয়ার হুসাইন মাসুম জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা এবং তিনটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ওসি আরও জানান, কারা বা কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লেবাননের উদীয়মান গায়িকা নাদা দানদাশ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। আকস্মিক এই দুর্ঘটনার ফলে লেবাননের সঙ্গীত জগতে তার সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারের অকাল সমাপ্তি ঘটেছে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো লেবাননের সঙ্গীতপ্রেমীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দুর্ঘটনাটি কিভাবে ঘটেছিল, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মৃত্যুর খবর জানার পর থেকে তার ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে তার বিভিন্ন কনসার্ট, গানের ক্লিপ ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানের স্মৃতি শেয়ার করছেন।
নাদা দানদাশকে স্থানীয় মানুষ ও তার ভক্তরা ‘ওরন্তেসের কন্যা’ নামে ডাকতেন। লেবাননের বেকা অঞ্চলের হারমেল শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহাসিক ‘ওরন্তেস নদী’র নাম থেকেই তার এই পরিচিতি। তিনি ঐতিহ্যবাহী আরবি সুর ‘তারাব’ এবং আধুনিক পপ সঙ্গীতের সমন্বয়ে একটি আলাদা ধারার সঙ্গীত পরিবেশন করতেন। ২০২৪ সালের মে মাসে এলবিসি চ্যানেলের ‘আল মাসরাহ’ নামের একটি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে গান গেয়ে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। অনুষ্ঠানে তার পরিবেশিত ‘মাশওয়ার আল হায়াত’ গানটি সাধারণ শ্রোতা ও সঙ্গীতবোদ্ধাদের নজর কাড়ে।
এছাড়া, তিনি বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোতে নিয়মিত উপস্থিত হচ্ছিলেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আল জাদিদ টিভি চ্যানেলের ‘সাবাহ আল ইয়াওম’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারটি তার জীবনের শেষ প্রধান টেলিভিশন উপস্থিতি হয়ে রইল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড অধ্যাপক আলী রীয়াজ মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের সংকটের মূল কারণ রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনীতিকীকরণ। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের পর রাষ্ট্রযন্ত্র সহজ ও সরলভাবে দলের যন্ত্রে পরিণত হয়েছে।
তিনি জানান, আমলারা আমলাতন্ত্র হিসেবে চলতে চান না। আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমলারা রাজনৈতিক প্রভুদের অধীনে চলতে রাজি। আমলাতন্ত্র হিসেবে নয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক প্রভুদের সেবা করতেই বেশি পছন্দ করেন। আমি জানি, আমি খুব সাধারণীকরণ করছি, তবে মোটাদাগে এটাই চিত্র।’
আজ রবিবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের দ্বিতীয় দিনে ‘দ্য অথরস টেবিল’ শীর্ষক সেশনে তিনি এসব কথা বলেন। হোটেলের মেঘনা কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ কি চক্র ভাঙতে পারবে?’ শীর্ষক সেশনে ‘এ ফ্র্যাকচারড পাথ’ বইয়ের কেন্দ্রীয় প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের ব্যর্থতার কারণ, মূল শক্তিগুলোর ভূমিকা, কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা এবং চলমান উত্তরণ টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরি করতে পারবে কি না—এসব বিষয় উঠে আসে।
বাংলাদেশ ‘চক্র’ ভাঙতে পারবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, এখনই এটি ভেঙে বেরিয়ে আসা যাবে না—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো খুব তাড়াহুড়ো হবে। তবে তিনি আশাবাদী বলে জানান। আলী রীয়াজ বলেন, ‘বাংলাদেশ চক্র ভাঙতে পারে, কিন্তু সব সময় একটি সতর্কতা আছে—রাজনৈতিক শক্তিগুলো কি তা করতে ইচ্ছুক?’
জনগণের আকাঙ্ক্ষার পক্ষে তিনটি ইঙ্গিতের কথাও তুলে ধরেন আলী রীয়াজ। তার মধ্যে একটি হলো, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব ছাড়াই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে বলে জানান তিনি। অন্য একটি ইঙ্গিত হিসেবে গণভোটের কথা উল্লেখ করেন।
উপজাতীয় রাজনীতি বা ‘ট্রাইবাল পলিটিক্স’ প্রসঙ্গে আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমি এই শব্দবন্ধে বলব না। আমি এখনো মনে করি, দলীয় রাজনীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের অভাব আছে। তবু আমি উপজাতীয় রাজনীতির ভাষায় যাব না।’
কী কী পরিবর্তন প্রয়োজন—এমন প্রশ্নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে এবং নির্বাচন কমিশন স্বাধীন না হলে গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয়।
নির্বাহী বিভাগের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বিচার বিভাগ এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য মৌলিক অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অনেকাংশে অতিমাত্রায় রয়েছে। প্রজাতন্ত্রের প্রশ্নেও এসব বিষয় সমাধান করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ ছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন ইউরোপীয় পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির সিনিয়র আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা মাইকেল লিডাউয়ার এবং ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত। সেশন সঞ্চালনা করেন ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অ্যাডজাংক্ট ফ্যাকাল্টি মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গায় ৮৯৯ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার সংক্রান্ত মামলায় আদালত জালাল মালিথা (৫১) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে। একই সঙ্গে, তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং অনাদায়ে আরো এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জালাল মালিথা চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রেলপাড়া (কানাপুকুর) এলাকার মৃত আলতাফ হোসেন মালিথার পুত্র।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় একাডেমি মোড় এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময়, কুষ্টিয়া থেকে চুয়াডাঙ্গাগামী ‘সোনারতরী এক্সপ্রেস’ বাসে তল্লাশি চালিয়ে জালাল মালিথার হাতে থাকা একটি ব্যাগ থেকে ৮৯৯ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭০০ টাকা।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
মামলায় চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করার পর আদালত জালাল মালিথাকে দোষী সাব্যস্ত করে এই দণ্ড প্রদান করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম মন্তব্য করেন, "এ রায়ের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। মাদক নির্মূলে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ